Showing posts with label নারীবাদী. Show all posts
Showing posts with label নারীবাদী. Show all posts

Tuesday, February 12, 2019

রুমানা থেকে মিতু, সাঈদ থেকে আকাশ ।। আমাদের শিক্ষা কি?


মিতু আর ডাক্তার আকাশের সাম্প্রতিক ঘটনা দেখে আমার রুমানা মঞ্জুর আর হাসান সাইদের কথা মনে পড়ে গেলে। আজ থেকে ৮ বছর আগের কথা। রুমানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআর এর শিক্ষক আর সাইদ বুয়েট থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার। মিতু যেমন প্যাটেল নামক এক বিদেশী ছেলের সাথে পরকীয়া করতো, ঠিক তেমনি রুমানাও ইরানি বয়ফ্রেন্ড তারেক বিন নাভেদের সাথে পরকীয়া করতো। তবে দুটো ঘটনাই স্বামী-স্ত্রীর মারামারি পর্যন্ত এসে দুইদিকে ডায়ভার্ট হয়ে গেছে। আকাশ যেমন মিতুকে মেরে মুখে সেলাই ফেলে দিয়েছে, সাইদও রুমানাকে মেরে তাকে অন্ধ করে দেয়। তবে আকাশ আর সাঈদের মধ্যে তফাৎ হলো- আকাশ আত্মহত্যা করে, আর সাইদকে সমাজের প্রচণ্ড চাপে গ্রেফতার করা হয়, কিন্তু সামান্য কয়েকদিন পর জেলের ভেতরে রহস্যজনকভাবে সাইদের লাশ পাওয়া যায়। তবে কোন কোন পুরুষবাদী এমনও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আকাশ তখন আত্মহত্যা না করলে এবং আহত মিতু মিডিয়ার সামনে আসলে হয়ত নারীদেরবাদীদের চাপে আকাশকে গ্রেফতার করা হতো এবং হয়ত সাইদের মত আকাশকেও মৃত্যুকে বরণ করতে হতো।

গত কয়েকদিন ধরে দেখেছি সাধারণ মানুষ ফেসবুকে আকাশের পক্ষ নিয়েছে, আর নারীবাদীরা মিতুর পক্ষ নিয়ে তুমুল দ্বন্দ্ব করছে। কোন কোন নারীবাদী তো আকাশকে হিটলার বলে উপাধি দিয়েছে। হিটলার যেমন আত্মহত্যা করেছে, তেমনি আকাশও নাকি আত্মহত্যা করেছে। কেউ বলেছে, আকাশের আত্মহত্যা ছিলো নারীর প্রতি পুরুষতন্ত্রের প্রতিশোধ।

নারী ও পুরুষবাদীরা যাই বলুক, আসলে আমরা সাধারণ মানুষ যেমন চাই না- সাইদ-আকাশরা মারা যাক, ঠিক তেমনি মিতু-রুমানারা আহত হোক, এটাও কাম্য নয়। প্রত্যেকটা মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক সুন্দর হয়ে বেচে থাকুক এটাই আমাদের কাম্য। কিন্তু এটা তখন সম্ভব হবে, যখন সমাজে একটা ভারসাম্য বজায় থাকবে। কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”। নারী-পুরুষ মিলিয়েই সমাজ। একটা ছাড়া অন্যটা চলতে পারবে না, একজন অন্যজনের সহযোগী, কখনই প্রতিযোগী নয়। কিন্তু একটা গোষ্ঠী আছে, যারা সমাজে নারী-পুরুষের লাগিয়ে দিয়ে, উপর থেকে ফায়দা নিতে চায়। সমাজে কিছু কিছু পুরুষ আছে যারা তাদের স্ত্রী/নারীদের নির্যাতন করে, যার উদহারণগুলো টেনে নারীবাদ সৃষ্টি করা হয়। এরপর সেই নারীবাদীরা নারীদের উস্কানি দেয়, বাধন ছিড়ে ফেলার আহবান জানায়। এরপর সেই সব বাধণ ছেড়া নারীদের দেখিয়ে ফের পুরুষবাদ তৈরী করা হয়, ব্যস নারী-পুরুষ তখন হয়ে যায় প্রতিদ্বন্দ্বী, সমাজে তৈরী হয় কলহ। কিন্তু বাস্তবতা হলো আপনি কলহ করে সাময়িক জয়লাভ করতে পারেন, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের প্রেক্ষিতে কখনই সমাজের জন্য তা ভালো ফল বয়ে আনবে না।

এই তো কিছুদিন আগে দেখলাম, বাংলাদেশে নারী নির্যাতন হ্রাস করতে নাকি নারীদের কুংফু-ক্যারাতের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কি আশ্চর্য ! নারী ধর্ষণের অন্যতম একটা বড় কারণ হচ্ছে প্রতিহিংসা বা শত্রুতা। এই যে আপনি নারীদের কুংফু প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তার আলটিমেট রেজাল্ট কি বুঝতে পারছেন ? একজন নারী কোন পুরুষকে হয়ত কুংফু দিয়ে সাময়িক পরাজিত করতে পারলো, কিন্তু এতে ঐ পুরুষটা কিন্তু ঐ নারীর উপর ক্ষেপে গেলো, পরে প্রতিশোধ নিতে হলেও সে মেয়েটির উপর আক্রমণ করতে পারে। আসলে যে ইস্যুগুলো সমাজের গণমানুষের সাইকোলোজির সাথে সংযুক্ত সেগুলো সফটলি হ্যান্ডেল করতে হয়। দ্রুতকোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে সমাজে বরং বিশৃঙ্খলতা হতে পারে। আর নারীবাদীদের কথা কখনই পাত্তা দেয়া যাবে না, কারণ নারীবাদীরা হলো লেজকাটা শেয়াল। তারা নিজেরা উচ্ছন্নে গেছে, তারা চায় সমাজের অন্য নারীরাও উচ্ছন্নে যাক।

আমি আগেও বলেছি, আমাদেরকে এখন যে সমাজ ব্যবস্থার দিকে ঢেলে দেয়া হচ্ছে, তাতে সামনে আরও কঠিন পরিবেশ আসছে। রুমানা-সাইদ আর মিতু-আকাশের ঘটনা সামনে আরো অসংখ্য দেখা যাবে। তাই শুধু আইন-শালিস করে নয়, কি কি কারণে সমাজে পরকীয়া/নারী নির্যাতন বাড়ছে, সেগুলো আগে চিহ্নিত করে বন্ধ করতে হবে বা আপডেট করতে হবে। যেমন:

১) যেসব মিডিয়া পরকীয়া/নারী নির্যাতনের শিক্ষা দেয়া হয় বা উস্কানি দেয়া হয় সেগুলো বন্ধ করতে হবে।

২) বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ করা যাবে না। যার প্রয়োজন সে করবে। বিয়ের বিষয়গুলো আরো সহজ করতে হবে। বাল্যবিয়ে নিষেধ থাকায় অনেক নারী/পুরুষ বিয়ের আগে কম বয়সে অবৈধ মেলামেশা করে অভ্যস্থ হয়ে যায়, যার কারণে বিয়ের পরও বহুগামীতা ছাড়তে পারে না।

৩) ঢাকা শহরে জীবননির্বাহ ব্যয় কমাতে হবে। ঢাকাতে জীবন নির্বাহ ব্যয় বিশেষ করে বাড়িভাড়া বেশি থাকায় অনেক বিবাহিত পুরুষ কর্মক্ষেত্রে ঢাকায় আসলেও স্ত্রীকে গ্রামে রেখে আসে। এতে তার স্ত্রী যেমন স্বামীহীনতা ভুগে ঠিক তেমনি শহরে স্ত্রীহীন পুরুষটির দ্বারাও অনেক অপকর্ম ঘটতে পারে।

৪) বিদেশে শ্রমিক রফতানির সময় একদম প্রশিক্ষণহীন শ্রমিক না পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রমিক পাঠানো উচিত। আরো ভালো হয় যদি শ্রমিক রফতানি না করে দেশী লোক দিয়ে কোম্পানি করে সার্ভিস রফতানি করা যায়। এতে বেতন বেশি পাওয়া যাবে। তখন অনেক প্রবাসী চাইলে তার স্ত্রীকে বিদেশ নিয়ে যেতে পারবে। এতে সমস্যা অনেকটা দূর হবে।

৫) অনেক নারী কম বয়সে বিধবা হয়ে যায়। কিন্তু দেখা যায় সমাজের কথা চিন্তা করে, বাচ্চাদের কথা বলে তাকে আর বিয়ে দেয়া হয় না। বিধবা নারীদের বিয়ে নিয়ে সমাজের কুসংস্কার বন্ধ করতে হবে, তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬) নেশা জাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধ করতে হবে। নেশার কারণে পুরুষত্বহীনতা তৈরী হয়। পর্নোগ্রাফীও নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭) জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, এবরেশনসহ যাবতীয় সিস্টেম যা পশ্চিমারা বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়েছে এগুলো সাইডএফেক্ট হলো সমাজে ব্যাভিচার বৃদ্ধি পাওয়া। এগুলো অবাধ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

