Thursday, June 18, 2020

বাংলাদেশে করোনা সৃষ্টি অর্থনৈতিক মন্দায় কত লোক মারা যাবে ?

ভারতের সাবেক প্রধান পরিসংখ্যানবিদ প্রণব সেন বলেছে,
লক ডাউনের মধ্যে যদি পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা না করা যায়, তবে খাদ্য দাঙ্গা অবশ্যাম্ভাবী। (https://bit.ly/2x0qoUT, https://bit.ly/2XcMY7o )

একটি গবেষণা বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের কারণে যদি ১ থেকে ২ লক্ষ লোক মারা যায়, তবে সব কিছু বন্ধ করার কারণে যে অর্থনৈতিক মন্দা তৈরী হয়েছে, তাতে মারা যাবে ২২ লক্ষ মার্কিনী। (https://bit.ly/3aG2nRF)

অনেকেই ভাবছে, করোনার কারণে সব বন্ধ হলেও বাংলাদেশ সরকার যে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে,
তাতেই বোধহয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
যারা এমন ভাবছেন, আসুন, বাংলাদেশে যে ত্রাণ কার্যক্রম হচ্ছে, তার জন্য কিছু হিসেব মিলাই।

একটি জেলাকে প্রথম পছন্দ করুন। ধরে নেই জেলাটির নাম সাতক্ষীরা।

লক ডাউনের কারণে গরীবদের জন্য সাতক্ষীরার জেলায় চাল বরাদ্দ হয়েছে ৩১৫ মেট্রিক টন (https://bit.ly/2UEr8Z3)
১ মেট্রিক টন সমান যদি ১০১৬ কেজি ধরি, তবে হয়, ৩ লক্ষ ২০ হাজার ১৬ কেজি চাল।

এবার আসুন, সাতক্ষীরার জনসংখ্যর হিসেব করি।
২০১৩ সালের হিসেবে সরকারী হিসেবে সাতক্ষীরার জনসংখ্যা ২০,৭৯,৮৮৪ জন।
(https://bit.ly/2R9fy5T)
এর মধ্যে দরিদ্র সংখ্যা কত ?

সরকারী হিসেব বলছে,
২০১৭ সালে সারা বাংলাদেশে দরিদ্রের হার ছিলো ২৩.১ শতাংশে।
এবং অতি দরিদ্রের হার ছিলো ১২.১ শতাংশে।
এখানে কিন্তু দিনমজুরের হিসেব নেই, অনেক দিনমজুর দরিদ্রের মধ্যে নাও পড়তে পারে।
(https://bit.ly/2xGqS2B)

তাহলে সাতক্ষীরায় দরিদ্র সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮০ হাজার এবং অতি দরিদ্র সংখ্যা ২ লক্ষ ৫১ হাজার।

এখন ধরে নিচ্ছি, সরকারীভাবে যে চাল বরাদ্দ হয়েছে (৩ লক্ষ ২০ হাজার ১৬ কেজি চাল।), তাতে কোন দুর্নীতি হলো না, যতটুকু বরাদ্দ হয়েছে, ততটুকুই বরাদ্দ হলো।
অর্থাৎ সাতক্ষীরায় যদি সরকারী বরাদ্দকৃত সকল চাল ঠিকমত বণ্টন হয়,
তবে-
দরিদ্রদের মাঝে যদি চাল বিতরণ হয়, তবে প্রত্যেক দরিদ্র পাবে – ৬৬৬ গ্রাম করে চাল,
আর যদি দরিদ্র নয় বরং শুধু অতি দরিদ্রের মধ্যে চাল বিতরণ হয়, তবে প্রত্যেকে গড়ে পাবে- ১ কেজি ২৭০ গ্রাম।

এখন একজন মানুষ প্রতি বেলায় কতটুকু ভাত খায় ?
এক হিসেব বলছে বাংলাদেশের মানুষ দৈনিক মানুষ দৈনিক ৯৪৭ দশমিক ৮ গ্রাম খাবার খায়।
(https://bit.ly/3dRckxS)

যেহেতু অন্য খাবারের পাচ্ছে না, তাই যদি চালই খায়,
তবে সাতক্ষীরার সরকারী বরাদ্দকৃত চাল দিয়ে-
প্রত্যেক দরিদ্রের ১দিনও পেট ভরবে না,
আর অতি দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন হলে তা দিয়ে ১ দিন চলবে, কিন্তু দেড় দিন চলবে না।
১৫ দিন লক ডাউন চলবে কিভাবে ?
আর লক ডাউন পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দার কথা তো বাদই দিলাম।

