অথচ ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বা খিলাফত থাকলে খলিফার দায়িত্ব হয়ে যায় বেকারদের চাকুরীর ব্যবস্থা করা। সাধারণ অবস্থায় মৌলিক চাহিদা হিসেবে ধরা হয় ৫টি- খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা ও চিকিৎসা। কিন্তু ইসলামী ব্যবস্থায় মৌলিক চাহিদা ৬টি। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা ও বিয়ে। খিলাফতের মধ্যে থাকা প্রত্যেকের মানুষের এই ৬টি বিষয়ের দায়িত্ব থাকে খলিফার দায়িত্বে।
বর্তমানে কালে ইহুদীবাদী সম্রাজ্যের যুগে খিলাফত বলতে শুধু যুদ্ধ, হাত কাটা আর পাথর ছুড়ে হত্যা করা বুঝায়। কিন্তু ইসলামী শাসন ব্যবস্থার সময়ে পৃথিবী কি কি উন্নতি দেখেছিলো সেটা লুকিয়ে রাখে। তবে আমার দৃষ্টিতে হাত কাটা বা পাথর ছুড়ে হত্যাও খারাপ না। কারণ ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় কেউ যদি সত্যিই অভাবী হয় এবং সেই অভাবের কারণে চুরি করে, তবে তার উপর চুরির শাস্তি বর্তাবে না। আর যদি কেউ সামর্থ থাকার পরও চুরি করে তবে তারই হাত কাটা হবে। আপনি বর্তমান ইহুদীবাদী শাসন ব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখুন। পুরো সিস্টেমরা উল্টা। কোন গরীব মানুষ যদি চুরি করে, তবে তাকে ধরে আমরা গনপিটুনি দিয়ে মেরেই ফেলি. অথবা জেলে ভরে শাস্তি দেই। কিন্তু মন্ত্রী-মিনিস্টার আর ব্যবসায়ীরা যখন বড় বড় চুরি করছে, তখন তাদের শাস্তি দেয়া তো দূরের কথা, উল্টো তাদের মানুষ সম্মান করে মাথায় তুলে রাখে।
পুরাতন আলোচনায় ফিরে আসি, বলছিলাম বেকারত্ব নিয়ে। বেকারদের দিয়ে সরকারের আমি কোন প্ল্যান দেখি না। অথচ ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় খিলাফাতের কর্মচারি সংখ্যা অনেক বেশি হবে। কারণ ৬টি মৌলিক বিষয় খলিফার নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাকেই চিন্তা করতে হবে কিভাবে এতগুলো জিনিস মেনেজ করতে হবে। এজন্য খলিফা পুরো খিলাফত জুড়ে জরিপ করবে এবং সমভাবে ৬টি মৌলিক জিনিস বণ্টন করবে। সে বেসরকারিভাবেও ম্যানেজ করতে পারে। কিন্তু মূল দায়িত্ব খলিফার কাছে থাকায় খিলাফতের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারি সংখ্যা অনেক বেশি হবে। দেখা যাবে, মোট জনসংখ্যার ৩০-৪০% পযন্ত খিলাফতের কর্মচারি হবে। উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারী কর্মচারি সংখ্যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.৭%।
ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় খলিফার তরফ থেকে কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূলে ফসল ক্রয় করা হবে। এবং সরকারীভাবে পুরো খিলাফতের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হবে। এতে কৃষকও লাভবান হবে এবং জনগণও স্বল্পমূল্যে খাদ্যক্রয় করতে পারবে।
সুদ থাকবে না, ফলে মূল্যস্ফিতি সৃষ্টি হবে না। এতে খাদ্যদ্রব্য বা জীবনযাত্রার মূল্য বাড়বে না।
বতর্মানে চাকুরীর ক্ষেত্রে ৩ বছর পর পর বদলী পদ্ধতিটা আসছে ব্রিটিশদের থেকে। কোন কর্মচারি যেন কোন নির্দ্দিষ্ট এলাকায় বেশিদিন থেকে গোড়া শক্ত করতে না পারে, সরকার বিরোধী কর্মকান্ড করতে পারে, এজন্য ৩ বছর অন্তর অন্তর তাকে বদলি করা হয়। এতে সে টাকাও জমাতে পারে না, সচ্ছলও হতে পারে না। এতে সারা জীবন সে পেটে ভাতে থাকে।
কিন্তু ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় মানুষকে চাকুরী দেয়ার ক্ষেত্রে প্রাধাণ্য দেয়া হবে নিজ ভূমিতে। এবং বিশেষ কারণ ছাড়া বদলীও করা হবে না। এতে দুইটা সুবিধা হবে। প্রথমত, নিজের এলাকায় থাকলে আলাদা বাসাভাড়া লাগছে না। দ্বিতীয়ত, নিজের বাড়ি থেকে যাওয়া আসা করলে তার লিভিং কস্ট অনেক কমে যাবে। এবং মানুষ কম টাকায় স্বাচ্ছন্দে থাকতে পারবে। এছাড়া প্রত্যেক কর্মচারিকে তার জীবনব্যায়ের কথা চিন্তা করে পর্যাপ্ত বেতন দেয়া হয় যেন তাকে ঘুষ খেতে না হয়।
খিলাফত ব্যবস্থায় জনসংখ্যার ডিসেন্ট্রালাইজেশন বা বিকেন্দ্রীকরণ অনেক গুরুত্বপূণ। জনসংখ্যা সব এলাকায় সমভাবে বণ্টন হবে, এতে কোন নির্দ্দিষ্ট এলাকায় লিভিং কস্ট বেড়ে যাওয়ার কোন কারণ থাকে না।
বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় সরকারগুলো চায়, শিক্ষিত সামজকে শুধু চাকুরী বা চাকর হওয়ার দিকে ঠেলে দিতে। তারা উৎপাদনশীল খাতগুলো বন্ধ করে দেয়। সম্রাজ্যবাদী কর্পোরেটদের কর্পেোরেটোক্রেসির নামক কূটকৌশল দ্বারা প্রভাবিত হযে তারা এ কাজগুলো করে। কিন্তু খিলাফত পদ্ধতিতে পুরো নিজস্ব সিস্টেম তৈরীর কাজ চলে, এজন্য গবেষণা সেক্টরে ইনভেস্ট হয় বেশি। অর্থাৎ মেধাবীদের বেছে বেছে জাতির মগজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, গবেষণা সেক্টরে নেয়া হয়। এতে উৎপাদনশীল খাত বৃদ্ধি পায়। অন্য জাতিগুলোর প্রতি নির্ভতা হ্রাস করে, মুসলমানদের উপর মুসলমানরা নির্ভরশীল থাকতে পারে।
আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি, বর্তমান ইহুদীবাদী সম্রাজ্য ব্যবস্থায় গোটা কয়েক ইহুদীবাদীর হাতে নির্যাতিত হচ্ছে সাধারণ ইহুদী, সাধারণ খ্রিস্টান, সাধারণ বৌদ্ধ, এবং সাধারণ হিন্দুরা। কিন্তু খিলাফত পদ্ধতিতে সকল ধর্মের মানুষই আরাম আয়েশে থাকতে পারবে এবং খিলাফতের পক্ষ থেকে ৬টি মৌলিক বিষয়ে সাহায্য পাবে। তাই আমি পূর্ববর্তী খিলাফত বা ইসলামী শাসন ব্যবস্থাটা পড়ে যা বুঝলাম, এটাই একমাত্র সার্বজনিন ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।
===============================
------------------------------------------------------------------