Showing posts with label মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা. Show all posts
Showing posts with label মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা. Show all posts

Monday, March 25, 2019

কেন এবং কি উদ্দেশ্যে সরকারী উদ্যোগে ‘কুসংষ্কার রীতি’ আমদানি করা হলো ?


২৫শে মার্চ উপলক্ষে একটি বিষয় নিশ্চয়ই আপনাদের সবার নজরে এসেছে। বিষয়টি হলো সরকারি পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে দেশজুড়ে ২৫ মার্চ উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জলন করা। খবরগুলো:

১) “লক্ষাধিক মোমবাতি প্রজ্বালন করে শহীদদের স্মরণ করলেন বগুড়াবাসী”
পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, ১ লাখ ৩০ হাজার মোমবাতি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন।  (https://bit.ly/2YjvWCZ)

২) “নড়াইলে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন”
মোমবাতি জ্বালিয়ে স্মরণানুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন—জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।  (https://bit.ly/2HOm8Lr)

৩) “মেহেরপুরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন”
সোমবার সন্ধায় শহরের শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
(https://bit.ly/2TZ7E2C)

৪) ``মোমবাতি জ্বালিয়ে নাটোরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন”
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক র‌্যালী বের করা হয়।  (https://bit.ly/2U3GyHK)

৫) “নরসিংদীতে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন”
২৫ মার্চ ভয়াল কালরাত্রি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছে জেলার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন।
(https://bit.ly/2TDO9rq)

৬) “আড়াই হাজার মোমবাতি জ্বেলে শহীদদের স্মরণ”
“ভয়াল ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আড়াই হাজার মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। ”
(https://bit.ly/2YnyArm)

৮) “রাজশাহীতে ২৫ শে মার্চ গণহত্যা দিবসে মোমবাতি প্রজ্জলন”
সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় রাজশাহী নগরীর হাদির মোড় বধ্যভূমিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে জেলা প্রশাসন। (https://bit.ly/2Ty9Zwj)

৯) “যশোরে হাজার মোমবাতির আলোয় ভয়াল ২৫ মার্চ স্মরণ”
প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় সেদিনের বীর শহীদদের।
(https://bit.ly/2JP6FNw)

১০) “সাতক্ষীরায় জেলা ২৫শে মার্চ উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জলন”
২৫মার্চ সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা চত্বরে স্থাপিত বীর মুক্তিযোদ্ধা স্তম্ভের পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্বলন হয়। (https://bit.ly/2Oq5jHJ)

এবার আসুন মৃতদের উদ্দেশ্যে এ ধরনের মোমবাতি প্রজ্জলন করার রীতি কোথা থেকে আসলো তা জানি:

১) প্যাগান ধর্ম: মৃতের জন্য প্রদীপ জ্বালানোর প্যাগান বা মূর্তিপূজকদের একটি বিশেষ প্রথা। এ সম্পর্কে উইকিপিডিয়া বলছে-
মৃতের জন্য প্রদীপ : প্যাগানদের একটা রীতি হলো মৃতের জন্য একটি প্রদীপ দেয়া, যেন মৃতব্যক্তি পরবর্তীতে জীবনে আলো পায়। তাদের বিশ্বাস পরবর্তী জীবনের বেশিরভাগ অংশই হচ্ছে অন্ধকারাচ্ছন্ন, তাই তারা তাদেরকে আলোকিত করতে এই আলো দেয়া। এই কালচার এশিয়াটিক অঞ্চল থেকে উৎপত্তি, Phoenicia এবং Punic colonies- তেও এই কালচার পালিত হয়। ইউরোপে রোমের অধিনে দেশগুলোতে এই রীতি দেখা যায় । (https://tinyurl.com/y3lwhwpf)

২) ডাইনী দমনে যাদুবিদ্যা :
ডাইনী দমনে যাদুবিদ্যার সাথেও এই মোমবাতি রীতি জড়িত। যাদুকররা বিশ্বাস করে মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃতের আত্মাকে নিয়ে আসা হয় । (https://tinyurl.com/y23arfny)

(৩) হিন্দু ধর্ম :

দিপাবলী পূজার সময় হিন্দুরা বাড়ি বাড়ি প্রদীপ জালায়। হিন্দুদের দাবি, নিকষ অন্ধকারেই অশুভ আত্মা ও অশুভ শক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই এই অশুভ শক্তিকে দুর্বল করতে ঘরের প্রতিটি কোনায় কোনায় বাতি বা প্রদীপ জ্বালানো হয়ে থাকে। (https://tinyurl.com/y3tns69f)

(৪) শিখ ও জৈন :

হিন্দু ধর্মের দিপাবলীর দিনটি শিখ ও জৈন ধর্মাবলম্বীরাও পালন করে। তারা এ দিনটিতে মোমবাতি জ্বালায়। (https://tinyurl.com/y4267hol) তবে শিখরা এ দিবসটি নাম দিয়েছে Bandi Chhor Divas । (https://en.wikipedia.org/wiki/Bandi_Chhor_Divas)।

(৫) বৌদ্ধ ধর্ম:

মোমবাতি জ্বালিয়ে পূজা ও ধ্যান করা বৌদ্ধ ধর্মের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। (https://tinyurl.com/y36kmjwb)

(৬) খ্রিস্টান ধর্ম:
আব্রাহামিক ধর্ম হলেও পরবর্তীতে খ্রিস্টান ধর্মেও পৌত্তলিকতা বা প্যাগানিজম প্রবেশ করে। তাই মৃত ব্যক্তির জন্য মোমবাতি জ্বালানো কালচারটা খ্রিস্টানদের একটি বড় কালচার। এ দিবসটি তারা পালন করে All Soul’s Day নামে। খ্রিস্টানরা এ দিবসটি পালন করে ২রা নভেম্বর। খ্রিস্টানদের মধ্যে রোমান ক্যাথলিক, বাইজেন্টাইন ক্যাথলিক, ইস্টার্ন অর্থডক্স, প্রটেস্টান্ট, অ্যাঙ্গলিকানদের মধ্যে এ দিবস পালনের রীতি দেখা যায়। (https://tinyurl.com/y485d8ud)