এখানে একটি কথা না বললেই না, ত্রান কিন্তু দেখতে অনেক বেশি মনে হয়,
কিন্তু জনসংখ্যা অনুপাতে এই ত্রাণ কিন্তু কিছুই না।
যেমন- সাতক্ষীরায় দেয়া হচ্ছে- ৩১৫ মেট্রিক টন চাল।
এই চাল ধরতে ৫ টনী ৬৪টি ট্রাক লাগবে।
৬৪টি ট্রাক চাল ক্যামেরায় দেখতে অনেক চাল লাগতে পারে, কিন্তু জনসংখ্যা অনুপাতে এই ত্রাণ কিছুই না।

তারপরও কথা হচ্ছে, সরকার বলেছে, তালিকা করে সেই চাল দিবে।
কিন্তু মানুষের পেটের ক্ষুধা কিন্তু তালিকার জন্য বসে থাকবে না।
১০ দিন ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়ে গেছে, এখনও যদি কিছু না পায়,
তবে কি ক্ষুধায় মরে গেলে তারপর পাবে ?

শেষ কথা হলো-
মানুষ শুধু করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে হিসেব নিকেষ করছে।
কিন্তু ভারতের প্রাক্তণ প্রধান পরিসংখ্যানবিদ যে খাদ্য দাঙ্গার কথা বললো,
কিংবা আমেরিকানরা করোনা সৃষ্টি অর্থনৈতিক মন্দায় ২২ লক্ষ লোকের মত্যুর কথা আলোচনা চলছে, বাংলাদেশেরও সেই খাদ্য দাঙ্গা বা মৃতের সংখ্যা হিসেব নিকেষ শুরু করা উচিত।

এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলতেছে- এই রোগ বায়ু বাহিত কোন রোগ না।

এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলতেছে-
এই রোগ বায়ু বাহিত কোন রোগ না।

তারা আগে অবশ্য বলছিলো- বাতাসে এই জীবানু ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত বেচে থাকে।
(https://bit.ly/2vUM1FP)
আর চীনাদের দাবী ছিলো- বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
(https://bit.ly/2vYR5sO)

লক্ষনীয় হইলো-

১) চীনারা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এমন দাবী করেই কিন্তু উহান-এ লক ডাউন দিছিলো। এবং তাদের থিউরী সবাই অনুসরণ করছিলো। যদিও সেটা অনুসরণ করে শীতল দেশগুলোর লাভ হয় নাই, বরং যা ক্ষতি হওয়ার তাই হইছে । কথা হইলো চীনাদের থিউরী যদি ভুল হয়, তবে সেই লক ডাউন কিভাবে অনুসরণ করা যায় ?

২) হু এর দাবী অনুসারে যদি বাতাসে না ছড়ায়, তবে শুধুমাত্র মাস্ক ব্যবহার আর হাত ধোয়াই এই রোগের জন্য যথেষ্ট। এর বাইরে এত লকডাউন-ফক ডাউন দেয়ার কোন মানেই হয় না।

উল্লেখ্য এর আগে দাবী করা হইছিলো, অধিক তাপমাত্রায় এই রোগ বিশাল ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে, এখন আবার দাবী করা হচ্ছে, অধিক তাপমাত্রায় এই রোগ তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। অথচ সেই ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে সারা দেশকে আবদ্ধ করে বহু লোককে ইতিমধ্যে মেরে ফেলা হইছে এবং আরো হচ্ছে।
(https://tinyurl.com/sgx2tro)

চিটিংবাজি খবর করে আর কত দিন ??