৮) কোন পুরুষের প্রয়োজন লাগলে এবং সামর্থ থাকলে সে বহুবিবাহ করবে, এ বিষয়টি সমাজে সহজ করতে হবে। অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে ডিভোর্সের বিষয়টিও সহজ করতে হবে।

৯) ধর্মীয় পর্দা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নারী পুরুষের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং কমপ্লেক্স, হাসপাতাল, যাতায়াত ব্যবস্থা করতে হবে। নারীদের প্রতিষ্ঠানগুলো নারীরাই পরিচালনা করবে, সেখানে কোন পুরুষ থাকতে পারবে না।

১০) সমাজের সর্বত্র ধর্মীয় চর্চা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে ধর্ম নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে শুধু আইন-শালিস করে মানুষের মন নিয়ন্ত্রণ করা করা যায় না। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ যত বাড়বে, স্বামী-স্ত্রী তত সুখী হবে। সেক্যুলার-নারীবাদীরা সব সময় ধর্মীয় বিধানকে নারীবিদ্বেষী বলে অপপ্রচার করেছে। কিন্তু তারা ধর্মহীন যে সমাজ আনতে চাইছে তাতে নারীরা অনেক বেশি অনিরাপদ ও নির্যাতিত। সুতরাং তাদের সকল নীতি বর্জন করতে হবে, এর কোন বিকল্প নাই।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Wednesday, January 30, 2019

যারা চায় সমাজে নারী-পুরুষ একত্রে চলুক, তারা নারী জাতির খারাপ চায়


এবার নির্বাচনী ইশতেহার তৈরী করতে গিয়ে, ইশতেহার : ‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ ২০১৮’ এর ১৬.৮ নম্বরে বলেছিলাম: “নারী নির্যাতন বন্ধ করতে নারীদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং কমপ্লেক্স, যানবাহন, হাসপাতাল, তৈরী করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রতিষ্ঠানে শুধু নারীরা কাজ করবে, ফলে অনেক নারীর নিরাপদ কর্মসংস্থান হবে।” (https://bit.ly/2VW0N7k)
আমি জানি, নারী আর পুরুষকে যখন আমি আলাদা করার কথা বলবো, তখন বৈষম্য শব্দটা তুলবে এক শ্রেণীর লোক। বলবে, “তুমি সমাজে বৈষম্য তৈরী করতে চাচ্ছো।” আচ্ছা, যারা সমাজে নারী-পুরুষ আলাদা করা পছন্দ করে না, তারা কেন ক্রিকেট, ফুটবল, দৌড়, সাতার, কুস্তি প্রতিযোগীতার সময় নারী-পুরুষ একত্র করে না। কেন নারীদের নিয়ে আলাদা প্রতিযোগীতার ব্যবস্থা করে ? এর কারণ, তারা জানে, সরাসরি জয়-পরাজয় দেখা যায়, এমন কোন সিস্টেমে নারী-পুরুষ একত্র করলে নারী-পুরুষের ব্যাপক পার্থক্য দৃশ্যমান হবে, যা “নারী-পুরুষ একত্রে চলতে হবে”, এই তত্ত্বের প্রতি বিরাট বাধা।
আসলে সমাজে নারী-পুরুষ পরষ্পরের প্রতিযোগী নয় বরং সহযোগী। এবং দুইজনকে প্রতিযোগী হিসেবে যারা একত্রে দাড় করিয়ে দেয় তারা নারী জাতির ভালো চায় না, বরং নারী জাতির খারাপ চায়। নারী ও পুরুষকে যদি আলাদা করা যেতো, তবে নারী জাতির আরো অনেক বেশি উন্নতি করা সম্ভব ছিলো। আসুন কিছু হিসেব মিলিয়ে নেই….
১) 'বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো' (ব্যানবেইস) এর জরিপে বলছে, ২০১৮ তে প্রাথমিক শিক্ষায় ছাত্রী সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ৪৫%, কিন্তু শিক্ষিকা সংখ্যা ২৫%। যদি ছাত্র-ছাত্রী আলাদা করে ছাত্রদের জন্য পুরুষ শিক্ষক ও ছাত্রীদের জন্য মহিলা শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, তবে এখানে আরো ২০% শিক্ষিকা নিয়োগ করা সম্ভব।
২) লেবার ফোর্স সার্ভে (এলএফএস) ২০১৬-১৭-এর তথ্যমতে, দেশে মোট ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু এই ১ কোটি ৮৬ লক্ষ নারীর মধ্যে ৬০% নারী যুক্ত হয়েছে কৃষি সেক্টরে। পাঠক, এই ৬০% নারী আসলে কারা ? কৃষিতে ফসলের উপযুক্ত দাম না পাওয়ায়, কৃষক যখন উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে চায়, তখন কৃষক স্বামী তার জমিতে পুরুষ কামলা নিয়োগ না করে নিজের স্ত্রীকে মাঠে নামিয়ে দেন। স্ত্রী স্বামীর খরচ বাচায়। হালের বলদ যে কাজ করে, একজন নারী শত শারীরিক কষ্ট বহন করে সেই কাজ করে। “নারীর কর্মসংস্থান’ বাড়ছে, নারী পুরুষের বৈষম্য হ্রাস পাচ্ছে’ এই কথাগুলো প্রচার করে যারা বিদেশ থেকে কাড়ি কাড়ি পুরষ্কার কামিয়ে আনে, আসলে কত নারীর অমানুষিক কষ্ট সেই কথাটার সাথে জড়িয়ে আছে, সেটা তারা জানে না। কৃষিতে পর্যাপ্ত হিমাগার তৈরী, যান্ত্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে যদি কৃষককে ফসলের উপযুক্ত মূল্য এনে দেয়া যায়, তখন অটোমেটিক বাংলাদেশের নারী কর্মসংস্থান অর্ধেক নেমে আসবে।
৩) নারী-পুরুষের একত্রে থাকলে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি কখন সমাজের উন্নতি প্রকাশ করে না, বরং অবনতি প্রকাশ করে। বাংলাদেশের কর্মসংস্থানে সবচেয়ে বেশি নারী সংযুক্ত আছে কৃষি (৬০%) এবং পোষাক শিল্পে। এবং উভয় ক্ষেত্রে নারীরা সংযুক্ত হয়েছে স্বল্প শ্রমিক মজুরীর দরুণ। একজন নারী কেন স্বল্প মজুরীর পরও হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছে ? কারণ স্বামী/বাবার ইনকামে পরিবার চলছে না। কর্পোরেটোক্রেসি অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রে living cost কে এতটা বৃদ্ধি করা হয়, যেন পুরুষের ইনকামে সংসার না চলে, তখন নারী স্বল্পমূলে শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হয়। যদি পরিবারে পুরুষ সঙ্গী উপযুক্ত ইনকাম করতো, তবে একজন নারী কখনই কৃষি বা পোষাক শিল্পের মত কঠিন শ্রমের স্থানে যেতো না।
৫) কৃষিতে নারীর হালচাষ, কিংবা গার্মেন্টসে নারীর হাড়ভাঙ্গা খাটুনিরকে যারা ‘নারী ক্ষমতায়ন’ শব্দযুগল দ্বারা প্রকাশ করে তাদের বলছি, এই শব্দযুগল হচ্ছে ওয়ার্ল্ডের বড় বড় কর্পোরেটদের মুখরোচক শব্দ। গণতন্ত্র নাম দিয়ে যেমন তারা দুই দলকে লাগিয়ে দিয়ে উপর থেকে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন করে, ঠিক তেমনি নারী ক্ষমতায়নের নাম দিয়ে তারা সমাজে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মজুরীর মধ্যে লাগিয়ে মজুরী নিয়ন্ত্রণ করে। নারীর থেকে স্বল্পমূল্যের মজুরীর পাওয়ার কথা বলে পুরুষের মজুরী বাড়াতে দেয় না। এতে আলটিমেটলি স্বল্প শ্রম মজুরী সুযোগ নিয়ে সেই কর্পোরেটরাই লাভবান হয়, নারী কখনও লাভবান হয় না।
৬) শ্রমের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষকে প্রতিযোগী করা যাবে না। বরং নারী-পুরুষ আলাদা সেক্টর করতে হবে। নারীদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শপিং কমপ্লেক্স, যানবাহন করলে সেখানে একদিকে যেমন প্রচুর পরিমাণে নারী নিয়োগ পাবে, অন্যদিকে পুরুষের সাথে শ্রমের তুলনা না করায় নারীকে অনেক বেশি মজুরী দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ইহুদীবাদী কর্পোরেটরা চায়, শ্রমের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ দ্বন্দ্ব তৈরী করে স্বল্পশ্রমিকমূল্যের ফায়দা লুটতে, কিন্তু আমরা যদি নারী-পুরুষের সেক্টর আলাদা করে দেই, তবে ইহুদীরা সেই ফায়দা লুটতে পারবে না।
সবচেয়ে বড় কথা, ইহুদীরাবাদীরা নারীকে পুরুষের সাথে কর্মসংস্থানে নামালেও তারা কিন্তু নারী জাতির নিরাপত্তা দিতে পারেনি। পুরুষ শিক্ষকের দ্বারা ছাত্রী নির্যাতন, বসের দ্বারা নারী স্ট্যাফ নির্যাতন, বাসে হেলপারের দ্বারা নারী যাত্রী নির্যাতন, পুরুষ ডাক্তারের দ্বারা নারী রোগী নির্যাতন, এগুলো এখন হরহামেশাই ঘটছে এবং দ্রুত বাড়ছে, কমার কোন লক্ষণ নেই। নারী আর পুরষ সেক্টর আলাদা করে দিলে, একদিকে যেমন নারীদের বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে, অন্যদিকে নারীদের শ্রম মজুরীও অনেক বাড়বে, পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, যেটা নারী-পুরুষ একত্রে করে কখনই সম্ভব নয়।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

বিদেশী টাকার খেলা…..