(৭) ইহুদী ধর্ম :
ইহুদী ধর্মের মধ্যে বর্তমানে অনেক পৌত্তলিকতা বা প্যাগানিজম ঢুকে গেছে। তাই মৃতব্যক্তিদের জন্য মোমবাতি জ্বালানোর কালচারটা ইহুদী ধর্মও করে। ইহুদীদের এ অনুষ্ঠানটির নাম Yahrzeit candle । এ সময় ২৬ ঘন্টা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়। (https://en.wikipedia.org/wiki/Yahrzeit_candle)

“মৃতের আত্মাকে শান্তি দিতে মোমবাতি”
অথবা ‘মৃতকে স্মরণ করে মোমবাতি’
অথবা ‘মৃতকে আলো দিতে মোমবাতি’
এই তিনটি বিষয় ইসলামধর্ম ভিন্ন অন্য ধর্ম বা রিচুয়ালগুলো সমর্থন করে।

বাংলাদেশে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র এবং দেশটির রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এ অবস্থায় হঠাৎ করে প্রশাসনের উদ্যোগে, দেশটির একটি জাতীয় উপলক্ষকে (২৫শে মার্চ) কেন্দ্র করে এমন একটি সংস্কৃতি আমদানি করা হলো, যা দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সংস্কৃতি ও চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। ধর্মনিরপেক্ষতার নাম দিয়ে বাংলাদেশে অনেক কিছুর প্রচলন করা হয়, কিন্তু এই মোমবাতি প্রজ্জলনটা তো ধর্মনিরপেক্ষও কোন সংস্কৃতি নয়, বরং আদি পৌত্তলিকদের কুসংস্কার বিশ্বাস থেকে আগত।

কেন সরকারী উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান ?
সরকার সম্ভবত চাইছে ২৫শে মার্চকে ইউনেস্কো থেকে স্বীকৃতি নিতে। এবং এখানে যে বিশ্বাসটি কাজ করছে, সেটা হলো পৌত্তলিক বা প্যাগান কালচার গ্রহণ করলে দ্রুত স্বীকৃতি নেয়া সম্ভব।  সেই বিশ্বাস থেকে সম্ভবত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এই মোমবাতি প্রজ্জলনের উদ্যোগ।

সরকার তার রাজনৈতিক অর্জন দেখানোর জন্য রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দিবসগুলোকে জাতিসংঘের ইউনেস্কোতে তালিকাভূক্ত করাতে দৌড়ঝাপ করছে। কিন্তু এটা ভুল গেলে চলবে না, ইউনেস্কো বা জাতিসংঘ হচ্ছে সম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বেনামি অঙ্গসংগঠন, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গোয়েন্দা সংস্থা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পেছনে জড়িত (https://bit.ly/2utAj0w )।

বিষয়টি এমন দাড়াচ্ছে, রাষ্ট্রের মহান অর্জনগুলোকে এমন দুষ্টু শক্তির কাছ থেকে আমরা স্বীকৃতি চাচ্ছি, যারা খোদ আমাদের রাষ্ট্রের বিরোধী। এবং সেই দুষ্টু শক্তির স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আমাদের দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মকেও বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করছি না। যারাই এ ধরনের অপতৎপরতার পেছনে জড়িত তাদের কঠিন শাস্তি দাবী করছি।
















----------------------------------------------------------
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Sunday, December 2, 2018

মুক্তিযুদ্ধ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশব্যাপী ধর্মবিদ্বেষ ছড়াচ্ছে শাহবাগীরা


বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনী বসে বসে যে কি করে আমি বুঝি না,
নির্বাচনের আর মাত্র ১ মাস বাকি, এর মধ্যে মার্কিনব্লকের এক ব্যক্তি ঘোষণা দিলো ৬৪ জেলায় ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী নামক প্রোগ্রাম করবে (৮ই ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে), আর প্রশাসন অনুমুতি দিয়ে দিলো ?
তাও এমন একটি প্রকাশনী (শ্রাবন প্রকাশণী), যারা চরম বিতর্কিত, নাস্তিকতার সাথে সম্পৃক্ত-
১) নাস্তিকতা প্রচারের জন্য রোদেলা প্রকাশনী বন্ধ হওয়ার পর তা খুলে দেয়ার জন্য আন্দোলন করতে মাঠে নামে শ্রাবন প্রকাশনীর রবিন আহসান (https://bit.ly/2KIJv8q)
২) চরম ধর্মবিদ্বেষী বই বের করার জন্য বদ্বীপ প্রকাশণী বন্ধ করায় রাস্তায় নেমেছিলো রবিন আহসান, যার কারণে শ্রাবন প্রকাশনীকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে বাংলা একাডেমী। (https://bbc.in/2raon26)
৩) সিআইএ’ এজেন্ট এসকে সিনহার বানানো মূর্তি অপসারণ করায় মাঠে নেমেছিলো শ্রাবন প্রকাশনীর রবিন আহসান (https://bit.ly/2zAKAei)
৪) মার্কিন এজেন্ডা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধুয়া তুলতে সর্বদা মাঠে সরব ছিলো শ্রাবন প্রকাশনীর রবিন আহসান (https://bit.ly/2KJpnmP)

এদের মুখের ভাষা মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু বাস্তবতা মুক্তিযুদ্ধ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ধর্মবিদ্বেষ ছড়ানো, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি। এদের দৌড় সর্বোচ্চ শাহবাগ পর্যন্ত হতে পারে, কিন্তু ৬৪ জেলায় ফিল্ড পর্যায়ে গেলে এদের সাথে জনগণের সংঘর্ষ বাধা খুব স্বাভাবিক।
পোস্টারে দেখলাম, এই প্রোগ্রামের উদ্বোধন করবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহী, আর সহযোগীতা করবে সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ। আমার মনে হয় না, এরা মূল ঘটনা বুঝে (সিআইএপন্থী সিনহাকে প্রধানবিচারপতি বানালে আর কি বাকি থাকে ?), বরং এদের নাম কৌশলে এটে পুরো প্রোগামকে একটি আওয়ামী সরকারের সিল লাগানো হয়েছে কৌশলে।
আমার কথা হলো, শ্রাবন প্রকাশনীকে আর কয়জন চেনে, কিংবা রবীন আহসান যে সরকারবিরোধী মার্কিনপন্থীদের হয়ে কাজ করছে, এটাও বা কয়জন বোঝে ? কিন্তু কিন্তু তৌফিক ই ইলাহী আর মন্ত্রী পরিষদ বিভাগকে তো সবাই চেনে। তাই কথিত ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ফিল্ড পর্যায়ে একটা ঘটনা ঘটিয়ে দিলে তার দায় কিন্তু পড়বে সরকারের উপর, যার সূত্র ধরে তৈরী হতে পারে বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন।
আমার মনে হয়, নির্বাচনের আগে, নতুন কোন অরাজকতা বন্ধ করতে, শ্রাবন প্রকাশনীর কথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের ভ্রাম্যমান বইমেলা’ আপাতত স্থগিত করাই শ্রেয়, নির্বাচন শেষ হলে পরে দেখা যাবে।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Wednesday, May 16, 2018

স্যার জাফর ইকবাল, ইতিহাস সাক্ষী ১৯৭১ সালে তো আপনিও ‘আমি রাজাকার’ হতে চেয়েছিলেন


জাফর ইকবাল স্যার নতুন করে কোটা আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটা আর্টিকেল লিখছে (https://bit.ly/2Ido9y2)। আর্টিকেলটা পড়ে আমি সত্যিই হতাশ হলাম, বুঝলাম, তার বয়স হয়েছে। এখন তার রিটায়ার্ডে যাওয়া উচিত। অনেক তো হলো। তার বানানো চেতনার মসল্লা আর ছাত্ররা খাইছে না, কারণ ছাত্ররা চলে ‘কোরআই -৯’ প্রসেসরে আর তিনি পড়ে আছেন পেন্টিয়াম-১ যুগে। তাই এ যুগে তিনি অচল, তার এখন গার্বেজে যাওয়াই শ্রেয়।

১) কোটা আন্দোলনের সময় অনেক ছাত্র বুকের মধ্যে ‘আমি রাজাকার’ লিখেছে দেখে তিনি মারাত্মক রাগান্বিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন,
- “যখন দেখি একজন ছাত্র নিজের বুকে ‘আমি রাজাকার’ কথাটি লিখে গর্বভরে দাঁড়িয়ে আছে, আমি সেটি বিশ্বাস করতে পারিনি। মাথায় আগুন ধরে যাওয়া বলে একটা কথা আছে, এই কথাটির প্রকৃত অর্থ কী আমি ওই ছবিটি দেখে প্রথমবার সেটি অনুভব করেছি।”
-এরপর বলেছেন, “কোটাবিরোধী আন্দোলন করে যে বাংলাদেশের মাটিতে নতুন রাজাকারের পুনর্জন্ম হয়েছে, এ দেশের তরুণরা নিজেদের রাজাকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে গর্ব করতে শিখেছে, আমাদের সংবাদমাধ্যম সেই খবরটি আমাদের কেন জানাল না?”
- “(কোন ছাত্র বলবে) আমি ২০১৮ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলন করেছিলাম, খবরের কাগজে আমার ছবি ছাপা হয়েছিল, আমার বুকে লেখা ছিল ‘আমি রাজাকার’। তখন আমি (জাফর স্যার) অবধারিতভাবে গলায় আঙুল দিয়ে তার ওপর হড়হড় করে বমি করে দেব।”

স্যার জাফর ইকবালের ভাষায়, “ছাত্ররা বুকের মধ্যে ‘আমি রাজাকার’ শব্দটা গর্বভরে লিখেছিলো।”
কিন্তু আসলেই কি তাই ?
ছাত্ররা ‘রাজাকার’ শব্দটা লিখেছিলো ক্ষোভ থেকে, রাগে-দুঃখে লিখেছিলো। অনেকে লিখেছিলো; “চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার” এটা তো গর্বকরে লেখা নয়। জাফর ইকবাল ছাত্রদের অপবাদ দিয়েছেন। যদিও যে উপলক্ষ্য করে (মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য) ছাত্ররা এ শ্লোগান ঝুলালো সেটা তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।

২) ‘আমি রাজাকার’ শব্দটা কেন লেখা হয়েছে এটা কোরআই-৯ প্রজন্ম ভালোভাবে বুঝে। বর্তমানে পৃথিবীতে মি-টু হ্যাশ ট্যাগ দিচ্ছে অনেকে। হলিউডের এক পরিচালক অভিনেত্রীদের যৌন নির্যাতন করতো, সেই থেকে এই ট্যাগের সূচনা। এখন পৃথিবীর অনেকেই মি-টু হ্যাশ ট্যাগ দেয়। তাই বলে সবাই যে যৌন নির্যাতিত বিষয়টি তা নয়। এর আগে বাংলাদেশে একটি প্রচারণা হয়েছিলো, ‘আমি মালউন’ শ্লোগান দিয়ে। ‘মালউন’ মানে অভিশপ্ত। ঐ সময় জাফর ইকবাল কিন্তু এটা নিয়ে কোন ঘোষণা দেয়নি। একই ঘটনা কিন্তু ঘটেছিলো নারায়নগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তির কান ধরে উঠবস নিয়ে। ঐ সময় তার সমগোত্রীরাও কান ধরে উঠবসা করে। ঐ সময় স্যার জাফর ইকবাল কি লিখেছিলো আসুন দেখি: “আমি নিজে একজন শিক্ষক। আমি জানি, আমাদের দেশের সকল শিক্ষকের কাছে মনে হয়েছে এটি তার নিজের অপমান। শ্যামল কান্তি ভক্তকে একা কান ধরে উঠ-বস করানো হয়নি, এদেশের সকল শিক্ষককে একসঙ্গে কানে ধরে উঠ-বস করানো হয়েছে।” (https://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/36190)
কি বুঝলেন ? তিনি কিন্তু কানে ধরে উঠবস কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বলেননি, বরং সেই আন্দোলনকে পক্ষে বলে সব শিক্ষককে কানে ধরে দিয়েছেন।

৩) জাফর ইকবাল লিখেছেন, “ঢাকা শহরের মানুষকে জিম্মি করে আন্দোলন করার জন্য আমি যথেষ্ট বিরক্ত হয়ে সপ্তাহ দুয়েক আগে একটি লেখা লিখেছিলাম (সেই সময়ে আমার মেয়ে হাসপাতালে ছিল, তাই ঢাকাশহরকে জিম্মি করে ফেললে হাসপাতালে রোগীদের কী ধরনের কষ্ট হয় আমি নিজে সেটি জানতে পেরেছি)। ”

স্যারের এ ধরনের বক্তব্য পড়ে আমি বুঝলাম তিনি কতটা স্বার্থপর। ঐ সময় তার মেয়ে হাসপাতালে ছিলো বলে তিনি ঢাকাবাসীর কষ্টটা বুঝছেন। তার মেয়ে হাসপাতালে না থাকলে তিনি বিষয়টি বুঝতেন না। আহহারে। কিন্তু এই আন্দোলন আর কয়দিনের, ঢাকা শাহবাগের যখন মাসের পর পর মাস ধরে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন চলছিলো, তখন তিনিও ঐ আন্দোলনের ছিলেন, এবং স্ত্রী পাশে নিয়ে মাইকে বক্তব্য দিয়েছেন। তখন কিন্তু ঐ এলাকায় মিডফোর্ড, বারডেম, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো । শাহবাগে জাফর স্যারের সেই বক্তব্য দেখুন (https://youtu.be/E_tlh_AxXOQ), দৃশ্য বলে দিচ্ছে- যে পরিমাণ রাস্তায় ভীড় একজন রোগির পক্ষে ঐ রাস্তা দিয়ে যাওয়া সম্ভব না।

৪) জাফর স্যার আর্টিকেলের শুরুতে বলেছেন, “আমি শেষবার এই কথাটি শুনেছিলাম ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর মাসে। তাড়া খাওয়া পশুর মতো দেশের নানা জায়গা ঘুরে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় এসে আশ্রয় নিয়েছি।”
স্বাভাবিকভাবে একটা প্রশ্ন আসে, ঐ সময় তো তিনি টগবগে যুবক (সার্টিফিকেট বয়স ১৯), তাহলে তিনি মুক্তিযুদ্ধ করলেন না কেন ? কেন তিনি জীবন বাচানোর জন্য পশুর মত পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, কেন মানুষের মত মুক্তিযুদ্ধ করলেন না ?
জাফর স্যার নিজের মুখে বলেছেন, রাজাকার একটি ঘৃণ্য শব্দ। ছাত্ররা ‘আমি রাজাকার’ শব্দ লাগানোয় তিনি বোমি করবেন। আচ্ছা স্যার জাফর ইকবাল, আপনি এবং আপনার ভাই দু’জনেই তো লিখেছেন, ১৯৭১ সালে যখন সারা দেশের হত্যাযজ্ঞ চলছিলো, তখন আপনি এবং আপনার ভাই আপনাদের এলাকার একটি রাজাকার মাদ্রাসায় ভর্তি হতে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিলো ঐ সময় যদি আপনারা ‘আমি রাজাকার’ সেজে থাকেন, তবে আপনাদের জীবনটা বাচবে। (https://bit.ly/2I5prip)
জাফর ইকবাল স্যার, আপনি আর্টিকেলে বলেছেন “একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া তরুণদের পচে গলে পূতিগন্ধময় রাজাকার নামক আবর্জনায় পরিণত হয়ে যাওয়া নিয়ে আমার ঘৃণাটি প্রকাশ করতাম। ”
তাহলে বর্তমান প্রজন্মও তো বলতে পারে: “ ১৯৭১ সালে টগবগে যুবক হয়েও মক্তিযুদ্ধ না করে রাজাকারদের মাদ্রাসায় ‘আমি রাজাকার’ সাজতে যাওয়াটা কি আপনার অপরাধ হয়নি? আপনার এ ইতিহাস শুনে কি ছাত্ররা মুখে আঙ্গুল দিয়ে বমি করবে না ?

জাফর স্যার, আপনাদের মূল সমস্যাটা বর্তমান প্রজন্ম বুঝে। আপনারা মুখে বলেন, ছাত্ররা সৃজনশীল হোক, কিন্তু বাস্তবে চান, বর্তমান প্রজন্ম যেন অন্ধের মত আপনাদের অনুসরণ করে। আপনারা যা বলেন, তাই মুখ দিয়ে গড় গড় করে আওড়াক। নিজের বিবেক বুদ্ধি না খাটায়। ‘তুই রাজাকার’ এর উৎপত্তি সম্পর্কে আপনি নিজেই বলেছেন, এই শ্লোগানটা হুমায়ুন আহমেদ ‘টিয়া পাখি’র মুখ দিয়ে সর্বপ্রথম বলেছিলো, সেই থেকে ‘তুই রাজাকার’র উৎপত্তি। টিয়া পাখির কিন্তু বিবেক বুদ্ধি নেই। সে নিজ থেকে কিছু বলতে পারে না। তাকে যা মুখস্ত করানো হয়, তাই সে বলতে পারে, এর বেশি না। আপনারা চান, নতুন প্রজন্ম টিয়া পাখি হয়ে থাকুক। আপনারা যা বলে দিবেন, সেটাই তারা মুখস্ত বলুক, নিজেদের বিবেক বুদ্ধি না খাটাক। কারণ ছাত্ররা নিজেদের বিবেক বুদ্ধি খাটানো শুরু করলেই আপনাদের সমস্যা। মুখোশ খুলে যাবে আপনাদের। বের হয়ে যাবে আপনাদের ব্যবসায়ী চরিত্র। তখন উল্টো প্রমাণিত হবে “জ-তে জাফর, তুই রাজাকার... তুই রাজাকার”।

পড়তে পারেন:
কেন জাফর ইকবাল কোটা আন্দোলন নিয়ে ইউটার্ন নিলেন ? - https://bit.ly/2jPYzV8


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Tuesday, April 17, 2018

রাশেদকে জন্ম দেয়া রাশেদের পিতার পাপ হইছে


না, এটা আমার কথা না। দিনমজুর পিতা বহু কষ্ট করে ছেলেকে পাঠাইছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে সে কোটা বিরোধী আন্দোলন করছে, পুত্রের আন্দোলনের জেরে পিতাকে গ্রেফতার করছে পুলিশ। ভয়ভীতি দেখাইছে, মানসিক টর্চার করছে, পিতা তখন দুঃখ করে সন্তানকে বলছে- বাবা তোকে জন্ম দিয়ে আমার পাপ হইছে।
রাশেদ রাষ্ট্রের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। কোটি কোটি রাশেদের প্রতিনিধি হয়ে মিডিয়ার সামনে আসছে। এটাই তার দোষ। শেখ হাসিনা সংসদে দাড়ায় বলছে- সব কোটা বাদ । এখানে আন্দোলন কোটা নিয়ে, সেটা নিয়ে কথা বলা জরুরী ছিলো। কিন্তু যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদেরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা মানে কতটা নিকৃষ্ট চর্চা সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সেই নিকৃষ্ট চর্চার দায়িত্ব আবার একাত্তর টিভির হাতে। সেই একাত্তর টিভি টকশো করে মিথিলাকে দিয়ে রাশেদের পুরাতন ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জেরা করেছে। জামাত-শিবির প্রমাণ করতে চাইছে। একাত্তর টিভি যে কত বড় টাউট এই অনুষ্ঠান সেটার প্রমাণ। ৯৫ সালে আওয়ামীলীগের সব শীর্ষ নেতা তো জামায়াতের সাথে জোট বানাইছিলো, আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের পাশে বসার বহু ছবি অনলাইনে এখনও পাওয়া যায়, সেই ছবি দিয়ে কি একাত্তর টিভি আওয়ামীলীগকে জামায়াত-শিবির প্রমাণ করতে পারবে ?
আমার মনে হয়, এ ধরনের ব্যক্তিগত ট্যাগ দেয়া, নিকৃষ্ট চর্চা। একটা জাতিকে ধ্বংস করার নামান্তর। রাশেদকে ব্যক্তিগত ট্যাগ দেয়া, ২০০ ফেসবুক একাউন্ট সনাক্তের খবর ছড়িয়ে ভীতি তৈরী করার চেষ্টা করা এগুলো বৃথাচেষ্টা। কোটা বিরোধী আন্দোলন কোন ব্যক্তিগত আন্দোলন না, এটা গণ আন্দোলন। দীর্ঘ সময় মানুষের ভেতর জমে থাকা পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এক্ষোভে এক রাশেদ চলে গেলও লক্ষ রাশেদ দাড়িয়ে যাবে। কয়জন রাশেদকে দমাতে পারবে বিরোধীরা?
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি সেই ‘দূরন্ত পথিক’ আর বিভীষিকার কথপোকথন মনে পড়ে:
– ‘আমি চিরন্তন মুক্তিকামী। এই যাদের খুলি পড়ে রয়েছে তারা কেউ মরেনি, আমার মাঝেই তারা নূতন শক্তি, নূতন জীবন, নূতন আলোক নিয়ে এসেছে। এ মুক্তের দল অমর!’ বিভীষিকা কাঁপিয়া উঠিয়া বলিল, – ‘আমার চেন না? আমি শূঙ্খল। তুমি যাই বল, তোমাকে হত্যা করাই আমার ব্রত, মুক্তিতে বন্ধন দেওয়াই আমার লক্ষ্য। তোমাকে মরতে হবে!’ দুরন্ত পথিক দাঁড়াইয়া বলিল, – ‘মারো,– বাঁধো, – কিন্তু আমাকে বাঁধতে পারবে না; আমার তো মৃত্যু নাই! আমি আবার আসব!..........সহস্র প্রাণের উদ্‌বোধনই তো তোমার মরণের সার্থকতা। নিজে মরিয়া জাগানোতেই তোমার মৃত্যু যে চিরজাগ্রত অমর!’ নবীন পথিক তাহার তরুণ বিশাল বক্ষ উন্মোচন করিয়া অগ্রে বাড়াইয়া দিয়া কহিল, – ‘তবে চালাও খঞ্জর!’
সত্যিই বলতে, রাশেদকে আমার এ প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা মনে হয়েছে। সে আসল বাংলাদেশীর প্রতিচ্ছবি। সে সুবিধাভোগী কোন পরিবারে জন্ম নেয়নি। এসি রুমে শহুরে আরাম আয়েশ তার ভাগ্যে জুটেনি। দরিদ্র দিনমজুর বাবা কষ্ট করে টাকা উপর্জন করে ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় পাঠিয়েছে। সেই রাশেদ নিজের জন্মদাতা পিতাকে বন্দুকের আগায় রেখে লক্ষ-কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছে, ডিবি পুলিশ চোখ-হাত বেধে ধরে নেয়ার পর তো সে তো দমে যেতে পারতো। কিন্তু সেটা সে করেনি। আসল সাহস দেখিয়েছে। এতদিন আমরা যাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিনিধি ভেবেছি, আসলে তাদের সেই চেতনা ভুল। তারা একাত্তরেও ছিলো সুবিধাবাদী আর এখন স্বাধীনতা ব্যবসায়ী। ‍তারা ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ নামের গল্প লিখে, সিনেমা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে, কিন্তু লক্ষ-কোটি জনতার কথা বলেনি । দিন মজুরের ছেলে রাশেদ তো সেই দুঃসাহসের কাজটি করতে পেরেছে, লক্ষ-কোটি জনতার কষ্টের কথা সাহসের সাথে বলতে পেরেছে।
রাশেদ আর কেউ নয়। লক্ষ কোটি জনতাই রাশেদ।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Sunday, April 15, 2018

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বন্ধ হয়েছে, রাজাকারদের জন্য যেন বিশেষ ব্যবস্থা চালু না হয়


এতদিন সরকারী চাকুরীতে ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিলো। কিন্তু সেই কোটা এখন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যখন কোটা বিরোধী আন্দোলন চলছিলো, তখন মুক্তিযেদ্ধা কোটার পক্ষে কেউ কেউ বলেছে- “তবে কি মুক্তিযোদ্ধা কোটা বন্ধ করে রাজাকার কোটা চালু করা হবে ?”

গতকালকে প্রধানমন্ত্রী কোটা ব্যবস্থা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু কোন কোন যায়গায় উপজাতিদের বিশেষ ব্যবস্থায় সুযোগের কথা বলা হচ্ছে। অথচ ১৯৭১ সালে উপজাতি গোষ্ঠীগুলো স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো। বিশেষ করে সবচেয়ে বড় উপজাতি গোষ্ঠী চাকমা (মোট উপজাতি’র অর্ধেকেরও বেশি) –এর তৎকালীল প্রধান বা রাজা ত্রিদিব রায় ছিলো চিহ্নিত রাজাকার। তার রাজাকারগিরিতে পাকিস্তান এত খুশি হয়েছিলো যে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর সে পাকিস্তান পালিয়ে গেলে তাকে মন্ত্রীত্ব দিয়ে সম্মানিত করা হয়। সেই চাকমা রাজার ছেলে বর্তমান চাকমাদের প্রধান। আসলে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান-চীন-আমেরিকা একজোট ছিলো। সে কারণেই বাংলাদেশে সকল উপজাতি গোষ্ঠীগুলো স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এর একটি বিশেষ উদহারণ হতে পারে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। সেও কিন্তু মনিপুরী উপজাতি, যে নিজ মুখেই স্বীকার করেছে সে একজন শান্তি কমিটির মেম্বার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী সরকারও স্বীকার করে নেয় সিনহার স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থানের কথা।

সে দিক বিবেচনা করে, যদি এখন উপজাতিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়, তবে বিষয়টি দাড়াবে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বন্ধ করে রাজাকারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা। হতে পারে এটা হয়ত গায়ের জোরে করা হবে। কিন্তু এর মাধ্যমে কিন্তু একটি কালো ইতিহাস রচিত হবে। আজীবন সবাই বলে যাবে- আওয়ামী সরকার মুক্তিযোদ্ধা কোটা বন্ধ করে, রাজাকারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করে গেছিলো।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Tuesday, April 10, 2018

ফলস ভ্যালু বা ভুয়া মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলছিলাম।


মুক্তিযুদ্ধের পরের বছর ৭২ সালে যে সংবিধান রচিত হয় সেখানে মূলনীতিতে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিষয়টি ছিলো না।

এই বিষয়টি আওয়ামী সরকার সংবিধান সংশোধন করে প্রথম সংযুক্ত করে ২০১১ সালে অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর পর। সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে যে ৪টি বিষয় (গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ) ছিলো, তার বৈধ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের আশ্রয় নেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের সাথে সত্যিই যদি মূলনীতিগুলোর সম্পর্ক থাকতো, তবে মুক্তিযুদ্ধের পরের বছর সেটা ব্যবহার হতো, ৪০ বছর পর কেন সেই শব্দটা ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়লো ? আমার যতদূর মনে পরে, আওয়ামীলীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কচলায় নাই। কিন্তু ২০০৮-০৯ এ ক্ষমতায় এসে সে নতুন করে এই স্বাধীনতা ব্যবসা তথা ফলস ভ্যালু চালু চর্চা শুরু করে।

‘ফলস ভ্যালু’ বা ‘ভুয়া মূল্যবোধ’ এর একটা সুবিধা হলো এর নির্দ্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা বা পরিধি থাকে না। যেমন: আমরা যদি এখন বলি- আমরা ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ অনুসরণ করবো ঠিক আছে। কিন্তু সেটার একটা নির্দ্দিষ্ট সংজ্ঞা বা পরিধি ঠিক করে দেন। কিন্তু এটা কিন্তু তারা করবে না। একটি বিষয়ে যখন অস্পষ্টতা তথা ধোঁয়াশা থাকে, তখন ঐ শব্দের সৃষ্টিকর্তা নিজেই সুবিধামত তার পরিধি নির্ধারণ করে নেয়। এবং যখনই কেউ তার কাজের বিরুদ্ধে যায়, তখনই ঐ পরিধির অস্পষ্ট ব্যবহারে বিপরীত পক্ষকে কাবু করার চেষ্টা করে। যেমন ধরুন: কোটা বিরোধী আন্দোলনে যারা নামছে, তাদের সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলছে- “এরা কারা ? এদের পরিবার সম্পর্কে খবর নেয়া উচিত। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিবারের কেউ হতে পারে না। ” মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী আন্দোলনকারীদের, “রাজাকারের বাচ্চা” বলে সম্বোধন করেছে। অর্থাৎ নিজেদের বিরুদ্ধে গেলেই ট্যাগ।

সত্যিই বলতে, আমি নিজেও মক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী নই, কিন্তু আমি চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা আসলে কি ছিলো সেটা নির্দ্দিষ্ট করে দেয়া হোক। মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব মুহুর্তে বা মুক্তিযুদ্ধের সময় দায়িত্বশীল কোন ব্যক্তির দলিল-প্রমানসহকারে দেখানো হোক, “এটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।” কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছর কেউ মুক্তিযুদ্ধ শব্দটা নিয়ে ইচ্ছামত ব্যবসা করবে সেটা হবে না।

আরো ভালোভাবে চিন্তা করলে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ কিন্তু কোন স্বতন্ত্র চেতনা না। কোন একটা চেতনা নির্দ্দিষ্ট করে ‍মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধে নেমেছিলেন, বিষয়টা সেরকমও নয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র ঘাটলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধকে ‘জিহাদ’ বলে সম্বোধন করা হচ্ছে। অর্থাৎ ইসলামী চেতনা উব্ধুদ্ধ হয়েও মুক্তিযোদ্ধারা করেছে, কিন্তু সেটা কিন্তু কখনই বলা হয় না।

তবে একটি কথা অস্বীকার করার উপায় নেই এসব ভুয়া মূল্যবোধ বা ফলস ভ্যালুর বিস্তার খুব উচ্চমানের মনোস্তাত্ত্বিক চিন্তা। আওয়ামীলীগের মাথা থেকে এ বুদ্ধি এসেছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। বাইরে কোন গোয়েন্দা সংস্থার বুদ্ধিতে এই ফলস ভ্যালুর বিস্তার অস্বাভাবিক কিছু নয়।

আসলে আমি ব্যক্তিগতভাবে এইসব ভুয়া মূল্যবোধ বা ফলস ভ্যালু’র বিরোধী। কারণ ইহুদীবাদীরা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের জন্য বহু আগে থেকে এসব ফলস ভ্যালূ বা ভুয়া মূল্যবোধের ব্যবহার করে আসছে। এর আগেও আমি এসব ফলস ভ্যালু বা ভুয়া মূল্যবোধ নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম (https://bit.ly/2JxGA1r)। সেখানে বলেছিলাম ইহুদীবাদীরা - জঙ্গীবাদ, গনতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সংখ্যালঘুর অধিকার, লিঙ্গ সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার চর্চা, সংস্কৃতি চর্চা, বয়ঃসন্ধি শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন এরকম বহু ফলস ভ্যালু তৈরী করেছে এবং করছে। ইহুদীদের প্রটোকল বইতে সাধারণ মানুষকে ভেড়া পালের সাথে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে রাখাল যেদিকে বলে হাজার হাজার ভেড়ার পাল অন্ধের মত সেদিকেই যায়। কোথায় তারা যাচ্ছে সেদিকে ভেড়ার খেয়াল নাই। ইহুদীরা রাখাল সেজে সেভাবেই সাধারণ মানুষকে ভেড়ার মত কন্ট্রোল করতে চায়। সম্ভবত ভেড়ার পাল সদৃশ কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে সহজে কন্ট্রোল করার সিস্টেম এই ফলস ভ্যালুগুলো। ভেড়ার পাল যেভাবে ছুটে, সাধারণ মানুষও এসব ফলস ভ্যালুর দিকে ছুটতেছে, কিন্তু তারা নিজেরাই জানে না, এগুলোর প্রকৃত অর্থ কি ? ঠিক যেভাবে সব মানুষকে স্বাধীনতার চেতনার নাম দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয়া হযেছে, কিন্তু যদি শুধু প্রশ্ন করা হয়, ‘স্বাধীনতা দিবস কবে’ কিংবা ‘বিজয় দিবস কবে’, তবে সেটারই উত্তরই তারা দিতে পারবে না। কিন্তু ছুটতেছে সব ভেড়ার পালের মত। ফলস ভ্যালু’র সফলতা এখানেই।


===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Monday, April 9, 2018

আওয়ামীলীগ কোটা সিস্টেমে পরিবর্তন আনে কি না, এটা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

কারণ কোটায় পরিবর্তন আনলে সেটা ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নামক ‘ফলস ভ্যালু’কে আঘাত করবে।
আর প্রকৃত সত্য হচ্ছ- আওয়ামীলীগ নিজেই টিকে আছে সেই ফলস ভ্যালুর উপর ভিত্তিকে করে।
আসলে আওয়ামী সরকার গত ৯ বছর বহু কষ্ট করে, বহু খরচ করে এই ফলস ভ্যালু বা ভুয়া মূল্যবোধটি সমাজে জারি করেছে। স্বাভাবিকভাবে আওয়ামীলীগের পক্ষে তা পরিবর্তন করা সম্ভব না। কারণ ফলস ভ্যালুটি ভেঙ্গে দিলে তা আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব নিয়েই টানাটানি লাগবে।
ফলস ভ্যালু আসলে কি ?
ফলস ভ্যালু হচ্ছে বানোয়াট মূল্যবোধ। যার প্রকৃতপক্ষে কোন ভিত্তি নাই, কোন সংজ্ঞা নাই। এ বিষয়গুলো অনেকটা ধোয়াশার মধ্যে রাখা হয়। যারা এটা তৈরী করে তারাই এটা নানাভাবে এর ব্যবহার করে। এই সব ভুয়া মূল্যবোধ বা ফলস ভ্যালুগুলো দিয়ে সাধারণ মানুষকে কন্ট্রোল করা অনেক সোজা। বর্তমান ইহুদীবাদীরা বিশ্বে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে এই ভুয়া মূল্যবোধ বা ফলস মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে। আওয়ামী সরকার সম্ভবত খুব উচ্চ পর্যায়ের মনোস্তত্ত্বিক চিন্তা থেকেই ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নামক ফলস ভ্যালুর বিস্তার ঘটিয়েছে। এই সব ফলস ভ্যালু এক ধরনের ফাঁদ। এগুলোকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে খুব সহজে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে পরিস্থিতি নিজের পক্ষে নিয়ে আসা যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষ টের পায় না। যেমন: কেউ হয়ত আওয়ামী সরকারের কোন কাজের বিরোধীতা করলো, ব্যস তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী বলে ট্যাগ দেয়া হলো। এখন কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী হয়, তবে তাকে যে কোন ধরনের শায়েস্তা করা সমাজ বৈধতা দিয়ে দেয়।
একইভাবে দেশের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধানের শুরুতে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ দিয়ে শুরু হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধারা তৈরী করেনি। কিন্তু শুরুতে লিখে দিয়েছে এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ব্যস। কেউ হাত দিলেই সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী।
আপনি পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে বলবেন, আপনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী।
আপনি জাতীয় সংগীতের বিরুদ্ধে বলবেন, আপনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী।
আপনি হিন্দুদের অপকর্মেরর বিরুদ্ধে বলবেন, আপনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী।
মুক্তিযোদ্ধারা আসলে কোন চেতনা থেকে যুদ্ধ করেছিলো সেটা এখন গবেষনার বিষয়। কিন্তু আওয়ামী সরকার যেন ঐ নামটি ব্যবহার করে এক নতুন ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানব’ তৈরী করেছে। যে দানব তার পক্ষে লোকগুলো বাছাই করবে, আর বিপক্ষের লোকগুলো খেয়ে ফেলবে।
আওয়ামী সরকার টানা ক্ষমতায় আছে ৯ বছর, এবং আরো ক্ষমতায় থাকতে আগ্রহী। এজন্য তারা প্রথম যে কাজটি করেছে তা হলো প্রশাসনকে আওয়ামীকীকরণ করতে চেয়েছে। কিন্তু মেধার ভিত্তিতে আসলে সেটা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তার ছাকনি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ তথা মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে। কারণ এ মাধ্যমে দিয়ে যাদের পাওয়া যাবে, তারা নিশ্চিত সুবিধাবাদী হবে। একটা প্রবাদ আছে- উপকার মানুষের জিহ্বা কেটে দেয়। এই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চান্স পাওয়া অবশ্যই আওয়ামীলীগের অনুগত তথা চাটুকার হবে এবং নিজেও সব সময় কথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করবে । আর সেটাই আওয়ামীলীগ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হওয়ার জন্য চায়।
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নামক ফলস ভ্যালুটি আসলে আওয়ামীলীগের অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত, তাই এ ইস্যুতে আওয়ামীলীগ কম্প্রোমাইজ করে কি না, সেটা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Sunday, April 1, 2018

ঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষনে ‘ইনশাল্লাহ’ শব্দটি উচ্চারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন ?

বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে শেষে বলেছিলেন : “এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।”
ইনশাল্লাহ আরবী শব্দ। এ শব্দটির অর্থ কি কিংবা মুসলমানরা কেন তা ব্যবহার করে, সেটা সম্পর্কে এক মুসলিম বন্ধুকে জিজ্ঞেস করাতে ঐ মুসলিম বন্ধু জানালো: “মুসলমানরা আল্লাহ’র উপর আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা করে ইনশাল্লাহ শব্দ বলে। ইনশাল্লাহ অর্থ- ‘আল্লাহ যদি চায়’।” তারমানে ‘ইনশাল্লাহ’ শব্দটি ‘আল্লাহর উপর আস্থা ও ভরসা’ রাখার সমার্থক শব্দ।
আমার জানা মতে, আওয়ামী সরকার ২০১১ সালে সংবিধান থেকে ‘আল্লাহ’র উপর আস্থা ও বিশ্বাস শব্দগুলো বাদ দিছে। কারণ- এই শব্দটা নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে মিলে না।
এখন আমার কথা হলো- ‘আল্লাহ’র উপর আস্থা ও ভরসা’ শব্দগুলো যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী হয়, তবে বঙ্গবন্ধু কেন ৭ই মার্চের ভাষনে ‘ইনশাল্লাহ’ শব্দটি উচ্চারণ করলেন ?
তারমানে তিনি কি ঐ ভাষনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন ?
আর যদি দিয়েই থাকেন, তবে ৭ই মার্চের ভাষনকে স্বাধীনতার ঘোষণা বলা হবে কোন যুক্তিতে ?
হয় সংবিধানে ‘আল্লাহ’র উপর আস্থা ও বিশ্বাস’ শব্দগুলো ফিরিয়ে আনা হোক।
অথবা বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে স্বাধীনতার ঘোষণার ভাষণ হিসেবে বাদ দেয়া হোক।

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------

Tuesday, March 27, 2018

১ মিনিট নিরবতা পালন ব্রিটিশদের অধীনে বাংলাদেশের গোলামির ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেয়

আজকে (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত ৯:০০টা থেকে ৯:০১ মিনিটে সবার লাইট বন্ধ রাখতে বলেছে সরকার। সাথে সবাই করবে ১ মিনিট নিরবতা পালন।
১ মিনিট নিরবতা পালনকে ইংরেজীতে বলে Moment of silence। এই কালচারটা মূলত খ্রিস্টাদের উপসনালয় চার্চ ও ইহুদীদের উপসনালয় সিনাগগ থেকে আগত। খ্রিস্টানদের চার্চ ও ইহুদীদের সিনাগগে Silent prayer বা নিরবে প্রার্থনা বলে একটা ধর্মীয় রীতি আছে। ঐ কালচারটা সবার জন্য চালু করতে এই ১ মিনিট নিরবতা। তবে প্রথম দিকে এ কালচারটা শুধু কমনওয়েলথভূক্ত মানে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদীরা এক সময় যে দেশগুলো শাসন করেছে সেখানে (১ মিনিট নিরবতা কালচার) ছড়িয়ে দেয়া হয়। তারমানে ১ মিনিট নিরবতা পালন শুধু ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মের কালচার বহন করে না, বরং বাংলাদেশ এক সময় ব্রিটিশদের অধীন ছিলো, এই গোলামির ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেয়।
একইভাবে, ২৫শে মার্চ কালোরাতকে স্মরণ করতে যদি লাইট বন্ধ করতে হয়, তবে ঐ দিন গণহত্যাকে স্মরণ করতে তো আজকে গণহত্যাও চালাতে হবে। আসলে যে কোন কিছু স্মরণ করতে হয় যার যার অবস্থান থেকে। মানে আপনি একাত্তর সালকে স্মরণ করবেন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে, পাকিস্তানী বাহিনী হয়ে নয়। ২৫শে মার্চ কালোরাত্রী এনেছিলো পাকিস্তানীরা , বাংলাদেশীরা পুলিশ লাইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় তার প্রতিরোধ গড়েছিলো। ২৫শে মার্চ যদি স্মরণ করতে হয়, তবে সেই প্রতিরোধের কথা স্মরণ করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি পাকিস্তানীদের মত কালোরাত্রীকে নিয়ে আসেন, তবে সিস্টেমরা তো উল্টো হয়ে যাবে। মানে আপনি তো পাকিস্তানী গণহত্যাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন।
আসলে আওয়ামী সরকার এখন মুক্তিযুদ্ধকে পূজি করে ব্যবসা চালাচ্ছে। তারা ধিরে ধিরে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নামের সিস্টেম দাড় করিয়েছে, এরপর নিজেদের সে চেতনাভূক্ত দাবি করে অতিরিক্ত সুবিধা নেবে, আর বিরোধীদের তার বিরুদ্ধ দাবি করে শায়েস্তা করবে।
মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশীদের অহংকার। দয়া করে এর অপব্যবহার করবেন না, একে নিয়ে ব্যবসা করবেন না। মনে রাখবেন, মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা নিয়ে ব্যবসা করলে তার ব্যবসায়ীর মূল্য তৈরী হবে, আর যা বাজারে উঠে তার নেতিবাচক হতেও সময় লাগে না। ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবসায়ীক মূল্য তৈরী হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার বর্তমান নাম হয়েছে সুবিধাবাদী, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা কি আদৌ সুবিধা পাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো ? এটা কি মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা নয় ?

===============================
আমার মূল পেইজ- Noyon chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5)
পেইজ কোড- 249163178818686
------------------------------------------------------------------
আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6
(https://www.facebook.com/Noyon-Chatterjee-6-202647270140320/)
------------------------------------------------------------------------------------------------