অবশেষে প্রথম আলো বা ডেমোক্র্যাটিক ব্লক স্বীকার করে নিলো তাপমাত্রা বেশি হলে করোনা ভাইরাস কম মারাত্মক হয় বা শক্তি হারিয়ে ফেলে।
এই কলা-বিজ্ঞানীর দলরা কিন্তু এই কথাটা এতদিন স্বীকার করতো না বা প্রচার করতো না, কিন্তু মানুষ তো আর কলা-বিজ্ঞানীদের মত মূর্খ না, তাই এখন তাদের গোমর ফাঁস হওয়া শুরু হয়েছে, এখন তারা খবর করছে- হ্যা বেশি তাপমাত্রায় করোনা ভাইরাস অত মারাত্মক হয় না।

কিন্তু প্রথম আলো বা কলা বিজ্ঞানী ডেমোক্র্যাটিক সাঙ্গপাঙ্গরা হলো পুরোটাই ধাপ্পাবাজ। প্রথম আলোর এই খবরটা দেখুন- সে প্রথমে বেশি তাপমাত্রায় ভাইরাস দুর্বল হয়, এই কথা বলে নিউজের শেষে তার মতবাদই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে এনেছে চীনের গুয়াংজি প্রদেশ এবং সিঙ্গাপুরের কথা। কারণ সেখানে তাপামাত্রা বেশি, তাহলে সেখানে ছড়ালো কিভাবে ?? এবং সেই যুক্তি দিয়ে তারা তাদের বানানো লক ডাউন বা স্যোশাল ডিসটেন্সের পক্ষে সাফাই গাইছে !! (https://tinyurl.com/sgx2tro)

পাঠক ! মানুষ যে কত বড় ধাপ্পাবাজ হয় তার প্রমাণ, প্রথম আলোর এই খরব।
কারণ চীনের গুয়াংজি প্রদেশে করোনায় আক্রান্ত হইছে ২৫৪ জন, এর মধ্যে ২৫০ জন পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছে এবং মৃত্যু হয়েছে মাত্র ২ জনের (https://www.pharmaceutical-technology.com/features/coronavirus-affected-countries-china-outbreak/)। অপরদিকে সিঙ্গাপুরে ৬৮৩ জন, এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ২ জনের (https://www.worldometers.info/coronavirus/)। তারা এই দুইটা যায়গায় মাত্র ৪ জন মৃত্যুর উদাহরণ দিয়ে করোনা ভীতির পক্ষে এবং লক ডাউনের মত একটি বিধ্বংসী জিনিসকে জায়েজ করতে চাইছে। অথচ তাদের লক ডাউন বা সোশ্যাল ডিসটেন্স বা ভীতি প্রচারের কারণে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে শত শত লোক বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে, না খেয়ে আছে কোটি কোটি মানুষ। অর্থনীতি পঙ্গু হওয়ার পথে। এখন পর্যন্ত মিডিয়ায় খবর এসেছে বাংলাদেশে ৩ জন আত্মহত্যা করেছে শুধু করোনার ভীতির কারণে (গাইবান্ধায়, পঞ্চগড় ও রাজবাড়িতে)।

কথা হইলো-
-ভাইরাস অধিক তাপমাত্রায় দুর্বল হয়, এটা অনেক পুরাতন কথা,
-ফ্লু শীত প্রধান দেশে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ লোকের জীবন কেড়ে নেয়, এটাও পুরাতন কথা,
-এবং ফ্লু তে অধিক বয়স্করা মারা যায়, তাই যে দেশে বয়স্ক সংখ্যা বেশি তাদের ভয় বেশি, এটাও পুরাতন কথা।

এতগুলো পুরাতন ও বৈজ্ঞানিক কথা আড়াল করে কিভাবে করে শীত ও বয়স্কের দেশ ইতালির উদাহরণ দিয়ে বাংলাদেশে এই লক ডাউনের মত একটি ভুয়া অবৈজ্ঞানিক জিনিস চলতে পারে তা আমার মাথায় আসছে না। কলাবিজ্ঞানীর হাতে যখন দেশ, সব কিছুই সত্যিই শেষ।

শীত প্রধান দেশগুলোতে ফ্লু একটি কমন বিষয়

প্রথম ছবিটা ইতালির সাবেক ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার রিপাবলিকান ব্লকের মাত্তিও সালভিনি’র। সে করোনার আতঙ্ক উড়িয়ে দিয়ে রোমের রাস্তায় মাস্ক ছাড়া বান্ধবিসহকারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। দ্বিতীয় ছবিতে একটি নিউজে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প করোনা ভাইরাসকে বলছে ডেমোক্র্যাটদের ধাপ্পাবাজি।