উপস্থাপিকা ফারজানা ব্রাউনিয়ার সাম্প্রতিক পরিবর্তন চোখে পড়ার মত। তিনি এখন একজন কমপ্লিট হিজাবী নারী। ব্যক্তি জীবনে ধর্মপালন ও যতটুকু সম্ভব হিজাব মেইনটেইন করার চেষ্টা করেন। অন্তত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজের ছবিগুলো সেরকমই বলে। তাকে এখন আর আগের মত অন্যপুরুষের গলায় মালা পরাতে দেখা যায় না, দেখা যায় না অন্যপুরুষের সাথে হাত মেলাতে। শুধু দেখা যায় নিজ সন্তান ও স্বামীর সাথে। যে ফারজানা ব্রাউনিয়া কিছুদিন আগেই হাজার হাজার কিশোরীকে ধাবিত করতেন কথিত ‘প্রগতিবাদী’ হওয়ার জন্য, বলতেন-মেয়েরা যেন ক্যারিয়ার নষ্ট করতে বিয়ে না করে। মেয়েদের উৎসাহিত করতেন ‘কর্পোরেট লুক’ ফলো করার জন্য। বলতেন, এক পুরুষের অধীনে না গিয়ে, ১০ পুরুষের সাথে নেচে মেয়েরা ‘স্বাধীন’ জীবন যাপন করবে, এটাই ছিলো তার শিক্ষা। কিন্তু সেই ফারজানা আজকে হিজাব ও স্বামী-সন্তানের ‘বুক’ বেছে নিয়েছেন।

মানুষ সব সময় অপেক্ষাকৃত ভালো থাকার চেষ্টা করে। ফারজানা ব্রাউনিয়াও আগের জীবন থেকে বর্তমানে অধিক ভালো জীবন বেছে নিয়েছেন, তার ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো সেটাই প্রমাণ করে। এখন কথা হলো, সেই আগের কথিত প্রগতিবাদী ব্রাউনিয়া আর বর্তমানে হিজাবী ব্রাউনিয়ার মধ্যে তফাৎটা কোথায় ?
তফাৎ হলো আগে সে কাজ করতো স্বর্ণকিশোরী নামক একটি এনজিও’র হয়ে। যে এনজিওটি পরিচালিত হতো জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের অর্থায়নে। বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন এজেন্ডাগুলো সে প্রগতিবাদের নাম দিয়ে মেয়েদের খাওয়াতো। কিন্তু হঠাৎ চ্যানেল আই গ্রুপের সাথে দ্বন্দ্বের দরুণ সে স্বর্ণকিশোরী ত্যাগ করে। ফিরে আসে আসল রূপে, গ্রহণ করে স্বাভাবিক জীবন। অর্থাৎ বিদেশী টাকাও নেয় না, আর কিশোরীদের বিভ্রান্তও করে না। তারমানে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে নারী উন্নয়ন’র নামে যেসব তত্ত্ব (বাল্যবিয়ে বন্ধ, পর্দা নিষিদ্ধ, নারী অধিকার, বৈষম্য হ্রাস, নারী ক্ষমতায়ন, নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশা, জন্মনিয়ন্ত্রণ) ছড়ানো হচ্ছে সব হলো পশ্চিমা ফান্ডিং এর ফসল। ফান্ডিং বন্ধ হলে সে সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। একই সাথে যেসব নারী এগুলো প্রচার করছে ব্যক্তি জীবনে তারাও সেগুলো পছন্দ করে না। সুযোগ পেলে তারাও পশ্চিমা এজেন্ডা মাফিক জীবন যাপন ত্যাগ করবে।

গত কয়েকদিন আগে দৈনিক প্রথম আলো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম, “কিশোরীর ‘উপযুক্ত পোশাক’ও নির্ধারণ করেছে পাঠ্যপুস্তক”। প্রতিবেদনের ভেতরে লেখা হয়, “সাদা-কালো সালোয়ার-কামিজ আর সাদা ওড়না গায়ে এক কিশোরীর ছবি। ছবির নিচে লেখা, ‘উপযুক্ত পোশাকে কিশোরী’। ....২০১৯ শিক্ষাবর্ষের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ষষ্ঠ শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ের ‘কৈশোরকালীন পরিবর্তন ও নিজের নিরাপত্তা রক্ষা’ বিষয়ক সপ্তম অধ্যায়ে ....। তবে নারী, শিশু ও শিক্ষা অধিকার নিয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা পাঠ্যপুস্তক এভাবে ‘উপযুক্ত পোশাক’ নির্ধারণ করে দিতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, একজন কিশোরীর উপযুক্ত পোশাক কোনটি, তা পাঠ্যপুস্তকে কেন থাকবে?” (https://bit.ly/2FnsYpU)
আমার মনে হয় বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম রাষ্ট্রে উপযুক্ত পোষাক বোরকা হওয়ার দরকার ছিলো। কিন্তু সালোয়ার কামিজ আর ওড়না হওয়াতে দৈনিক প্রথম আলো কেন রিয়্যাক্ট করলো ? এর পেছনে কি ফারাজানা ব্রাউনিয়ার মত সেই ‘পশ্চিমা অর্থ’ তত্ত্ব মেলানো যায় না ? বিদেশী অর্থায়ন পেয়ে প্রথম আলো তা প্রচার করছে নারী অধিকারের নাম দিয়ে ?

কিছুদিন আগে ড. কামালের ‘খামোস’ শব্দটা খুব মিডিয়া পেয়েছিলো। ড. কামাল কিন্তু ঘাগু লোক। তার কোন কথা ফেলনা না। সুপ্রীম কোর্ট বারে তার চেম্বারে কোন মামলা করতে সবচেয়ে বেশি টাকা লাগে। ড. কামালের প্রতি শব্দের জন্য মক্কেলদের টাকা গুনতে হয়। তাই সাধারণ রাজনীতিবিদদের কথা ফেলনা হতে পারে, কিন্তু ড কামালের কোন কথা ফেলনা নয়। ‘খামোস’ শব্দ উচ্চারণের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ড কামাল বলেছিলেন, “কত টাকা পেয়েছো, কাদের টাকায় এসব বেহুদা প্রশ্ন করছো?”
আপনি ড কামালকে যতই ট্যাগ দেন আর রাগী ভাবেন লাভ নাই । জনগণের মাধ্যম বা গণমাধ্যম দাবীদার নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া অন্যের টাকা খেয়ে জনগণের সাথে বেঈমানি করে তা কিন্তু ফাঁস করে দিয়েছেন বাংলাদেশের সংবিধান রচয়িতা ড কামাল। কারণ তার থেকে সাংবাদিক আর কথিত মিডিয়াকে আর কে ভালো ভালো চিনে, বলুন ? তার বড় মেয়ের জামাই ইহুদী সাংবাদিক, তার মেয়ে সারা হোসেন বাংলাদেশে সিআইএ’র এমন প্রজেক্ট নাই, যার নেতৃত্বে নাই। আজকে যারা ৭১ এর চেতনাবাদী দাবী করে, সেই চেতনাসৃষ্টিকারী তারেক মাসুদ আর ক্যাথরিন মাসুদের সঙ্গী হচ্ছে ড. কামালের ছোট মেয়ে দিনা হোসেন। ড. কামালের স্ত্রী হামিদা হোসেন হচ্ছে বাংলাদেশে লিডিং সিআইএপন্থী অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের বান্ধবী, বাংলাদেশের সুলতানা কামালদের বস, আইন ও শালিস কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন। বিদেশী অর্থায়ন ও ব্যাকিং এ যারা চলে তারা ড. কামালের পরিবারের হাটুর সমান হওয়ার যোগ্যতা হয়নি এখনও। সেই ড কামাল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে “কত টাকা পেয়েছো, কাদের টাকায় এসব বেহুদা প্রশ্ন করছো?” এই কথা বলে তো তিনি কথিত গণমাধ্যম বা মিডিয়াকে পুরো ন্যাংটো করে দিয়েছেন।

