Showing posts with label ভারতের হিন্দু জাতি. Show all posts
Showing posts with label ভারতের হিন্দু জাতি. Show all posts

Wednesday, May 9, 2018

হিন্দুদের সাম্প্রদায়িকতার কাছে ভালো-মন্দ-প্রিয়-অপ্রিয়’র কোন স্থান নেই।


গত কয়েকদিন আগে, আমি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম: ভারতীয় মুসলমানদের উচিত পৃথক ভূমির জন্য আন্দোলন করা, স্বাধীনতার জন্য চেষ্টা করা। অনেকে পক্ষে-বিপক্ষে বলেছেন। কিন্তু আমার যে ক্যালকুলেশন, তাতে ভারতীয় মুসলমানদের অবস্থা চলমান পরিস্থিতিতে আর ভালো হবে না। দিনে দিনে খারাপ হতে থাকবে। 

মোদি সরকার এই টার্মের পর ফের নেক্সট টার্মেও আসবে। মোদি ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক করেছে। পুরো দক্ষিণ-পূর্ব ভারতে এখন চরম এন্টি-ইসলামিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং আরো করবে। মায়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও বিতাড়ন, শ্রীলঙ্কায় মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা ঐ প্ল্যানের অংশ। বাংলাদেশেও ইসলামবিরোধী শক্তি মাথাচারা দিয়ে উঠবে। কিন্তু ভারতে ক্ষমতা বিজেপির হাতে থাকায় এবং মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় খারাপ হওয়ায়, সেখানে গণহারে মুসলমানরা নির্যাতিত হবে। গরুর জন্য মুসলমান মারবে, মুসলমানদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেবে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেবে, ঘরের মেয়েদের ধর্ষণ করবে, এবং ধর্মপালনে বাধা দিবে এবং হিন্দু ধর্ম পালন বাধ্য করবে। খুব শিঘ্রই ভারতে যদি ম্যাস জেনোসাইড শুরু হয় তবে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।

বলুন তো, একজন মানুষ বিদ্রোহ করে কখন ?
যখন তার জীবনের উপর হুমকি আসে,
নারীর সম্ভ্রমের উপর আঘাত আসে,
তখন ধর্মের উপর আঘাত আসে,
যখন বাসস্থানের উপর আঘাত আসে।
আচ্ছা, ভারতীয় মুসলমানদের কোনটার উপর আঘাত আসা কি বাকি আছে ?

আমি অনেক ভারতীয় মুসলমানের সাথে কথা বলেছি, তারা কেউ কেউ বলেছেন:
“ ৪৭’ এক মুসলমানদের মধ্যে একটা অংশ আমাদের সাথে না থেকে পাকিস্তান হওয়ার পক্ষপাতি ছিলো। তাদের কারণে আমরা সংখ্যালঘু। ওরা যদি ভারতে থাকতো, তবে আমাদের এ সমস্যা হতো না। আমরাই তো এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য কাজ করেছি, অখণ্ড ভারত চেয়েছি। আমরা এখন এ দেশ ভাঙ্গবো কিভাবে ”?

ভারতীয় মুসলমানদের এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী এক হিসেবে সত্য আবার এক হিসেবে মেয়াদউত্তীর্ণ। ৪৭’ এ ভারতীয় মুসলমানদের চিন্তা ছিলো সব মুসলমান যদি এক থাকে,তবে ভারতে মুসলমানরা সংখ্যাগুরু হবে। আর সংখ্যাগুরু মুসলমানরা এক সময় ভারতের কর্তৃত্ব করতে পারবে। কিন্তু তাদের কথা ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক, যতক্ষণ ভারত এক ছিলো। কিন্তু ভারত ভাগ হওয়ার পর তো সেই তত্ত্ব আর খাটে না। কারণ মুসলমানদের একটা অংশ পাকিস্তানে যোগ দিয়েছে। এখন তো ভারতের মুসলমানরা সংখ্যাগুরু নেই। তাই আগের চিন্তা নিয়ে বসে থেকে লাভ নেই। এখন তাদের নতুন করে চিন্তা করতে হবে। তাছাড়া ভারতীয় মুসলমানরা যে পড়ালেখা, ব্যবসা কিংবা রাজনীতি করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করবে সেটাও সম্ভব না। কারণ গত ৭০ বছরে ভারতীয় মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অনেক নেমে গেছে। তাই একই নিয়মে চলতে থাকলে আর পুরাতন চিন্তাধারা নিয়ে বসে থাকলে ধুকে ধুকে মরা ছাড়া ভারতীয় মুসলমানদের ভাগ্যে আমি আর কিছু দেখি না।

