Thursday, June 18, 2020

লক ডাউন দেয়ায় ক্ষুধার্ত মানুষ বিভিন্ন দেশে লুটপাট শুরু করেছে

করোনা ভাইরাসের কারণে লক ডাউন দেয়ায় ক্ষুধার্ত মানুষ বিভিন্ন দেশে লুটপাট শুরু করেছে। ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং ইতালিতে লুটপাটের সংবাদ পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লুটপাট ঠেকাতে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার হিড়িক পড়েছে।

১) ইতালিতে সুপার মার্কেটগুলোতে লুটপাট-
লকডাউনের মধ্যে চরম অস্থির ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে ইতালি। দেখা দিয়েছে চরম দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ। অভাবের তাড়নায় দিশেহারা জনগণ। দ্বীপজুড়ে শপিংমল ও সুপারমার্কেটগুলোতে হামলা চালাচ্ছে স্থানীয়রা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা রিপাবলিকা জানিয়েছে, এদিন একদল স্থানীয় জনতা পালেরমো এলাকার একটি সুপারমার্কেটে ঢুকে পড়ে। এরপর সেখানকার সব মালামাল নিয়ে বেরিয়ে যায় তারা। এসময় তারা বলে, ‘আমাদের কোনো টাকা নেই। কিন্তু আমরা ক্ষুধার্ত। আমাদের খেতে হবে।’(https://bit.ly/3avBq31)

২) মেক্সিকো লুটপাটের খবর- https://bit.ly/39v3rq0, https://bit.ly/2US3ffg

৩) ব্রাজিলে লুটপাটের তথ্য- https://bit.ly/3dH4R4g

৪) লুটপাট ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক কেনার হিড়িক :
করোনা মহামারীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার হিড়িক পড়েছে। অস্ত্র কিনতে দোকানের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন পড়ছে প্রতিনিয়ত। কারণ হিসেবে ক্রেতারা বলছেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে লুটেরাদের উৎপাত বাড়বে। তাই নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্র কিনে রাখছেন তারা। সরবরাহ কম থাকায় কিছু খুচরা বিক্রেতা সেভাবে অস্ত্র বিক্রি করছেন না।

Friday, February 21, 2020

বইমেলায় বিক্রি হচ্ছে হিন্দু লেখকের ইসলাম বিদ্বেষী বই

এবারের বইমেলায় এক হিন্দু লেখকের ইসলামবিদ্বেষী বই বিক্রি হচ্ছে। লেখকের নাম দিয়ার্ষি আরাগ দিপু। তার দুটি বই বিক্রি হচ্ছে লিটল ম্যাগ চত্বরে কালাঞ্জলি স্টলে। স্টল নম্বর- ৬৫ ।
বই দুইটির নাম- “দিয়া আরেফিন” এবং “দিয়া আরেফিন’র নানীর বাণী”।
দুটি বই-ই ইসলামবিদ্বেষী কুরুচিপূর্ণ কথায় ভরপুর। যদিও কৃষ্ণভক্তির কথা বেশ সুন্দর করে লেখা আছে। যেমন-
দিয়া আরেফিন বইটির ২০-২১ পৃষ্ঠায় লেখা আছে-
“সূরা ফিংগারিং:
জিব্রাইল : নিশ্চয়ই লিটন দাস ক্রিকেট ভালো খেলেছে। আর এতে নিহিত আছে মর্যাদা। যেন তোমরা বিভ্রান্ত না হও। আল্লাহ যা জানেন, তোমরা তা জানো না। নিশ্চয়ই কাফের যুবকদের উপর ক্রাশ খাওয়া হারাম। তোমরা অবশ্যই এসব মালুর বাচ্চাদের উপর ক্রাশ খেয়ে পায়জামা ভেজাতে পারো না। এটা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম জ্ঞানী। ………
“আজ রাতেই মেরাজ হবে, ইনশাআল্লাহ।
আয়েশা থেকে উম্মে হানি!
মদীনা থেকে আরশ!
জেগে উঠবে আমার আংগুল !
কে আগে ? সৌম না লিটন ?
দেখা যাক!
(বইটির পিডিএফ দেখুন-https://tinyurl.com/tacqb4z)
“দিয়া আরেফিন’র নানীর বাণী” বইয়ে লেখা আছে-
১. মোল্লারা পাবলিক বেশ্যালয়ের বিরোধীতা করে ভিন্ন কারণে, ওখানে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তাদের নাই। কেন ? কারণ সব মোল্লাদের পরিবারই এক একটা মিনি প্রাইভেট বেশ্যালয়। (পৃষ্ঠা: ১৯)
২. দুনিয়াতে বেশ্যা লিমিটেড, কাস্টমার লিমিটেড। বেহেস্তে বেশ্যা আনলিমিটেড, কাস্টমার লিমিটেড।
(পৃষ্ঠা : ১৫)
৩. বেশ্যার পারিশ্রমিক আর ইসলামী দেনমোহর একই বস্তু (পৃষ্ঠা: ১২)
৪. প্রাইভেট বেশ্যা ক্রয়ের ইসলামী চূক্তিকে মুমিন মুনিমানারা বিবাহ বলে চালিয়ে দিচ্ছে। (পৃষ্ঠা: ১২)
৫. পৃথিবীতে নিষ্ঠুরতম কৌতুক : ইসলাম শান্তির ধর্ম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
৬) আসল মানুষটার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার ফেসবুক ফেইক আইডিটারও মৃত্যু ঘটে। যেমন নবি মুহাম্মদের মৃত্যুর পর পরই মৃত্যু ঘটেছে আল্লাহর। কোরআর হাদিসের মত ফেইক আইডির স্ট্যাটাস ও কমেন্টগুলো পড়ে থাকে মানুষের পায়ের নিচে। (পৃষ্ঠা: ৩৯)
(বইটির পিডিএফ দেখুন-https://tinyurl.com/vw75cqt)
লেখকের বিভিন্ন ফেসবুক আইডি-
ক) https://www.facebook.com/profile.php?id=100036892566770
খ) https://www.facebook.com/diarshiarruge.dipu.9
লেখকের ছবি – https://tinyurl.com/vrsfusf
লেখকের বাড়ির ঠিকানা-নেত্রকোণার শিবগঞ্জ গ্রামে।