এই বাংলাদেশে হঠাৎ করে নাস্তিক্যবাদী ব্লগারদের উত্থ্যান ঘটলো। ভাবখানা এমন যে, নাস্তিক্যবাদ বিরাট কোন মতবাদ, মহৎ কোন চেতনা। ইসলামকে দমন করে এখন মহৎ নাস্তিকতার উত্থান ঘটবে। কিন্তু সেই সময় কথা সাহিত্যিক জাকির তালুকদার বলেছিলো, নাস্তিকতা বলে কিছু নেই, সব ‘তিন বেলা খানা আর পাকা পায়খানা’র লোভ।” আসিফ মহিউদ্দিন জার্মানি যাওয়ার পর এক স্ট্যাটাসে বলেছিলো, “দেশে থাকতে কত ইচ্ছা ছিলো রিকশায় চড়বো, দামী সিগেরেট খাবো, কিন্তু স্বাদ থাকলেও সামর্থ ছিলো না। এখন জার্মানি এসে সব ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।”। গত কয়েকদিন আগে অর্পিতা রায় চৌধুরী (তমালিকা সিংহ) নামক এক কথিত নাস্তিক ব্লগার জার্মানিতে মারা যাওয়ার পর নাস্তিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে সব ফাঁস হয়ে যায় গোমর। তখন নাস্তিকরাই বলে, এইসব নাস্তিকতা-ফাস্তিকতা বলে কিছু নেই, সব হলো আদম ব্যবসা। নাস্তিকরা কথিত নাস্তিকতার গল্প ফেদে ইহুদীবাদী লেখক সংস্থা ‘পেন ইন্টারন্যাশনাল’র সাথে যোগাযোগ করে। তারাই বাংলাদেশের কথিত নাস্তিক বা ইসলামবিদ্বেষীদের স্ট্যাইপেন দিয়ে ইউরোপে নিয়ে যায়, বাড়ি ভাড়া করে দেয় ২ বছরের জন্য, খাওয়ার ব্যবস্থা করে, পরে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তার হাল ধরে। তবে একজন নতুনকে ‘পেন’ সংগ্রহ করতে চাইলে পুরাতন একজনের সমর্থন লাগে। এই সমর্থন দেয়ার সময় অনেক নাস্তিক নতুনের থেকে টাকা পয়সা ধান্ধা করে, নারী হলে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কের শর্ত জুড়ে দেয়। অর্থাৎ নাস্তিকতা বা ইসলাম বিদ্বেষ বলে কিছু নেই, সব সেই বিদেশী টাকার খেলা।

আমার একটা মত হলো, আমি বিষ খাবো, কিন্তু বিষকে বিষ জেনে খেতে আমি রাজী। কিন্তু বিষ যেন মিষ্টি কাগজে মুড়ে না খাওয়ানো হয়। বাংলাদেশে নারী স্বাধীনতা, পর্দাহীনতা, জন্মনিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিয়ে নিরোধ, নারী ক্ষমতায়ন সব কিছু জারি করা হোক, সমস্যা নেই। কিন্তু প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া হোক, কোন বিশেষ গুনাবলীর কারণে নয়, বরং পশ্চিমা টাকার বিনিময়ে এগুলো বাংলাদেশের জারি করার চেষ্টা চলছে। সত্য প্রকাশ হোক, কিন্তু সত্যকে মিথ্যার কাগজে মুড়ে প্রকাশ কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Sunday, December 2, 2018

মি-টু আন্দোলন আসলে কাদের জন্য ?



গত কয়েক বছর একটা আন্দোলনের নাম শোনা যাচ্ছে, যার নাম ‘মি-টু’। হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে এই আন্দোলনটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়। ‘মি-টু’ মানে ‘আমিও কোনভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি’ এই অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা। মি-টু মুভমেন্টের সূচনাকারী হিসেবে ধরা হয় ‘তারানা বুরকি’ নামক এক মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাকে। ছোট বেলা থেকেই এই মহিলাটি বিভিন্ন পুরুষের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছিলো। ‘তারানা বুরকি’ প্রথম এ আন্দোলনের ধারণা দেয় এবং একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় হলিউড অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো ইহুদী প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সোস্যাল মিডিয়ায় ‘মি টু’হ্যাশট্যাগ দিয়ে আন্দোলনের সূত্রপাত করে। এরপর একে একে মুখ খুলতে থাকে হলিউডের অনেকে। এরপর থেকে স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক হোমরা চোমরার নামে অনেক ঘটনা বের হয়ে আসতে থাকে। ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো, বলিউডের অমিতাভ বচ্চন কিংবা বাংলাদেশের নাট্যকার সেলিম আদ দ্বীনের নাম ও বের হয়। এই লিঙ্কে- https://bit.ly/2ShQpEf ঢুকলে প্রায় ২৫২ জন পশ্চিমা সেলিব্রেটির নাম পাবেন, যারা মিটু’র পর নারী যৌন হয়রানীর দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্লাস নেয়ার সময়, একটা কথা আপনাদের বলেছিলাম, কোন ঘটনা দেখলে আগে বুঝতে চেষ্টা করবেন,
-কে ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং
-সে ঘটনার দ্বারা কার উপকার হচ্ছে ?
তাহলে মি-টু আন্দোলন কে করছে এবং তার দ্বারা কে উপকৃত হচ্ছে ?
আমি এখন পর্যন্ত এনালিস্ট ক্লাস নিয়েছি মাত্র ২টি, কিন্তু মি-টু আন্দোলন আসলে কারা ঘটাচ্ছে এবং কি উদ্দেশ্যে ঘটাচ্ছে, এটা যদি আপনাদের বুঝাতে চাই, তবে আমাকে এনালিস্ট ক্লাস ৫ বা ৬ এর দিকে যেতে হবে। তবে সংক্ষেপে যদি বলি, তবে বলতে হবে, ইহুদীরা ভর করেছে আমেরিকার উপর। তাই আমেরিকা নিজে হয়ে গেছে ইহুদীবাদী। এই ইহুদীবাদীদের নিজেদের মধ্যে আবার দ্বন্দ্ব আছে, গ্রুপ গ্রুপ আছে। মার্কিনীদের মধ্যে এই দুইভাগ ‘ডেমোক্র্যাট’ এবং ‘রিপাবলিকান’ দুইনামে ও দুই দলে চলে। সারা বিশ্বজুড়ে মার্কিনপন্থীরাও এই দুই নেটওয়ার্ক মেইনটেইন করে চলে। মি-টু আন্দোলনটা ছিলো বেসিক্যালি একটা রাজনৈতিক আন্দোলন, দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব, একদল অন্যদলকে ফাঁসানোর জন্য, এটা ছিলো তাদের রিয়েলফেস, আর আর্টিফিসিয়াল ফেস ছিলো ‘নারী নিপীড়ন’।

মি-টু’ আন্দোলন দিয়ে যেটা হবে, অনেক কথিত সেলিব্রেটির গোমর ফাঁস হবে। এটা একটা রাজনৈতিক বিষয়, যেহেতু আমি রাজনীতি করি না, সুতরাং এটা নিয়ে কথা বলারও আমার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি কথা বলবো, তখন যখন কেউ কেউ মনে করবে, মিটু আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে একটা পরিবর্তন ঘটনো বা সমাজে নারী নির্যাতন কমানো সম্ভব, তখন।

আমার এ লেখার হেডিং ছিলো, “মি-টু আন্দোলন আসলে কাদের জন্য ?”
সে আলোচনা যদি করি, তবে বলতে হবে, জঙ্গল আর জনপদে কিন্তু এক আইন চলে না।
মিটু হচ্ছে জঙ্গলের আন্দোলন। মিটু, মাধ্যমে যারা নিপীড়নকারী ও অভিযোগকারী উভয় হলো পোষাক-আষাক ও চলাফেরায় বন-জঙ্গলের মত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। হলিউড-বলিউড কিংবা বাংলাদেশের নাট্য-সিনেমা কিংবা মডেল পাড়ার আইন তো আমি-আপনি বুঝবো না। সানি লিওন কখন অভিনয় করলো আর কখন ধর্ষিত হইলো, এটা আমার আপনার পক্ষে অনুধাবন সম্ভব না, এটা সানি লিওন আর তার সমগোত্রীয়দের উপর ছেড়ে দেন।এবং তাদেরকেই মিটু আন্দোলন করতে বলেন, সাধারণ মানুষকে না।

এবার আসুন,
সাধারণ মেয়েরা মিটু মুভমেন্টের লেজ ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে সমাজ উপকৃত হবে কি না ?
এ প্রশ্নটা একটু ক্রিটিকাল। এর কয়েকটা উত্তর হতে পারে:

১) কোর্টে দেখেছিলাম, নারী নির্যাতন ট্রাইবুনালে সাধারণ মানুষ এমনকি সংশ্লিষ্ট উকিল ছাড়া অন্যদের ঢুকতে দেয় না। অনেক সময় বাদীনীকে বিচারক ভেতরে নিয়ে জবানবন্দি নেয়। এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, তবে আমার মনে হয়েছে নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রচারের একদিকে পজিটিভ দিকের সাথে সাতে নেগেটিভ দিকও আছে। এর মাধ্যমে অনেকের মনের ভেতরে গোপন আকাঙ্খা জাগ্রত হতে পারে এবং সুযোগ বুঝে কাজে লাগাতে পারে। মুভিতে ধর্ষণের ভিডিও ধর্ষণ হ্রাসের তুলনায় ধর্ষণ বৃদ্ধি করে বলে মনে হয়। এই সব অভিযোগ দাখিলের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে গোপন সেল থাকুক, সেখান থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধীর বিচার করা হোক, কিন্তু স্যোশাল মিডিয়ায় এসব উন্মুক্ত আলোচনার পজিটিভ থেকে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট বেশি।

