Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts

Monday, May 21, 2018

বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোর ভাবখানা এমন- “আমার তোমার সবার রাজা- ব্রিটিশ রাজা-ব্রিটিশ রাজা”

গত ১৯শে মে থেকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্রিটেনের কথিত রাজ পরিবারের এক বিয়ে নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছে। ভাবখানা এমন, “আমার তোমার সবার রাজা- ব্রিটিশ রাজা-ব্রিটিশ রাজা”। বাংলাদেশের মিডিয়াও কম যায় না, পারলে মাথা নুয়ায় প্রণাম করে ব্রিটিশ রাজ পরিবারকে, আর জনগনকেও উৎসাহিত করে ব্রিটেনের কথিত রাজ পরিবারের সামনে মাথা নুয়াতে। বাংলাদেশ এক সময় পাকিস্তানের অংশ ছিলো, সেই পাকিস্তানের সামনে মাথা নুয়াতে বললে কি বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে ? তাহলে যে ব্রিটিশরা বহিরাগত হয়ে আমাদের ২০০ বছর লুটেপুটে খেলো সেই ব্রিটিশদের নিয়ে এত মাতামাতি কেন ?
আসলে আন্তর্জাতিক মিডিয়া কন্ট্রোল করে ইহুদীরা। বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোও তাদের মতাদর্শ অনুসারে পরিচালিত হয়। তারাই কোন বিশেষ কারণবশত: ব্রিটিশ ফ্যামিলিকে হাইলাইট করে। তারমানে ইহুদীদের অন্যতম কাজ হচ্ছে সাধারণ জনগণকে ব্রিটেনের কথিত রাজ পরিবারের দিকে ঝুকিয়ে রাখা। আপনাদের মনে থাকার কথা, বাংলাদেশ থেকে একটি হিন্দু ছেলে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করছে বলে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলো। ছেলেটির নাম শিপান কুমার বসু। তার ফেসবুক আইডি থেকে দেখুন (https://bit.ly/2IA0H2p)
অধিকাংশ পোস্ট ব্রিটিশ রাজ পরিবারের প্রশংসা করে করা। এর পেছনে কি কারণ?

এর পেছনে মূল কারণ সম্ভবত ব্রিটেনের কথিত রাজ পরিবারের মাধ্যমে ইহুদী সম্রাজ্যবাদের উত্থান ঘটেছে। ১৭শ’ শতাব্দীর আগে ইহুদীদের কোন পাওয়ার ছিলো না, খ্রিস্টানরাও মুসলমানদের কাছে ছিলো কোনঠাসা। সারা বিশ্বে তখন একচেটিয়া ক্ষমতা মুসলমানদের। ইউরোপ-রাশিয়া(তাতার), এশিয়া, আফ্রিকা, ভারত পুরো বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা তখন ক্ষমতাবান। সে সময় ইহুদীরা ব্রিটেনের কথিত রাজ পরিবারের সাথে চূক্তি করে। ব্রিটেনের রাজা আসলে দস্যূ রাজা। ওরা ছিলো পানিদস্যুদের নেতা। যে যত বেশি জাহাজ লুটপাট করে আনতে পারবে, সে তত বড় ‘স্যার’। সব টাকা জমা দিতে হতে ব্রিটিশ রাজ পরিবারকে। মানুষের মাংশ খাওয়া ছিলো তাদের নিয়মিত কাজ (https://bit.ly/2KC7IfC)
তাছাড়া তারা খ্রিষ্টানদের বড় কোন ফেরকা’ও না, তারা খ্রিস্টানদের Anglican ফেরকার অন্তভূক্ত। কথা হলো, ঐ সময় ইউরোপে আরো অনেক অগ্রগামী জাতি ছিলো, কিন্তু ইহুদীরা অপেক্ষাকৃত ভালো লোক না নিয়ে, মানুষ খেকো ডাকাতদের সাথে কেন চূক্তি করলো ?

আসলে এটা ইহুদীদের একটা স্বভাব। ওরা সব সময় সমাজের নিচু শ্রেণীর লোক থেকে তাদের দালাল বানায় উপরে তুলে। এতে অনেক সুবিধা। সমাজের নিচু শ্রেণীর লোকেদের মধ্যে মানবতাবোধ থাকে না, তারা ছোট-বড় পার্থক্য করতে পারে না, নিচু শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা গেলে তারা ছোট-বড় সবার সাথে দুর্বব্যবহার করে স্বার্থ আদায় করতে পারে। অপরদিকে নিচু শ্রেণী হিসেবে জাতে ওঠায় তারা তাদের পোষক ইহুদীদের কাছে অনুগত থাকে।
ইহুদীরা ব্রিটেনের সেই দস্যু নেতাদের সাথে চুক্তি করে এবং তখন-ই আসলে ফিল্ড পর্যায়ে ইহুদীদের উত্থান ঘটে। ইহুদীদের বুদ্ধি আর ব্রিটিশ দস্যুদের দস্যুপনা, দুই মিলে হয় ব্রিটিশ উপনিবেশ।
আমাদের এ এলাকায় যারা প্রথমে এসেছিলো ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। এটা একটা প্রাইভেট কোম্পানি। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিক ছিলো ইহুদী রথচাইল্ড পরিবার (http://bit.ly/2FI5ayd)
 তারা এ অঞ্চলে এসে আরেক নিচু শ্রেণী মানে হিন্দুদের সাথে গাট বাধে এবং মুসলমানদের বিরোধীতা করে। ১৭৫৭ সালে বাংলায় সিরাজ-উদ-দৌল্লাহ’র পতন-ই ছিলো মূলত ইহুদীদের উত্থান। ঐ সময় ভারত ছিলো সম্পদের ভূমি। ভারতের ডাকা হতো স্বর্ণের পাখি (Sone Ki Chidiya) নামে। আর ভারতের কেন্দ্র ছিলো তখন বাংলা। বাংলার পতনের পর সেই সম্পদ নিয়ে গিয়ে রথচাইল্ড হয় সবচেয়ে ধনী পরিবার। বর্তমানেও আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের মালিক এই রথচাইল্ড ফ্যামিলি। মজার ব্যাপার হচ্ছে তাদের সম্পদের শুরু কিন্তু এই বাংলাকে লুট করেই।

মুসলমানদের প্রাথমিক যুগ থেকে প্রায় সতেরশ’ শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১১শ’ বছর বিশ্বজুড়ে একচেটিয়া সুপার পাউয়ার ছিলো মুসলমানরা। কিন্তু ব্রিটিশদের কাধে ইহুদীরা গাট বাধার পরই তাদের উত্থান ঘটে। এক্ষেত্রে ভুলটা অবশ্য মুসলমানদেরই। কারণ বাগদাদ ও স্পেনের পতনের পর মুসলমানদের হাজার বছরের জ্ঞান চর্চা ইহুদীরা লুটে নিয়ে যায়। নলেজ ইজ পাওয়ার, ইহুদীরা কৌশল ও কূটকৌশলে সেটাই কাজে লাগায়। যেমন : ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া ক্ষমতা দখলের পরও প্রশাসনে মুসলমান কর্মকর্তারাই সব পরিচালনা করতো। কারণ একটি সভ্য এলাকা কিভাবে চালাতে হয় তার শিক্ষা পানিদস্যুদের ছিলো না। সেটা শিখতে তারা ১০০ বছর সময় নেয়।
ইহুদীরা ব্রিটিশদের পর এক এক করে জামার্নি, সোভিয়েত ইউনিয়ন, এবং বর্তমানে আমেরিকার উপরও ভর করেছে। কিন্তু ব্রিটেনের দস্যু পরিবারের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতার সূচনায় হওয়ায় তারা সম্ভবত সেটা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই দেখে। উসমানি খেলাফতের পতন এবং ফিলিস্তিনে ইহুদী পুনর্বাসন ব্রিটিশদের দ্বারাই ঘটে। মুসলমানদের দুর্বল করতে মুসলমানদের মধ্যে অধিকাংশ দলাদালি ও ফেরকাবাজি শুরু হয় ব্রিটিশদের হাত ধরেই।
কমনওয়েলথ সংগঠনটি করাই হয়েছে ঐ ভূক্ত দেশগুলো এক সময় তাদের অধিনস্ত ছিলো এটা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাদেরকে ‘রাজা’ হিসেবে মেনে নিতে বলা। উল্লেখ্য বর্তমানেও ব্রিটেনের এই দস্যু পরিবারের সদস্যরা ইহুদীবাদীদের সিক্রেট সোসাইট ফ্রি মেসনের নেতৃস্থানীয় সদস্য। স্বাভাবিক তাদের অনুষ্ঠানে অনেক ফ্রি-মেসন সদস্যকে ডাকা হয় (ভারতীয় নায়িকা প্রিয়াংকা চোপড়াকে আমার ফ্রি-মেসন মনে হয়)।
সোজা ভাষায়, মানুষখেকো দুস্য এই ব্রিটিশ পরিবারকে রাজা হিসেবে মেনে নেয়া মানে নিজেকে ইহুদী সম্রাজ্যবাদের প্রজা হিসেবে মেনে নেয়া। তারা তো চায়, আমাদের মন-মগজে তাদের প্রজা বানিয়ে রাখতে। তাই এসব মানুষ খেকো পানিদস্যুদের লুটেরাদের ‘রাজা’ উপাধি দেয়া ও তাদের কাজে উৎসাহ দেখানো থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Sunday, April 15, 2018

বাংলা সন চালুর ইতিহাস নিয়ে তথাকথিত সুশীলদের কথার মধ্যেই রয়েছে দ্বিচারিতা

কাউকে কাউকে দাবি করতে দেখলাম:
“আকবর হিজরী সন থেকে বাংলা সন চালু করায়, বাংলা সনের সাথে নাকি ইসলামী ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।”
যারা এ ধরনের উদ্ভট দাবি করছে, তারা আসলে এ সম্পর্কে স্ট্যাডি করে নাই। এ সম্পর্কে ইতহিাস বলছে:
'আকবর বাদশাহর রাজত্বকালে হিন্দু সম্প্রদায় বাদশাহের কাছে জ্ঞাপন করে, আমাদের ধর্মকর্ম সম্পর্কীয় অনুষ্ঠানে হিজরী সন ব্যবহার করতে ইচ্ছা করি না। আপনি আমাদের জন্য পৃথক সন নির্দিষ্ট করে দিন। আকবর হিন্দু প্রজার মনোরঞ্জনার্থে হিজরি সন থেকে এলাহি সন নামে একটি সনের প্রচলন করেন। যা আমাদের বঙ্গদেশের সন বলে চলে আসছে।[' সুত্রঃ বারভূঁইয়া, লেখক – আনন্দরায়।]
এখান থেকে দুটি বিষয় বের হয়ে আসে।
প্রথমত, কথিত বাংলা সনের উদ্ভব হিন্দু কর্তৃক হিজরী সনের বিরোধীতার মনমানসিকতা নিয়ে।
দ্বিতীয়ত, তঃক্ষণাত সনটি নাম ছিলো এলাহী সন, যা বাদশাহ আকবর কর্তৃক চালুকৃত ধর্ম দ্বীন-এ-এলাহী থেকে আগত।
এখন আপনারাই বিচার করুন, কথিত বাংলা সনের আগমন ইসলামী ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্কিত নাকি ইসলাম বিরোধীতার সাথে সম্পর্কিত ?
আরেকজন লেখককে বলতে দেখলাম:
“আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আরবরের সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতি না। “
স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, আপনি নিজস্ব সংস্কৃতি বলতে কত বছর আগের সংস্কৃতির কথা বলছেন ?
২০০, ৩০০, ৫০০ বছর আগের সংস্কৃতি কি আপনার সংস্কৃতি না ? ও বুঝেছি, ৮০০ বছর পূর্বে এ অঞ্চলে মুসলমানরা আসার আগের সংস্কৃতির কথা বলছেন ? মানে হিন্দু সংস্কৃতি ?
তাহলে তো আরবের সংস্কৃতিরও প্যাগান সংস্কৃতি । কারণ আরবে মুসলমানরা আসার আগে সেখানে মূর্তিপূজকরা ছিলো। তারা সূর্যের পূজা করতো। গ্রহ-নক্ষত্রের পূজা করতো। আপনি আজকে মঙ্গল পূজার সময় সূর্যের মূর্তি নিয়ে দৌড়ান, গানের মধ্যে বিশাখা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন, এগুলোতো আরবের প্রাচীন সংস্কৃতির অংশ বিশেষ ।
আসলে যারা এ ধরনের কথা বলে, তাদের কথার মধ্যেই দ্বিচারিতা থাকে। তারা এ অঞ্চলের সংস্কৃতি বলতে ৮০০ বছর আগে মুসলমানরা আসার আগের সংস্কৃতি বোঝায়। কিন্তু মুসলমান-খ্রিস্টান ও ইহুদীদের ধর্মবিশ্বাস অনুসারে সর্ব প্রথম মানব আদম এ অঞ্চলে আসেছিলেন। তাহলে তাদের হিসেবে সর্বপ্রথম মানবের সংস্কৃতি আগে গ্রহণ করা উচিত। আর সেই সংষ্কৃতি তো মূর্তি পূজা বিরোধী।
তাই যারা এ ধরনের কথা বলে, তাদের সময় নির্দ্দিষ্ট করে কথা বলা উচিত, কোন অঞ্চলে কোন সময়ের সংস্কৃতির তারা পক্ষে এবং কোন সময়ের বিপক্ষে।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Sunday, March 11, 2018

মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা ওমর বিন খত্তাব খিলাফত হাতে নেন ২৩শে আগস্ট ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ


মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা ওমর বিন খত্তাব খিলাফত হাতে নেন ২৩শে আগস্ট ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ (উইকি)। আরবী সন হিসেবে সেই তারিখটা হয় ১৩ হিজরী সনের ২২ জমাদিউস ছানী (http://bit.ly/2p6RdPl)।

আজকে তারিখ হচ্ছে ১৪৪০ হিজরী সনের ২২শে জমাদিউস ছানী। অর্থাৎ আজ থেকে ১৪২৭ বছর পূর্বে এই দিনে মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা খিলাফত হাতে নেন। এ্ই তারিখটা যদি মুসলমানরা স্মরণ রাখতো এবং এই দিনে মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা ওমর বিন খত্তাবের খিলাফত সম্পর্কে আলোচনা করতো তবে অবশ্যই মুসলমানদের মধ্যে জেনারেশন গ্যাপ ও হীনমন্যতা দূর হতো। এবং বুঝতে পারতো খিলাফত শাসন ব্যবস্থাটা আসলে কেমন ? কারণ আমার ধারণা অনেকের মধ্যে প্রচার আছে, খিলাফত মানে মনে হয় মারামারি আর হাতকাটা আর পাথর ছুড়ে হত্যা করা। কিন্তু আসলে খিলাফত ব্যবস্থা কিভাবে পরিচালিত হতো সেটা কিন্তু মুসলমানরাও বলতে পারবে না।

সত্যিই বলতে বর্তমান যুগের প্রায় মুসলমানই ভাবে বর্তমান সভ্যতা ও নিয়ম কানুন মনে হয় অমুসলিমদের থেকে এসেছে। কিন্তু মুসলমানরা জানেই না, পৃথিবীর বেশিরভাগ সভ্যতার আগমন ‍মুসলমানদের হাত ধরে, বিশেষ করে দ্বিতীয় খলিফা ওমরের হাত ধরে। এজন্য দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছিলো – “খলীফা ওমরের (ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা) শাসনব্যাবস্থা আমাকে দারুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি জনসাধারনের উন্নতির লক্ষ্যে তার এই শাসনব্যাবস্থা অনুসরণ করার চেষ্টা করব।” (http://bit.ly/2IenfBT)

পাঠক ! একটু চিন্তা করে দেখুন, কেজরিওয়াল অমুসলিম হয়েও খলিফা ওমরের শাসন ও নিয়মনীতি সম্পর্কে জ্ঞাত এবং তার শাসন ব্যবস্থায় সেটা কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু আপনি মুসলমান হয়েও কি খলিফা ওমরের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু জানেন ? আসুন আজকে খলিফা ওমর বিন খত্তাবের খিলাফত প্রাপ্তির দিবস (২২শে জমাদিউস ছানী) এর এই দিনে ইতিহাস থেকে তার খিলাফত সম্পর্কে কিছু জানি-


মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা ওমর বিন খত্তাবের খিলাফতকাল ছিলো মাত্র ১০ বছর ৬ মাস। আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে এ স্বল্প সময়ে তিনি খিলাফতি শাসন ব্যবস্থায় সামরিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক এবং আইন বিভাগসহ পরিচালনার জন্য সে সমস্ত নিয়মনীতি চালু করেন, তাই বর্তমান আধুনিক বিশ্ব চোখ বন্ধ করে অনুসরণ করে। যেমন :



(১) মজলিসে সূরা বা উপদেষ্টা বিভাগ চালু :

মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা ওমর শাসনব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ ইসলামী আদর্শের ব্যক্তিদ্বারা মজলিসে শূরা বা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। এই উপদেষ্টা পরিষদ আবার দু’ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। যথা- উচ্চপরিষদ ও সাধারণ পরিষদ ।



(২) প্রদেশে বিভক্তীকরণ ও শাসনকর্তা নিয়োগ:

খলিফা ওমর শাসনব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করেন। যথা: মক্কা, মদীনা, সিরিয়া, আলজেরিয়া, বসরা, কূফা, মিসর, প্যালেস্টাইন, ফারস, কিরমান, মাকরান, খোরাসান, সিজিস্তান ও আজরবাইজান। শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের ফলে দূরবর্তী অঞ্চলেও সুষ্ঠুভাবে শাসনব্যবস্থার নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিটি প্রদেশকে জেলা ও মহকুমায় বিভক্ত করা হয়। প্রদেশের শাসনকর্তাকে ওয়ালী বা আমীরে শো’বা এবং জেলার শাসনকর্তাকে আমীন বলা হতো। তাছাড়া প্রাদেশিক সরকারের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কর্মচারী নিযুক্ত করতেন। যেমন কাজী (বিচারক), কাতিব (প্রধান উপদেষ্টা), কাতিব উল দিওয়ান (প্রধান সামরিক উপদেষ্টা), ছাহিব উল খারাজ (রাজস্ব উপদেষ্টা), ছাহিব উল আহদাত (পুলিশ উপদেষ্টা), ছাহিব উল বাইতুল মাল (কোষাধ্যক্ষ) ইত্যাদি।



(৩) বেতন- ভাতা ও বয়স্ক ভাতা বিভাগ:

খলিফা ওমর প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করেই ক্ষান্ত ছিলেন না। বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, মেধা এবং ধর্মপালন অনুসারে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করে দেন। তিনি বয়স্ক ভাতারও প্রচলন করেন। এজন্য আলাদা একটা বায়তুলমাল বিভাগ করেছিলেন, যেখান থেকে সবাইকে বেতন-ভাত দেয়া হত। তাছাড়া দুর্নীতি এবং অনিয়ম প্রতিরোধের জন্যও তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেন। প্রাদেশিক শাসনকর্তাকে সর্বোচ্চ ৫০০০ দিরহাম পর্যন্ত বেতন-ভাতা দিতেন। এমন বেতন-ভাতা দিতেন যে সবাই সবার বেতন-ভাতায় সন্তুষ্ট থাকে, কেউ যেন দুর্নীতি করতে বাধ্য না হয়।



(৪) সামরিক বিভাগ:

তিনি সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী ও সুসংহত করার জন্য ৯টি সামরিক বিভাগ বা জুনদ বা ক্যান্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এগুলো হলো- মদীনা, কূফা, বসরা, ফুসতাত, মিসর, দামেস্ক, হিমস, প্যালেস্টাইন ও মসুল। এই ৯টি সামরিক ঘাঁটিতে সর্বদা ৪০০০ অশ্ব এবং ৩৬০০০ অশ্বারোহী সৈন্য প্রস্তুত রাখা হতো।

একটি সৈন্যবাহিনী কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছিলেন এবং এক একটি ‘কায়দ’-এর বা ব্রিগ্রেড-এর অধীনে যুদ্ধ করতেন। এভাবে এক একটি সৈন্যবাহিনীতে দশটি কায়েদের বাহিনী রাখাতেন। প্রতিটি কায়েদের বাহিনীতে একশত সৈন্য কর্মরত রেখেছিলেন। প্রতিটি কায়েদ আবার কয়েকটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপদলে বিভক্ত করেছিলেন। দশজন সৈন্য নিয়ে গঠিত এ উপদলটির নেতৃত্ব দিতেন এক একজন আমীর উল আশ-রাহ। সৈন্যদের প্রারম্ভিক বেতন ছিল প্রথম বৎসরে ২০০ এবং পরে ৩০০ দিরহাম। খোরাক ও জিহাদীপোশাক বিনামূল্যে পেতেন এবং সৈন্যদের পরিবারও কোষাগার থেকে ভাতা লাভ করতো। সৈন্যদের ফ্রি চিকিৎসা ও সাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের জন্য সর্বপ্রকার সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখতেন।



(৫)বিচার বিভাগ ও ক্বাযী নিয়োগ:

খলিফা ওমর বিচার বিভাগের গঠন এবং উন্নতি বহুলাংশে প্রশাসনিক মেধার জন্য সম্ভবপর করেছিলেন। বিচারব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি প্রত্যেক প্রদেশে একজন প্রধান ক্বাযী (ক্বাযী-উল কুযাত বা প্রধান বিচারক) এবং প্রত্যেক জেলায় একজন ক্বাযী নিযুক্ত করেন। পূর্বে প্রাদেশিক গভর্নর (ওয়ালী) বিচার বিভাগের কার্যাবলীর পরিচালনা করতেন। ইসলামী আদর্শে আদর্শবান, নিষ্কলুষ চরিত্র, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নৈতিক শক্তিকে বলীয়ান, সুস্থ, শিক্ষিত ও ধর্মীয় বিষয়ে সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের খলীফা মজলিসে শূরার সাথে পরামর্শ করে বিচারক বা ক্বাযী নিযুক্ত করতেন। কাজী বা বিচারকদের দুর্নীতি ও প্রলোভন থেকে দূরে রাখার জন্য যোগ্যতানুসারে উচ্চাহারে বেতন দিতেন এবং নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য খলীফা সর্বপ্রকার আশ্বাস প্রদান করতেন। বিচারের জন্য কোনো প্রকার ফি প্রদান করতে হতো না এবং মসজিদে সাধারণত মজলিশের সভা অনুষ্ঠিত হতো।

কুফা, বসরা, দামেস্ক ও হিমসের জন্য বিশেষ বিচারক নিযুক্ত করেছিলেন। খলীফা বিচার বিভাগের সর্বময় ব্যক্তি ছিলেন এবং প্রয়োজনে নিম্ন আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করতেন। বিধর্মীদের বিচারকার্য তাদের নিজস্ব অনুশাসনে পরিচালিত করার ব্যবস্থা রেখেছিলেন। খলিফা ওমরের কাছে ধনী-দরিদ্র, উচু-নীচু-আত্মীয়-স্বজন সকলেই সমান ছিলেন।



(৬) পুলিশ বিভাগ:

ইসলামের প্রথম দিকে কোন পুলিশ বিভাগ ছিলো না। তবে অপরাধমূলক কার্যকলাপ রোধ করে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য খলিফা ওমর সর্বপ্রথম একটি সুগঠিত পুলিশ বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। এই বাহিনীর কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দিওয়ান আল আহদাত নামে একটি পুলিশ বিভাগের সূচনা করেন। চুরি, ডাকাতি বন্ধ করা, ওজন পরীক্ষা, মাদকদ্রব্য বিক্রয় বন্ধ ও অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা পুলিশ বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব ছিল। পুলিশ প্রধানের নাম রেখেছিলেন ছাহেব উল আহদাত।



(৭) কারাগার প্রতিষ্ঠা:

মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফার শাসনের অন্যতম প্রধান কৃতিত্ব ছিল কারাগার প্রতিষ্ঠা। গাফওয়ান বিন উমাইয়া নামক এক মুসলিমের বাসস্থান ৪০০ দিরহামে ক্রয় করে তিনি একে প্রথম জেলখানায় রূপান্তরিত করেন। মদীনায় কেন্দ্রীয় কারাগার বা জেলখানা ব্যতীত প্রত্যেক প্রাদেশিক রাজধানী ও জেলায় একটি করে কারাগার নির্মাণ করেন। সেখানে পর্যাপ্ত প্রহরী, খাবার, উপাসনার জায়গাসহ দরকারী সব জিনিস মজুদ রাখতেন। কোনোও অপরাধী প্রাপ্যের অতিরিক্ত কষ্ট যাতে পেতে না হয়ে তার সব ব্যবস্থা রেখেছিলেন। তার খিলাফতকালে সর্বপ্রথম নির্বাসন দণ্ড প্রবর্তিত হয়।



(৮) গোয়েন্দা বিভাগ:

মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা শাসন ব্যবস্থাকে ইসলামী আদর্শযুক্ত, শত্রুমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সঠিক বিচার-ব্যবস্থার জন্য গোয়েন্দা বিভাগ প্রবর্তন করেন। প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান লাভ করার জন্য গোয়েন্দা নিযুক্ত করেন এবং তাদের মাধ্যমে খলীফা খিলাফতী কর্মচারীদের উপর কঠোর দৃষ্টি রাখতে সক্ষম হন। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অসুবিধা সৃষ্টি হলে সাথে সাথে খলীফাকে অবহিত করতো গোয়েন্দারা।



(৯) রাজস্ব আদায় ও হিসাব বিভাগ:

মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা খিলাফতের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। সুষ্ঠু কর প্রদানের মাধ্যমে খিলাফতের অর্থনৈতিক অচলাবস্থা দূর করে স্থিতিশীল ও বলিষ্ঠ প্রাশাসনিক কাঠামো গঠনের জন্য তিনিই প্রথম দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। খিলাফতের আয়-ব্যয়ের হিসেব ঠিক রাখার জন্য তিনি ‘দিওয়ান’ নামে একটি রাজস্ব বিভাগ প্রবর্তন করেন। খিলাফতের রাজস্ব উৎস ছিল যাকাত, খারাজ, জিজিয়া, ফসলের উশর, আলফে, গনিমাহ, আল উশর ও হিমা।



(১০) কৃষিকাজ :

মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা কৃষির উন্নতির জন্য অগ্রিম ঋণ দেয়ার প্রথা প্রবর্তন করেন। তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য অগ্রিম খিলাফতী ঋণ দেয়ার প্রথা প্রবর্তন করেন। তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নতিকল্পে আইন বিন্যস্ত করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার ব্যাপক প্রয়াস চালান। কৃষির উন্নতির জন্য তিনি খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণ করেন। তিনি কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের জন্য আরব ও মিসরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেন এবং বাণিজ্য শুল্ক লাঘব করেন। পারসিক ও রোমান শাসনামলে যারা জমিজমা হতে বঞ্চিত হয়েছিল খলীফা তাদের সেসব জমিজমা ফিরিয়ে দিয়ে তাদের কৃষিকাজ করার সুযোগ দান করেন। যেখানে ফসল উৎপদন কম হতো সেখানে বেশি উৎপদিত এলাকা থেকে দ্রত খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতেন। যার জন্য কোথাও খাদ্য সঙ্কট হতো না।



(১১) আদমশুমারি ও জরিপ:

মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা জাতীয় অর্থের সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য সর্বপ্রথম লোকগণনা বা আদমশুমারি ও জরিপের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মূলত সব বিষয়ে সুষম বণ্টনকার্য সম্পন্ন করার জন্য একটি আদমশুমারির প্রয়োজন হয় এবং পৃথিবীর ইতিহাসে রাজস্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে এটাই সর্বপ্রথম লিপিবদ্ধ আদমশুমারি। আদমশুমারির মূল উদ্দেশ্য ছিলো:

ক. কোথায় কি পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয়, কোথায় খাদ্য কম বা বেশি আছে, কি পরিমাণ খাদ্য দরকার প্রভৃতি নির্ণয় করা।

খ. মোট চাষাবাদের জমির পরিমাণ কতটুকু, বর্তমানে চাষবাদ কতটুকু করা হচ্ছে, বাকিগুলো জমিতে চাষাবাদ না হওয়ার কারণ, কি পরিমাণ ফসল উৎপাদন করা সম্ভব এবং এখন কি পরিমাণ দরকার প্রভৃতি নির্ণয় করা।

গ. মোট জনসংখ্যা কত, কোন কোন প্রদেশে, জেলায়, মহকুমায় কি পরিমাণ মানুষ বেশি/কম আছে বা জন বসতি বেশি/কম আছে, কেন বেশি/কম, সুষম বণ্টন করতে কি কি দরকার প্রভৃতি নির্ণয় করা।

ঘ. কোন প্রদেশে, জেলায়, মহকুমায় মসজিদ-মাদ্রাসা কি পরিমাণ বা বেশি বা কম আছে, কতগুলো কোথায় লাগবে, ইমাম-মুয়াজ্জিন-মুয়াল্লিম বেশি, না কম আছে প্রভৃতি নির্ণয় করা।

ঙ. রাস্তা-ঘাট-পুল-খাল বা নদী-নালা কোথায় কি পরিমাণ বেশি/কম আছে প্রভৃতি নির্ণয় করা।

চ. শিক্ষা ও চিকিৎসাকেন্দ্র, প্রশাসনিক ভবন, বিভিন্ন মজলিসে সূরার ভবন, কাজীর ভবন প্রভৃতি কি পরিমাণ বেশি বা কম আছে তা নির্ণয় করা।

ছ. খিলাফতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ কোথায় কি পরিমাণ বা বেশি/কম আছে তা নির্ণয় করা।

জ. খিলাফতের আওতায় কি পরিমাণ অমুসলিম আছে, কোন কোন ধর্ম কি পরিমাণ লোক পালন করে তা নির্নয় করা।

ঝ. জাকাত-ওশর, কর বা জিযিয়া কর কোথায় কি পরিমাণ আদায় হয় বা হয় না তা নির্ণয় করা।

ঞ. কোন প্রদেশে, জেলায়, মহকুমায় শিক্ষার হার শিক্ষিত, মূর্খ বা অশিক্ষিত কি পরিমাণ আছে তা নির্নয় করা।

এরকম শত শত বিষয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম আদমশুমারি ও জরিপ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন মুসলমানদের ২য় খলিফা। খিলাফতের রাজধানী বা প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রশাসনিক কাজে মদীনাকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। অন্যান্য বিষয় প্রদেশ, জেলা, মহকুমায় প্রায় সমহারে রাখতেন। প্রশাসনির কাজে এক প্রদেশ, জেলায়, মহকুমায় সবাই ভিড় লাগাতে পারতো না। প্রয়োজনও হতো না। কেননা সব জায়গায় সমান হারে সব কিছু রেখেছিলেন তিনি। যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিকেন্দ্রীকরণ শাসন ব্যবস্থার একক এবং অদ্বিতীয়। বলাবাহুল্য ১৪০০ বছর পর বর্তমানে বাংলাদেশও বিকেন্দ্রীকরণ শাসন ব্যবস্থা চালু করতে পারে নাই, সব কিছু ঢাকা কেন্দ্রীক হওয়ায় জনসংখ্যা বেড়ে ঢাকা পরিণত হয়েছে অযোগ্য নগরীতে।



(১২) জনহিতকর কাজ:

জনহিতকর কার্যাবলী ছিল মুসলমানদের ২য় খলিফার শাসনব্যবস্থার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। তার শাসনামলে অসংখ্য মসজিদ, জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র তথা মাদরাসা-মক্তব, লঙ্গরখানা, হাম্মামখানা, খাল, রাস্তা, সেতু, দুর্গ, হাসপাতাল প্রভৃতি জনকল্যাণমূলক ও প্রশাসনিক ভবন বিভিন্ন জেলায় জেলায় এমনকি মহল্লায় মহল্লায় গড়ে উঠে। সব জায়গায় প্রায় সমহারে সব বিষয়গুলি রাখতেন। কিছু দূর দূর রাস্তার পথচারীর জন্য পানি এবং বিশ্রাম নেয়ার মতো ব্যবস্থা রেখেছিলেন পুরো খিলাফতী এলাকা জুড়ে। জনগণের পানির অসুবিধা দূর করার জন্য তিনি টাইগ্রীস নদী হতে বসরা পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ মাইল খাল খনন করেন। এছাড়া সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য খাল ছিল আমিরুল মুমেনীন খাল। লোহিত সাগর থেকে নীলনদের সংযোগ রক্ষাকারী এ খাল ব্যবসা-বাণিজ্যের পথকে সুগম করেছিলেন। তিনি কুফা, বসরা ও ফুসতাত নামে তিনটি নতুন শহরের ভিত্তি স্থাপন করেন। এই তিনটি শহর পরবর্তীকালে বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রে পরিণত হয়। উদাহরণস্বরূপ: সেসময় ফুসতাত শহরে ৩৬টি মসজিদ, ৮০০ সড়ক এবং ১১৭০টি গোসলখানা (হাম্মামখানা) করেছিলেন।


(১৩) হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা :

তিনি প্রতিটি শহরে চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য হাসপতাল গড়ে তুলেছিলেন।


(১৪) জনসাধারণের খোঁজে রাতের আঁধারে মরু পথে:

জনগণের কল্যাণে তিনি সর্বদাই নিয়োজিত থাকতেন। জনসাধারণের অবস্থা চাক্ষুস দেখার জন্য তিনি অলিতে গলিতে রাতের আঁধারে ঘুরে বেড়াতেন এবং অসহায় মানুষের কাছে নিজ হাতে সাহায্য পৌঁছে দিতেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এর কোনোও নজির নেই। পারবে না কোনোও রাজা-বাদশাহ এই কাজের উদাহরণ হতে।


(১৫) হিজরী সন গণনা শুরু:

মুসলমানদের শেষ নবীর হিজরত ১ম সন ধরে মুসলমানদের ২য় খলিফা সর্বপ্রথম হিজরী সনের প্রবর্তন করেন। হিসাব-নিকাশ ও অন্যন্য কাজের জন্য যা অত্যন্ত দরকারী বিষয়।


(১৬) মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আরবভূমি :

মুসলমানদের ২য় খলিফার শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল আরব ভুমিকে (জাজিরাতুল আরব) অক্ষুন্ন রাখা। আরব জাতির বৈশিষ্ট্য ইসলামী আদর্শের প্রতি দৃঢ়তা বজায় রাখার জন্য তিনি প্রধানত দুটি নীতি অনুসরণ করেন। প্রথমত, আরব উপদ্বীপকে সম্পূর্ণরূপে আরব মুসলমাদের বাসভূমিতে পরিণত করার জন্য শত্রুভাবাপন্ন ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে আরব দেশের বাইরে বসবাসের নির্দেশ দেন। দ্বিতীয়ত, খলিফা ওমরের নির্দেশ ছাড়া আরবদেশের বাইরে মুসলিম সৈন্যদের জমি ক্রয় এবং চাষাবাদ নিষিদ্ধ করেছিলেন।



মজার ব্যাপার হচ্ছে, বর্তমানে মুসলমানদের তাদের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস হিসেবে এমন কিছু বিষয় পাঠ করতে দেয়া হয়, যেন মুসলমানরা ধারণা করে- প্রাথমিক খিলাফতের যুগে মুসলমানরা মনে হয় শুধু নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি করে দিন পার করতেন। এবং খিলাফত বলতে বুঝে, হাতকাটা আর পাথর ছুড়ে হত্যা। কিন্তু প্রাথমিক খিলাফতি যুগে মুসলমানরা কি এমন করলেন যে প্রায় ১২০০ বছর পৃথিবী জুড়ে একচেটিয়া মুসলমানরা সুপার পাউয়ার হিসেবে কর্তৃত্ব করেছেন, সেটা কিন্তু আলোচনা হয় না। আমার মনে হয়, বিভিন্ন উপলক্ষ বা দিবসকে টার্গেট করে এসব ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করলে মুসলমানদের হীনমন্যতা ও জেনারেশন গ্যাপ প্রায় পুরোটা দূর করা সম্ভব।

আরেকটি কথা, উপরের ইতিহাসগুলো যে একেবারে দুর্লভ তা কিন্তু নয়। মুসলমানদের দ্বিতীয় খলিফা ওমরের অধিকাংশ জীবনীগ্রন্থগুলোতেই এসব ইতিহাস পাওয়া যায়। তবে এখন যেটা দরকার সেটা হলো মুসলমানদের শিক্ষাক্ষেত্র বা পাঠ্যপুস্তকে এই ইতিহাসগুলো সংযুক্ত করা। একজন শিশুকে যদি ছোটবেলা থেকে এই ইতিহাসগুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়া যায়, তবে মুসলমান বাচ্চারা ছোটবেলা থেকেই সঠিক চেতনা, ইতিহাস-ঐতিহ্য জেনে বেড়ে উঠতে পারবে, যা আগামীতে সচেতন মুসলিম তৈরীকে বিরাট ভূমিকা রাখবে।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Friday, February 23, 2018

বাংলা ভাষায় কার অবদান বেশি ? হিন্দু না মুসলমানের ??

আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি, লিখতে পারছি, এর পেছনে কার অবদান বেশি ? হিন্দুদের না মুসলমানদের ?? এই প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আসলে প্রাচীন আমলে বাংলাভাষা ছিলো আঞ্চলিক ভাষার মত, ভাষাটি এত বেশি সমৃদ্ধ ছিলো না যে একটি বিরাট জাতি তা সাচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারে। প্রাচীন বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চার খুব একটা নিদর্শনও পাওয়া যায় না (শুধু চর্যাপদ ছাড়া)। এরপর মধ্যযুগে বাংলাভাষা কৈশরে উপনিত হয়। কিন্তু দুঃখজনক, সেই ক্ষুদ্র বয়সে হিন্দুরা বাংলাভাষাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। হিন্দু সেন রাজত্বের আমলে ব্রাহ্মণরা বলা শুরু করল “সংস্কৃত হচ্ছে দেবভাষা আর বাংলা হচ্ছে মনুষ্য সৃষ্ট ভাষা। বাংলা ভাষা মর্যাদায় অনেক নিচু।”
এ সম্পর্কে ইতিহাস বলে- "ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী সেন রাজারা বাংলা ভাষা চর্চা নিষিদ্ধ করেছিল। আর হিন্দু পুরোহিতরা এ কথা বলে বেড়াতো যে, যে ব্যক্তি বাংলা ভাষায় কথা বলবে সে নরকে যাবে। [ সুত্র : খন্দকার কামরুল হুদা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও শেখ মুজিব, ১৯৯৫ পৃ. ৩২] "
ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন অত্যন্ত সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছে। তার ভাষায়, ‘ইতরের ভাষা বলিয়া বঙ্গ ভাষাকে হিন্দু পন্ডিত মন্ডলী ‘দূর দূর’ করিয়া তাড়াইয়া দিতেন। (সওগাত, চৈত্র, ১৩৩৫)
অপরদিকে ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম সেনাপতি মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলা দেশে মুসলিম রাজত্ব কায়েমের ফলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নবজন্ম ঘটে। মুসলমান শাসক হুসেন শাহ, গৌড়ের সামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ এবং অপরাপর মুসলমান সম্রাটেরা বাংলাদেশে বাংলা ভাষাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে আমাদের সাহিত্যে এক নতুন যুগ সৃষ্টি করেছিলেন। আর সে কারণেই দিনেশ চন্দ্র সেন মন্তব্য করে, "মুসলমান সম্রাটগণ বর্তমান বঙ্গ – সাহিত্যের জন্মদাতা এইরূপ বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। বঙ্গ সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট, বঙ্গভাষা বাঙ্গালী মুসলমানের মাতৃভাষা। [ সুত্র : দীনেশ চন্দ্র সেন - প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান, (১৯৪০) কলকাতা।]"
দীনেশ চন্দ্র সেন আরো বলে- ‘কয়লার খনির মধ্যে থাকিয়া হীরা যেমন জহুরির আগমনের প্রতীক্ষা করে, শুক্তির ভেতর মুক্তা লুকাইয়া থাকিয়া যেরূপ ডুবুরির অপেক্ষা করিয়া থাকে, বাংলা ভাষা তেমনই কোনো শুভদিন শুভক্ষণের জন্য প্রতীক্ষা করিতেছিল। মুসলিম বিজয় বাংলা ভাষার সেই শুভদিন শুভক্ষণের সুযোগ আনয়ন করিল।’ [দ্রষ্টব্য : বাংলা ভাষার ওপর মুসলমানের প্রভাব : শ্রী দীনেশ চন্দ্র সেন]।
বিশিষ্ট গবেষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান“বাংলার সামাজিক ও সংস্কৃতির ইতিহাস” গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন, “যদি বাংলায় মুসলিম বিজয় ত্বরান্বিত না হতো এবং এদেশে আরো কয়েক শতকের জন্য পূ্র্বের শাসন অব্যাহত থাকতো, তবে বাংলা ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং অবহেলিত ও বিস্মৃত-প্রায় হয়ে অতীতের গর্ভে নিমজ্জিত হতো।
"বাংলা হলো মুসলমানদের প্রানের ভাষা - আর এ কারণেই আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ ১৯০৩ সালে "আল ইসলাম" পত্রিকায় সর্বপ্রথম বাংলাকে মুসলমানদের মাতৃভাষা রূপে তুলে ধরেন। [ সুত্র : ড. ইফতেখারউদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক ইত্তেফাক, সোমবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩]" আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ ১৩২৫ বঙ্গাব্দে - 'আল-ইসলামে' প্রকাশ্যে নির্ভীকচিত্তে উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা দেন যে, 'বাঙলা বাঙালী মুসলিমের কেবল মাতৃভাষাই নয়, জাতীয় ভাষাও।'
উপরের আলোচনা দ্বারা এটি স্পষ্ট- হিন্দুরা চেয়েছিলো বাংলা ভাষাকে জন্মলগ্নেই গলা টিপে হত্যা করতে, সেখানে মুসলমানরা বাংলাভাষাকে দিয়েছিলো পুনর্জন্ম। সে হিসেবে বাংলা ভাষায় কার অবদান বেশি, হিন্দু না মুসলমানের, এ ধরনের প্রশ্ন করা অবান্তরই বলা চলে।
মূলত বাংলাভাষা প্রাথমিক অবস্থায় ছিলো আঞ্চালিক ভাষার মত। ভাষাটি বিরাট জনগোষ্ঠীর জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিলো না। এ জন্য দরকার ছিলো- বাংলাভাষার ব্যাপক চর্চা, যা ঘটে সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে, মধ্যযুগে সেই কাজটি করেছিলো মুসলিম কবি-সাহিত্যিকরা। মুসলিম সাহিত্যিকরা বাংলা ভাষায় ব্যাপক চর্চার মাধ্যমে ভাষাটি সমৃদ্ধ করে। যেহেতু মুসলিম কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে আরবী ও ফারসীর ব্যাপক প্রভাব ছিলো, তাই বাংলা ভাষায় প্রচুর পরিমাণে আরবী ও ফারসী শব্দ প্রবেশ করে, যা বাংলাভাষাকে সমৃদ্ধ করে একটি বিরাট জনগোষ্ঠীর ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে। আসুন জেনে নেই, সে সময় কোন কোন মুসলিম সাহিত্যিক বাংলাভাষাকে চর্চা করে বাংলাভাষাকে পরিপূর্ণতা দান করেছিলেন-
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যিক
-শাহ মুহম্মদ সগীর (১৪শ’ শতাব্দী), -জৈনুদ্দীন (১৫শ’ শতাব্দী), -মুজাম্মিল (১৫শ’ শতাব্দী),-দোনাগাজী: (১৬শ’ শতাব্দী), -শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ’ শতাব্দী),- দৌলত উজির বাহরাম খান: (১৬শ’ শতাব্দী), - মুহম্মদ কবীর (১৬শ’ শতাব্দী),-সৈয়দ সুলতান (১৬শ’ শতাব্দী), - শেখ পরান (১৬শ’ শতাব্দী), -হাজী মুহাম্মদ (১৬শ’ শতাব্দী), -মীর মুহাম্মদ শফী (১৬শ’ শতাব্দী), -নসরুল্লাহ্ খাঁ (১৬শ’ শতাব্দী), -মুহম্মদ খান, - সৈয়দ মর্তুজা, -শেখ মুত্তালিব, -আবদুল হাকীম।
১৬০০ থেকে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকজন হলেন
-নওয়াজিশ খাঁ,-কমর আলী, -মঙ্গল (চাঁদ),-আবদুন নবী, -মুহম্মদ ফসীহ,-ফকির গরীবুল্লাহ্, -মুহম্মদ ইয়াকুব,-শেখ মনসুর,
-শেখ চাঁদ, -মুহম্মদ উজীর আলী, -শেখ সাদী, -হেয়াত মামুদ, -দৌলত কাজী।
১৭শ’ শতাব্দীতে আরকান (বর্তমানে বার্মার রাখাইন রাজ্য) রাজসভায় মহাকবি আলাওল, দৌলত কাজী, এবং কোরেশী মাগন ঠাকুর এর মতো বাংলা কবিদের সাধনা আর পৃষ্ঠপোষকতায় সেখানে বাংলা সাহিত্যের প্রভূত উন্নতি হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানেও চট্টগ্রামের অনেক লাইব্রেরীতে আরকান রাজসভার বাংলা সাহিত্য চর্চার দলিলগুলো রাখা আছে। যদিও আজকাল মিডিয়া বা পাঠবই বিষয়গুলো এড়িয়ে যায় বললেই চলে। দু:খজনক হলেও সত্য, বাংলাভাষা মূল গোড়া অনুসন্ধান করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এমনকি অনেক মুসলমানও না জেনে বোকার মত বলছে- বাংলাভাষা নাকি হিন্দুদের ভাষা, যদিও ভাষাটি এ অবস্থানে এসেছে মুসলমানদের হাত ধরেই।
বাংলা ভাষায় মুসলমানদের ব্যাপক সাহিত্য চর্চার ফলে বাংলা ভাষা একটি সমৃদ্ধ ভাষা হয়ে উঠে এবং একটি পরিপূর্ণ ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বলাবাহুল্য সেই সময় বাংলাভাষায় আরবী ও ফার্সী ভাষার ব্যাপক প্রভাব ছিলো। কিন্তু সমস্যা ঘটে ব্রিটিশরা আসার পর। ব্রিটিশরা দেখলো বাংলা ভাষা চর্চা মানেই মুসলমানদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা । এই বিষয়টি যদি চলতে দেয়া হয়, তবে আগামীতে বাংলাসংস্কৃতি মানেই মুসলমানি সংস্কৃতি হবে। এটার অবশ্যই পরিবর্তণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশরা কলকাতার হিন্দু সাহিত্যিকদের (যেমন: বঙ্গিম, ঈশ্বরচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ) পৃষ্ঠপোষকতা করে ভিন্নমাত্রার সাহিত্য রচনা করতে থাকে, এর মাধ্যমে তারা এক নতুন বাংলা ভাষার জন্ম দেয়, যা আরবী-ফার্সী বিবজির্ত, জটিল ও দুর্বধ্য সংস্কৃতি শব্দবহুল। (এ সম্পর্কে জানতে গোলাম মোর্তজার ইতিহাসের ইতিহাস বইটি পড়তে পারেন)
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনাও হয়েছিলো তমদ্দুন মজলিস নামক একটি ইসলামী সংগঠনের পক্ষ থেকে। ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরে তমদ্দুন মজলিস একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে যার নাম ছিল পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দু? এই পুস্তিকার লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমেদ এবং অধ্যাপক আবুল কাসেম (তমদ্দুন মজলিসের সাধারণ সম্পাদক) বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলায় ভাব বিনিময়, অফিস ও আদালতের একমাত্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পক্ষে জোরালো মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষেও জোরালো দাবি জানান। (bn.wikipedia.org/wiki/তমদ্দুন_মজলিস)
উপরের আলোচনা থেকে একটি বিষয় প্রমাণিত বাংলাভাষা মূলত মুসলমানদেরই ভাষা। এবং হিন্দুরা প্রথম থেকেই এ ভাষাকে নিগৃহিত করে এসেছে। কখন নিজেরা করেছে, কখনও বা ইংরেজদের প্ররচণায় করেছে।
(গত বছরের ৩টি পোস্টের সমন্বিত রূপ)

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686

------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Tuesday, January 30, 2018

‘পদ্মবত’ মুভি : মুসলমানদের বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দুদের দাঙ্গা বাধানোর উস্কানি


‘পদ্মবত’ মুভি সম্পর্কে জানাতে হলে আপনাকে আগে জানতে হবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের ক্লাস ৯-১০ এর পাঠ্যবইয়ে রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের লেখা ‘স্বাধীনতা’ নামক একটি কবিতা ছিলো, যা মুসলমানদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ২০১৭ সালে বাদ দেয়া হয়। ঐ স্বাধীনতা কবিতা আর এই পদ্মাবত মূভি একই জিনিস। স্বাধীনতা কবিতাটি ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছিলো। ঐ সময় ‘স্বাধীনতা’ নামক কবিতার বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে আমি একটা আর্টিকেল লিখেছিলাম, যা

পেইজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর পাওয়া যাচ্ছে না, তবে গুগল সার্চ করে এ লিঙ্কে (http://bit.ly/2rSOiyD) লেখাটা পেলাম। সেখানে মুল ঘটনা বিস্তারিত পাবেন।

পদ্মবত মুভি আসলে কি?

হিন্দুরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের স্বগোত্রীয়দের উস্কানি দিতে নানান ভ্রান্ত গল্প বানায়। এসব ভ্রান্ত গল্পকে পূজি করে তারা যুগে যুগে মুসলমানদের বিরুদ্ধচারণ করেছে, ‍মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঙ্গাকে বৈধতা দিয়েছে। যেমন “বাবরী মসজিদের স্থানটি হচ্ছে রামের জন্মস্থান, তাই সেটা ভাঙ্গতে হবে।” কিংবা “তাজমহল হিন্দু মন্দির ছিলো তাই তা ভাঙ্গতে হবে”, “আরবের কাবা ঘর মূলত শিব মন্দির”। এ ধরনের বহু আজগুবি গল্প বা হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা তারা যুগে যুগে বানিয়ে হিন্দুদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কাতো। বাংলাদেশে ভুয়া সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা সাজানোও একই বিষয়। বাস্তবে যার কোন অস্তিত্ব নেই। মূলত পদ্মাবত মুভি বা পদ্মিনী উপখ্যান সেই স্বভাব থেকেই উদ্ভব।

পদ্মবত মুভির ঘটনায় হিন্দুরা গল্প সাজিয়ে বলে, ‘পদ্মিনী’ হচ্ছে একজন রাজপুত রানী। ১৪শ’ শতাব্দীতে দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি নাকি ঐ নারীর রুপের কথা শুনে পাগল হয়ে যান এবং চিতোর আক্রমণ করে। হিন্দুরা আরো গল্প সাজায়, ঐ সময় মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজি ও তার বাহিনী থেকে নিজেদের সম্ভ্রম বাচাতে নাকি পদ্মিনীসহ ১৩ হাজার হিন্দু নারী আগুনে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলো।

মুসলমানরা আসার আগে ভারত কত অনুন্নত ছিলো সে ইতিহাস সবার জানা। প্যাগান গোষ্ঠীদের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে মুসলমানরা উদ্ধার করে আলোর পথ দেখায়। বিজেপি মাত্র ৪ বছর ক্ষমতা পেয়ে বলে সমস্ত মুসলমানকে বের করে দেয়া হবে। অথচ মুসলমানরা ভারত ৬০০ বছর একচেটিয়া শাসন করে যদি সত্যিই হিন্দুদের উপর নির্যাতন করতো, তবে ভারত বর্ষে এখন একটা হিন্দুও যেতো না। উল্লেখ্য, হিন্দুরা যে সাম্প্রদায়িক ইনটেনশন নিয়ে কাজ করে, তার প্রমাণ- মুসলমানদের আসার আগে হিন্দুরা বৌদ্ধ ধর্মের বিলুপ্তি ঘটায় (http://bit.ly/2rPR6w8)

তারপরও এখন সারা ভারত জুড়ে মুসলিমবিরোধী সেন্টিমেন্ট বিশেষ করে দাঙ্গা উস্কে দিতে এসব ইতিহাস বিকৃত সিনেমা তৈরী করা হচ্ছে। কথিত ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের দেশ ভারতে কত উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিবেশ বিরাজ করছে তার নিকৃষ্ট প্রমাণ এ পদ্মাবত মুভি। উল্লেখ্য, এ মুভির বিরুদ্ধে উগ্রহিন্দুদের একটি গোষ্ঠী শুরু থেকে বিরোধীতা করে। এ বিরোধ থেকে হয়ত অনেকে ভেবেছে মুভিটি মনে হয় এন্টি-হিন্দু। আসলে তা না। মুভির কাহিনীর প্রয়োজনে একটি দৃশ্যে কথিত পদ্মবতীকে কথিত আলাউদ্দিন খিলজীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে দেখানো হয়, আর তাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে উগ্রহিন্দুরা। যদিও পুরো মুভির এন্টি মুসলিম সেন্টিমেন্ট ঠিক আছে। তবে আমার খারাপ লেগেছে অন্য কারণে। হিন্দুরা বানোয়াট চরিত্র ‘পদ্মবতী’র জন্য মাঠে নামলো, কিন্তু মুভিটিতে যে মুসলমানদের সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীকে মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে বিকৃত করে (পশুর মত) উপস্থাপন করা হলো তার প্রতিবাদ কোন মুসলমান করলো না। বর্তমানে মুসলমানদের কঠিন অবস্থার জন্য মুসলমানদের বোবা থাকা একটি কারণ।

তবে একই সাথে আলোচনা করা যায়, এ ধরনের একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক ঘটনা কিভাবে বাংলাদেশের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্য করা হলো ? কেন ৪ বছর (২০১৩-১৬) তাদের এ ইসলামবিদ্বেষী পড়তে বাধ্য করা হয়েছিলো ? শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের এ কারণে কেন বিচার হলো না ??

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ ধরনের একটি সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেয়ার ঘটনা যখন পাঠ্যবই থেকে বাদ দেয়া হলো, তখন বাংলাদেশের কথিত অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাঠে নেমে বললো- বাংলাদেশের পাঠ্যবই নাকি সাম্প্রদায়িক করা হয়েছে !! আশ্চর্য !!!


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686

------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------