উল্লেখ্য এবার বইমেলার শুরুতে পুলিশ ঘোষণা দিয়েছিলো তারা বইমেলায় ইসলামবিদ্বেষী বই বের হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিবে পুলিশ। (https://bit.ly/2SKxoxh, https://bit.ly/32kS9mA, https://bit.ly/37LmCvd)
কিন্তু তারপরও পুলিশের নাকের ডগায় কিভাবে এই ইসলামবিদ্বেষী বই বিক্রি হচ্ছে তা আশ্চর্যজনক।
এ ব্যাপারে আপনারা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত দিয়ার্ষি আরাগ দিপু, তার প্রকাশককে গ্রেফতার করতে বলেন। পাশাপাশি পুলিশ কমিশনার স্পষ্ট ঘোষণা দেয়ার পরও কিভাবে করে ২১ দিন এই ইসলামবিদ্বেষী বইটি বিক্রি হলো তার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশকে চাকুরীচ্যূত করার দাবী জানান।

Sunday, January 5, 2020

বাংলাদেশে মসজিদ ভাঙ্গার কার্যক্রম : অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার অংশ বিশেষ



বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে বলা হয়- মসজিদের শহর। এই শহরের ওলিতে গলিতে মসজিদ বিদ্যমান। শুধু রাজধানী ঢাকা বললে ভুল হবে, পুরো বাংলাদেশেই সর্বত্র মসজিদ দৃশ্যমান। সর্বত্র মসজিদ দৃশ্যমান হওয়াটাই বাংলাদেশের একটি বিশেষ ঐতিহ্য বলা যায়।
আমরা জানি, যারা অখণ্ড ভারত প্রত্যাশী তাদের মানচিত্রের মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্রটাও আছে। কথা আসতে পারে, তবে অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে কিসের উপর আগে আঘাত আসতে পারে ?
পাশের ভারতে অখণ্ড ভারতবাদীদের দিকে যদি তাকান, তারা কিসের উপর আঘাত দিয়েছিলো প্রথমে?
উত্তর হবে – নিঃসন্দেহে সেটা মসজিদের উপর। যারা বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
আর তার জন্য প্রথমে যেটা করেছে তা হলো - ইতিহাস বিকৃতি,
ভুল ভাল দেখিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা- অযোধ্যায় বাবরী মসজিদের যায়গায় নাকি আগে রামমন্দির ছিলো।
ভারতের অখণ্ড ভারতবাদী ষড়যন্ত্র যদি বাংলাদেশে আসে তবে নিঃসন্দেহে সেটাও হবে মসজিদের উপর দিয়েই। অর্থাৎ মসজিদের দেশ বাংলাদেশকে মন্দিরের দেশ প্রমাণ করা।
সম্প্রতি ভারতের বুদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকার পর্যটন, রাস্তাঘাট বা ফ্লাইওভার যা করার নামেই মসজিদ ভাঙ্গুক (নৌ উপমন্ত্রী-সচিবের ভাষায় ‘এডজাস্ট’),
মূল কারণ কিন্তু সেটাই, অর্থাৎ মসজিদের দেশকে মন্দিরের দেশ বানানো।
যেমন ধরুন- হাতিরঝিলের আগে ৫টা মসজিদ, ১টা মাদ্রাসা আর ১টা মন্দির ছিলো।
সরকার ৫টা মসজিদ আর ১টা মাদ্রাসা ভেঙ্গে সেখানে শুধু ১টা মন্দির রাখলো।
এখন ১০ বছর এই ইতিহাস কে মনে রাখবে, যে সেখানে আগে এতগুলো মসজিদ ছিলো।
হঠাৎ দেখা গেলো হিন্দুরা হঠাৎ বলা শুরু করলো- হাতিরঝিল এলার আসল মালিক হিন্দুরা,
প্রমাণ ! দেখুন, সেখানে কোন মসজিদ আছে ? কিন্তু মন্দির তো আছেই। তারমানে এখানে আগে হিন্দুদের বসতি ছিলো, হিন্দুদের উচ্ছেদ করে হাতিরঝিল বানিয়েছে। সো এই এলাকার মালিক হিন্দুরা।
বাংলাদেশের পাসপোর্টে কান্তজির মন্দিরের ছবি ব্যবহার করা,
ভারতে বইমেলায় বাংলাদেশের স্টলের আকৃতি কান্তজির মন্দিরের আকৃতি দেয়া,
পর্যটন এলাকায় মসজিদ ভেঙ্গে শুধু মন্দির রাখা সবই এক সুতোয় গাধা।
মানে মসজিদ বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করে এটা লুকিয়ে মন্দির দিয়ে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করা, যা একটা সময় অখণ্ড ভারত প্রত্যাশীদের জন্য বড় ধরনের একটা দলিল হয়ে দাড়াবে নিশ্চিত।

Friday, October 4, 2019

বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কি পূজা করার অধিকার রাখে ?

-বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কি পূজা করার অধিকার রাখে ?
-কখনই না। পাশের ভারতে যেহেতু হিন্দুরা মুসলমানদের গরু কোরবানীর অধিকার দেয় না, সেহেতু বাংলাদেশেও তারা পূজা করার অধিকার রাখে না।
-কিন্তু ভারত খারাপ বলেই কি আমরা খারাপ হবো ?
-‘ভারত যে খারাপ’ এ কথাটা বাংলাদেশের হিন্দুদেরকে বলতে হবে । তারা যে গরুর মাংশের জন্য মুসলমানদের হত্যা করতেছে প্রতিবাদে বাংলাদেশের হিন্দুদের মাঠে নামতে হবে। ভারতীয় হিন্দুদের ছিঃ ছিঃ বলতে হবে। তাদের ধিক্কার জানাত হবে। গরুর মাংশের জন্য মানুষ হত্যা করা যে তারা সমর্থন করে না, এটা কথাটা জোর গলায় বলতে হবে।  যদি না বলে, তবে তারাও ভারতীয়দের অপকর্মের দোষে দুষ্ট হবে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, বিভিন্ন দেশে যখন কথিত জঙ্গীবাদীরা বিভিন্ন হামলা চালায়, তখন বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা কিন্তু আন্দোলন প্রতিবাদ করে বলে- আমরা জঙ্গী নই, ইসলাম জঙ্গীবাদ সমর্থন করে না। আমরা জঙ্গীবাদকে কখন সমর্থন করি না, ইত্যাদি ইত্যাদি।
বিভিন্ন দেশের মুসলিম নামধারী জঙ্গীরা হামলা করলে যদি অন্যান্য দেশের মুসলিমদের বলতে হয়- তারা জঙ্গী নয় বা তারা সেটা সমর্থন করে না, নিজেদেরকে নিরাপরাধ প্রমাণের জন্য যদি প্রকাশ্য বক্তব্য দিতে হয়, তবে বাংলাদেশের হিন্দুদেরকে সেটা কেন করতে হবে না ?
আরো উল্লেখ্য- সারা বিশ্বে যে জঙ্গীবাদের ধুয়া তোলা হয়, সেটা কিন্তু বিচ্ছিন্ন জিনিস, কোন রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের অন্তর্ভূক্ত নয়। কিন্তু তারপরও মুসলিমরা তার দায় এড়াতে বিবৃতি দিয়েছে।
কিন্তু ভারতের ঘটনা তো রাষ্ট্র  সমর্থিত। রাষ্ট্রীয় বৈধ সিস্টেমের অংশ হিসেবে তারা মুসলিম মারতেছে।

-বাংলাদেশের হিন্দুদের পূজা বন্ধ করে, লাভ কি ?
অবশ্যই লাভ আছে।  যদি বাংলাদেশ ভারতের হিন্দুদের পূজা বন্ধ করা যায়,
তখন বাংলাদেশের হিন্দুদের দিয়ে ভারতীয় হিন্দুদের উপর প্রেসার তৈরী করা যাবে, ভারতীয় মুসলমানদের উপর নিপীড়ন রুখতে। স্ব-জাতির চাপ অবশ্যই ভারতীয় হিন্দুদের জন্য অনেক বেশি কার্যকর হবে।

-কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর কিছু হলে বাংলাদেশের  হিন্দুদেরকে হয়ত ভারত নিজ দেশে নিয়ে গেলো, কিন্তু তাদের দেশের বিরাট মুসলিম জনগোষ্ঠীকে যদি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।
আসলে এ ধরনের চিন্তা করা অমূলক। তারপরও যদি বলি- ’৪৭ এ দেশভাগের সময় শুধু মুসলমানদের জন্য হয়েছিলো পাকিস্তান, তাই সেই পাকিস্তানের অংশের মধ্যে হিন্দুরা না থাকলেও চলবে। কিন্তু ভারত বিশাল ভূমি নিয়েছিলো তারা হিন্দু-মুসলিম সব জনগোষ্ঠীকে একত্রে ধারণ করবে সে শর্তে। সেই শর্ত অনুসারে ভারতে মুসলিমদের রাখতেই হবে, কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দু না রাখলেও চলবে।

-দেখুন, আপনি যেভাবে ঢালাওভাবে বাংলাদেশের সব হিন্দুদের দোষারোপ করেন, এটা ঠিক না। বাংলাদেশে অনেক ভালো হিন্দুও আছে।
দেখুন- হিন্দু মানেই তো যে হিন্দু ধর্মের অনুসারী। এখন কথা হলো- ‘অখণ্ড ভারত’ বলে যে তত্ত্ব প্রচার করা হয়, সেটা কিন্তু হিন্দু ধর্মের অংশ। এখন একজন হিন্দু বাংলাদেশের হোক, আর ভারতীয় হোক বা পাকিস্তানী হোক, সে তার ধর্মের অংশ হিসেবেই অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে সমর্থন করবে, যা বাংলাদেশী হিসেবে হবে দেশদ্রোহীতা। তাই হিন্দু ধর্মের অনুসারী হলেই সে অখণ্ড ভারতের লোক, রাষ্ট্রদ্রোহী। সেখানে ভালো হিন্দু আর খারাপ হিন্দু বাছাইয়ের কোন সুযোগ নেই।