২) পুরুষটা দোষী হলে তো ঠিক আছে। কিন্তু যদি মহিলাটি পুরুষটিকে ফাঁসানোর জন্য করে, তখন ? ফেসবুক ওপেন মাধ্যমে, তখন যেখা যাবে, অনেক মহিলা বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে অসংখ্য পুরুষকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। ঐ পুরুষটি এবং তার পরিবারবর্গকে তখন সমাজে নিগৃহিত হতে হবে, এর দায় কে নিবে ? আপনাদের মনে থাকার কথা, কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সিআইএপন্থী ডা. জাফরুল্লাহ’র একটা ফোনালাপ ফাঁস হয়েছিলো। সেখানে ছাত্রীদের ব্যবহার করে প্রতিপক্ষে নারী নির্যাতন মামলা দেয়ার কথা বলেছিলো। (https://bit.ly/2AxcKq9)

৩) মিটু’তে সাধারণ মহিলাদের মধ্যে উস্কাচ্ছে নারীবাদীরা। এজন্য ফেসবুকে কিছু ফেইক্ আইডিকে তারা ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে বলতে হয়, ইহুদীবাদীরা নারীবাদ সৃষ্টি করেছে পুরুষ-মহিলার মধ্যে বিভেদ বাড়িয়ে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য। কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।” নারী ছাড়া যেমন পুরুষ নয়, তেমনি পুরুষ ছাড়া নারী নয়। কিন্তু সমাজের এই ভারসাম্য ইহুদীরা নষ্ট করে দিতে পুরুষের বিরুদ্ধে নারীদের উস্কে দেয়, বিভেদ সৃষ্টি করে। এতে সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে একটা হিংসাত্মক সম্পর্ক তৈরী হতে পারে। নারীর বিরুদ্ধে পুরুষ বিষেদগার হবে, পুরুষের বিরুদ্ধে নারী বিষেদগার করবে। যেহেতু নারী শারীরিকভাবে অপেক্ষকৃত দুর্বল, তাই এই হিংসা-হিংসীর আলটিমেট এফেক্ট পড়বে নারীর উপর, মানে সমাজে নারী নির্যাতন আরো বেড়ে যাবে।

৪) মিটু’র পরের ধাপ হলো ‘বৈবাহিক ধর্ষণ টার্মটি। দেখা যাবে, বিষয়টি স্বাভাবিক হওয়ার পর কোন কোন স্ত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামী ইয়ে করেছে। ব্যস ইহুদীবাদীদের উদ্দেশ্য পাক্কা। অর্থাৎ তখন দুইজনের সম্মতি প্রধান (লিভটুগেদার) হয়ে যাবে, বিয়ে নামক কোন সামাজিক চূক্তি নয়।

এখন কথা হলো, মিটু না থাকলে সমাজে নারী নির্যাতন কমবে কিভাবে ?
আহহা ! মিটু দিয়ে যে সমাজে নারী নির্যাতন কমবে, এটা আপনি বিশ্বাস করলেন কেন?
আমি আমার লেখার মধ্যে কিন্তু বলেছি, জঙ্গলের নিয়ম আর জনপদের নিয়ম এক নয়। জঙ্গলে তারা মিটু চালু করেছে করুক, কিন্তু আমরা যারা স্বাভাবিক সমাজে বাস করি, তাদের জনপদের নিয়ম খুজতে হবে।
আর সেটা তো আছেই, যার যার ধর্মীয় নিয়ম অনুসরণ করুন, ধর্মীয় নিয়ম মেনে পোষাক পরিচ্ছদ পড়ুন। নারী-পুরুষ আলাদা বাস-ট্রেন-যাতায়াত ব্যবস্থা, শপিং সেন্টার, স্কুল-কলেজ ভার্সিটি এমনকি হাসপাতাল করে দিন। নারী-পুরুষকে সঠিক সময়ে বিয়ে দিন। মিডিয়ায় উলঙ্গপনা বন্ধ করুন। দেখুন নারী নির্যাতন শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে।

আমি জানি, এ কথা শুনে অনেকের মধ্যে ‘নারী স্বাধীনতার শ্লোগান দিয়ে চুলকানি হতে পারে, দয়া করে চুলকানি থামান দাদা । নিজের মুখে ভালো করে ছাই মাখুন। হলিউডের নারীরা তো কম স্বাধীনতা ভোগ করে না, তাহলে তারা কেন এত নির্যাতিত হচ্ছে ? কেন তাদের মিটুর আশ্রয় নিতে হচ্ছে ? তাই জঙ্গলে মিটু পালন করুন, জনপদে নয়।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Wednesday, May 16, 2018

ইহুদীরা মুসলমানদের সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করার ষড়যন্ত্র করছে। তাই এখনই সাবধান।


আন্তর্জাতিক নারীবাদী কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত থাকায়, আমি অপেক্ষায় ছিলাম, কবে বাংলাদেশে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ টার্মটার আমদানি করা হয়। অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হলো। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র অন্যতম বাংলাদেশী মুখপাত্র ‘দৈনিক প্রথম আলো’ নিয়ে আসলো: ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ কথাটি। তাদের দাবি, বাংলাদেশে ৯০% নারী নাকি বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার (সবার ঘরে সিসি টিভি ফিট করে দেখছিলো)। খবরটি হেডিং হয়েছে: “বৈবাহিক ধর্ষণ সম্পর্কে অধিকাংশ নারীর ধারণা নেই”, মানে তাদের প্রাথমিক কাজ নারীদের মনে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ থিউরীটা প্রবেশ করানো। (https://bit.ly/2KWMnOD)

‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ বলতে তারা বোঝায় ‘স্ত্রীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্বামীর জোর করে যৌন সম্পর্ক’। স্বাভাবিকভাবে তখন একটা প্রশ্ন আসে, স্বামীর ইচ্ছা না হলেও স্ত্রী যদি সম্পর্ক করতে যদি চাপ দেয়, তবে সেটাও কি পুরুষ ধর্ষণ হবে ?

আসলে এ ধরনের প্রশ্ন অবান্তর। কারণ বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী ও পুরুষের সম্পর্ক লিগ্যালাইজড হয়ে যায়, বাকিটা তাদের মধ্যে বোঝাপড়ার বিষয়। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্ককে যারা ‘ধর্ষণ’ শব্দ দ্বারা বিতর্কিত করতে চায়, তারা আসলে ‘বিয়ে’ নামক বিষয়টিকেই বিতর্কিত করতে চায়। আসলে বিষয়গুলো খুব স্পর্শকাতর বিষয়। স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্ক নির্ভর বিশ্বাস ও আস্থার উপর। কিন্তু বিশ্বাস ও আস্থা’র বিষয়গুলো ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ টাইপের শব্দ দ্বারা নড়বড়ে করা হবে, তখন একজন স্বামীকে স্ত্রীর কাছে অপরাধী বলে মনে হতে শুরু করবে। আর অপরাধী স্বামীর সাথে তো আর ঘর করা যায় না। ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ দেখিয়ে স্ত্রীরা স্বামীকে হয়রানি করবে, আর পুরুষ অনেক সময় ভয়ে বিয়েই করবে না। অর্থাৎ নারী-পুরুষের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব তৈরী হবে। এ সিস্টেমে সমাজে বিয়ে উঠে যাবে, কিন্তু দুইজন নারী-পুরুষের যখন যৌন আকাঙ্খা তৈরী তখন তারা চূক্তি অনুসারে লিভ টুগেদার করবে, কিন্তু এছাড়া তাদের মধ্যে আর কোন সামাজিক সম্পর্ক থাকবে না।

এ বিষয়গুলো মূলত ভাইরাসের মত। এগুলো হাইপ্রোফাইল সাইকোলোজিস্ট দ্বারা সমাজে ছড়ানো হচ্ছে। প্রথমে মুভিতে ধর্ষণ দৃশ্য, পর্নমুভিতে বিডিএসএম, স্যাডিজম, ম্যাসাকিজম (মর্ষকাম) দিয়ে সমাজে পুরুষের মধ্যে বিষয়গুলো ছড়ানো, অপরদিকে নারীকে শেখানো হচ্ছে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’। এগুলো ইহুদীদেরই দুইহাতের কাজ। মানুষের মনে এগুলো ঢুকে পড়লে সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংস অনিবার্য।

এসব সম্পর্কে মুসলমানরা যদি এখনই সতর্ক না হয়, তবে ইহুদীরা মুসলমানদের সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করে দেবে। তাই এখনই সাবধান।

খবরের সূত্র: https://bit.ly/2KWMnOD


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Wednesday, May 9, 2018

বাসে গণহারে নারী হয়রানী বন্ধের একমাত্র সমাধান ‘নারীদের জন্য পৃথক বাস’ সার্ভিস চালু করা


উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বাসের ভেতর নিপীড়ন করায় গত কয়েকদিন ধরে বেশ আন্দোলন করছে ছাত্র-ছাত্রীরা (https://bit.ly/2KqAGzI )। আমার কাছে বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। তবে শুধু একটি ঘটনা নয়, একটি জরিপে দেখা গেছে, বাসে নারী যাত্রীদের ৯৪% যৌন নিপীড়নের শিকার হোন। কেউ বিষয়টি মুখে প্রকাশ করতে পারেন, কেউবা চুপ করে যান । (https://bit.ly/2KoDBcf)
অনেকে বিষয়টি নিয়ে অনেক ধরনের সমাধান দিয়েছেন। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে বাসে গণহারে নারী হয়রানী বন্ধের একমাত্র সমাধান ‘নারীদের জন্য পৃথক বাস’ সার্ভিস চালু করা, যে বাসে শুধু ড্রাইভার ছাড়া হেলপার কন্ট্রাকটর ও যাত্রী সবাই নারী হবে।
এতদিন বাসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিলো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বাসে উঠতে এবং সংরক্ষিত নারী আসনে যেতে যেতে একজন নারীকে একাধিক হয়রানীর শিকার হতে হয়। এছাড়া অধিকাংশ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের থেকেও নারীযাত্রী সংখ্যা বেশি।
কিছুদিন আগে বিআরটিসি পরীক্ষামূলকভাবে ১২টি নারী বাস চালু করেছিলো (https://bit.ly/2HDiSnh )। কিন্তু দেখা যায়, সে বাসগুলোতে নারী যাত্রী সংখ্যা কম। এর কারণও আছে। কারণ- এত বড় শহরে মাত্র ১২টা বাস, কখন কোথায় আসবে, কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে তার কোন ঠিক নাই। তাই নারীরা অপেক্ষা না করে সাধারণ বাসে চড়ে যাতায়াত করে। তাই নারী বাসও খালি যায়।
সমাধান কি ?
সরকারীভাবে পুরো ঢাকা শহরে একটা জরিপ করতে হবে। ঢাকা শহরে কোন রুটে, কখন, কত পার্সেন্ট নারী যাত্রী যাতায়ত করে। দেখা গেলো সময় ভেদে মোট যাত্রীর ২০%, ৩০% ৪০% নারী যাত্রী হয়। সকাল-দুপুর-সন্ধা হিসেবে এই পার্সেন্টিস উঠা-নামা করে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাস কোম্পানিগুলো প্রতি আইন করে দিতে হবে, প্রত্যেক রুটে নারী পার্সেন্টিস অনুসারে নারীবাস দিতে হবে। ধরে নিলাম সকালে ৩০-৪০% নারীযাত্রী থাকে, তবে ঐ রুটে প্রত্যেক বাস কোম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে ১০টা বাসের মধ্যে ৪টা বাস নারীবাস দিতে হবে। দুপুরে সেটা কমে ২০% হলে গেলে ১০টা বাসে ২টা নারী বাস দিতে হবে। অফিস ছুটির টাইমে হয়ত নারীযাত্রী সংখ্যা ৩০% হয়ে গেলো, তখন নারীবাসের সংখ্যা ১০ টার মধ্যে বাধ্যতামূলক ৩টা দিতে হবে। পুরো সিস্টেম কন্ট্রোলের জন্য বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে লোক থাকতে হবে, কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে বা নারীবাস কম দিলে তার রুট পারমিট ক্যান্সেল হবে। (জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পাওয়া বিআরটিএ’র কাজ শুধু বসে বসে ঘুষ খাওয়া না, জনগণের জন্য কিছু করা।)
তবে আমার ধারণা, অনেক নারী বাসে সমস্যার কারণে রিকশা বা অন্যবাহনে যাতায়াত করে (অন্যবাহনগুলোতে নারীরা হয়রানীর শিকার)। কিন্তু নারীবাস চালু হলে অনেক নারীই রিকশা বা অন্যবাহন ছেড়ে স্বাচ্ছন্দে বাসে উঠতে পারবে। তখন দেখা যাবে নারী বাসের সংখ্যা কমপক্ষে ৩০% পর্যন্ত লাগতে পারে।
কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ ’ নিয়ে এসেছেন। নারী জাতির প্রতি অবদানের জন্যই নাকি এ পুরষ্কার। ভালো কথা। কিন্তু যে দেশের ৯৪% নারী যাতায়তের সময় যৌন হেনস্তা শিকার হন, সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এ পুরষ্কার কতটুকু গুরুত্ব থাকতে পারে ?
আমি বলবো, নারীকে শুধু ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে আসলেই চলবে না, নারীকে নিরাপত্তা দিতে হবে। এবং প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারেরই সে দায়িত্ব নিতে হবে। যাতায়তের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে। এবং অবশ্যই সেটা বিচ্ছিন্নভাবে নয়, নারীর আনুপাতিক সংখ্যা মেনেই সরকারী ও বেসরকারী বাস সার্ভিসগুলোতে সে সুবিধা দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শুধু সরকারের সদিচ্ছার প্রয়োজন, অন্যকিছু নয়।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Wednesday, April 25, 2018

‘গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এনজিও “গ্লোবাল সামিট ফর উইমেন” শেখ হাসিনাকে এ পুরষ্কার দিচ্ছে।

ইহুদীসংঘ তথা জাতিসংঘের দেয়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৫ম পয়েন্ট ‘লিঙ্গ সমতা’ বা ‘নারীদের ঘরের বাইরে বের করে আনা’ নামক দাবিদাওয়া আমেরিকার চাহিদামাফিক করতে পারায় শেখ হাসিনাকে এ পুরষ্কার দিচ্ছে আমেরিকান এনজিওটি। (https://bit.ly/2Jm6zrR)

তবে, শেখ হাসিনাকে এই পুরষ্কার দেয়ার আরেকটি কারণ থাকতে পারে-

আপনাদের মনে থাকার কথা, কোটা আন্দোলনের সময় আমি বলছিলাম- কোটার ভেতর দুই ধরনের কোটা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র চাহিদা। একটি ‘নারী কোটা’, অপরটি ‘উপজাতি কোটা’। তখন কেউ বিষয়টা বুঝছে, কেউ বুঝে নাই। শেখ হাসিনা যেহেতু সবকোটা (নারী কোটাসহ) বাতিল করছে, তাই তাকে এখন মার্কিন সংস্থাটি পুরষ্কার দিয়ে তাকে স্মরণ করিয়ে দিলো, “আপনাকে উইমেন্স লিডারশিপের জন্য পুরস্কার দিলাম, ভুলেও নারী কোটা বাতিল কইরেন না, তাহলে কিন্তু পরে বিতর্কিত হবেন।”

অনেকে হয়ত বলতে পারেন, “দাদা! নারীকে ঘরের বাইরে বের করে আনলে সমস্যা কি ? আপনি কি নারীজাতির অগ্রযাত্রার বিরোধী, আপনি কি কুপমণ্ডুক, মৌলবাদী”।

না আমি কোনটাই নই। আমি নারীর অগ্রযাত্রার বিরোধী নই, নারীজাতি লেখাপড়া করুক, জাতি গঠনে ভূমিকা পালন করুক, এটাই আমি চাই। তবে “কেউ ভুল বুঝিয়ে নারী জাতিকে ইহুদীবাদীদের কর্পোরেট স্বার্থে ব্যবহৃত করুক” আমি তার ঘোর বিরোধী।

হয়ত বলতে পারেন: নারী আবার কার স্বার্থে ব্যবহার হয় ?

যারা এ ধরনের প্রশ্ন করবেন, তারা সম্ভবত আমার পেইজে নতুন এসেছেন, আমার আগের লেখাগুলো পড়েননি। আমি তাদের অনুরোধ করবো দয়া করে আমার এ দুটো লেখা আগে পড়ে আসুন-

ক) নারীবাদ সিআইএ’র প্রজেক্ট : https://bit.ly/2uP0hx3

খ) কর্পোরেটক্রেসি এবং প্রধানমন্ত্রীর উইম্যান এমপাওয়ারমেন্ট: https://bit.ly/2qXn5aV

আসলে ইহুদীবাদী কর্পোরেটরা কি চায় এটা আমাদের আগে বুঝতে হবে। বাংলাদেশে কোন মহিলা শিক্ষিত হলো, কোন মহিলার বাল্যবিবাহ হলো, কোন মহিলা ঘরের বাইরে চাকুরী নিলো, এটা নিয়ে কেন ওদের এত মাথা ব্যথা, কেন এগুলো বিরুদ্ধে ওদের লম্ফঝম্ফ, কেন সেগুলো রুখতে ওদের এত পুরষ্কার দেয়া- এটা আগে আমাদের বুঝতে হবে। নিশ্চয় ওরা এমনি এমনি এসব করছে না। ওদের এসব করার পেছনে কোন না কোন স্বার্থ আছে। স্বার্থটা আমাদের আগে বুঝতে হবে।