এখানে আসলে বোঝার বিষয় হলো-
আমাদের নদীমাতৃক দেশে যেমন বন্যা একটা সাধারণ বিষয়। ঠিক তেমনি শীত প্রধান দেশগুলোতে ফ্লু একটি কমন বিষয়। প্রতি বছরই ফ্লুতে শীত প্রধান দেশগুলোতে অনেক বৃদ্ধ মারা যায়। যেমন ২০১৮ সালে ফ্লুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৮০ হাজার লোক মারা গিয়েছিলো। তবে সেটাতে ডেমোক্র্যাটিক মিডিয়া ফোকাস করেনি, এখন যেভাবে করছে। তবে কোন কোন ফ্লু তুলনামূলক মারাত্মক হয়, কিন্তু এটা তাদের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। আমরা যেমন বন্যা কমবেশিকে মেনে নেই, শীত প্রধান দেশগুলো এই ফ্লুয়ের উৎপাত স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়। এ বছর করোনা ভাইরাস নামক ফ্লু এর উৎপাত ঠিক তেমন।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এবছর ডেমোক্র্যাটিক ব্লক এই ফ্লুয়ের সুযোগটা রাজনৈতিকভাবে নিতে চাচ্ছে। বলা যায়, এবার বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ হলো তাদের সংঘবদ্ধ আক্রমণ। এর কারণও আছে, ওয়াল্র্ড ওয়াইড ডেমোক্র্যাটিক ব্লক রাজনৈতিকভাবে পেছনে চলে যাচ্ছিলো। ওয়াল্র্ড ওয়াইড রিপাবলিকানদের উত্থান, ইউরোপে ম্যাক্রোর নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা, রাশিয়ার ফিরে আসা, চীনের অবস্থান শক্তিশালী হওয়া, তুরস্ককেন্দ্রীক ইসলামিস্টদের উত্থান, সবমিলিয়ে ধিরে ধিরে আবদ্ধ হয়ে পড়ছিলো ডেমোক্র্যাটিক ব্লকরা। তাই তারা চাইছিলো একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ করে নতুন করে তাদের অবস্থান তৈরী করা, যেটা তারা করলো কোভিড-১৯ এর নাম করে।

আসলে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ডেমোক্র্যাটিক ব্লকের রাজনীতি যদি দেখেন, তবে দেখবেন তারা ক্রাইসিস ক্রিয়েট করে পরে ত্রাণকর্তা সেজে রাজনীতি করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যদি দেখেন, তবে ১৯৮০, ১৯৯৭, ২০০৮ সালে বিশ্বে বিভিন্ন যে অর্থনৈতিক মন্দা হয়েছে তার পেছনে এই ডেমোক্র্যাটিক ব্লকদের হাত ছিলো এবং এই মন্দায় অন্যান্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হয়েছে সরোসের মত ডেমোক্র্যাটিক ব্লকের বিজনেসম্যানরা।
আবার রাজনৈতিক উত্থাণের ক্ষেত্রে যদি দেখি, তবে ১৯৯০-৯২ এর মধ্যে বাংলাদেশ মিয়ানমার সহ বেশ কয়েকটি দেশে গণতন্ত্রের উত্থানের নামে ডেমোক্র্যাটিকরা অবস্থান দৃঢ় করেছে, তখন কিন্তু সেই দেশগুলোতে ক্রাইসিস তৈরী করেই তারা রাজনীতি করেছে। ২০১০-২০১২ পর্যন্ত যে আরব বসন্ত হলো, সেটাও কিন্তু ডেমোক্র্যাটিক প্ল্যান, ওরা নিজেরাই ক্রাইসিস ক্রিয়েট করে সেখানে রাজনীতি করে এবং প্রতিপক্ষকে ফেলে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করে। এতে বহু সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য রাজনীতি করা সেটা যেভাবেই হোক। হয়ত নামকাওয়াস্তে তাদের সেলিব্রেটি দিয়ে কিছু ত্রাণ দিবে, কিন্তু সেখানেও নিজেদের প্রচার করবে, যদিও বাস্তবে জনগণের সেটাতে কোন উপকার হবে না। বিশেষ করে এই ঘটনার পর ডেমোক্র্যাটিক ব্লকের পরিবেশবাদী (তাদের ভাষায় গ্রিন মুভমেন্ট) দের একটা উত্থান হতে পারে।