-দেখুন, বাংলাদেশের হিন্দুদের পূজা বন্ধ করে ভারতীয় মুসলমানদের জন্য কিছু করা, এটা কখনই সম্ভব হবে না।
সম্ভব হবে না। কারণ আপনি নিজের মনকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি ভারতের মুসলমানকে বেশি ভালোবাসেন, নাকি বাংলাদেশের হিন্দুদেরকে। আপনার মন উত্তর দেবে- বাংলাদেশের হিন্দুকে।
মানে এখানে জাতীয়তাবাদের মধ্যে মুসলমানদের ভাতৃত্ববোধ আটকে পড়েছে, যদিও হিন্দুদেরটা আটকা পড়েনি। এ কারণে বাংলাদেশের হিন্দুদের তুলনায় ভারতীয় মুসলমানদেরকে বাংলাদেশের মুসলমানরা বেশি আপন ভাবতে পারে না। অপরদিকে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাতৃত্বপ্রেম কিন্তু সীমানা বা জাতীয়তাবাদে আটকা পড়েনি। এ কারণে বাংলাদেশের হিন্দুরা নির্যাতিত হলে ভারতীয় হিন্দুরা চিৎকার দেয়। আবার ভারতীয় হিন্দুরা খারাপ কাজ করলেও বাংলাদেশের হিন্দুরা তাতে প্রকাশ্য সমর্থন দেয়, বিরোধীতা করা তো পরের বিষয়।

----কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের পূজা বন্ধ করে দিলে, আমাদের সবাই উগ্রবাদী বলবে না ?
-আপনার মেসেজটা যদি ক্লিয়ার থাকে, তবে আপনাকে উগ্রবাদী বলার সুযোগ কোথায় ?
এখানে তো জোর জবরদস্তি করার কিছু নেই, অস্পষ্টতার কিছু নেই।
আপনি তাদের একত্র করে বলে দেন- ভারতে যদি মুসলমানদের গরুর মাংশের জন্য মারা হয়, তবে বাংলাদেশের হিন্দুদের পূজা আটকে দেয়া হবে। তোমরা তোমাদের স্ব-জাতি ভাইদের থামতে বলো।  নয়ত তোমাদের পূজা করতে দেয়া হবে না।
মনে রাখবেন- হিন্দুরা হলো- শক্তের ভক্ত নরমের জম। আপনি শক্ত হোন, দেখবেন হিন্দুরও নরম হয়ে গেছে। নিজেদের স্বজাতির চাপে হলেও ভারতের মুসলমানদের উপর নরম হতে তারা বাধ্য হবে।
তবে মূল কথা হলো- আপনি নিজে মুসলমান হিসেবে শক্ত কি না ? ভারতের গরুর মাংশের জন্য মুসলমান হত্যাকাণ্ড আপনি বন্ধ করতে চান কি না ? ভারতের নিপীড়িত মুসলমানকে সাহায্য করতে চান কি না ? আপনি নিজেই যদি দ্বিধাবিভক্তি হোন, আপনার মধ্যে যদি মুসলমানের তুলনায় হিন্দু প্রেম বেশি হয়, তবে এটা আপনি করতে পারবেন না।

একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন- সব দাবী দাওয়া সব সময় ভালো কথা বলে আদায় হয় না। ক্ষেত্র বিশেষে প্রতিপক্ষের কিছু জিনিস আটকে দিতে হয়। মুসলমানদের ভালো মানুষী (বাংলায় বললে কপট, আরবীতে বললে মুনাফেক) চেহারাটা বদল করে প্রতিপক্ষকে এভাবে কিছু জিনিস আটকে দেয়া শিখতে হবে। মূল কথা হইলো- মুসলমানদের আগে সমস্বরে চাইতে হবে। যদি মুসলমানরা নিজের ধর্মীয় ভাইয়ের জন্য না চায়, তবে আলাদা করে বলার কিছু নাই।