মূলত: কর্পোরেট চায় সস্তায় শ্রম। পুরুষের তুলনায় নারীর শ্রমের মূল্য কম এবং পুরুষের তুলনায় নারী তার কাজে মনোযোগী বেশি। বাংলাদেশে খুব শিঘ্রই বিদেশী কর্পোরেটরা বিভিন্ন কলকারখানা বানাবে (অর্থনৈতিক জোন তৈরী হওয়া, ফ্লাইওভার-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বানানো, দেশে বড় বড় ফাইভ স্টার হোটেল তৈরী হওয়া, বড় বড় বিদ্যুৎ প্রজেক্ট তৈরী হওয়া তার লক্ষণ- কর্পোরেটোক্রেসি নিয়ে আমার আগের লেখাগুলো পড়ে আসুন) । তো এইসব কলকারখানা তৈরী হলে কর্পোরেটদের অনেক সস্তায় শ্রমিক দরকার হবে। কিন্তু মহিলারা যদি বিয়ে করে ঘরসংসার করে, সন্তান দেখাশোনা করে, তবে ওদের সস্তায় শ্রমিক দেবে কে ? এইজন্য মিথ্যা তালবাহানা করে, নারী শিক্ষা, বাল্যবিয়ে বন্ধ, জেন্ডার সমতা ইত্যাদি নানান মুখরোচক কথা বলে তারা নারীদের ঘরসংসার, বিয়ে-সন্তান আটকে রাখে, নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলে ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে আসে। নয়ত এত সস্তায় শ্রম পাবে কিভাবে ? (শুধু গার্মেন্টস শিল্পের দিকে তাকান, বাংলাদেশের নারীরা সস্তায় শ্রম দেয় বলে পশ্চিমা কর্পোরেটরা সস্তায় কাপড় বানায়)।

আমি একটা কথা আগেও বলেছি, এখনও বলছি। বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থার সাথে কর্পোরেটোক্রেসি আক্রান্ত সমাজ ব্যবস্থা মিলবে না। তাই বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে কর্পোরেটোক্রেসি পুশ করতে হবে। বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় বাবা ইনকাম করে, আর মা ঘরে সন্তানদের দেখাশোনা করে ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়। কিন্তু কর্পোরেটোক্রেসি আক্রান্ত সমাজ ব্যবস্থায় বাবা-মা বাইরে ইনকাম করে, সন্তান কাজের মানুষের কাছে বা ডে কেয়ার সেন্টারে লালিত হয়। যদি বাবা-মা দুইজনকেই ঘরের বাইরে আনা যায়, তবে বাংলাদেশের সামাজিক সিস্টেম ভেঙ্গে যাবে। সামাজিক সিস্টেম ভেঙ্গে গেলে সামাজিক মূল্যবোধও ভেঙ্গে যাবে। এতে দুটো উপকার হবে। প্রথমত, সবাই তাদের চিরকালীন দাসে পরিণত হবে, দ্বিতীয়ত, মূল্যবোধ ভেঙ্গে গেলে বাংলাদেশে কোন নাগরিক আর কখনই তাদের ইহুদীবাদী সিস্টেমের বিরুদ্ধে রিভোল্ট করতে পারবে না।

মনে রাখবেন বর্তমানে পৃথিবীতে ই্হুদীদের জনসংখ্যা সবচেয়ে কম এবং সেই কম জনসংখ্যা দিয়েই বিশ্বশাসন করছে। এই শাসন কিন্তু তারা অস্ত্র দিয়ে করছে না, করছে বু্দ্ধি দিয়ে। তাদের কূটকৌশলের বুদ্ধি তারা ঢুকিয়ে দিয়েছে আমাদের মনের ভেতর। আমারা নিজেরাও বুঝতেছি না, আমার ভালো মনে করে যা করছি, আসলে সেগুলো তাদেরই স্বার্থ।

আমি জানি, ইহুদীবাদীদের অনেকেই দেখতে পারে না, মুখে মুখে তাদের বিরুদ্ধে বলে। আমি তাদের বলবো, যদি সত্যি ইহুদীবাদীদের বিরোধীতা করতে চান, তবে ওদের পলিসির বিরোধীতা করুন, মন থেকে ওদের ইহুদীবাদী সফটওয়্যার মুছে ফেলে, নিজস্ব সফটওয়্যার সেট করুন। আপনি যদি ওদের পলিসিগুলো মন থেকে সরিয়ে দিতে পারেন, তবে এটাই হবে ওদের সবচেয়ে বড় পতন। সুতরাং যুদ্ধটা আগে নিজের সাথে।

কর্পোরেটোক্রেসি নিয়ে আমার অন্যান্য লেখা:

১) বাংলাদেশে কর্পোটেক্রেসি ও জন পার্কিন্সের লেখা এক অর্থনৈতিক ঘাতকের স্বীকারক্তি : https://bit.ly/2DvaQHK

২) কর্পোরেটোক্রেসি, উৎপাদক ও কৃষি : https://bit.ly/2vM5h7w

৩) কৃষিতে কর্পোরেটোক্রেসি ও জিএমও ফুড : https://bit.ly/2vIEtVM

৪) কর্পোরেটোক্রেসি : অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে বিদেশীদের কাছে : https://bit.ly/2JrVDch

৫) কর্পোরেটোক্রেসি ও ক্রিকেটারের ইনকাম : https://bit.ly/2HQFVdG

৬) আমেরিকায় কর্পোরেটোক্রেসি : https://bit.ly/2HNV4wc

৭) কর্পোটেক্রেসির বাস্তবতা : ব্রাজিল - https://goo.gl/NqUG6r

৮) দেশে ফ্লাইওভার সেতুর উন্নয়ন হবে, কিন্তু জনগণ খেতে পারবে না, এটাই কর্পোটেক্রেসি: https://goo.gl/wzixWj

৯) বাংলাদেশে কথিত উন্নয়ন হয় কার স্বার্থে : কর্পোরেটোক্রেসি- https://goo.gl/b6prVg

১০) কর্পোরেটোক্রেসি : কোটা, প্রশ্নফাঁস, মেধাবী ও ব্রেইন ড্রেইন : https://goo.gl/ydnRvg


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Friday, March 9, 2018

যারা বলে “আমি শরীর দেখাবোই, তুমি দেখবা না”- তারা মূলত বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে চায়।


ফেসবুকে এই মেয়ের ভিডিওটা দেখলাম-

মেয়েটাকে রাস্তায় কিছু ছেলে হ্যারাস করছে করেছে (http://bit.ly/2oW2GCh)। মেয়েটার কথাগুলো শুনছিলাম। সত্যিই খুব খারাপ লাগছিলো। এ ধরনের নারী নিপীড়ন আমি সহ্য করতে পারি না। চিন্তা করছিলাম প্রতিবাদ করবো। কিন্তু সমস্যা হলো, মেয়েটার পুরো ভিডিওটা দেখার পর মেয়েটির নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরী হলো। 

মানে আমি বলতে চাইছি, একটা সাধারণ মেয়ে রাস্তায় নিপীড়িত হইছে, এরপর ফেসবুকে প্রতিবাদ করছে, এটা এক কথা। কিন্তু মেয়েটার পুরা কথা শুনে মনে হইলো, সে আসলে নারী নিপীড়ন বন্ধ করতে চায় না, সে চায় তার নিজস্ব থিউরী বাস্তবায়ন করতে। এবং সে জন্যই সে ভিডিওটা বানাইছে।

আসলে এখানে সাইকোলোজির অনেক থিউরী আছে। ধরুন, সমাজে কোন ঘটনা ঘটলো। প্রত্যেক ঘটনার বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। আপনি করলেন কি, ঐ প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে নিজের পছন্দমত থিউরী বসায় দিলেন। অর্থাৎ প্রতিক্রিয়াকে কাজে লাগায় নিজস্ব থিউরী স্ট্যাবলিশ করা। এ ভিডিওটতে মেয়েটা এই কাজটাই করছে বা তাকে দিয়ে কেউ করাইছে।

সে যে থিউরীটা স্ট্যাবলিশ করতে চাইছে, সেটা সিআইএপন্থী নারীবাদীদের অনেক পুরাতন থিউরী-
“নারীরা যেমন ইচ্ছা তেমন পোষাক পরবে, কেউ কিছু বলতে বা বাধা দিতে পারবে না।”
এই থিউরীটা সিআইএপন্থী নারীবাদীরা বহু আগে থেকে বিভিন্ন রং বদলায় প্রচার করতো। যেমন এ থিউরীর আরেকটা রূপ- “ধর্ষণের জন্য দায়ী নারীর পোষাক না, পুরুষের মানসিকতা দায়ী।” অর্থাৎ ধর্ষণ ঘটনাগুলোকে পূজি করে তারা মেয়েদের বল্গাহারা হওয়ার উপদেশ দিতো।