একটা জিনিস মনে রাখবেন, ডেমোক্র্যাটিকরা যার পক্ষ নেয়, বাস্তবে তারা ওর লাভ নয় বরং ক্ষতি করে। যেমন ডেমোক্র্যাটিকরা নারীদের (নারীবাদীদের) পক্ষ নিছে। এতে কিন্তু নারীদের উপকার হয় নাই, বরং ক্ষতি হইছে, তারা নারীদের পক্ষ নিয়ে উল্টা নারীদের ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ সিদ্ধি করছে। একইভাবে এই যে তারা ভাইরাস-টাইরাসের নাম দিয়ে পাবলিকের পক্ষ নেয়ার ভান করতেছে, বাস্তবে এতে পাবলিকের কোন উপকার হবে না, বরং ক্ষতি হবে। আমার কথা বিশ্বাস না হয়, করোনা ভাইরাস শেষ হলে সমীকরণ মিলিয়ে দেইখেন, করোনা মানুষের কতটুকু ক্ষতি করলো, আর তাদের কৃত্তিম ক্রাইসিস কতটা ক্ষতি করলো, মাঝখান দিয়ে ডেমোক্র্যাটিকরা কতটুকু নিজেদের লাভ তৈরী করে নিলো, তাহলেই বুঝতে পারবেন।

অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়ে প্রবীণদের মরে যাওয়া ভালো।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক বলেছে, “
অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়ে প্রবীণদের মরে যাওয়া ভালো।” সে আরো বলেছে, আমার বার্তা হলো: কাজে ফিরে চলুন, জীবনে ফিরে চলুন, এটা নিয়ে স্মার্ট হোন, আর আমরা যারা সত্তোরোর্ধ আছি, আমরা নিজেরাই নিজেদের খেয়াল রাখবো’।
প্যাট্রিক বলে, পুরো দেশ ত্যাগ স্বীকার করুক তা আমি চাই না। আমি শত শত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি… আর সবাই প্রায় একই কথা বলেছে: আমরা পুরো দেশ হারাতে পারি না। আমাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে’। প্যাট্রিক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে রকম বলেছে মৃত্যুর হার খুবই কম। এই কারণে আমাদের পুরো দেশ বন্ধ করে দিতে হবে? আমার মনে হয় আমরা কাজে ফিরে যেতে পারি’। (https://bit.ly/2y0G2jg)

লক্ষ্য করুণ-
১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫+ বৃদ্ধ সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১৩%। তারপরও তারা এমন কথা বলছে। অথচ বাংলাদেশে ৬৫+ বছরের বৃদ্ধ সংখ্যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬% তারপরও আমরা এমন কথা বলতে পারছি না।

২) যুক্তরাষ্ট্র লক ডাউনের কারণে তাদের অর্থনীতি নিয়ে শংকিত। অথচ তাদের অর্থনীতি একটি বহুমাত্রিক ভিত্তির উপর নির্ভরশীল। তাদের ডলার বিশ্বমুদ্রা হিসেবে প্রচলিত, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের রিজার্ভ ডলারে রাখা। আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ডলার প্রচলিত। তারপরও তারা বলছে, লকডাউনের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে উঠবে। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতির এমন কোন ভিত্তিই নেই। তারপরও কোন আশায় আমরা দেশ লক ডাউন করে মানুষকে পথের ফকির বানিয়ে দিচ্ছি?

৩) সাধারণত যারা ৭০ বছরের বৃদ্ধ, তারা প্রত্যেক পরিবারের সন্তানদের উপর নির্ভরশীল। তাদের ওষুধপত্র, থাকা-খাওয়ার খরচ সন্তান বা পরিবারকেই বহন করতে হয়। কথা হইলো, আপনারা বৃদ্ধদের বাচাতে সন্তানদের আর্থিক অবস্থা খারাপ করে দিলেন, এখন সেই সন্তানরা বৃদ্ধদের খাওয়াবে কি ? দেখা যাবে, বৃদ্ধদের ওষুধপাতি, চিকিৎসা ব্যবস্থা আর খাবার পর্যাপ্ত দিতে না পারায় এমনিতেই বৃদ্ধরা মারা যাবে।

