Showing posts with label মুসলমানদের অধপতন. Show all posts
Showing posts with label মুসলমানদের অধপতন. Show all posts

Monday, March 25, 2019

জেসিন্ডার ইসলাম গ্রহণ বনাম মুসলমানদের ‘ভিগিল’ গ্রহণ


ক্রাইস্টচার্জে মসজিদে হামলার পর কিছু অনুষ্ঠান পালন করতে দেখা গেছে:
১) মৃতদের উদ্দেশ্যে মোমবাতি প্রজ্জলন
২) নিরবতা পালন
৩) মৃতকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো

মৃতদের উদ্দেশ্যে এ ধরনের ইভেন্টকে বলে ‘ভিগিল’, এটা এক ধরনের প্যাগান বা মূর্তি পূজকদের কালচার, যা ইতিমধ্যে অনেক কমিউনিটিতেই চালু হয়েছে, এবং অতি সম্প্রতি মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর অনেক মুসলমানকে দেখা গেছে নিউজিল্যান্ডে অমুসলিমদের সাথে মিশে এই কাজগুলো করতে।

অনেক আগের স্ট্যাটাসগুলোর মধ্যে আমি বলেছিলাম,
ইহুদীবাদীদের অনেকগুলো কাজের মধ্যে একটি কাজ হচ্ছে ইহুদী ধর্মাবলম্বী বাদে অন্য আব্রাহামিক ধর্মাবলম্বীদের (মুসলিম ও খ্রিস্টানদের)-কে প্যাগানাজিম বা মূর্তিপূজার দিকে নিয়ে যাওয়া। ‘ভিগিল’ হচ্ছে সেরকম একটি কালচার, যার মাধ্যমে দুঃখভারাক্রান্ত কোন সম্প্রদায়কে সহানুভূতি দেখানোর ছলে তাদের ভেতর প্যাগান কালচার প্রবেশ করানো হয়।

এবার আসুন একটু নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডনের পরিচয় সম্পর্কে কিছু ধারণা নেই-

১) জেসিন্ডা আরডেন খুব দরিদ্র পরিবারে থেকে এসেছে। ২০০১ সালে ফ্রি-মেসন সংস্থা থেকে জেসিন্ডা আরডেনকে অনুদান দেওয়া হয় এবং তার পড়ালেখাসহ যাবতীয় খরচ চালানো হয়।
(https://bit.ly/2UTxSQv)
বর্তমানেও ফ্রি-মেসনদের অনেক অনুষ্ঠানে তাই অতিথি হিসেবে থাকে জেসিন্ডা আরডেন।
(http://freemasonsnz.org/galleries)

২) জেসিন্ডা খ্রিস্টানদের মধ্যে মনমর গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু খ্রিস্টান ধর্ম সমকামীদের স্বীকৃতি দেয় না। তাই ২০০০ সালে সে খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে নিজেকে নাস্তিক বলে দাবী করে। (https://ind.pn/2W5t0rw)
জেসিন্ডা গে (পুরুষ সমকামী)-দের  স্বীকৃতির ব্যাপারে অনেক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। সে অনেক গে-প্যারেডেও অংশগ্রহণ করে। (https://youtu.be/rGPmGrklQGw)

৩) জেসিন্ডা বিয়েতে বিশ্বাসী নয়। সে বহুদিন ধরে ক্লার্ক গেফোর্ড নামক এক ব্যক্তির সাথে লিভ-টুগেদার করছে এবং তাদের ঘরে ১টি সন্তানও আছে।

৪) জেসিন্ডা আব্রাহামিক খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করলেও প্যাগান বিশেষ করে হিন্দু ধর্মকে গুরুত্ব দেয়। যার কারণে প্যাগান হিন্দুদের অনেক পূজায় সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতাসহ উপস্থিত থাকে জেসিন্ডা।
(https://bit.ly/2CEdNGH, https://bit.ly/2HShOdT, https://bit.ly/2usZMXK)

৫) জেসিন্ডা নিজেকে মানবতাবাদী বলে দাবী করে, কিন্তু সে আসার ১ বছরের মধ্যে ইরাক ও আফগানিস্তানে নিউজিল্যান্ডে সেনা অবস্থানের সময়সীমা বৃদ্ধি করে। (https://bit.ly/2YkACZ4)

সম্প্রতি জেসিন্ডাকে ‘ইসলাম ধর্ম’ গ্রহণ করার আহবান জানিয়েছে এক মুসলিম যুবক। এতে কোন সমস্যা দেখি না। তবে জেসিন্ডার উত্তর ছিলো বেশ কৌশলী। সে বলেছে, “ইসলাম মানবতার শিক্ষা দেয়, আমার মনে হয় আমার মাঝে সেটি (মানবতা) আছে”।

তবে আমার মনে হয়, জেসিন্ডার ‘মানবতা’ ও ইসলামের মানবতার মধ্যে তফাৎ আছে।
ক) জেসিন্ডা সমকামীতায় বিশ্বাসী, ইসলাম সমকামীতায় বিশ্বাসী নয়
খ) জেজিন্ডা লিভ-টুগেদারে বিশ্বাস, ইসলাম লিভটুগেদারে বিশ্বাসী নয়
গ) জেসিন্ডা ধর্ম ত্যাগে বিশ্বাসী, ইসলাম ধর্ম ত্যাগে বিশ্বাসী নয়
ঘ) জেসিন্ডা খুনিকে বাচিয়ে দেয়ায় বিশ্বাসী, ইসলাম খুনিকে বাচিয়ে দেয়ায় বিশ্বাসী নয়
ঙ) জেসিন্ডা ইরাক-আফগানিস্তানে সৈণ্য পাঠিয়ে আগ্রাসনে বিশ্বাসী, ইসলাম অন্যায়ভাবে কাউকে আগ্রাসন তৈরীতে বিশ্বাসী নয়।

তাই জেসিন্ডা যে মানবতার কথা বলেছে, সত্যিই বলতে ইসলাম সেই মানবতায় স্বীকার করে না।
তবে জেসিন্ডা যে কথিত মানবতা প্রকাশ করেছে, সেটা অনেকটা ফ্রি-মেসনদের মত মানবতা, যা আব্রাহামিক ধর্ম থেকে দূরে সরে প্যাগানিজমের মাধ্যমে মানবতার আলাদা একটি সংজ্ঞা তৈরী করা।

যাই হোক,
এবার আপনাদেরকে আরেকটি তথ্য দিচ্ছি। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর ফ্রি-মেসনারীদের প্যাগানগ্রুপটি বেশ সক্রিয় হয়েছে এবং এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মধ্যে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। আপনারা জানেন, আর কিছুদিন পরেই আসছে পহেলা বৈশাখ, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বিভাগ থেকে বের হবে প্যাগানদের অনুষ্ঠান ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’, যা আন্তর্জাতিক ইহুদীবাদীদের সংস্থা ইউনেস্কো থেকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। তবে গত কয়েক বছর যাবত মূর্তিপূজারীদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণের কারণে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ অনেকটাই কমে গিয়েছিলো। যার কারণে তাদের শোভাযাত্রায় খুব একটা লোক হচ্ছিলো না, এবং গত বছর প্রায় হায়হুতাশ পড়ে যায়। এ অবস্থায় সেই অনুষ্ঠানকে বাচিয়ে রাখতে মুসলমানদের টেনে সেই প্যাগান কালচারে নিয়ে আসা খুব জরুরী। তাই এবার মুসলমানদের আকৃষ্ট নতুন পদ্ধতি নিয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা। তারা এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য করবে নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা। আমি নিশ্চিত, এই উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করায় অনেক মুসলমানই এবার মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ  করবে। (https://bit.ly/2HGKHKL)

মজার বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন,
জেসিন্ডা আরডন কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করেনি,
কিন্তু নিউজিল্যান্ডের মুসলমানদের ভিগিল আর বাংলাদেশের মুসলমানদের মঙ্গল পূজা ধরিয়ে দিয়েছে।
এটাই হলো চতুর ফ্রি-মেসনারীদের বৈশিষ্ট্য।


----------------------------------------------------------
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Sunday, March 24, 2019

জেসিন্ডা খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদীদের উগ্রতার ভিডিও লুকিয়ে ফেলতে যতটুকু ইচ্ছুক, তার থেকে বেশি ইচ্ছুক মুসলিম নামে কেউ অস্ত্র হাতে নিচ্ছে, হামলার ডাক দিচ্ছে সে খবর ছড়াতে !


নিউজল্যান্ডে হামলা হয় ১৫ই মার্চ,২০১৯
কিন্তু তার ১০-১১ দিন আগে, মানে ৪-৫ই মার্চ থেকে নিউজিল্যান্ডের মিডিয়ায় একটি খবর খুব প্রচারিত হয়। সেটা হলো, ‘কিউই জিহাদী’ মার্ক টেলরের খবর।

মার্ক টেলর হচ্ছে নিউজিল্যান্ড বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি, যে ধর্মান্তরিত হয়ে আবু আব্দুল রহমান হয় এবং ২০১৪ সালে সিরিয়াতে যুদ্ধ করতে যায় বলে খবরে প্রকাশ। কিন্তু সম্প্রতি তাদের মিডিয়াতে প্রচারিত হয়, মার্ক টেলর কুর্দিশ বাহিনীর কাছে ধরে পড়েছে এবং সে নিউজিল্যান্ডে ফিরতে চাইছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউজিল্যান্ডের মিডিয়া গত ৪ঠা মার্চ থেকে বেশ গরম হয়ে ওঠে এবং মার্ক টেলরের নামের সাথে ইসলামী ধর্মীয় নামকরণ ‘জিহাদী’ শব্দ যোগ করে বন্দুক, ছুরি, তলোয়ার হাতে ছবি বার বার প্রচার করতে থাকে। নিউজিল্যান্ডের নিউজহ্যাব, নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, স্ট্যাফ, রেডিও নিউজিল্যান্ড, ওয়ান নিউজ, নিউজটক’ বার বার এই ছবিগুলো প্রকাশ হতে থাকে।
ক) https://bit.ly/2U6peAJ
খ) https://bit.ly/2Ousb9n
গ) https://bit.ly/2UaCILS
ঘ) https://bit.ly/2GYvAMr

যদিও মার্ক টেলর গ্রেফতার হয়েছে বলে দাবী করা হচ্ছে,
কিন্তু এই নিউজগুলো নিউজিল্যান্ডে সংখ্যালঘু মুসলিম কমিউনিটির জন্য খুব উদ্বেগজন ছিলো, কারণ এ ধরনের উন্মুক্ত অস্ত্র হাতে, ইসলামী নামে, আরবী হরফ সংযুক্ত ছবি প্রকাশ করায় দেশটিতে নতুন করে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবেশ তৈরী করা হয় মসজিদে হামলার মাত্র ১০-১১ দিন আগে। এছাড়া, ২০১৩ সালে একবার নিউজিল্যান্ডে মিডিয়া থেকে দাবী তোলা হয়, ক্রাইস্টচার্চের সেই আন নূর মসজিদ থেকে দুই জন মুসলিম ইয়েমেনে যুদ্ধ করতে যায় (https://bit.ly/2FtM4sK)। তাই নতুন করে ‘জিহাদী’ ‘জিহাদী’ রব তুললে ঐ আন নূর মসজিদের দিকে ইসলামবিদ্বেষীদের চোখ পড়ে। 

আমি একটি বিষয় দেখেছি,
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রাইস্টচার্চে হামলারকারীর ভিডিও প্রকাশ না করতে বার বার আহবান করেছে। তার আহবানে সারা দিয়ে ফেসবুক থেকে হামলার ১৫ লক্ষ ভিডিও ডিলিট করা হয়। এমনকি তুরষ্ক বিষয়টি প্রকাশ করায় এরদোয়ানের সমালোচনায় ফেটে পড়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয় নিউজিল্যান্ডের মিডিয়ায় যখন ব্রেন্টন ট্যারেন্টের ছবি প্রকাশ করা হয়, তার মুখ ঢেকে রাখা হয়।
(https://bit.ly/2CmRjK1)

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেনের এ ধরনের আচরণ থেকে আমরা অনুমান করতে পারি, সে খুব শান্তিকামী, ধর্মের নামে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ুক, সেটা সে চায় না।  কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, জেসিন্ডা খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদীদের উগ্রতার ভিডিও লুকিয়ে ফেলতে যতটুকু ইচ্ছুক, তার থেকে বেশি ইচ্ছুক মুসলিম নামে কেউ অস্ত্র হাতে নিচ্ছে, হামলার ডাক দিচ্ছে সে খবর ছড়াতে !! তাই নজির আমরা দেখতে পাই, মসজিদে হামলার ১১ দিন আগ থেকে নিউজিল্যান্ডের মিডিয়ায় মুসলিমবিরোধী চেতনার উদ্রেগ করতে পারে, এ ধরনের প্রচুর ছবি ছড়িয়ে দেয়া হয়। এমনকি ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ৫ দিন পর যখন সন্ত্রাসী টারেন্টের ছবি লুকানো হচ্ছে, তখনও নিউজিল্যান্ডের মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে আইএস বাহিনী নিউজিল্যান্ডে হামলা করতে আসছে এবং কিছু কল্পিত ছবি প্রকাশ করে ইসলামফোবিয়া আরো দৃঢ় করা হচ্ছে। (https://bit.ly/2Ye0OEV)

গত পোস্টে, আমি যেটা বলতে চেয়েছি, হয়ত অনেকেই বিষয়টি ধরতে পারেননি।
আমি বলতে চেয়েছি,
জেসিন্ডা আরডেন মাথায় ওড়না দিতে যতটুকু আন্তরিক,
আরবীতে সালাম দিতে যতটুকু আন্তরিক,
কিন্তু মুসলিমদের উপর যারা হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে তাদের দমন করতে সে ততটুকু আন্তরিক নয়।

আমি যেটা বলতে চেয়েছি, জেসিন্ডা অবুঝ কোন ব্যক্তি নয় যে, সে কিছু জানে না।
ইরাক হামলার অন্যতম খলনায়ক টনি ব্লেয়ারের এক সময় পলিসি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছে এই জেসিন্ডা আরডেন (https://bit.ly/2U7DhGr) ।  তার লেবার পার্টির ক্রাইস্টচার্চ মেয়র লিয়াননি ডালজেইলের তত্ত্ববধানেই ২০১২ সালে ক্রাইস্টচার্চের রাস্তায় ব্রেন্টর ট্যারেন্টের মতাদর্শের সন্ত্রাসীরা (হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট বলে যারা নিজেদের দাবী করে)  সবচেয়ে বড় মার্চ করে (https://bit.ly/2CAXzOC)। সেদিক বিবেচনা করলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বা মুসলিমবিরোধী ডানপন্থীদের কার্যক্রম সম্পর্কে নিজেকে ‘ভাজা মাছ উল্টে খেতে পারে না’ বলে দাবী করতে পারে না জেসিন্ডা।

সত্যি বলতে আমার একটা দোষ কি জানেন?
আমি কিছু কিছু  জিনিস সম্পর্কে হয়ত আমার একটু বেশি জানা আছে,
তাই যাদের জানা নেই, তাদের থেকে কিছু বিষয় নিয়ে আমার মাথা খেলে বেশি।

যেমন: ক্লাস ১০ এর একটা কবিতার বই,
সদ্য অক্ষর জ্ঞান পাওয়া শিশু শ্রেণীর একটা বাচ্চা ঐ কবিতার অক্ষরগুলো দেখে অ’আ’ক’খ’-ই দেখতে পাবে। কিন্তু ৫ম শ্রেনীর একজন ছাত্র হয়ত ঐ কবিতা কিছু পড়তে পারবে,কিন্তু কবিতার কথাগুলো নাও বুঝতে পারে। ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ঐ কবিতার পড়ে তার অন্তর্নিহিত কিছু কিছু বিষয় অনুধাবন করবে। আর কোন সাহিত্যিক হয়ত ঐ কবিতাকে বিশ্লেষণ করে তার ভেতর লুকিয়ে থাকা কোন নিগুঢ় তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করবে।  সবাই একই কবিতা দেখছে, কিন্তু সবার যার যার বোঝার অবস্থাটা ভিন্ন ভিন্ন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে যারা ধারণা রাখেন, তাদের চোখেও কিন্তু জেসিন্ডার প্রকাশ্য ইসলামপ্রিয়তার দৃশ্যটা সাধারণ চোখ থেকে ভিন্ন।

উল্লেখ্য-
মার্কিন সম্রাজ্যবাদের যে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক দেশ ও  বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে তা দুটি রূপে ছড়িয়েছে।
১) ডেমোক্র্যাট
২) রিপাবলিকান

এই দু্ইটি গ্রুপের তাদের মূল পলিসি (শত্রু দমন করে সম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা) নিয়ে কোন দ্বিমত নাই
কিন্তু সেই পলিসি বাস্তবায়ন করবে তা নিয়ে দ্বিমত আছে। তা নিয়ে রাজনীতি আছে।

প্রথম গ্রুপ ডেমোক্র্যাট’রা চায় তাদের সম্রাজ্যবাদ বিস্তার ঘটাবে  লিবারেল সিস্টেমে। এরা সংখ্যালঘু, নির্যাতিত, নারীবাদ, সমকামী, অভিবাসী, আদিবাসী, শান্তির বার্তার কথা বলে মূল লুক্বায়িত পলিসি বাস্তবায়ন করবে। ওমাবা, ক্লিনটন, হিলারী এরা হলো ঐ দলের সদস্য। সারা বিশ্বেই তাদের এই ডেমেক্রেট নেটওয়ার্ক আছে।  জেসিন্ডা আরডেন, জাস্টিন ট্রুডো, অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, প্রথম আলো, ব্র্যাক ঐ দলের সদস্য।

অপরদিকে রিপাবলিকানরা বলবে, জাতীয়তাবাদের কথা, ধর্মীয় চেতনার পক্ষে কাজ করার কথা, জাতীয়তাবাদ বিরোধীদের উচ্ছেদের কথা, দেশকে মুক্ত করার কথা। বুশ, ট্রাম্প হচ্ছে ঐ দলের সদস্য। আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী  মোদি, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান এ দলের সদস্য।

যারা ডেমোক্রেট তারা অভিবাসন বা শরনার্থীদের পক্ষে বলবে, রিপাবলিকানরা শরনার্থীদের বিপক্ষে বলবে।
ডেমোক্রেটরা নারীবাদের পক্ষে বলবে, রিপাবলিকানরা নারীবাদের (গর্ভপাতের) বিপক্ষে বলবে
ডেমোক্রেটরা সমকামীতার পক্ষে বলবে, রিপাবলিকানরা সমকামীতাদের বিপক্ষে বলবে।
(https://bit.ly/2FxgJqs)

এজন্য জেসিন্ডা আরডেন-
অভিবাসনের পক্ষে বলবে
সমকামীদের পক্ষে মার্চ করে (https://youtu.be/rGPmGrklQGw)
নারীবাদের পক্ষ হয়ে গর্ভ অবস্থায় পার্লামেন্টে যায়, ইউরোপ সফর করে আলোচনা তুলে। (https://bit.ly/2Fme1CL)

তাই জেসিন্ডা আরডেনের মধ্যে সাধারণ মুসলমানরা যে ইসলামপ্রিয়তা দেখেছে,
সেটা আমার চোখে আন্তর্জাতিক ডেমোক্রেটদের খুব স্বাভাবিক রাজনীতি হিসেবে ধরা পড়েছে। সাধারণ মুসলমানরা যেটাকে মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতি হিসেবে দেখেছে, আমি দেখেছি তার ডেমোক্রেট বহুমুখী চেহারার অংশকে।

তবে মুসলমানরা যেন মাথায় কাপড়ের টুকরা আর আরবী উচ্চারণ দেখে মনে না করে, তাদের উপর হামলা কমে যাবে।  জার্মানিতে যখন শরনার্থী আসা শুরু করলো, তখন ডেমোক্রেট প্যানেলের অ্যাঞ্জেলা মার্কেলও কিন্তু মুসলিম শরনার্থীদের প্রতি খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলে সংহতি প্রকাশ করেছিলো (https://bit.ly/2Fme0ib)। কিন্তু এ দ্বারা শরনার্থীদের উপর হামলা বিন্দুমাত্র কমেনি বরং বেড়েছে।  ২০১৬ সালে জার্মানিতে গড়ে দৈনিক ১০টির মত মুসলিমদের উপর হামলা ঘটতো। ২০১৬ সালে ২,৫৪৫ জন শরণার্থীর উপর এবং আশ্রয়কেন্দ্রের উপর ৯৮৮টি হামলার ঘটনা ঘটে৷ (https://bit.ly/2WqyYUj)

আসলে ডেমেক্রেট বা রিপাবলিকানরা অভিবাসী বা মুসলমানদের পক্ষে বিপক্ষে কথা বলবে, রাজনীতির অংশ হিসেবে, কিন্তু এটা মানে এই নয় তারা কেউ মুসলমানদের পক্ষের লোক হয়েছে গেছে বা মুসলিমবিরোধী ষড়যন্ত্র বন্ধ করবে। তারা এগুলো করে শুধু রাজনীতি করবে, এর বেশি কিছু নয়।

সত্যিই বলেতে আমার কাছে রিপাবলিকানদের থেকেও ডেমোক্রেটদের মারাত্মক মনে হয়। কারণ রিপাবলিকানরা প্রকাশ্যে করে, কিন্তু ডেমেক্রেটরা মুখে মিষ্টি কথা বলে, কিন্তু পেছনে ছুরি মারে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন সম্ভবত সেই দলেরই সদস্য।

----------------------------------------------------------
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Friday, March 22, 2019

মুসলমানদের হৃদয় জয় করলো নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী


চট্টগ্রামে অনেক ছোট ছোট পাহাড় বা টিলা আছে, সেই পাহাড় আরোহণ করা কিন্তু কঠিন কোন বিষয় নয়। যে কেউ যে কোন উপায়ে সেই পাহাড় জয় করতে পারে। মাঝে মাঝে খবর আসে, ঐ পাহাড়গুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটি ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে হিমালয় পাহাড়ের কথা ভাবুন, সারা বিশ্ব তাকে এক নামে চিনে। তার যেমন ওজন, তেমন উচ্চতা। সেই হিমালয় পাহাড় জয় করা কিন্তু সহজ নয়। পাশাপাশি ঐ হিমায়লকে কেটে নেয়ার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারে না।

তারমানে যার ওজন যত বেশি, তাকে জয় করাও তেমন কঠিন।
আবার যাকে জয় করা কঠিন তার অস্তিত্বও তেমন শক্ত।
কিন্তু যাকে জয় করা সহজ, তার অস্তিত্বও  সহজ।

আমরা দেখতে পাচ্ছি,
নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন মুসলমান নিহত হওয়ার পর নিউজল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সেই হতাহতের দায় নেয়া তো দূরের কথা, উল্টো মুসলমানদের হৃদয়-ই জয় করে নিয়েছে।
আহহা! কত সহজ মুসলমানদের হৃদয়,
একই সূত্রে মুসলমানদের অস্তিত্বও সহজ,
৫০-১০০ মুসলমান মরলে মুসলমানরাই এখন হিসেব করে না।
মাথায় একটা পট্টি বানলে, আর মুখে  দুই-চারটা আরবী শব্দ উচ্চারণ করলেই মুসলমানরা খুশি হয়ে যায়।
মুহুর্তেই ভুলে যায় ভাই হারানোর বেদনা, স্বজন হারানোর কষ্ট।
আসলেই কি মুসলমানদের আলাদা কোন অস্তিত্ব আছে ??

নিউজিল্যান্ডে ৫০ জন হত্যার পর মুসলমানদের প্রধান দাবী হওয়ার দরকার ছিলো:
১) নিউজিল্যান্ডে মৃত্যুদণ্ড বিধান নেই। তারমানে ৫০ জনকে হত্যা করেও ট্যারেন্টের মৃত্যুদণ্ড হবে না। ট্যারন্ট মুসলমানদের হত্যা করেছে এবং মুসলিম আইনে হত্যার বদলে হত্যা। তাই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল হয় তবে, আইন পরিবর্তন করে ট্যারেন্টকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হোক।
২) ট্যারেন্ট এর খুনের সাথে ‘২৫ এপ্রিল-আনজাক দিবস’ দিবসের চেতনা জড়িত। রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা এই দিবসকে কেন্দ্র করেই নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় খ্রিষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও মুসলিম বিদ্বেষী চেতনার উদ্ভব ঘটে। নিউজিল্যান্ড যদি এতই মুসলিম প্রেমী হয়, তবে সেই ‘আনজাক দিবস’ নিউজিল্যান্ডে নিষিদ্ধ করুক। একটা বিষয় লক্ষ্য করবেন, বাংলাদেশের শিক্ষা সিলেবাস থেকে ‘জিহাদ’ নিয়ে আলোচনা বাদ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে শিক্ষা সিলেবাসে এই জিহাদ নিয়ে আলোচনার কারণে কি ৫০ জন অমুসলিম নিহত হয়েছিলো ? যদি নাই হয়, তবুও তো মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয় বাদ দিতে হলো, অথচ অমুসলিমরা যে ‘২৫ এপ্রিল-আনজাক দিবস’ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটালো, সেই দিবস পালন বাদ দেয়ার কথা কেউ বললো না।
৩) শুধু এক ট্যারেন্টকে ধরলে হবে না, নিউজিল্যান্ডে যত মুসলিমবিদ্বেষী সংগঠন আছে সবগুলো নিষিদ্ধ করতে হবে। নিউজিল্যান্ডে প্রকাশ্যে সক্রিয় কট্টর মুসলিমবিদ্বেষী উগ্রডানপন্থী National Front, Western Guard,  Dominion movement nz এর মত সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা উচিত। এক ওসামা বিন লাদেনকে কেন্দ্র করে পুরো আফগানিস্তানের  উপর হামলা করা হয়েছে, তখন তো ব্যক্তি বা সংগঠন হিসেব করা হয় নাই, সকল মুসলমানই জঙ্গী-সন্ত্রাসী হয়ে গিয়েছিলো। তাহলে খ্রিস্টানদের বেলায় হিসেব শুধু কেন ব্যক্তি পর্যায়ে হবে, কেন সকল খ্রিস্টান সন্ত্রাসী সংগঠন নিষিদ্ধ করা হবে না ?

আমার কথা হলো, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী যদি এত ইসলাম ও মুসলিম প্রিয় হয়, তবে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী যে বিষয় আছে সেগুলো আগে বন্ধ করুক, সেটা না করে সে মুসলমানদের শান্ত করতে চাইছে কেন ?
বিষয়টা হলো, অপরাধ বা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভূক্তভোগীকে ব্যাথ্যা ভুলোনোর চেষ্টা,
যেন তাকে যতই মারা হোক, সে যেন প্রতিবাদ না করে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের আচরণ তো কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাছাড়া, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিজেই তো সন্দেহ থেকে দূরে নয়। ব্রেন্টন ট্যারেন্ট বহুদিন আগে থেকে ওয়েবসাইটে প্রকাশ্যে মুসলিম হত্যার ছক কষেছিলো ও ঘোষণা দিচ্ছিলো। কিন্তু কেন নিউজিল্যান্ড সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলো না? বাংলাদেশের মত দেশেও কোন লোক এ ধরনের ঘোষণা প্রকাশ্যে দিলে তাকে কয়েকঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে তারা চুপ ছিলো কেন ? নিউজিল্যান্ড সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগীতা পেয়েই যে ব্রেন্টন বড় ঘটনা ঘটালো না, সেটা কি করে বিশ্বাস করা যায় ? বিশেষ করে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে বাসে চড়ে ছিলো, সেই বাস চালকের আচরণও সন্দেহজনক ছিলো। মসজিদের ভেতর গুলি হচ্ছে জেনেও সে বাংলাদেশ ক্রিকেটবাহী বাসকে টেনে দূরে না নিয়ে মসজিদের সামনেই দাড়িয়ে ছিলো। এখানে পুরো প্ল্যানটাই সাজানো মনে হয়, তাই নিউজিল্যান্ড সরকারের বর্তমান অতিভক্তি প্রদর্শন তাদের বিশ্বাসঘাতক বহুরূপী চরিত্রকেই প্রকাশ করে।

----------------------------------------------------------
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Friday, March 15, 2019

মুসলমানদের নিজস্ব কোন অবস্থান নেই, এজন্য মুসলমানদের পাখির মত গুলি খেয়ে মরতে হয়।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে দুটো স্ট্যাটাসে দুটি কথা বলেছিলাম:

১) বাংলাদেশের চর্তুপাশ্বে উগ্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। ভারতে হিন্দু সন্ত্রাসী আরএসএস, শ্রীলঙ্কায় উগ্র বৌদ্ধ সন্ত্রাসী বিবিএস (বধু বালা সেনা) আর মায়ানমারে উগ্র বৌদ্ধ সন্ত্রাসী ৯৬৯ মুভমেন্ট। মাঝমানে ছোট্ট অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বেশিদিন টিকতে পারবে না।…….আপনি হয়ত অসাম্প্রদায়িক সেজে গুড বয় হয়ে থাকবেন । তবে সেখানে লাভ হবে না। ওরাই বানোয়াট ঘটনা ঘটিয়ে আপনাকে জঙ্গী দাবি করে তারপর নিধন করবে। তাদের আইডলজি হলো মুসলিম নিধন, সেটা যে অজুহাতেই হোক। প্রয়োজনে বাঘ-হরিণের গল্পের মত বলবে- “তুই পানি ঘোলা করিসনি তো কি হয়েছে, তোর বাপ-দাদা তো ঘোলা করেছিলো ? তোকে আমি খাবোই।”………..আমি আবার বলছি-BBS-969-RSS কিন্তু সংগঠনের জোট নয়, এটা বাংলাদেশের চারদিকে ঘিরে থাকা দেশগুলোর জনগণ, সরকার ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত জোট। এদের মোকাবেলায় যারা কথিত অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলবে, তারা মীর জাফর। তারা বাংলাদেশকে ডুবিয়ে দিয়ে পালিয়ে যাবে। এই আগাম বিপদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সকল জনগণ, সরকার ও সামারিক বাহিনী কি করবে তার সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে।
(https://tinyurl.com/yxgxehfj)

২) মুসলমানদের চীন-আমেরিকা-রাশিয়া-ব্রিটেনের দিকে তাকিয়ে না থেকে নতুন মুসলিম জোট গঠন করার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। তুরষ্ক, পাকিস্তান, ইরান, বাংলাদেশ, কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সুদান মালয়েশিয়া একত্র হয়ে মুসলমানদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে- আমেরিকা-চীন যে নতুন দ্বন্দ্ব তৈরী করেছে , তার কেন্দ্রস্থল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। এ অঞ্চলে দ্বন্দ্ব মানেই বাংলাদেশ-ভারত-ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়ার বিরাট মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্ষতি হওয়া। মুসলমানরা আগে থেকে এর বিরুদ্ধে প্ল্যান নিয়ে এক না হলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।....ভুলে গেলে চলবে না- এর আগের টার্মে তৎকালীন সুপার পাওয়ার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আপকামিং সুপার পাওয়ার আমেরিকার দ্বন্দ্বে বলী হয়েছিলো আফগানিস্তান। দেশটি এখন ধ্বংসস্তুপ। অনুরুপ বর্তমান সুপার পাওয়ার আমেরিকা ও আপকামিং সুপার পাওয়ার চীনের দ্বন্দ্বের কেন্দ্রস্থল কিন্তু বঙ্গপোসাগর। সেই দ্বন্দ্বেও বাংলাদেশও যে আফগানিস্তানের মত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে না, সেটা কিন্তু বলা যায় না।
(https://tinyurl.com/y3crkkcj)

আজকে নিউজিল্যান্ডে মসজিদে গুলি করে অর্ধশতাধিক মুসল্লী হত্যাকাণ্ডের পর একই কথা বলবো। মুসলমানদের নিজস্ব কোন অবস্থান নেই, এজন্য মুসলমানদের পাখির মত গুলি খেয়ে মরতে হয়। এর সমাধানও দুইটি-

ক) অসাম্প্রদায়িকতা আস্তাকুড়েতে নিক্ষেপ করে ‘সম্প্রদায় প্রিয়’ হোন। নিজ সম্প্রদায়কে, নিজের সংস্কৃতি ভালোবাসুন, অন্য সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, পেয়ার-মুহব্বমত ভুলে যান, তাদের বয়কট করতে শিখুন।
খ) আন্তর্জাতিকভাবে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে জোট বা একাত্মতা করুন, আন্তর্জাতিক মুসলিম জোটের দাবী তুলুন।কোন স্থানে মুসলিমদের উপর হামলা হলে ঐ জোটের পক্ষ থেকে ঐ স্থানে সামরিক অভিজান চালানোর ঘোষণা জারি করার দাবী তুলুন।

----------------------------------------------------------
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Wednesday, January 30, 2019

প্রসঙ্গ : পুরান ঢাকার সাকরাইন, মেথরের অনুষ্ঠান মুসলমানের ঘরে


পুরান ঢাকার সাকরাইন বলে একটা অনুষ্ঠানের নাম শোনা যায়। পুরান ঢাকার আমুদপ্রিয় তরুণ প্রজন্ম ছাদের মধ্যে সার্চ লাইট লাগায়, বাজি পুড়িয়ে, হিন্দি গান বাজিয়ে, নর্তন-কুর্দন করে, ঘুড়ি উড়িয়ে এই দিবস পালন করছে। সাকরাইন বা পৌষ সংক্রান্তিকে যতই সাবর্জনীন ঢাকাইয়া উৎসব নামে ডাকা হোক, বাস্তবে এ অনুষ্ঠানটা হিন্দুদের অনুষ্ঠান সবাই জানে। এটা হিন্দুদের মকর সংক্রান্তি, যে দিন হিন্দুদের অনেক পূজা-পার্বন থাকে। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, নেপালের হিন্দুরা ভিন্ন নামে এ দিবসটি পালন করে। যেমন- মাঘি সংক্রান্তি (নেপাল), ‘সাকরাত’ (দিল্লি ও হরিয়ানা), উত্তরায়ন (গুজরাট), ‘মাঘি (পাঞ্জাব) এবং আরও অনেক নামে।
এবার আসুন উইকিপিডিয়া কি বলছে,: “ঢাকা শহরে উৎসবমুখর পরিবেশে সাকরাইন উৎসব পালন করা হয়[। মূলত পুরান ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতে বেশি জমজমাট ভাবে উদযাপিত হয় পৌষসংক্রান্তি তথা সাকরাইন। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, গোয়ালনগর, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, লালবাগ ও এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে ছোট, বড় সকলেই মেতে উঠে এ উৎসবে।”
পাঠক, ৪৭ আর ৬৫ –এ বাংলাদেশে যতসামান্য ব্রাহ্মণ বাংলাদেশ ত্যাগ করে পশ্চিমবঙ্গ চলে যায়। বাংলাদেশে যারা থাকে সবাই নিচুজাতের হিন্দু, যাদের বেশিরভাগের কাজ মুসলমানদের বাড়ির টয়লেট মলমূত্র পরিষ্কার করা। যেসব এলাকায় সাকরাইন অনুষ্ঠানটি পালন হয়, তাদের নামগুলো খেয়াল করুণ, তবেই বুজতে পারবেন- শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, গোয়ালনগর, সূত্রাপুর।
-শাখারীবাজার নামটি এসেছে নিচু হিন্দু জাত শাঙ্খিক বা শঙ্খকার থেকে
-তাতীবাজার নামটি এসেছে নিচু হিন্দু জাত তাঁতি থেকে
-গোয়ালনগর শব্দটি এসেছে নিচু হিন্দু জাত গোয়ালা বা সদগোপ থেকে
-সূত্রাপুর শব্দটি এসেছে নিচু হিন্দু জাত সূত্রধর বা কাঠমিস্ত্রি থেকে
অন্যদিকে পুরান ঢাকা শব্দটি এসেছে ঢাকার আদি অবস্থান হিসেবে। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেষে মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৭শ’ শতাব্দীতে ঢাকাকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। পুরান ঢাকার মুসলমানরা সেদিক থেকে ঢাকার আদিবাসী এবং ঐতিহ্যবাহী। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আজকে পুরান ঢাকার মুসলিম তরুণ প্রজন্ম যে গোষ্ঠীর অনুষ্ঠান ‘সাকরাইন’ পালন করতে উঠে পড়ে লেগেছে, তারা এতদিন ছিলো ঐ মুসলিম পরিবারের টয়লেট পরিষ্কারওয়ালা, জুতা সেলাই, বা হাসপাতালে লাশকাটা করা। যারা সম্ভ্রান্ত মুসলিমদের বাড়ির আঙ্গিনায় কখন পা দেয়ার সাহস পায়নি, আজকে সেই সম্ভ্রান্ত মুসলিমদের নতুন প্রজন্ম ঐ নমশূদ্র হিন্দুর কালচার মাথায় নিয়ে নাচতেছে। অনেকটা সিনেমার নায়িকা জয়া আহসনের মত। এক সময় যে ছিলো সম্ভ্রান্ত নবাব পরিবারের বউ (আহসান মঞ্জিল)। কিন্তু সেখানে থেকে ডিভোর্স নিয়ে জয়া আহসান এখন কলকাতায় গিয়ে হিন্দু লম্পটদের খোরাক হয়েছে।
পুরান ঢাকায় হিন্দু মুসলিম দুই ধর্মের লোকই আছে এবং অনেক আগে থেকেই ছিলো। কিন্তু এতদিন সেখানের মুসলমানরা কখনই হিন্দুদের সাথে মিশে যায়নি বা সংস্কৃতি গ্রহণ করে। কারণ তারা দুই শ্রেণীর স্ট্যাটাসের পার্থক্য ভালোভাবে বুঝে। সাকরাইন পুরান ঢাকার হিন্দুদের কালচার হতে পারে, কিন্তু সেটা কখনই পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত মুসলমান শ্রেণীর কালচার নয়। কিন্তু হঠাৎ করে কার উস্কানিতে তারা নিচু শ্রেণীর হিন্দু কালচারের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করলো তা আমার বুঝে আসছে না। এতদিন ‘পুরান ঢাকা’ শব্দটার সাথে যে ‘ঐতিহ্য’ ও ‘সম্ভ্রান্ত’ শব্দযুগল সংযুক্ত ছিলো, সেটা অবশ্যই নবাবী কালচার, মুসলমানদের কালচার। কিন্তু এখন সেখানে মেথর-ডোম আর গোয়ালার কালচার প্রবেশ করিয়ে তা কলুষিত করায় ভবিষ্যতে ‘পুরান ঢাকা’র সাথে ‘ঐতিহ্য’ আর ‘সম্ভ্রান্ত’ শব্দযুগল বিলুপ্ত হবে, এটা নিশ্চিত।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Friday, October 19, 2018

মোরগ লড়াই ও সাকিবের আঙ্গুল


গ্রাম বাংলায় এখনও অনেক স্থানে ‘মোরগ লড়াই’ খেলা দেখা যায়। দুইটা মোরগকে পরষ্পরের দিকে লেলিয়ে দেয়া হয় মারামারি করার জন্য। অবুঝ প্রাণী দুটো পরষ্পরের উপর ঝাপিয়ে পড়ে, আঘাত করে, দুই জন দুইজনকে মেরে রক্তাক্ত করে, আহত-নিহত করে। আর তাদের খুনোখুনি দেখে আনন্দিত ও বিনোদন প্রাপ্ত হয় জনগণ। অর্থাৎ জনগণকে আনন্দ দিতে নিজেরা রক্তাক্ত হতে থাকে মোরগগুলো। এ কারণে বিশ্বজুড়ে প্রাণীপ্রেমীরা মোরগ লড়াই, ষাড়ের লড়াইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলছে। তারা বলছে, জনগণকে সামান্য আনন্দ দেয়ার জন্য প্রাণীদের উপর এই নির্মমতা মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে প্রাণীর উপর নৃশংসতা বন্ধ করতে হবে।

খুব সহজ অঙ্কে হিসেব –
কেউ রক্তাক্ত হবে, আর তার বিনিময়ে কেউ আনন্দিত হবে।
আপনি বর্তমানে কালের ক্রিকেট বা ফুটবল খেলার দিকে যদি তাকান তবে সেই মোরগ লড়াইয়ের ব্যতিক্রম কিন্তু দেখতে পাবেন না। শুধু ব্যতিক্রম, অবুঝ প্রাণী মুরগীর যায়গায় শ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষকে দেয়া হয়েছে। সামান্য একটা ঢিল ছুড়লে মানুষ যখন ভয় পায়, তখন একটা ভারি বল প্রতিপক্ষের দিকে ছুড়ে দেয়া হচ্ছে। বলের গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলো ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ইচ্ছে করে দেয়া হচ্ছে বাউন্স। ব্যাটসম্যান সেটা ব্যাট দিয়ে মারছে, কিন্তু যদি মিস হয় তবে গায়ে আঘাত করছে। হাতে,পায়ে, মাথায়, বুকে, দুই পায়ের মাঝে প্যাড পড়ছে, তারপরও মিস হয়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ছে। কয়েকদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার প্লেয়ার ফিলিপ হিউজ বাউন্স সামলাতে না পেরে মারা গেলো। এরপর ব্যাট দিয়ে আঘাত করার পর সেটাও কোন প্লেয়ারের গায়ে লাগতে পারে। ছোটবেলায় মনে আছে, ঢাকায় খেলতে এসে বাংলাদেশী ক্রিকেটার অপুর পুলে মিডঅনের দাড়িয়ে থাকা ভারতীয় প্লেয়ার রমনলাম্বার মাথায় বলের আঘাত লেগেছিলো। ব্রেন হেমরাজে মারা গিয়েছিলো রমনলাম্বা।

বাংলাদেশের মানুষ খুব আবেগী, তারা বিনোদন আর বাস্তবতাকে আলাদা করতে জানে না। একবার এক খেলার পর কিছু মানুষ প্রচার করলো, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের মত। তখন মাশরাফী মোর্তজা শুধরে দিয়েছিলো। সে বলেছিলো, আমরা হচ্ছে এন্টারটেইনার। আমাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের তুলনা করা ঠিক না।

এন্টারটেইনারদের কাজ মানুষকে বিনোদন দেয়া। এজন্য সে তার জীবনকে ক্ষয় করে মানুষকে আনন্দ দিতে চায়। হয়ত এর বিনিময়ে সে কিছু টাকা পায়। বিষয়টা অনেকটা পর্নো অভিনেতা অভিনেত্রীদের মত। একটা খবরে পড়েছিলাম, যারা পর্নোগ্রাফীতে অভিনয় করে তাদের আয়ু খুব কম হয়। অর্থাৎ মানুষকে বিনোদন দেয়ার জন্য তারা শরীরের উপর এমন সব মেডিসিন প্রয়োগ করে যা তাদের আয়ু হ্রাস করে।
এই আজকে সাকিব বলেন, মাশরাফি বলেন, তামীম বলেন আর মোস্তাফিজ বলেন, প্রত্যেকে কিন্তু একই কাজ করতেছে। কেউ ভাঙ্গা হাত নিয়ে, কেউ ভাঙ্গা পা নিয়ে খেলছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা তাদের জীবন ক্ষয় করে মানুষকে আনন্দ দিচ্ছে। হয়ত অনেকে ‘স্যালুট’ দিচ্ছেন, ভাবছেন খুব মনে হয় দেশের জন্য বিরাট কিছু নিয়ে আসছে। কিন্তু মানবিক দৃশ্যকোন থেকে একটা চরম অন্যায় করা হচ্ছে। ঠিক যেভাবে মোরগ আহত হওয়ার পরও আমরা চাই তারা মারামারি চালিয়ে যায়, ঠিক সেইভাবে ক্রিকেটারদের আমরা স্যালুট নামক ‘পাম্প’ তাদের প্রতি নৃশংসতা করছি। আহত মুরগী জানে, আহত হলেও যতক্ষণ সে লড়তে পারবে, ততক্ষণ তার মালিকের কাছে তার দাম আছে। তার জন্য ভালো খাদ্য আছে। ঠিক তেমনি সাকিব-তামিম-মাশরাফি-মোস্তাফিজরা জানে, যত আহতই হোক, যতক্ষণ সে খেলতে পারবে ততক্ষণ তার দাম আছে, তার ইনকাম আছে। একটু ইনজুরিতে পড়লে তার যায়গা আরেকজন দখল করে নেবে, তখন পাবলিকও তাদের ভুলে যাবে, তাকে দু্ইটাকা দিয়েও দাম দেবে না। ইনজুরীর জন্য কত ভালো প্লেয়ার হারিয়ে যায়, কত জন শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে যায়, কে কার খবর রাখে ? এই জন্য খেলার টাকা দিয়ে নামে বেনামে অন্য আয়ের পথ খুলে রাখে তারা।

আজকে বিশ্বে ইতর প্রাণীর প্রতি মায়া দেখিয়ে মোরগ লড়াই, ষাড়ের লড়াইয়ের বিরুদ্ধে জনমত তৈরী হচ্ছে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের মায়া দেখিয়ে কবে ক্রিকেট-ফুটবল নামক খেলাধূলা বন্ধ হবে ? মানুষকে বিনোদিত করার জন্য কেন অপর মানুষ কেন রক্তাক্ত হবে, জীবন দিবে ? মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে এই সব ‘খেলা’ অবিলম্বে বন্ধ হোক।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

ক্রিকেটে ভারতের জচ্চুরী নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যতটা সচেতন-ক্রিয়াশীল, তার চেয়েও নিষ্ক্রিয় ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে


গত ২৮শে সেপ্টেম্বার শুক্রবার ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে ৭ ফিলিস্তিনি, আহত ৫০৭। (https://bit.ly/2DEyrtl)

বাংলাদেশী মুসলমানদের উচিত ছিলো ফিলিস্তিনী ভাইদের হত্যাকাণ্ডে দুঃখিত হওয়া এবং প্রতিবাদ করা।
কিন্তু বাংলাদেশী মুসলমানরা ব্যস্ত আছে ক্রিকেট খেলায় লিটন দাসের ভুল স্ট্যাম্পিং এর ঘটনায় দুঃখিত হতে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে।

আসলে খেলা নামক বিষয়টার সফলতাটা এখানেই। আসল বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে অপ্রয়োজনী ও অযথা ‘খেলো’ বিষয়ের দিকে মনযোগ ঘুড়িয়ে নিয়ে যায়। এজন্য খেলাকে অনেকে আফিমের সাথে তুলনা করে।
আফিম দিয়ে অপরেশন থিয়েটারে আহত রোগীর ব্যাথা ভুলিয়ে রাখা হয়।
বর্তমান যুগে মুসলমানরা অনেক কষ্টে আছে, সেই কষ্ট ভুলিয়ে রাখতে এবং দৃষ্টিপাত সরিয়ে দিতেই ঠিক তেমনি ব্যবহার করা হচ্ছে হচ্ছে ‘খেলা’ নামক বস্তুকে।

আপনি দেখবেন, খেলা লাইভ চলার সময় বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে কমেন্টে,
হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ কমেন্ট,
“আল্লাহ তুমি জিতিয়ে দাও”,
“আল্লাহ তুমি পারো সব কিছু করতে”,
“আল্লাহ তোমার কাছে কিচ্ছু চাই না, শুধু এবার জিতিতে দাও”,
এভাবে জনগণ একবার খেলার সময় যতবার সৃষ্টিকর্তার নাম জপে, আমার তো মনে হয় ঐ লোক সারা বছরেও এতবার সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করে না।

একইভাবে, ক্রিকেটে ভারতের জচ্চুরী নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যতটা সচেতন, যতটা ক্রিয়াশীল, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, নদীগুলোকে পানিশুন্য করাসহ যাবতীয় ভারতীয় আগ্রাসন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ কি ততটা সক্রিয়? যদি ক্রিকেটের মত বাস্তব আগ্রাসন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ সিকিভাগও সক্রিয় হতো, তবে অবশ্যই দেশটা আজকে অন্যরকম হতে পারতো। যে বাংলাদেশী লিটনের ভুল স্ট্যাম্পিং নিয়ে একের পর স্ট্যাটাস দিচ্ছে, সে কি জানে, তারমাত্র ১ দিন আগে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ সিইপিএ-সেপা সাক্ষরিত হয়েছে, যার দরুণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবসা বাণিজ্যের মধ্যে অংশীদারিত্ব লাভ করছে ভারত। ক্রিকেট খেলায় অন্যায় নিয়ে সে যতটা কষ্ট পেয়েছে, দেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, এই খবরে কি সে সামান্যতম কষ্ট পেয়েছে ? (https://bit.ly/2InTUFm)

শুধু তা্ই নয়, মাত্র একদিন আগে,
-নামাজের জন্য মসজিদ অপরিহার্য নয় বলে রায় দিয়েছে ভারতীয় আদালত
(https://bit.ly/2y7XNd9)
-বাবরি মসজিদের জমি সরকার হুকুম দখল করতে পারবে বলে রায় দিয়েছে ভারতীয় আদালত
(https://www.bbc.com/bengali/news-45666001)
এই অন্যায্য রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুসলমানরা কি কোন প্রতিবাদ জানিয়েছে ?

আপনাদের মনে থাকার কথা, আগের পোস্টে আমি পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের গবেষণাখাতে বরাদ্দ নিয়ে research and development (R&D) তালিকার কথা বলেছিলাম। সাধারণত যারা, সরকারিভাবে গবেষণার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে সেই সব দেশের নাম এই তালিকায় ওঠে (https://bit.ly/2dLjLeE) ।

আপনি খবর নিয়ে দেখুন, ঢাকার পূর্বাচলে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। (https://bit.ly/2NOb8BL) অথচ সেই টাকার অর্ধেকও যদি গবেষণার জন্য ব্যয় করা হতো তবে অবশ্যই বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্র হতে পারতো। অপরদিকে এ বছর যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রনালয়ের বাজেট দেড় হাজার কোটি টাকা, তার চারভাগের ১ ভাগও যদি গবেষণার জন্য ব্যয় করা হতো, তবুও বাংলাদেশ কিছু একটা হতো।

এতকিছু সমস্যার জন্য কাকে দোষ দেবেন ? সরকারকে ?
কখনই শুধু সরকারের দোষ দিতে পারবেন না। আমি সব সময় একটা কথা বলি, যে দেশের জনগণ যেমন, তার শাসক শ্রেনীও ঠিক তেমন। তাই বাংলাদেশের জনগণকে আগে ‘লাঠি দিয়ে বলে বারি’ দেয়ার মত অপ্রয়োজনীয় জিনিসের মোহ ছাড়তে বলেন, এরপর দেখবেন দেশ ও জাতিকে উন্নত করা সম্ভব।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Tuesday, July 3, 2018

৩টা ছবির মধ্যে মিল খোঁজার চেষ্টা করছি

১-নম্বর ছবিটা নেদারল্যান্ডের এমপি গ্রিট ওয়াইল্ডার্সের। গ্রিট ওয়াইল্ডার্স কিছুদিন আগে মুসলমানদের শেষ নবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রতিযোগীতার করার ঘোষণা দেয় (https://ind.pn/2JME22D)। যদিও তার এই কর্মকাণ্ড এই প্রথম না। এর আগেও এমন ঘটনা সে ঘটিয়েছে। তবে লক্ষণীয় হলো, এর আগে বাংলাদেশে এ বিষয়টি নিয়ে বেশ প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিলো। কিন্তু এবার তেমন কোন প্রতিবাদ চোখে পড়লো না।

২- নম্বর ছবিটা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে চলা কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুর উপর ছাত্রলীগের হামলার ছবি। ছবি বলে দিচ্ছে, কতটা নৃশংস ও জনবিরোধী হয়ে উঠেছে সরকার । আসলে কোটা নিয়ে আন্দোলনে ছিলো গণমানুষের আন্দোলন, আর নুরু ছিলো সেই গণমানুষের আন্দোলনের নেতা। কিন্তু গণমানুষের আন্দোলনের নেতা হওয়ার পরও গণমানুষ তার নেতার সাহায্যে এগিয়ে আসবে না। তার নেতাকে মারা হলো কিন্তু গণমানুষ তার প্রতিবাদে কিছু করবে না, কারণ গণমানুষের সে শক্তি নেই। পাশাপাশি ক্ষমতাসীনরা এ ধরনের সাহসও পেয়েছে, কারণ তারা জানে, বর্তমানে গণমানুষ বা তার ইচ্ছার কোন দাম নাই। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য গণমানুষের কোন দরকার নাই। আছে বিদেশী ইহুদীবাদীদের দরকার। তাদেরকে খুশি রাখলেই হলো। আর গণমানুষকে ধিরে ধিরে মেরে ফেললেই হলো। গণমানুষ কিছুই করতে পারবে না।

৩- নম্বর ছবিটা আজকে ব্রাজিলের জয়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে তোলা (https://bit.ly/2lNaJz2)। যে টিএসসিতে সকাল বেলা কোটা আন্দোলনের নামা ছাত্ররা সংখ্যালঘু হয়ে পিটুনি খেলো, সেই টিএসসিতেই ব্রাজিলের খেলা দেখতে জমা হয়েছে অনেক ছাত্র। তাদের উল্লাসও দেখে কে !!

কিছু বিষয় জেনে রাখুন:

----মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে অনেক সময় মুক্তিযুদ্ধকে জিহাদ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের উব্ধুদ্ধ করতে ধর্মীয় চেতনা ব্যবহার করেছে নেতৃস্থানীয়রা। মুক্তিযোদ্ধারা নিয়মিত ধর্মচর্চা করতো এবং সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতো। এ থেকে বোঝা যায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য ধর্মীয় চেতনা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধর্মীয় চেতনা মানুষকে নিজ স্বার্থকে ক্ষুদ্র করে জাতিকেন্দ্রীক চিন্তাভাবনা দান করে । অপরদিকে ধর্মীয় চেতনাহীনতা মানুষকে ব্যক্তিকেন্দ্রীক করে তোলে এবং জাতিগত চেতনা ভুলিয়ে নিজ আনন্দ-খুশি-স্বার্থকে বড় করে দেয়।

----আজ থেকে ১০-১২ বছর আগে যখন মুসলমানদের ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গচিত্রের বিষয়টি ব্যাপকভাবে শুরু হয়, তখন বিষয়টির মূল কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিলাম। “মুসলমানদের ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র করে ইহুদীবাদীদের কি লাভ ? ” এটা নিয়ে স্ট্যাডি করেছি। অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে কয়েকটি মূল কারণ। এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ ছিলো: এই সব ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা পরিমাপ করে। মুসলমানদের শেষ নবী হচ্ছে মুসলমানদের ধর্মের মূল, তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করলেও যখন মুসলমান চুপ থাকে, বা অনুভূতিহীন হয়, তখন বুঝতে হবে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা শূণ্যের কোঠায়। ইহুদী্বাদীরা চায় সারা বিশ্ব করায়ত্ব করতে। কিন্তু এর প্রধান বাধা ‘ইসলাম’। কারণ ইসলাম ধর্ম ও তার চেতনাই পারে ইহুদীবাদ ঠেকিয়ে দিতে। সেই চেতনা যখন শূণ্যের কোঠায় পৌছাতে থাকে, তখন বুঝতে হবে মুসলমানদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, এবং এখন খুব সহজেই তাদের উপর দখল, নির্যাতন, সম্পদ লুটপাট করা যায়। মুসলমানরা হয়ে ওঠে ঢাল তলোয়ার বিহীন সৈণ্যের মত, তাকে যা খুশি তাই করা যায়।

--কোটা আন্দোলনে লোক কমে যাওয়া এবং ফুটবল খেলায় লোক বৃদ্ধি পাওয়া হচ্ছে, মোরালি ডেস্ট্রয় হওয়ার রেসাল্ট। শাসক শ্রেণী ইহুদীবাদীদের শেল্টারে জনগণ শোষণ করে স্বার্থ নিবে এবং একটা অংশ ইহুদীবাদীদের নিকট পৌছাবে। এজন্য প্রয়োজনে জনগণের উপর নির্যাতন চালানো লাগতে পারে। কিন্তু একবারে সবার উপর নির্যাতন করা কঠিন, তাই তাদের ডিভাইড করতে হবে। তারা এক দলকে নিপীড়ন করবে, আর বাকিদের প্যাথিডিন (খেলা) দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখবে, যেন তারা প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ না করতে পারে। আজকে যাদের প্যাথিডিন (খেলা) দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে তারাও যে বাঁচবে বিষয়টি সেরকম না। একে একে সবাইকে ধরা হবে। কিন্তু কেই কারো সাহায্যে এগিয়ে আসবে না। কারণ একদলকে ধরা হবে, অন্যদলকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হবে। তাই তারা একত্র হতে পারবে না।
মনে রাখবেন, ইহুদীবাদী ও তাদের দোসররা একটা সিন্ডিকেট। তারা আপনার উপর ফিজিক্যাল ও সাইকোলোজিক্যাল আক্রমণ চালাবে। আপনার পক্ষ-বিপক্ষ হয়ে আক্রমণ করবে। আপনি নিজে যদি তাদের সম্পর্কে ভালো ধারণা না রাখেন এবং পাল্টা সিন্ডিকেট তৈরী করে তাদের প্রতিহত না করতে পারেন, তবে খুব সহজেই তাদের কাছে ধরা খাবেন এবং সেটাই হয়।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Sunday, July 1, 2018

খেলা এমন একটা নেশা যা পুরো জাতির চিন্তা-ভাবনা-মান-সম্মান সব নষ্ট করে দেয়।


আমি একটা কথা সব সময় আপনাদের বলি,
আমি আজকে আপনাদের যা বলছি, তা আজকে হয়ত আপনারা নাও বুঝতে পারেন। কিন্তু একদিন না একদিন ঠিকই বুঝতে পারবেন।
আমি শুরু থেকেই খেলাধূলার বিরুদ্ধে । আমি আগেও বলেছি, এমন একটা সময় আসতে পারে, যখন কোন শত্রু রাষ্ট্র বাংলাদেশের উপর আক্রমণ করবে, আর সেই দিন বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা পড়বে। বাংলাদেশের সব মানুষ বলবে- হামলা করলে করুক, আগে খেলা, পরে সবকিছু।
খেলার বিরুদ্ধে বলায় আমাকে কম মানুষের কটুকথা শুনতে হয়নি। কিন্তু আজকে সরকার কোটা আন্দোলনকারীদের উপর এত প্রেসার দেয়ার সুযোগ পেয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে। কারণ তরুণ সমাজ আজ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে ব্যস্ত, তাদের মাথায় মেসি আর নেইমার ঘুড়ছে। অন্যকিছু চিন্তা করার সুযোগ কোথায় ?
আজকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অসহায়ের মত পালিয়ে এসেছে। কেন তারা কি কোন প্রতিরোধ করতে পারতো না ? এখনও কি তারা কিছু পারে না ??
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে খবর নিয়ে দেখুন, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬০টার মত ফুটবল ক্লাব বা টিম আছে। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জার্সি, বুট, পড়ে সারাদিন ফুটবল খেলায় মত্ত। এক টিম আরেক টিমকে ফুটবল খেলায় হারানোর চেষ্টা করতেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফুটবল খেলাই তাদের কাজ।
এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার আগেও নিশ্চয়ই মায়ানমারে ফুটবল খেলতো। ওদের উপর যখন যুলুম নির্যাতন চলতো, তখন তাদের নিশ্চয়ই ঐ দিকে খেয়াল দেয়ার সুযোগ ছিলো না। কারণ খেলাটা তাদের কাছে আগে। এখন তাদের মা-বোনকে ধর্ষণ করে, বাবাকে গুলি করে হত্যা করে গলা ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশের পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে তারপরও নিলর্জ্জগুলো বাংলাদেশে এসে ফুটবল খেলতেছে। ছি:। খেলা এমন একটা নেশা যা পুরো জাতির চিন্তা-ভাবনা-মান-সম্মান সব নষ্ট করে দেয়।
তবে ভালো লক্ষণ, ইতিমধ্যে অনেকেই খেলার কুফল সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। তবে আরো সচেতনতা সৃষ্টির দরকার আছে। অন্যান্য আন্দোলনের সাথে ‘খেলা’ নামক বিভ্রাটকেও বর্জন করতে ডাক দিতে হবে। ক্রিকেট-ফুটবলসহ সব ধরনের খেলা নিষিদ্ধ করতে হবে। আমি জানি, অনেকের খারাপ লাগতে পারে, তবুও বলবো- বাংলাদেশের নিকট ভবিষ্যতে খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করতেছে। তাই খেলা ফেলে এখনও সময় আছে সচেতন হোন। রোহিঙ্গাদের মত নিঃস্ব হওয়ার আগে খেলা ফেলে বাস্তবে ফিরে আসুন। নয়ত পুরো জাতির ধ্বংস ছাড়া আর কিছু দেখতে পারবেন না।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

মুসলমানরা যদি ইহুদীবাদীদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে পুরাতন শক্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চায়, তাহলে ‘নলেজ’ অর্জন করতে হবে।

কয়েকদিন আগে আমি বলেছিলাম,
ইহুদীরা তিনটা জিনিসকে জমা করে বর্তমানে ক্ষমতাসীন হয়েছে-
এগুলো হলো: টাইম-নলেজ-মানি।
কেউ যদি এ তিনটি জিনিস জমা করতে পারে, তবে সেও ক্ষমতার মালিক হতে পারবে।
আমার মনে হয়,
মুসলমানদের জনসংখ্যার অভাব নাই, সুতরাং টাইমেরও অভাব হবে না।
আবার মুসলমানদের টাকা পয়সাও আছে।
কিন্তু মুসলমানদের আসল অভাব হইলো নলেজের। মুসলমানদের মধ্যে জ্ঞানের অভাব। কারো কারো জ্ঞান আছে, কিন্তু সঠিক ও পূর্ণ জ্ঞানটা নাই। যদি নলেজ পাওয়া যায় এবং প্রচুর নলেজ গ্যাদার করা যায়, তবে সেটা আশ্রয় করে টাইম ও মানিও গ্যাদার করা সম্ভব। আর সেখান থেকেই মুসলমানদের স্বকীয় ক্ষমতা তৈরী সম্ভব।
একটা উদহারণ দিলে বুঝতে সহজ হবে। যেমন ধরুন-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে উপনিবেশ শাসন চলছিলো। তখন সম্রাজ্যবাদীরা বিভিন্ন দেশ দখল করতো। দেশ দখল করা হতো মূলত দুটি উদ্দেশ্যে।
১) শাসন ।
২) শোষন।
কিন্তু তারা অনেক হিসেব করে দেখলো- একটা এলাকায় সৈন্যবাহিনী পাঠায় অনেক কষ্ট করে তা দখলে নিতে হয়। দখলে নেয়ার পর অনেক কষ্ট করে বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে তাকে শাসন-শোষন করতে হয়। কিন্তু তারা যদি এমন একটা পলিসি বের করে, যার মাধ্যমে নিজের ঘরে বসে থেকে অন্যদেশকে শাসন শোষণ করা যায়, তবে এত কষ্ট করার দরকার কি ? কাজ হলেই হলো। তখন তারা ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা’টা চালু করলো। যেই বুদ্ধি, সেই কাজ। দেখা গেলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশ ভেঙ্গে গেলো এবং অনেক রাষ্ট্রের জন্ম হলো। আগে কিন্তু এত রাষ্ট্র ছিলো না। আপনি একটু হিসেব করে দেখুন, ব্রিটিশরা এ এলাকা এত কষ্ট করে দখল করলো এবং দুইশ’ বছর শাসন করলো। কিন্তু কি এমন হলো যে তারা ১৯৪৭ এ দেশ ছেড়ে চলে গেলো ? ঐ সময় তো তাদের বিরুদ্ধে বড় কোন বিদ্রোহও হয়নি। আসলে মূল হলো, তারা পলিসিতে চেঞ্জ করেছে, শাসন ও শোষণে নতুন পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে, মুসলমানদের মধ্যে তেমন কোন গোষ্ঠী তৈরী হয়নি যারা এ পলিসিগুলো ভালো করে বুঝে। ইহুদীরা যে পলিসিগুলো তৈরী করেছে, সেটা যদি মুসলমানরা নাই বুঝতে পারে, তবে সেগুলোর বিরোধীতা করবে কিভাবে?
আমার মনে হয়, যদি মুসলমানরা চায় ইহুদীবাদীদের খপ্পর থেকে বের হয়ে আসতে এবং মুসলমানদের পুরাতন শক্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে, তবে অবশ্যই মুসলমানদের ‘নলেজ’ অর্জন করতে হবে এবং প্রথম নলেজ হতে পারে, ইহুদীবাদীরা আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে বলয় তৈরী করেছে, সেই বলয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
যারা এ ধরনের জ্ঞান লাভ করবে, তাদের বলা যেতে পারে ‘এ্যানালিস্ট’। ‘এ্যানালিস্ট’ এমন একজন ব্যক্তিত্ব হবে, তারা মুসলমানদের ‘নলেজ’ সার্ভিস দিবে। আমার বিশ্বাস যদি বাংলাদেশে মাত্র ১০০ জন রিয়েল ‘এ্যানালিস্ট’ থাকে, তবে তা দিয়ে শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়ে রেভুলেশন ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব। ‘রিয়েল’ শব্দটা ব্যবহার করলাম শুধু এ কারণে, এ ধরনের এ্যানালিস্টরা দল-মত-পথের উপরে থেকে শুধু মুসলমানদের জন্য চিন্তা করবে। তারা দল কানা হবে না, তারা নিজেদের মধ্যে কাটাকাটি-দলাদলি-মারামারি করবে না। তাদের চিন্তাধারা হবে শুধু মুসলমানদের জন্য, নিজ দেশ ও জাতির কল্যানের জন্য। এরা কোন ঘটনা ঘটার আগেই বুঝতে পারবে, এবং ভবিষ্যতে কি ঘটবে তাও বুঝতে পারবে এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে জাতিকে নলেজ দিবে এবং ইহুদীবাদী পলিসি ব্রেক করে নতুন পলিসি দিতে সক্ষম হবে।
কিছু সূত্র আছে, এগুলো শিখিয়ে দিলেই বিষয়গুলো ধরে ফেলা সম্ভব। তাই আমি চিন্তা করছি, অনলাইনে এ বিষয়ের উপর ক্লাস নেয়া শুরু করবো। ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমেই ক্লাস হবে। কমেন্টের মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তর হবে। আপনারা যারা আগ্রহী তারা কমেন্ট করতে পারেন।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

মুসলমানরা নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হলে, ধর্মের নামে অধর্ম বন্ধ করার বিকল্প নাই

কয়েকদিন আগে ইউটিউবে একটা ভিডিও দেখছিলাম। কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত “ও মোর রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” গানটির উপর নির্মিত একটি মিউজিক ভিডিও। গানটিকে রিমিক্স করা হয়েছে, গানের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে উদ্দাম আর অশ্লীল নৃত্য। নৃত্যের সাথে গানের কোন কথার কোন মিল নাই। বাংলাদেশে অধিকাংশ স্থানে এই গান দিয়ে শুরু হয় ঈদের আনন্দ। কিন্তু গানটির মধ্যে কবি কাজী নজরুল ইসলাম আসলে কি বলতে চেয়েছেন, এটা বোধহয় শতকরা ৯৯.৯৯% লোকই জানে না। আসুন গানটিতে একবার চোখ বুলাই-
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ।
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন্‌ আসমানী তাগিদ।।
তোর সোনা-দানা বালাখানা সব রাহেলিল্লাহ্‌।
দে জাকাত মুর্দ্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিদ্‌।।
আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদ গাহে।
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।।
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত ও দুশমন হাত মিলাও হাতে।
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরীদ।।
ঢাল হৃদয়ের তোর তশতরীতে শির্‌নী তৌহিদের।
তোর দাওয়াতে কবুল করবে হজরত হয় মনে উম্মীদ।।
তোরে মারল' ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইট পাথর যারা
সেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ।
১৯৩১ সালে লেখা এই গানটি মুসলমানদের অনেক কিছু শিক্ষা দেয়। আমি যতটুকু বুঝতেছি-
(১) ঈদে খুশি করতে হবে ধর্মীয় পন্থা মেনে
(২) ঘুমন্ত মুসলমানদের জাগিয়ে তুলতে জাকাত দিতে বলা হচ্ছে,
(৩) ঈদের জামাতের মাধ্যমে জিহাদ-গাজি-শহীদের চেতনা জাগিয়ে তুলতে হবে।
(৪) মুসলমানদের নিজস্ব বিভেদ ভুলে এক হতে হবে।
কাজী নজরুল ইসলাম আমার অন্যতম পছন্দের কবি। তার লেখার মধ্যে অনেক শিক্ষা আছে। ঈদ মুসলমানদের ধর্মীয় দিবস। আর সেখান থেকে মুসলমানদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পহেলা বৈশাখ থেকে সংস্কৃতির চেতনাবাজরা শিক্ষা নেয়, দূর্গা পূজা থেকে হিন্দুরা শিক্ষা নেয়, ভ্যালেন্টাইনস ডে থেকে প্রেমিকরা শিক্ষা নেয়। তাহলে ঈদের থেকে মুসলমানদের শিক্ষা নেওয়া বা চেতনা জাগ্রত হওয়া কোথায় ?
বর্তমান কালে আমরা ঈদ বলতে দেখি, ভারতীয় অনুকরণে পোষাক, ছেলেদের ধূতির মত পায়জামা, সেলফিবাজি, জোরে গান বাজানো, নৃত্য আর মোজমাস্তি। আর টিভিতে হয় ঈদের নাটক, ঈদের সিনেমা, ঈদের নাচ, ঈদের ব্যান্ডশো আর ঈদের ফ্যাশন শো, জুয়েল আইচ ওরফে গৌরাঙ্গ লাল রায়ের যাদুবাজি। কিন্তু এগুলোর কোনটাই ঈদের আসল শিক্ষা নয়। অন্তত কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত “ও মোর রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” গানটি তা বলে না।
ধর্ম হচ্ছে একটা জাতির নিজস্ব পরিচয়গত সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতিতে যখন ভাঙ্গন ধরানো যায়, তখন ঐ জাতির অস্তিত্বতেও ভাঙ্গন ধরানো সম্ভব। আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই, ইহুদীরা কৌশল করে খ্রিস্টানদের ধর্মটা শেষ করে দিছে। খ্রিস্টান ধর্মটা সেক্যুলার করে দিয়ে তাদের পরিচয়হীন করে তুলেছে। এরপর সেই খ্রিস্টান জাতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে ইহুদীরা।
বর্তমানে মুসলমানদের ঈদের মত ধর্মীয় বিষয়গুলো যেভাবে সেক্যুলার বা অধর্ম দিয়ে পূর্ণ করা হচ্ছে তাতে খ্রিস্টানদের মত নিজ ধর্মেরও বিলীনের দিকে যাচ্ছে মুসলমানরা। আর ধর্ম যত বিলীন হবে, মুসলমানরা তত বেশি কোনঠাসা হতে থাকবে। মুসলমানরা যদি নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চায়, তবে ধর্মের নামে অধর্ম বন্ধ করার বিকল্প নাই।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------