Sunday, September 15, 2019

মুসলিমদের কূটনৈতিক পলিসি শেখা উচিত – ২

“হিন্দুদের পূজায় ছুটি না দিলে অন্যায় হয়ে যাবে, আমরা হিন্দু-মুসলিম মিলে একটা সম্প্রীতির মধ্যে থাকি।”
যেসব বাংলাদেশী মুসলিম ভাইরা হিন্দুদের ছুটির কথা উঠতেই উপরের বাক্যটি চিন্তা করলেন,
তাদের উদ্দেশে বলতে চাই- আপনাদের থেকে আরো বেশি সম্প্রীতির পক্ষে ছিলো আসামের মুসলমানরা।
হিন্দুরা কিন্তু তাদেরকে রক্ষা করে নাই।
কলকাতার মুসলমানরাও কম সম্প্রীতি বাক্য কপচায় নাই। তাদেরও সময় আসতেছে।
আজকে মিডিয়াতে দেখলাম- পশ্চিমবঙ্গের এক নেতা বলছে- পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলমানদের গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হবে। (https://bit.ly/2kmrmoo)
সত্যি বলতে আমি এখানে খারাপ কিছু দেখি না। এই সব সম্প্রীতির মুসলমানদের গলা ধাক্কা দিয়েই বের করে দেয়া উচিত।
তারা গলা ধাক্কা পাবারই যোগ্য, হিন্দুরা ঠিক করে এদের গলা ধাক্কা দিয়ে।
অনেকে বলবে- পূজায় ১৫ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে, কি এমন ক্ষতি হয়ে যাবে ?
অবশ্যই হবে, এটা দিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থান জানান দেয়া হবে এবং
বাংলাদেশের মুসলমানরা যে হিজরা হয়ে যাচ্ছে, এটা পরিমাপ নির্দেশ করবে।
কারণ- আপনি কিন্তু শুধু পূজার ছুটি দেখলেন, কিন্তু আমি তো গত কয়েকদিন আরো অনেক কিছু দেখছি-
১) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে গরুর মাংস নিষিদ্ধ করল হিন্দু অধ্যক্ষ
(https://bit.ly/2kBpKr1)
২) আসামের এনআরসি থেকে বাদ পরা হিন্দুদের বাংলাদেশের অর্পিত সম্পত্তি দিয়ে পুনর্বাসন করা হোক : বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট
(https://bit.ly/2mhEOKN)
৩) লালমনিরহাটে মসজিদ নির্মাণ কাজে ভারতের বিএসএফের বাধা
(https://bit.ly/2kxnq4h)
এই খবরগুলো কিন্তু এমনি এমনি নয়, এগুলো মধ্যে অনেক কিছু লুকিয়ে আছে।
আমি ১৫ দিনের ছুটির বিষয়টি এ কারণে আনলাম-
আপনি ভাবতেছেন, এই ১৫ দিনের ছুটি বোধ হয় আপনি মহতী হয়ে দিচ্ছেন।
তারা কিন্তু এই ১৫ দিনের দিনের ছুটি মহতী হয়ে নিচ্ছে না, বরং প্রভাব বিস্তার করার অংশ হিসেবেই নিচ্ছে।
যার দরুণ, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টা হিন্দু হাজার হাজার মুসলিম ছাত্রের গরুর মাংশ খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে,
ভারতের বিএসএফ এসে বাংলাদেশের মসজিদে মসজিদ নির্মাণে বাধা দিচ্ছে,
এমনকি বাংলাদেশের ২৫% মুসলিমকে বাস্তচ্যূত করে সেই সম্পত্তি (অর্পিত) ভারতীয় হিন্দুদের বুঝিয়ে দিতে বলছে,
তাও তা বলছে এক বাংলাদেশী হিন্দু!
শুধু তাই নয়, যে বুয়েট দূর্গা পূজার জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে দিলো, সেই বুয়েটের জমি অন্যায্য ভাবে দাবী করছে হিন্দুরা।
তারা বুয়েটকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি হিসেবে দাবী তুলেছে। (https://bit.ly/2kxnrFn)
অবশ্য এর মধ্যে হিন্দুদের দখলে রেখেছে বুয়েটের আড়াই একর জমি (https://bit.ly/2lPvJZm)।
আমি যখন এলাকার ছেলেপেলেদের সাথে চলতাম, তখন আমার গ্রুপের একটা নীতি ছিলো।
নীতিটা হলো- কেউ কিছু ভালোভাবে চাইলে দিতো, কিন্তু ত্যাড়ামি করে চাইলে দিতো না।
বলতো- “কিরে তুই আমার কাছে ত্যাড়ামি করে চাইলি কেন ? তোকে দিবো না।”
বতর্মানে হিন্দুরা যে ১৫ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করতে পারছে, এটা কিন্তু তাদের মুসলমানদের মিউচুয়াল থাকার অংশ না।
বরং মুসলমানদের উপর প্রভাব বিস্তার করার অংশবিশেষ, যা অন্যান্য সেক্টরের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়।
আর আপনি যখন তার ১৫ দিনের ত্যাড়ামি মেনে নিলেন, তখন সে বুঝলো- আপনি মানসিকভাবে দুর্বল।
তাই সে আপনার বিরুদ্ধে যা কিছু করুক, এমনকি আপনাকে মারতে যে যদি আমরিকান সৈন্যও নিয়ে আসতে চায়,
তবে আপনি কিছু করতে পারবেন না, কারণ তার বিরুদ্ধে বলার আপনার মানসিক শক্তিই নেই।
---“আপনি সমাজে অশান্তি তৈরী করেন, আপনার মত লোকদের কারণে সমাজে সমস্যা হয়”---
না ভাই ! আমি সমাজে অশান্তি তৈরী করি না, আমার কারণে সমাজে সমস্যাও তৈরী হয় না। আমি বরং চাই, সমাজে সমস্যা হওয়ার আগেই তা যেন থামিয়ে দেয়া যায়।
আপনি যেটা ৫ বছর পর চিন্তা করবেন, আমি তা এখনই চিন্তা করিয়ে দিতে চাই।
আজকে যারা অতি-সম্প্রীতি ধজ্জা ধরে আছে, সেক্যুলার বলে দাবী করছে,
তারা কি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবে- বাংলাদেশে হিন্দুরা কোন সমস্যা তৈরী করলে তা সে থামাতে পারবে ?
আমার মনে হয় না। উগ্র হিন্দুরা ঝামেলা শুরু করলে এই সব সেক্যুলাররা লেজ গুটায় পালাবে,
অনেক ক্ষেত্রে মুসলিম হলে হিন্দুরা সেই সব সেক্যুলারদের আগে শেষ করবে।
যেমন- ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার আগে, সবচেয়ে বেশি সেক্যুলারিজমের কথা বলতো স্থানীয় মুসলিম এমপি এহজান জাফরী।
কিন্তু দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর হিন্দুরা প্রথমে তাকেই মেরেছে, সেক্যুলার না ফেক্যুলার গোনার টাইম নাই।
একটা কথা মনে রাখবেন-
নিউক্লিয়াস আয়তনে বড় হলেও চার্জ নিরপেক্ষ আর ইলেকট্রন ছোট হলেও তা ঋণাত্মক।
একের পর এক ইলেকট্রন যখন নিউক্লিয়াসের উপর আসতে থাকে, তখন এক সময় গোটা নিউক্লিয়াসই কিন্তু ঋণাত্মক হয়ে যায়।
সে কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ থাকতে পারে না।
তাই হিন্দুত্ববাদের বিপরীতে আপনি যদি ভাবেন নিরপেক্ষ বা সেক্যুলার হয়ে থাকবেন, তবে পারবেন না।
এক সময় তারা আপনাকে ধরাশায়ী করে ফেলবে। আপনাকে দিয়ে হরে কৃষ্ণ হরে রাম পড়াবে।
আপনাকে হিন্দুত্ববাদের কাছে ধরশায়ী করা হবে, আপনি কিছুই করতে পারবেন না্।
সত্যি বলতে-
লক্ষণ যা দেখা যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশে পরিস্থিতি কিন্তু আর ভালো হবার নয়।
মুসলমানরা আরো কোনঠাসা হবে, হিন্দুরা আরো চাপতেই থাকবে।
তাই সময় থাকতেই সচেতন হোন।
আমি বলছি না, আপনি এখনই দাঙ্গা শুরু করুন। বরং তাদের বিরুদ্ধে সচেতনতার সাথে পলিসি প্রয়োগ করুন।
তারা যে মানসিক প্রেসার তৈরী করতে চাইছে, সেটা আগে দমন করুন।
তবে এর জন্য প্রথম প্রয়োজন আপনার নিজের মানসিকতা পরিবর্তন।
নয়ত ওদের হিংস্র আক্রমণের কাছে আপনি পরাজিত হবেন, এটা নিশ্চিত।