৪) ধরে নিলাম, আপনারা ২ বা ৩ সপ্তাহ পর লক ডাউন খুলে দিলেন, তখন তো ভাইরাসটা ঠিকই সবাইকে ধরবে, সেটা তো আটকে রাখতে পারবেন না। যারা আক্রান্ত হওয়ার ২-৩ সপ্তাহ পর তো ঠিকই হবে। আর ওষুধ কবে বের হবে তার তো কোন হিসেব নাই। ৬ মাস পরও বের হতে পারে, ১ বছর পরও বের হতে পারে। তাহলে কি ১ বছর লক ডাউন করে রাখবেন ? কথা হচ্ছে কিসের আসায় আপনারা ২-৩ সপ্তাহ লক ডাউন করে রাখলেন সেটা আগে স্পষ্ট করুন। যদি ওষুধ বের হওয়া পর্যন্ত লক ডাউন করতে চান, তবে ঠিক আছে সেটা ১ বছর হইলেও। কিন্তু ২-৩ সপ্তাহ লক ডাউন করা আর না করার মধ্যে তো কোন তফাৎ নাই। মাঝখান দিয়ে দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার ১২টা বাজায় দিলেন।

লকডাউন ফ্যান্টাসি

এ অঞ্চল অনেক দিন ব্রিটিশ উপনিবেশে থাকায়, এর মানুষগুলোর মধ্যে ইংরেজী শব্দ বা বাক্যগুলোর মধ্যে একটা ফ্যান্টাসি আছে। এই
ফ্যান্টাসির সুযোগ নিয়ে বেশ ভালো একটা রাজনৈতিক ব্যবহার দেখিয়েছিলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে ব্যবহার করেছিলো ‘সার্জিকাল স্ট্র্যাইক’ শব্দদ্বয়ের। অধিকাংশ ভারতীয়ই জানে না, সার্জিকাল স্ট্র্যাইকটা কি ? অথবা বাস্তবে সার্জিকাল স্ট্রাইক হয়েছিলো কি না, তারও কোন প্রমাণ নেই। কিন্তু যখন মোদি সরকার প্রচার করলো, “ভারত পাকিস্তানকে সার্জিকাল স্ট্যাইক করেছে।” ব্যস এতটুকু শুনেই তারা খুশিতে দিশেহারা হয়ে গেলো। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ করে করে পুরো দেশ মেতে উঠলো। সিনেমা-নাটক-গান এমন কিছু নাই, যেখানে সার্জিকাল স্ট্রাইক নাই।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি উদ্ভব হওয়ার পর পাবলিক শুনেছে ‘লকডাউন’ শব্দের ব্যবহার। পাবলিক আদৌ জানে না, এই শব্দের মাজেজা কি। কিন্তু তারপরও ফেসবুক-স্ট্যাটাসে কমেন্টে দেখি সবাই লকডাউন চায়।

লক ডাউন’র অর্থ খুজতে গিয়ে একটা অর্থ পেলাম-
কারাগারে যখন বন্দিরা দাঙ্গা করে তখন সেই দাঙ্গা নিয়ন্ত্রনের জন্য কারাগারে বন্দিদের তাদের কক্ষে বন্দি করাকেই লক ডাউন বলে।

আর ভাইরাস নিয়ন্ত্রনের জন্য লক ডাউন শব্দের অর্থ হলো-
কোন একটি এলাকায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন পেলে ঐ এলাকাকে বদ্ধ করে দেয়া যেন বাইরে থেকেও কেউ ঢুকতে না পারে আবার ভেতরেও কেউ প্রবেশ করতে না পারে।
আর ফুল লক ডাউন মানে হইলো- কোন নির্দ্দিষ্ট এলাকার কেউ বাড়ি থেকেই বের হতে পারবে না। ঘরের মধ্যে থাকবে। অর্থাৎ ভাইরাস ট্রান্সমিশন সর্বোচ্চ কমিয়ে নিয়ে আসাই এর কাজ।

অর্থাৎ যদি ধারণা করা হয়- কোন এলাকার কেউ জীবাণু আক্রান্ত হয়েছে, তবে ঐ এলাকা লক ডাউন অর্থ হলো, সেই এলাকার ভেতরের মানুষ যেন বাইরে না যায় আর বাইরের মানুষ যেন ভেতরে না আসে। এটা অনেকটা শেষ পরিণতি, তুমি মরলে ভেতরে মরো, বাইরে যেন কেউ আক্রান্ত না হয়।

যাই হোক, গতকাল সরকার অফিস আদালত বন্ধ করার পর দেখি পাবলিকের লক ডাউন চাওয়া বন্ধ হইছে।
আসলে পাবলিক মুখে মুখে লক ডাউন চাইলেও আসলে চাইছিলো শ্যাটডাউন।
মানে সব কিছু বন্ধ হোক, তাহলে পাবলিক দেশের বাড়িতে যাইতে পাড়বে।
ব্যস বিকাল ৫টায় বন্ধের ঘোষণা আসলো, আর সাথে সাথে পাবলিক ট্রেন-বাস-লঞ্চে ভীড় করে করে দেশের বাড়ি চলে যাওয়া শুরু করলো। ঠিক যেভাবে ঈদের ছুটিতে যায়।
যারা ভাইরাসের ছোয়াচে তত্ত্বে বিশ্বাস করে, তাদের বিশ্বাস অনুসারে এখন কি হলো?
তাদের বিশ্বাস অনুসারে যেটা ঘটলো- যেহেতু তাদের ভাষায় ঢাকা ইনফেকটেড, তাই ভাইরাস পুরো দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো। (চীনের গোপন নথিতে দেখা গেছে, অনেকে লক্ষণ প্রকাশ না করেও নাকি এই ভাইরাসের বহনকারী হতে পারে : সূত্র দৈনিক প্রথম আলো, ২২ মার্চ ২০২০)
তাহলে ভাইরাস নিয়ে এত জনসচেতনা তৈরী করে আদৌ কি কোন লাভ হলো ??

আসলে ঢাকার মত জনবহুল শহর যার প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে প্রায় ১ লক্ষ জনগণ,
মাত্র ২৬০ বর্গ কিলোমিটারে বাস করে প্রায় ২ কোটি জনগণ
আসলে সেখানে কখনই লক ডাউন সম্ভব না।
কারণ বাংলাদেশের সবকিছু রাজধানী কেন্দ্রীক করে তৈরী করা হয়েছে,
বাংলাদেশে অন্য দেশের মত বিকেন্দ্রীকরণ বা প্রাদেশীক সরকার নাই।
যেমন- জার্মানি লক ডাউন করছে মাত্র ২টি প্রদেশ (Bavaria, Saarland), বাকি ১৪টা এখনও করে নাই।
যেহেতু প্রত্যেক প্রদেশের আলাদা সিস্টেম, তাই ২টা লক ডাউন করলে বাকিগুলো তাদের কাজ চালায় নিতে পারবে।
একই কাজ করছে পাকিস্তান, তারা সিন্ধকে লক ডাউন করছে, কিন্তু বাকি ৩টা প্রদেশ করে নাই।
একইভাবে সৌদি আরবও, সে তার কাতিফ অঞ্চল লক ডাউন করে দিছে।
মানে কয়েকটা অঞ্চল পৃথক করে দিলেও, বাকিগুলো কাজ চালিয়ে নিতে পারবে।
কিন্তু বাংলাদেশে তো সব ঢাকা কেন্দ্রীক, প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা নাই।
ফলে ঢাকাকে লক ডাউন করা মানে পুরো দেশের হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া।
তাহলে পুরো দেশ চালাবেই বা কে ?
যেহেতু লক ডাউন সম্ভব না, তাই সরকার শ্যাট ডাউন করে দিছে।
কিন্তু ঘটনা হইছে ঢাকাতে তো স্থায়ী বাসিন্দা খুব কম।
ইতালিতে সংকট হইছে, প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেমন বাংলাদেশে চলে আসছে,
ঠিক তেমনি ঢাকাকে যখন তারা সংকটপূর্ণ মনে করছে, তখন তারা একই সূত্রে গ্রামের বাড়ি চলে গেছে।
ফলে ভাইরাস ভীতির সূত্র অনুসারে ইতালি থেকে যেমন ভাইরাস বাংলাদেশে আসছে,
ঠিক একইভাবে শ্যাট ডাউন করার কারণে ঢাকা থেকে ভাইরাস ৬৪ জেলা কিংবা ৮৫ হাজার গ্রামে ছড়ায় গেলো। হয়ত গাড়িঘোড়া কিছু বন্ধ করার প্ল্যান থাকতে পারে, কিন্তু তাতেও লাভ হবে না, বাংলাদেশ এত ছোট, কেউ যদি ঢাকা থেকে অন্য জেলায় যেতে চায়, তবে অন্য এলাকায় যাবেই, আটকাতে পারবে না।

আর তাছাড়া ইউরোপ-আমেরিকার মানুষের স্থায়ী নিবাস আর বর্তমান নিবাস বলে দুটি ঠিকানা আছে কি না, তা আমার জানা নাই, কিন্তু বাংলাদেশে মানুষের কিনতু দুইটা ঠিকানা আছে। ফলে গোলযোগ দেখা দিলে মানুষ বর্তমান নিবাস থেকে স্থায়ী নিবাসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবেই, সেটা কেউ আটকাতে পারবে না। ইউরোপ-আমেরিকা অনেক বড়, ফলে ট্রেন-বাস, রাস্তা বন্ধ করতে কাজ হবে, কিন্তু বাংলাদেশে সেটা সম্ভব না, কারণ বাংলাদেশ অনেক ছোট। সমস্যা হইলো ইউরোপ-আমেরিকার সিস্টেম কপি করে বাংলাদেশে চালাইলেই কাজ হবে, এমনটা ভাবা বোকামি।

তারমানে দাড়াচ্ছে, এই যে সব কিছু বন্ধ হয়ে গেলো,
ভাইরাস ভীতিতে যারা বিশ্বাস করে, তাদের হিসেবে মতেই এতে আসলে কোন উপকারই হলো না, বরং ক্ষতি আরো বৃহৎ পরিসরে ছড়ায় পড়লো। তাদের দৃষ্টিতেই করোনা হয়ে গেলো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন।

ছবি : গতকাল ছুটির ঘোষনার পর কমলাপুর রেল স্টেশনে টিকিট কাটার লাইন।

বাংলাদেশে দৈনিক মানুষ মারা যায় ২৫৬০ জন

হিসেব বলছে, বাংলাদেশে দৈনিক মানুষ মারা যায় ২৫৬০ জন।
এবং ঘণ্টায় মারা যায় ১০৬ জন।
এতগুলো মানুষের মধ্যে কারো না কারো তো জ্বর ঠাণ্ডা, কাশী থাকা স্বাভাবিক।
তাহলে ঐ সব লোকগুলো কি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ??

আরেকটি কথা হলো- বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২.৭ বছর।
এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের গড় আয়ু ৭২.৭ এর থেকে বেশি।
কথা হচ্ছে- হিসেব মতই যদি মৃত্যু হয়, তবে সেই মৃত্যুর জন্য করোনাকে কতটুকু ভীত হওয়া যায় ??

মূল কথা হইলো-
বাংলাদেশে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশী, বৃদ্ধের মৃত্যু সব কিছু মতই চলতেছে।
সমস্যা হইছে বাংলাদেশের মিডিয়া হঠাৎ সক্রিয় হঠে উঠছে সেই খবরগুলো ধারণ করার জন্য,
আমরা অগে যে খবরগুলো জানতাম না, সেগুলো একসাথে দেখে প্যানিক হয়ে যাচ্ছি,
আর ভাবতেছি না জানি কি হয়, নাকি জানি কি হয়।
স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, দোকানপাট, রেস্তোরা, অফিস আদালত, মসজিদ বন্ধ করে দিতেছি।

আরে ভাই- করোনা আবির্ভাব শুরু হইছে ১২৭ দিন হইলো,
আর বাংলাদেশে মানুষ কিছুটা সক্রিয় হইছে মাত্র ১০ দিন যাবত।
এর আগেও আক্রান্ত বিদেশী দেশ থেকে বহু লোক আসছে।
তারা দেশের মানুষের মধ্যে ঘুরছে-ফিরছে।
অনেকে সংক্রমণের যে তত্ত্ব দেখায়, সেটা যদি বাস্তবেই ঘটতো
তবে বহু আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতালে থাকার কথা ছিলো।
লাশের সারির যায়গা দিতে পারতেন না।
কিন্তু সেটার কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

কিন্তু
মিডিয়া যে কৃত্তিম প্যানিক তৈরী করতেছে,
এর খেসারত দিতে হবে বাংলাদেশের জনগণকে।
অনেক মানুষকে কৃত্তিম দুর্ভিক্ষ ও অর্থনৈতিক মন্দা শিকার হবে,
যা ভুগাবে বহুদিন পর্যন্ত।