হয়ত ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ বলবেন: “ভাই আমরা তো এখনও কেউ কেউ ভালো আছি”।
আমি বলবো: হ্যা ভাই কিছু লোক ভালো থাকতে থাকতে ব্যবস্থা নিন, সবাই মরে গেলে কে ব্যবস্থা নিবে ? আর আজকে আপনি কিছুটা ভালো থাকলে, কালকেও যে ভালো থাকবেন এটা তো বলা যায় না। হিন্দুদের সাম্প্রদায়িকতার কাছে ভালো-মন্দ-প্রিয়-অপ্রিয়’র কোন স্থান নেই। সালমান খান তাদের কম প্রিয় নায়ক ছিলো না, তারপরও তাকে জেলে পুরেছে, সাইফ আলী খান কম বড় সুপারস্টার নয়, তবুও তাদের সব সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, শাবানা আজমী এত বড় নায়িকা হওয়া সত্ত্বেও শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে তাকে হিন্দুরা বাসা ভাড়া দেয় না, এহসান জাফরী এমপি হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাকে সাহায্য করেনি, গুজরাট দাঙ্গার সময় হিন্দুরা তাকে নৃসংশভাবে হত্যা করে।

এসব সেলিব্রেটির থেকে নিশ্চয়ই আপনি বড় নন। সুতরাং আপনাকে শেষ করতেও হিন্দুদের বিন্দুমাত্র চিন্তা করতে হবে না। তাই এখনও যতটুকু পূজি আছে তাই নিয়ে নতুন করে চিন্তা করুন। পুরাতন চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিন। আপনি শেষ হয়েছেন, কিন্তু আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মকে অন্তত স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিন।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Sunday, April 1, 2018

হিন্দুরা মুসলমানদের উপর অহরহ অত্যাচার বাড়াবে, আর মুসলমানরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে সেই অত্যাচার সহ্য করবে

পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে এক ইমামের ছেলের বুক চিড়ে কলিজা বের করে নিয়েছে হিন্দুরা। এ ঘটনার পর ঐ ইমাম তার পুত্র হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছে বলে খরব এসেছে।
সত্যিই বলতে এ ‘ক্ষমা’ শব্দটা আমাকে খুব ভাবিয়েছে। ক্ষমা তো সেই করতে পারে, যে প্রতিশোধ নিতে পারে। ভারতীয় মুসলমানরা কি হিন্দুদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আদৌ প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা রাখে ? যদি নাই রাখে তবে সে ক্ষমা করলো কিভাবে ?
আসলে আনুগত্যতা অনেকভাবে আসতে পারে। কারো প্রতি শ্রদ্ধার কারণে তার প্রতি আনুগত্যতা আসে। আবার কারো চাবুক মারা খেতে খেতে তার প্রতি আনুগত্যতা আসে। যেমন গাধা আর ঘোড়াকে চাবুক মেরে আনুগত্য করা হয়। সেই আনুগত্যতা দেখে যদি আপনি খুশি হন হবে ভুল করবেন। এখানে আনুগত্যতার কৃতিত্ব গাধা বা ঘোড়ার নয়, বরং চাবুকের।
গত এক-দেড়শ’ বছরের ইতিহাসে হিন্দুরা শুধু মুসলমানদের উপর চাবুকই মেরেছে, কিন্তু মুসলমানরা টু-শব্দটি করেনি। মুসলমানদের এই চুপ থাকাকে মুসলমানরা হয়ত “ক্ষমাই মহৎ গুন”, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” ইত্যাদি বলে প্রচার করেছে, কিন্তু হিন্দুরা তাদের আক্রমনাত্মক অবস্থা থেকে নিবৃত হয়নি। হিন্দুদের আঘাত আর মুসলমানদের চুপ থাকা, দীর্ঘদিন এই দুই সমন্বয়ে যেটা তৈরী হয়েছে, তা হলো মুসলমানরা গাধা আর ঘোড়ার মত হিন্দুদের আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ইমাম যে কথিত ‘ক্ষমা’ শব্দটা উচ্চারণ করেছে, সেটা সম্ভবত সেই আনুগত্যতারই লক্ষণ।
তবে দোষটা কিন্তু আমি হিন্দুদের দিবো না। হিন্দুরা হিন্দুদের স্বভাবজাত কাজ করেছে। সমস্যা হয়েছে মুসলমানদের নিয়ে। মুসলমানদের এই করুণ অবস্থার প্ল্যাটফর্ম মুসলমানরাই তৈরী করেছে। আসানসোলের ইমাম ইমদাদুল্লাহ’র দাদার নাম নাকি মৌলানা মোহাম্মদ আব্দুল রব এবং দাদার বাবার নাম নাকি মৌলানা মোহাম্মদ ঈশা। এরা দু’জনেই নাকি ভারত প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছে। অর্থাৎ এরা মুসলমানদের পৃথক ভূমি চায়নি, চেয়েছে হিন্দু-মুসলিম এক সাথে থাকতে। হিন্দুদের বিশ্বাস করার সেই ঋণ এখন তাদের শোধ করতে হচ্ছে নাতি-পুতিদের কলিজা দিয়ে।
বাংলাদেশেও ‍মুসলমানরা হিন্দুদের খুব বিশ্বাস করে। এবং কোন ‍মুসলমান যদি হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে বলে তাকে মুসলমানরাই একঘরে করে ফেলে। যেমন, কিছুক্ষণ আগে একজন ইনবক্সে জানালো, কিছুদিন আগে হাইকোর্টে কুড়িগ্রাম জেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষক জাতীয় সংগীতের বিরুদ্ধে রিট করায়, ঐ মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকরা তার উপর মনোক্ষুন্ন হয়েছে। তাকে এক ঘরে করে ফেলেছে। বিষয়টি একটু চিন্তা করুন, জাতীয় সংগীতের বিরুদ্ধে কোন মাদ্রাসা শিক্ষক তো প্রতিবাদ করেইনি, কিন্তু একজন প্রতিবাদ করায় সব মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাকে চাপ দিচ্ছে !
গতকালকে একটা পোস্টে আমি ‘ফ্রি কৃমিনাশক ওষুধ’ মধ্যে ক্ষতিকারক কিছু থাকতে পারে, এ মর্মে পোস্ট করেছিলাম। ঐ পোস্টে এক মাদ্রাসা শিক্ষক কমেন্টে করেছেন, “আমি আজ আমার মাদ্রাসায় সরকারের দেওয়া এই ঔষধ বিতরণ করেছি। তবে যথেষ্ট যাচাই করেছি। বাকিটা আল্লাহ হেফাজত করুক।”
আমি তার উত্তরে কমেন্ট করলাম- “কিভাবে যাচাই করেছেন, আপনার মাদ্রাসায় ল্যাবরেটোরি আছে ? সেখানে টেস্ট করেছেন ? ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, জীবানু কিংবা হরমোন থাকলে (দীর্ঘমেয়াদে কাজ করবে) সেটা কিভাবে যাচাই করলেন ?”
আসলে আমি নিজেও জানি, ঐ মাদ্রাসায় এমন ল্যাবরেটরি নেই, যেখানে ওষধের ভেতর ক্ষতিকারক কিছু যাচাই করা যাবে। কিন্তু আমার জানা মতে, মাদ্রাসাগুলো প্রতিষ্ঠা হয়েছে ধর্মীয় গ্রন্থ শিক্ষা দেবার জন্য এবং মাদ্রাসা শিক্ষক ও ছাত্রদের অন্তত ঐ গ্রন্থগুলোর উপর বিশ্বাস আছে। আমার কথা হলো- ঐ মাদ্রাসা শিক্ষকরা কি সে সব ধর্মগ্রন্থগুলো দিয়ে ঐ ওষধগুলো যাচাই করতে পারতো না ?
ঐ ধর্মগ্রন্থগুলোতে কি – অমুসলিমদের বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে ?
বলা হয়েছে কি, অমুসলিম এনজিওগুলো ফ্রি কিছু দিলেই তা খেয়ে নিয়ো ?
আরো কি বলা হয়েছে, অমুসলিমরা যত ষড়যন্ত্র করুক, তোমরা ‘আল্লাহ ভরসা’ বলে ঘুমিয়ে থাকো ?
তবে বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য সুখবর হচ্ছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি দ্রুত ভারতে মত হয়ে যাচ্ছে। মানে হিন্দুরা মুসলমানদের উপর অহরহ অত্যাচার বাড়াবে, আর মুসলমানরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে সেই অত্যাচার সহ্য করবে। ইতিহাস থেকে মুসলমানরা কেন শিক্ষা নেয় না, সেটাই আমার বুঝে আসে না।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Thursday, March 8, 2018