Wednesday, August 14, 2019

নির্ধারিত স্পটেই কেন কুরবানী দিতে হবে ?


নির্ধারিত স্পটে কেন কুরবানী দিতে হবে ?- এই প্রশ্ন আমি তাদের কাছে জানতে চাই, যারা আমাদের এ শিক্ষাটা দিচ্ছে। আমি জানি তারা উত্তর দিবে- “পরিবেশ ভালো হবে, আপনি ভালো থাকবেন। ”
না না, আমি জনগণের উপকার জানতে চাই নি। আমি জানতে চেয়েছি- যারা আমাদেরকে বার বার বলতেছেন, নির্ধারিত স্পটে কোরবানী দিতে, তাদের লাভ কি ? সেটা আমাকে আগে বলেন।
তাদের গোপন রহস্য কি ?
কেন তারা কোরবানী স্পট নির্দ্দিষ্ট করতে চাইছেন ?
কেন মিডিয়ার মাধ্যমে উৎসাহিত করছেন?
কেন সরকারকে প্রেসার দিয়ে জনগণের উপর আইন হিসেবে চাপায় দিতেছেন?
তাদের আসল উদ্দেশ্যটা কি ? সেটা আগে জানা দরকার।

উল্লেখ্য, নির্ধারিত স্পটে দেওয়ার পলিসি আমি প্রথম পাই মাহফুজ আনামের ডেইলি স্টার পত্রিকায়। ২০১৩ সালের ১৫ই অক্টোবর “The Slaughterhouse Solution” শীর্ষক এক কলামে বাংলাদেশে কোরবানী বিষয়টি কেমন হওয়া উচিত তার পরিপূর্ণ রূপরেখা সেই কলামে দেয়া হয় (https://bit.ly/2MgYLx6)।  সেখানে বাংলাদেশের কোরবানীর বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালে কসাইখানায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়, নির্ধারিত লোক দ্বারা জবাই করা এবং অতঃপর নির্ধারিত কসাই দ্বারা মাংশ কাটার সিস্টেম বাতলে দেয়া হয়। যেহেতু বাংলাদেশে কসাইখানা এত নেই, তাই সেই কসাইখানার ধারনায় উৎসাহিত করতেই নির্ধারিত স্পটে পশু কোরবানীর বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে। মানুষ যখন বুঝবে- যেখানে সেখানে নয়, নির্ধারিত স্পটে পশু কোরবানী করতে হবে, তারপর সেই নির্ধারিত স্পটকে লোকচক্ষুর আড়ালে নির্ধারিত কসাইখানায় কনর্ভাট করা হবে।

নির্ধারিত কসাই খানায় কেন কোরবানী ?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক ব্লক মেইনটেইন করা একটা গ্রুপ আছে, যারা নিজেদের পশু প্রেমী দাবী করে। এই গ্রুপটি সারা বিশ্বে Ritual slaughter বা ধর্মীয় পশু জবাইয়ের রীতির বিরুদ্ধে। তারা এভাবে প্রকাশ্যে পশু কোরবানী নয় বরং লোকচক্ষুর আড়ালে হত্যা করতে বলে। এবং পশুকে হত্যার আগে ইঞ্জেকশন দিয়ে চেতনাহীন করারও পরামর্শ দেয় (https://bit.ly/2TAgPD1)। এদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা- পশু হত্যা বন্ধ করে কৃত্তিম মাংশ তৈরী করে মানুষকে মাংশ খাওয়ানো, এতে তাদের কর্পোরেট সদস্যদের একচেটিয়ে ব্যবসা হবে (https://bit.ly/31JYOFr)।
মূলত ঐ গ্রুপটি বাংলাদেশের পরিবেশের অজুহাতে কোরবানীর স্পট নির্দ্দিষ্ট করে কোরবানীকে ধরে বেধে সীমিত করতে চাইছে।


বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্পটে কোরবানী করলে কি হবে ?
আসলে বাংলাদেশে ঐ বিশেষ গ্রুপটি দুটি শ্লোগান প্রচার করেন-
একটি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার – এটা হচ্ছে ইসলাম ধর্মের জন্য।
দ্বিতীয়টি, ধর্ম যার যার উৎসব সবার- এটা হচ্ছে হিন্দু ধর্মের জন্য।
প্রথম শ্লোগানটির মধ্যে লুকিয়ে বলা হচ্ছে, ইসলাম ধর্ম হচ্ছে ব্যক্তি পর্যায়ে চর্চার জিনিস, এটা সামাজিক চর্চায় আনা যাবে না। অপরদিকে দ্বিতীয় শ্লোগানে বলা হচ্ছে, হিন্দু ধর্মটা সামাজিকভাবে চর্চার জন্য। সবাই পালন করতে পারবে।
সত্যিই বলতে ইসলামবিদ্বেষী গ্রুপটি চায়, ইসলাম ধর্ম যেন ঘরের গোপন প্রোকোষ্ঠে চর্চা হয়, সেটা যেন কোনভাবেই সামাজিকভাবে চর্চা না হয়। কিন্তু কোরবানী ঈদ তাদের এই পলিসির জন্য বড় বাধা। কারণ কোরবানী ঈদ ধর্মীয় অনুসঙ্গ হলেও এটা একা একা করা যায় না। গরু কিনতে, গরু রাখতে, গরু জবাই করতে, গরুর মাংশ বিলি করতে ইচ্ছা অনিচ্ছায় এটা সামাজিক চর্চায় চলে আসে। এতে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা বৃদ্ধি পায়, মুসলমানরা তাদের ধর্মকে সামাজিকভাবে প্র্যাকটিস করে। তারা এটার বিরোধী। কিন্তু গরু কোরবানীটা যদি একটি নির্ধারিত স্পটে বা পরবর্তীয়তে কসাই খানায় আনা যায়, তবে –
ক) সে শুধু টাকা দিবে, কিন্তু গরু কিনতে হাটে যেতে হবে না্
খ) সে নিজের গরুর পালতে পারবে না, গরুর চেহারাও দেখতে পাবে না।
গ) নিজের গরু নিজে জবাই করতে পারবে না।
ঘ) তাকে ঈদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন এসএমএস করে কসাইখানায় আসতে বলা হবে, সে কসাইখানায় গেলে তাকে ৩-৪ প্যাকেট মাংশ দিয়ে বলা হবে এগুলো আপনার পশুর কোরবানীর মাংশ। সে কসাইয়ের দোকান থেকে মাংশ কিনলে যতটুকু অনুভূতি পেতো, ঠিক কোরবানীর পশুর মাংশ নিয়ে তার ততটুকুই অনুভূতি হতো, এর বেশি হবে না।

ইউরোপে কিভাবে কিভাবে কোরবানী হয় ?

১) ইউরোপে কোরবানির সমস্যা ও আমার অভিজ্ঞতা
(https://bit.ly/2KOiIIg)

২) বিলেতে যেভাবে কোরবানি দিতে হয় (https://bit.ly/2MjBB96)

এই দুইটি আর্টিকেল দেখে বুঝবেন- পশ্চিমাদের অনুকরণে বাংলাদেশের কোরবানীকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দেখানো সিস্টেমে বাংলাদেশের মুসলমানদের কোরবানীকে ঘিরে ধর্মীয় চেতনাকে সম্পূর্ণরূপে কবর দেয়া হবে।


সরকার কি বলছে ?
ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল বলেছে, “সামনের বার যত্রতত্র পশু জবাই চললে আইনি ব্যবস্থা”।
(https://bit.ly/2TBOXOX)

উল্লেখ্য, তাদের দাবী- দুই সিটিতে ৫ লক্ষ কোরবানী হয়  (মূল হিসেব আরো ৬ গুন বেশি)
সেক্ষেত্রে সরকার স্পট দিয়েছে ৮৭৫টি।
তাহলে গড়ে প্রতি স্পটে কোরবানী দিতে হবে ৫৭১টি কোরবানী।
এবার আপনারা ছবিতে দেখুন, স্পটের সাইজ, এখানে ৫৭১টি কোরবানী দেয়া কি সম্ভব ?
এখানে ২০০ বার সিরিয়ালেও তো ৫৭১টি কোরবানী হবে না।
কিন্তু মেয়র যেহেতু বলছে  এখানেই কোরবানী দিতে হবে, না হলে আইনী ব্যবস্থা।
তাহলে মানুষ তো আইনের ভয়ে কোরবানী দেয়াই ব্ন্ধ করে দিবে ।
তারমানে সরকার আইন করে কোরবানী বন্ধ করতে চাইছে, যেটা ভারতে হয়েছে।
জনগণের এ ব্যাপারে শক্ত প্রতিবাদ করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