আসলে এ থিউরীটা গোজামিল থিউরী, বাস্তবতাকে অস্বীকার করার থিউরী। সৃষ্টিগতভাবে নারী-পুরুষ পরস্পর পরষ্পর দ্বারা আকৃষ্ট হয়। নারীর শরীর দেখে পুরুষ আকৃষ্ট হয়, আবার পুরুষের শরীর দেখে নারী আকৃষ্ট হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক তৈরী হয় একই আকর্ষণেরই দ্বারা। এবং এই আকর্ষণ থেকে সকল প্রাণী বংশ বৃদ্ধি করে। তবে স্বামী-স্ত্রীর মত বৈধ সম্পর্ক না হলে, এই আকৃষ্ট হওয়ার পর কেউ আবেগ সংবরণ করতে পারে, কেউ পারে না। যারা এই আবেগ সংবরণ করতে পারে না, তাদের আমরা উচ্ছৃঙ্খল বলি, বখাটে বলি, ইভটিজার বলি। আমি আমার ভার্সিটি লাইফে এমন নারীও দেখছি, যারা সুন্দর পুরুষ দেখলে সেক্স করার অফার পর্যন্ত দিয়ে বসতো। তারমানে নারী সমাজেও এমন নারী আছে। তবে নারীরা সম্ভবত নিজেদের আবেগ যতটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, পুরুষরা ততটা পারে না। এ কারণে সমাজে (উচ্ছৃঙ্খল) পুরুষদের আবেগ বেশি দৃশ্যমান হয়, নারীরটা খুব দেখা যায় না (তবে বান্ধবীরা গোপন কথা সব জানে)।

এখন কেউ যদি বলে, “আমি শরীর দেখাবোই, তুমি দেখবা না”- আমার মনে হয় সে বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে চায়। নারী-পুরুষের চিরাচরিত আকর্ষনবোধকে অস্বীকার করতে চায়। সত্যকে ভুলে সবাইকে গোয়েবলস থিউরী দিয়ে মিথ্যা শেখাতে চায়। ইমোশন তৈরী করে কনসাস মাইন্ডকে ধোকা দিয়ে সাব-কনসাস মাইন্ডে তাদের বানানো থিউরী প্রবেশ করাতে চায়।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তাদের থিউরী শুনলে সমাজে নারী নির্যাতন কমবে না, বরং আরো বাড়বে। পৃথিবীতে ধর্ষণে শীর্ষে অবস্থান করা ১০টি দেশের তালিকায় ১টিও মুসলিম দেশ নাই। এ থেকে প্রমাণিত হয় তাদের থিউরী আসলে ভুল। তাদের থিউরী শুনলে সামাজিক বাধন নষ্ট হবে, অরাজকতা তৈরী হবে, আপাতত তাদের উপরওয়ালাদের উদ্দেশ্য সেটাই।

তবে নারীবাদীদের এই অংশটা যে নিরপেক্ষ নয়, তার আরেকটা প্রমাণ আমার কাছে। দেখবেন, তারা “নারীকে খাদ্য ভাববেন না”- এই টাইপের কথা প্রায় প্রচার করে, কিন্তু কর্পোরেটরা যে নারীকে খাদ্য বানিয়ে তাদের পন্য বিক্রি করছে সেটার বিরোধীতা কিন্তু তারা করে না। তারা কখনই বলে না, “এ ধরনের বিজ্ঞাপন-নাটক-মুভি-পর্নেো সমাজে নারী নির্যাতন বৃদ্ধি করছে, উস্কে দিচ্ছে, তাই এগুলো বন্ধ করুন।”
তাদের এ চুপ থাকার কারণ- নারীবাদীরা উপরে গিয়ে মিলেছে সিআইএ’র সাথে, আর সেই সিআইএ’কে উপর থেকে পলিসি দেয় ইহুদীবাদী কর্পোরেটরা। নারীবাদীরা যদি সত্যিই নারীদের ভালো চাইতো- তবে তারা আগে বিজ্ঞাপন, মুভি, পর্নোমুভি, সিরিয়ালে নারীদের পন্য বানানোর বিরোধীতা করতো। তারা এগুলো বিরোধীতা না করে প্রমাণ করেছে, আসলে রসুনের গোড়াগুলো সব এক।

সবার শেষে আবার বলবো-
আমি সমাজে নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে রাজি, কি করা যায় সেটা নিয়ে আসুন চিন্তা করি। কিন্তু কারো বিশেষ এজেন্ডার ফাঁদে দয়া করে পা দেবেন না।

পড়তে পারেন: নারীবাদ সিআইএ’র প্রজেক্ট :http://bit.ly/2uP0hx3


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Monday, January 15, 2018

নারীবাদীদের কাজ ‘পুরুষ জাতি শ্রেষ্ঠ জাতি’ তা প্রমাণ করা !


নারীবাদীরা সব সময় এমন কিছু করতে চায় যা পুরুষরা করে। এর দ্বারা কিন্তু প্রমাণ হয়- নারীবাদীরা নিজেরাই প্রচার করছে পুরুষরা শ্রেষ্ঠ, যদি শ্রেষ্ঠ-ই না হয়, তবে তারা পুরুষের মত হতে চাইবে কেন ?

যেমন:


১) পুরুষরা সিগেটের খায়, এখন নারীবাদীরা সিগেরেট খেতে বলছে ।

(বি:দ্র: আমি নারী-পুরুষ উভয়ের সিগেরেট খাওয়ার বিরোধী। ব্যক্তিগত ভাবে সিগেরেট খাওয়া তো দূরের কথা, সিগেরেটের গন্ধও আমি সহ্য করতে পারি না, দম বন্ধ হয়ে যায়।)

২) অনেক পুরুষ রাস্তায় দাড়িয়ে প্রস্রাব করে, এটা দেখে নারীবাদীরাও দাড়িয়ে প্রস্রাব করার যন্ত্র আবিষ্কার করে, সেটা লাগিয়ে পুরুষের মত দাড়িয়ে প্রস্রাব করে। (http://ebay.to/2D3J2Ju)

(বি: দ্র: নারী-পুরুষ কেউ দাড়িয়ে প্রস্রাব করুক এটা আমি পছন্দ করি না, এবং সেটা স্বাস্থ্য সম্মতও নয়। তবে হিন্দু ধর্মে নারীরা দাড়িয়ে প্রস্রাব করে)

৩) নারীবাদীরা পুরুষের মত বাইরে কাজ করতে চায়। চাকুরী করতে চায়, ইনকাম করতে চায়।

একবার খবরে দেখেছিলাম-

ইন্দোনেশিয়া অথবা মালয়েশিয়ার নারীরা নাকি বাংলাদেশী প্রবাসী পুরুষদের খুব পছন্দ করে। বিয়ে করতে চায়। কারণ হলো- ওদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। মেয়েরাই ইনকাম করে, পুরুষ ঘরে বসে খায়। এতে নারীদের অনেক কষ্ট। তারা বাংলাদেশের পুরুষদের খুব ভালো বলে। কারণ তারা এত কষ্ট করে স্ত্রীর জন্য ইনকাম করে আর বাড়িতে পাঠায়। এজন্য তারা বাংলাদেশী ছেলেদের বিয়ে করতে চায়, যেন ঘরে বসে খেতে পারে। বাংলাদেশে যে সব নারীবাদী (যদিও বেশিরভাগ নারীবাদী বিদেশ থেকে লেখালেখি করে), নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার পক্ষপাতি, আদৌ তারা নারীদের ভালো চায়, নাকি তাদের আরামের জীবন নষ্ট করে কষ্টের জীবনের দিকে ঢেলে দিতে চায় সেটা যাচাই করা উচিত। কারণ বাহিরে কাজ করে ইনকাম করা কখনই আনন্দ বা সুখকর নয়।

নারীবাদীরা যখন পুরুষের মত হতে চায়, তারমানে নারীরা পুরুষকে শ্রেষ্ঠ মনে করে।

কিন্তু নারীবাদীরা যদি নারী জাতিকে শ্রেষ্ঠ মনে করতো, তখন নারী জাতির স্বকীয় বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে গর্ববোধ করতো এবং পুরুষকে আহবান করতো “পারলে এমন হও দেখি!”

যেমন-

ক) একজন নারী তার গর্ভে সন্তান ধারণ করতে পারে, নারীর মাধ্যমে সমস্ত প্রাণিজগত পৃথিবীতে আসে। কোন পুরুষ হাজার চেষ্টা করেও সেটা পারবে না। এমনকি সন্তান জন্ম দেয়ার পর সেই সন্তানের খাবারও মায়ের কাছে আসে, পুরুষের কাছে আসে না। সে দিক থেকে নারী জাতি অনন্য।

খ) নারী জাতির সাথে ‘মমতা’ শব্দটা যোগ আছে। একজন নারী যতটুকু মমতাময়ী হতে পারে, পুরুষ সেটা পারে না। সন্তান লালন-পালনের জন্য এই মমতার বিকল্প নাই। নারীবাদীদের উচিত পুরুষদের আহবান করা- “পারলে তোমরা নারীর মত মমতাময়ী হয়ে দেখাও দেখি!”

(হয়ত বলতে পারেন- “নারীর মমতা থাকলেও, পুরুষের আছে শক্তি।”, আমি বলবো- শক্তিতো মেশিন-কলকারাখানাও আছে। কিন্তু মেশিনের মধ্যে তো মমতা নাই।)

গ) “মায়ের হাতে রান্না, আহ কি স্বাদ !” রান্না করা নারীদের বিশেষ গুন। পুরুষ চেষ্টা করলে রান্না করতে পারে, কিন্তু নারী জাতির মত হবে না নিশ্চয়ই। খাদ্যগ্রহণ মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আর তার নিয়ন্ত্রণ নারী জাতির হাতে। নারীবাদীদের বরঞ্চ পুরুষদের আহবান করা উচিত- “পারলে নারীদের মত ভালো রান্না করে দেখাও তো”।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686

------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------