ভারত জুড়ে চলছে মূর্তি ভাঙ্গার মহোৎসব


১) ত্রিপুরায় লেনিন মূর্তি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া,
২) কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে কালো রঙ করা,
৩) তামিলনাড়ুতে পেরিয়ারের মূর্তি ভাঙা,
৪) উত্তরপ্রদেশে আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙ্গা,
৫) কেরালায় গান্ধীর মূর্তি ভাঙ্গা,

খবরের সূত্রমতে মূর্তিগুলো ভাঙ্গছে উগ্রহিন্দুত্ববাদী এবং বামপন্থী সংগঠনগুলো।
পাঠক ! একটু চিন্তু করুণ,
কোন মুসলমান যদি কোন মূর্তি বা কথিত ভাস্কর্য্যের বিরোধীতা করে বা সরিয়ে ফেলতে বলে তখন ঐ হিন্দুত্ববাদী এবং বামপন্থী নাস্তিকরাই কিন্তু মুসলমানদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং মুসলমানদের মৌলবাদী বলে ট্যাগ দেয়। অথচ এখন ভারতে তারাই মূর্তি ভাঙ্গার মহোৎসব চালাচ্ছে।
ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র, সেখানে কিছু কিছু রাজ্যের ক্ষমতায় নাস্তিকরাও আছে। সেই হিন্দু নাস্তিকরাই যদি মূর্তি ভাঙ্গতে পারে, তবে ৯৫% মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে মূর্তি/ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলতে সমস্যা কোথায় ?
খবরের সূত্র:
ক) http://bit.ly/2G5dIw1
খ) http://bit.ly/2FzO6cY
গ) http://bit.ly/2G4DWio








===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686

------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Friday, February 23, 2018

বাংলা ভাষায় কার অবদান বেশি ? হিন্দু না মুসলমানের ??

আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি, লিখতে পারছি, এর পেছনে কার অবদান বেশি ? হিন্দুদের না মুসলমানদের ?? এই প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আসলে প্রাচীন আমলে বাংলাভাষা ছিলো আঞ্চলিক ভাষার মত, ভাষাটি এত বেশি সমৃদ্ধ ছিলো না যে একটি বিরাট জাতি তা সাচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারে। প্রাচীন বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চার খুব একটা নিদর্শনও পাওয়া যায় না (শুধু চর্যাপদ ছাড়া)। এরপর মধ্যযুগে বাংলাভাষা কৈশরে উপনিত হয়। কিন্তু দুঃখজনক, সেই ক্ষুদ্র বয়সে হিন্দুরা বাংলাভাষাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। হিন্দু সেন রাজত্বের আমলে ব্রাহ্মণরা বলা শুরু করল “সংস্কৃত হচ্ছে দেবভাষা আর বাংলা হচ্ছে মনুষ্য সৃষ্ট ভাষা। বাংলা ভাষা মর্যাদায় অনেক নিচু।”
এ সম্পর্কে ইতিহাস বলে- "ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী সেন রাজারা বাংলা ভাষা চর্চা নিষিদ্ধ করেছিল। আর হিন্দু পুরোহিতরা এ কথা বলে বেড়াতো যে, যে ব্যক্তি বাংলা ভাষায় কথা বলবে সে নরকে যাবে। [ সুত্র : খন্দকার কামরুল হুদা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও শেখ মুজিব, ১৯৯৫ পৃ. ৩২] "
ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন অত্যন্ত সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছে। তার ভাষায়, ‘ইতরের ভাষা বলিয়া বঙ্গ ভাষাকে হিন্দু পন্ডিত মন্ডলী ‘দূর দূর’ করিয়া তাড়াইয়া দিতেন। (সওগাত, চৈত্র, ১৩৩৫)
অপরদিকে ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম সেনাপতি মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলা দেশে মুসলিম রাজত্ব কায়েমের ফলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নবজন্ম ঘটে। মুসলমান শাসক হুসেন শাহ, গৌড়ের সামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ এবং অপরাপর মুসলমান সম্রাটেরা বাংলাদেশে বাংলা ভাষাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে আমাদের সাহিত্যে এক নতুন যুগ সৃষ্টি করেছিলেন। আর সে কারণেই দিনেশ চন্দ্র সেন মন্তব্য করে, "মুসলমান সম্রাটগণ বর্তমান বঙ্গ – সাহিত্যের জন্মদাতা এইরূপ বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। বঙ্গ সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট, বঙ্গভাষা বাঙ্গালী মুসলমানের মাতৃভাষা। [ সুত্র : দীনেশ চন্দ্র সেন - প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান, (১৯৪০) কলকাতা।]"
দীনেশ চন্দ্র সেন আরো বলে- ‘কয়লার খনির মধ্যে থাকিয়া হীরা যেমন জহুরির আগমনের প্রতীক্ষা করে, শুক্তির ভেতর মুক্তা লুকাইয়া থাকিয়া যেরূপ ডুবুরির অপেক্ষা করিয়া থাকে, বাংলা ভাষা তেমনই কোনো শুভদিন শুভক্ষণের জন্য প্রতীক্ষা করিতেছিল। মুসলিম বিজয় বাংলা ভাষার সেই শুভদিন শুভক্ষণের সুযোগ আনয়ন করিল।’ [দ্রষ্টব্য : বাংলা ভাষার ওপর মুসলমানের প্রভাব : শ্রী দীনেশ চন্দ্র সেন]।
বিশিষ্ট গবেষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান“বাংলার সামাজিক ও সংস্কৃতির ইতিহাস” গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন, “যদি বাংলায় মুসলিম বিজয় ত্বরান্বিত না হতো এবং এদেশে আরো কয়েক শতকের জন্য পূ্র্বের শাসন অব্যাহত থাকতো, তবে বাংলা ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং অবহেলিত ও বিস্মৃত-প্রায় হয়ে অতীতের গর্ভে নিমজ্জিত হতো।
"বাংলা হলো মুসলমানদের প্রানের ভাষা - আর এ কারণেই আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ ১৯০৩ সালে "আল ইসলাম" পত্রিকায় সর্বপ্রথম বাংলাকে মুসলমানদের মাতৃভাষা রূপে তুলে ধরেন। [ সুত্র : ড. ইফতেখারউদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক ইত্তেফাক, সোমবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩]" আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ ১৩২৫ বঙ্গাব্দে - 'আল-ইসলামে' প্রকাশ্যে নির্ভীকচিত্তে উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা দেন যে, 'বাঙলা বাঙালী মুসলিমের কেবল মাতৃভাষাই নয়, জাতীয় ভাষাও।'
উপরের আলোচনা দ্বারা এটি স্পষ্ট- হিন্দুরা চেয়েছিলো বাংলা ভাষাকে জন্মলগ্নেই গলা টিপে হত্যা করতে, সেখানে মুসলমানরা বাংলাভাষাকে দিয়েছিলো পুনর্জন্ম। সে হিসেবে বাংলা ভাষায় কার অবদান বেশি, হিন্দু না মুসলমানের, এ ধরনের প্রশ্ন করা অবান্তরই বলা চলে।
মূলত বাংলাভাষা প্রাথমিক অবস্থায় ছিলো আঞ্চালিক ভাষার মত। ভাষাটি বিরাট জনগোষ্ঠীর জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিলো না। এ জন্য দরকার ছিলো- বাংলাভাষার ব্যাপক চর্চা, যা ঘটে সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে, মধ্যযুগে সেই কাজটি করেছিলো মুসলিম কবি-সাহিত্যিকরা। মুসলিম সাহিত্যিকরা বাংলা ভাষায় ব্যাপক চর্চার মাধ্যমে ভাষাটি সমৃদ্ধ করে। যেহেতু মুসলিম কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে আরবী ও ফারসীর ব্যাপক প্রভাব ছিলো, তাই বাংলা ভাষায় প্রচুর পরিমাণে আরবী ও ফারসী শব্দ প্রবেশ করে, যা বাংলাভাষাকে সমৃদ্ধ করে একটি বিরাট জনগোষ্ঠীর ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে। আসুন জেনে নেই, সে সময় কোন কোন মুসলিম সাহিত্যিক বাংলাভাষাকে চর্চা করে বাংলাভাষাকে পরিপূর্ণতা দান করেছিলেন-
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যিক
-শাহ মুহম্মদ সগীর (১৪শ’ শতাব্দী), -জৈনুদ্দীন (১৫শ’ শতাব্দী), -মুজাম্মিল (১৫শ’ শতাব্দী),-দোনাগাজী: (১৬শ’ শতাব্দী), -শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ’ শতাব্দী),- দৌলত উজির বাহরাম খান: (১৬শ’ শতাব্দী), - মুহম্মদ কবীর (১৬শ’ শতাব্দী),-সৈয়দ সুলতান (১৬শ’ শতাব্দী), - শেখ পরান (১৬শ’ শতাব্দী), -হাজী মুহাম্মদ (১৬শ’ শতাব্দী), -মীর মুহাম্মদ শফী (১৬শ’ শতাব্দী), -নসরুল্লাহ্ খাঁ (১৬শ’ শতাব্দী), -মুহম্মদ খান, - সৈয়দ মর্তুজা, -শেখ মুত্তালিব, -আবদুল হাকীম।
১৬০০ থেকে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকজন হলেন
-নওয়াজিশ খাঁ,-কমর আলী, -মঙ্গল (চাঁদ),-আবদুন নবী, -মুহম্মদ ফসীহ,-ফকির গরীবুল্লাহ্, -মুহম্মদ ইয়াকুব,-শেখ মনসুর,
-শেখ চাঁদ, -মুহম্মদ উজীর আলী, -শেখ সাদী, -হেয়াত মামুদ, -দৌলত কাজী।
১৭শ’ শতাব্দীতে আরকান (বর্তমানে বার্মার রাখাইন রাজ্য) রাজসভায় মহাকবি আলাওল, দৌলত কাজী, এবং কোরেশী মাগন ঠাকুর এর মতো বাংলা কবিদের সাধনা আর পৃষ্ঠপোষকতায় সেখানে বাংলা সাহিত্যের প্রভূত উন্নতি হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানেও চট্টগ্রামের অনেক লাইব্রেরীতে আরকান রাজসভার বাংলা সাহিত্য চর্চার দলিলগুলো রাখা আছে। যদিও আজকাল মিডিয়া বা পাঠবই বিষয়গুলো এড়িয়ে যায় বললেই চলে। দু:খজনক হলেও সত্য, বাংলাভাষা মূল গোড়া অনুসন্ধান করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এমনকি অনেক মুসলমানও না জেনে বোকার মত বলছে- বাংলাভাষা নাকি হিন্দুদের ভাষা, যদিও ভাষাটি এ অবস্থানে এসেছে মুসলমানদের হাত ধরেই।
বাংলা ভাষায় মুসলমানদের ব্যাপক সাহিত্য চর্চার ফলে বাংলা ভাষা একটি সমৃদ্ধ ভাষা হয়ে উঠে এবং একটি পরিপূর্ণ ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বলাবাহুল্য সেই সময় বাংলাভাষায় আরবী ও ফার্সী ভাষার ব্যাপক প্রভাব ছিলো। কিন্তু সমস্যা ঘটে ব্রিটিশরা আসার পর। ব্রিটিশরা দেখলো বাংলা ভাষা চর্চা মানেই মুসলমানদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা । এই বিষয়টি যদি চলতে দেয়া হয়, তবে আগামীতে বাংলাসংস্কৃতি মানেই মুসলমানি সংস্কৃতি হবে। এটার অবশ্যই পরিবর্তণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশরা কলকাতার হিন্দু সাহিত্যিকদের (যেমন: বঙ্গিম, ঈশ্বরচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ) পৃষ্ঠপোষকতা করে ভিন্নমাত্রার সাহিত্য রচনা করতে থাকে, এর মাধ্যমে তারা এক নতুন বাংলা ভাষার জন্ম দেয়, যা আরবী-ফার্সী বিবজির্ত, জটিল ও দুর্বধ্য সংস্কৃতি শব্দবহুল। (এ সম্পর্কে জানতে গোলাম মোর্তজার ইতিহাসের ইতিহাস বইটি পড়তে পারেন)
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনাও হয়েছিলো তমদ্দুন মজলিস নামক একটি ইসলামী সংগঠনের পক্ষ থেকে। ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরে তমদ্দুন মজলিস একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে যার নাম ছিল পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দু? এই পুস্তিকার লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমেদ এবং অধ্যাপক আবুল কাসেম (তমদ্দুন মজলিসের সাধারণ সম্পাদক) বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলায় ভাব বিনিময়, অফিস ও আদালতের একমাত্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পক্ষে জোরালো মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষেও জোরালো দাবি জানান। (bn.wikipedia.org/wiki/তমদ্দুন_মজলিস)
উপরের আলোচনা থেকে একটি বিষয় প্রমাণিত বাংলাভাষা মূলত মুসলমানদেরই ভাষা। এবং হিন্দুরা প্রথম থেকেই এ ভাষাকে নিগৃহিত করে এসেছে। কখন নিজেরা করেছে, কখনও বা ইংরেজদের প্ররচণায় করেছে।
(গত বছরের ৩টি পোস্টের সমন্বিত রূপ)

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686

------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Tuesday, January 30, 2018

‘পদ্মবত’ মুভি : মুসলমানদের বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দুদের দাঙ্গা বাধানোর উস্কানি


‘পদ্মবত’ মুভি সম্পর্কে জানাতে হলে আপনাকে আগে জানতে হবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের ক্লাস ৯-১০ এর পাঠ্যবইয়ে রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের লেখা ‘স্বাধীনতা’ নামক একটি কবিতা ছিলো, যা মুসলমানদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ২০১৭ সালে বাদ দেয়া হয়। ঐ স্বাধীনতা কবিতা আর এই পদ্মাবত মূভি একই জিনিস। স্বাধীনতা কবিতাটি ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছিলো। ঐ সময় ‘স্বাধীনতা’ নামক কবিতার বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে আমি একটা আর্টিকেল লিখেছিলাম, যা

পেইজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর পাওয়া যাচ্ছে না, তবে গুগল সার্চ করে এ লিঙ্কে (http://bit.ly/2rSOiyD) লেখাটা পেলাম। সেখানে মুল ঘটনা বিস্তারিত পাবেন।

পদ্মবত মুভি আসলে কি?

হিন্দুরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের স্বগোত্রীয়দের উস্কানি দিতে নানান ভ্রান্ত গল্প বানায়। এসব ভ্রান্ত গল্পকে পূজি করে তারা যুগে যুগে মুসলমানদের বিরুদ্ধচারণ করেছে, ‍মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঙ্গাকে বৈধতা দিয়েছে। যেমন “বাবরী মসজিদের স্থানটি হচ্ছে রামের জন্মস্থান, তাই সেটা ভাঙ্গতে হবে।” কিংবা “তাজমহল হিন্দু মন্দির ছিলো তাই তা ভাঙ্গতে হবে”, “আরবের কাবা ঘর মূলত শিব মন্দির”। এ ধরনের বহু আজগুবি গল্প বা হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা তারা যুগে যুগে বানিয়ে হিন্দুদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কাতো। বাংলাদেশে ভুয়া সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা সাজানোও একই বিষয়। বাস্তবে যার কোন অস্তিত্ব নেই। মূলত পদ্মাবত মুভি বা পদ্মিনী উপখ্যান সেই স্বভাব থেকেই উদ্ভব।

পদ্মবত মুভির ঘটনায় হিন্দুরা গল্প সাজিয়ে বলে, ‘পদ্মিনী’ হচ্ছে একজন রাজপুত রানী। ১৪শ’ শতাব্দীতে দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি নাকি ঐ নারীর রুপের কথা শুনে পাগল হয়ে যান এবং চিতোর আক্রমণ করে। হিন্দুরা আরো গল্প সাজায়, ঐ সময় মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজি ও তার বাহিনী থেকে নিজেদের সম্ভ্রম বাচাতে নাকি পদ্মিনীসহ ১৩ হাজার হিন্দু নারী আগুনে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলো।

মুসলমানরা আসার আগে ভারত কত অনুন্নত ছিলো সে ইতিহাস সবার জানা। প্যাগান গোষ্ঠীদের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে মুসলমানরা উদ্ধার করে আলোর পথ দেখায়। বিজেপি মাত্র ৪ বছর ক্ষমতা পেয়ে বলে সমস্ত মুসলমানকে বের করে দেয়া হবে। অথচ মুসলমানরা ভারত ৬০০ বছর একচেটিয়া শাসন করে যদি সত্যিই হিন্দুদের উপর নির্যাতন করতো, তবে ভারত বর্ষে এখন একটা হিন্দুও যেতো না। উল্লেখ্য, হিন্দুরা যে সাম্প্রদায়িক ইনটেনশন নিয়ে কাজ করে, তার প্রমাণ- মুসলমানদের আসার আগে হিন্দুরা বৌদ্ধ ধর্মের বিলুপ্তি ঘটায় (http://bit.ly/2rPR6w8)

তারপরও এখন সারা ভারত জুড়ে মুসলিমবিরোধী সেন্টিমেন্ট বিশেষ করে দাঙ্গা উস্কে দিতে এসব ইতিহাস বিকৃত সিনেমা তৈরী করা হচ্ছে। কথিত ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের দেশ ভারতে কত উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিবেশ বিরাজ করছে তার নিকৃষ্ট প্রমাণ এ পদ্মাবত মুভি। উল্লেখ্য, এ মুভির বিরুদ্ধে উগ্রহিন্দুদের একটি গোষ্ঠী শুরু থেকে বিরোধীতা করে। এ বিরোধ থেকে হয়ত অনেকে ভেবেছে মুভিটি মনে হয় এন্টি-হিন্দু। আসলে তা না। মুভির কাহিনীর প্রয়োজনে একটি দৃশ্যে কথিত পদ্মবতীকে কথিত আলাউদ্দিন খিলজীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে দেখানো হয়, আর তাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে উগ্রহিন্দুরা। যদিও পুরো মুভির এন্টি মুসলিম সেন্টিমেন্ট ঠিক আছে। তবে আমার খারাপ লেগেছে অন্য কারণে। হিন্দুরা বানোয়াট চরিত্র ‘পদ্মবতী’র জন্য মাঠে নামলো, কিন্তু মুভিটিতে যে মুসলমানদের সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীকে মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে বিকৃত করে (পশুর মত) উপস্থাপন করা হলো তার প্রতিবাদ কোন মুসলমান করলো না। বর্তমানে মুসলমানদের কঠিন অবস্থার জন্য মুসলমানদের বোবা থাকা একটি কারণ।

তবে একই সাথে আলোচনা করা যায়, এ ধরনের একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক ঘটনা কিভাবে বাংলাদেশের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্য করা হলো ? কেন ৪ বছর (২০১৩-১৬) তাদের এ ইসলামবিদ্বেষী পড়তে বাধ্য করা হয়েছিলো ? শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের এ কারণে কেন বিচার হলো না ??

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ ধরনের একটি সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেয়ার ঘটনা যখন পাঠ্যবই থেকে বাদ দেয়া হলো, তখন বাংলাদেশের কথিত অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাঠে নেমে বললো- বাংলাদেশের পাঠ্যবই নাকি সাম্প্রদায়িক করা হয়েছে !! আশ্চর্য !!!


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686

------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------