Monday, August 5, 2019

কেবিসি এগ্রোর শুকর নিয়ে আমার লেখা ও তার ব্যাখ্যা

গতকাল কেবিসি এগ্রো নিয়ে একটা লেখা দিয়েছিলাম। দেয়ার পর কোন কোন পেইজ থেকে বলা হচ্ছে এই কোম্পানির সাথে হিন্দুদের নাকি বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নাই এবং ভারতীয়দের সাথেও নাকি সম্পর্ক নাই। এটি একটি বাংলাদেশী কোম্পানি।  যাই হোক, আমার মনে হয়, আমি অনলাইনে যে কিছু তথ্য পেয়েছি, তার শেয়ার করছি-
প্রথম কথা হলো কেবিসি এগ্রোর ওয়েবসাইট (যা এখন বন্ধ, তার ওয়েবক্যাশ) বলছে-
১)  Initially the company was started as an India-Bangladesh Joint Venture Company,
২) The company was incorporated on June 29, 2008 as a private limited company with paid up capital of Tk. 223.61 million against the authorized capital of Tk.310.00 million
(https://bit.ly/2MDOrOT)
৩) ২০১২ সালে সামুর ব্লগার জুলভার্ন একটা স্ট্যাটাস লিখে। সেখানে দেয়া তথ্য- অনুযায়ী সে রুপসী বাংলায় একটা অনুষ্ঠানে যায়, সেখানে তার কেবিসি এগ্রোর চেয়ারম্যানের সাথে দেখা হয়, তার নাম রাজকুমার আগারওয়াল বলে উল্লেখ করে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সুবির চৌধুরী উল্লেখ করে। ধামরাইয়ে তাদের কারখানা সম্পর্কে অনেকগুলো তথ্যও জুলভার্ন সংযুক্ত করে। (http://archive.fo/uLkkF)
৪) কেবিসির ওয়েবসাইটের দেয়া তথ্য অনুসারে কোম্পানিটি ২০১৬ সালে তাদের শেয়ার (বা শেয়ারের একটা অংশ) কিনে নেয় মাহবুব গ্রুপ। কিন্তু কোম্পানিটি কেবিসিকে তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বলে না, বলে সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
৫) ২০১৭ সালের এক স্ট্যাটাসে দেখা যায়, কোম্পানির পুরাতন এমডি কল্যানি চৌধুরীর থেকে কিছু একটা বুঝে নিচ্ছে নতুন এমডি মাহবুব রহমান। (https://drive.google.com/file/d/1CILXnW4gEk--RzYQWKusAfMAG6p8wYgJ/view)
কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে যে রাজকুমার আগারওয়াল এর নাম বাদ গেছে কি না, সে সম্পর্কে কোন তথ্য নেই।
৬) কোম্পানির স্টকে ৩ হাজার টন শুকর পন্য পাওয়া যায়, এবং কোম্পানি শুরু থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টন  শুকর পন্য এনেছিলো বলে চালান পাওয়া যায়। তারমানে ২০১৬ সালে শেয়ার বদল হওয়ার বহু আগে থেকে তারা শুকর পন্য দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলো।  অর্থাৎ এই শুকর বাংলাদেশে নিয়ে আসার কারবারি শুরু করে ঐ মারোয়ারী ব্যবসায়ী রাজকুমার আগারওয়ালই।
৭) কোম্পানির মালিক পর্যায়ে শেয়ার বদল হলেও কেবিসির হিন্দু মালিক থাকা অবস্থায় যে মহাব্যবস্থাপক ছিলো, তাপস দেবনাথ, মুসলিম মালিক আসার পরও সেই তাপস দেবনাথ আছে।  এমনকি গতকাল পুলিশ যখন আসে, তখন পত্রপত্রিকায় তাপস দেবনাথের নাম পাওয়া যায়। তাপস দেবনাথের ফেসবুক আইডি ঢেটে দেখলাম সে উগ্রহিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের খুব ভক্ত। আমার ধারণা কোম্পানির মালিক পরিবর্তন হলেও ফ্যাক্টরির কার্যক্রম আগের পলিসিতেই চলতে থাকে বা যারা দায়িত্বে ছিলো সেভাবেই চালাচ্ছিলো। যেহেতু কাজটা শুরু করে  দেয় ভারতীয় হিন্দু মারোয়ারি ব্যবসায়ী, এবং এখনও ফ্যাক্টরির ভেতরে থেকে হিন্দু মহাব্যবস্থাপক বিষয়টি চালিয়ে নিচ্ছিলো এজন্য নতুন মাহবুব গ্রুপের থেকে আমার কাছে সেই রাজকুমার আগারওয়ালকেই বেশি দায়ী মনে হয়েছে।  এবং সে কারণেই আমি কোম্পানির মূল যেখান থেকে শুরু হয়েছে তাকেই দোষ দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছি।
৮) বিভিন্ন সময় ফ্যাক্টরির যে স্ট্যাফ দের ছবি আমি সংগ্রহ করতে পেলেছি, সেখানে আমার কাছে কোম্পানিটিকে হিন্দুদের আখড়া কোম্পানি বলে মনে হয়ছে। হয়ত পড়ে আর্থিক সংকটে তারা শেয়ার বিক্রি করে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে শুকর দিয়ে কাজ করার সূচনাটা হিন্দুরাই করে। আমার স্ট্যাটাসে আমি সেটাই বুঝাতে চেয়েছি।


কোম্পানি ও তৎসম্পর্কিত কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম-