Wednesday, August 12, 2020

এত বড় বড় সড়ক কাদের স্বার্থে

(স্ট্যাটাসের তারিখ: ২৭ নভেম্বর, ২০১৯)

গতকাল আন্তঃজেলা সড়ক ৪ লেন হচ্ছে, এই বিষয়টিকে কর্পোরেটোক্রেসি এবং জনবিরুদ্ধ বলায় কেউ কেউ অবজেকশন দিয়েছে। তাদের বক্তব্য হলো- দুর্ঘটনা হ্রাস এবং স্বাচ্ছন্দে যাতায়াতের জন্য ৪ লেনের সড়কের দরকার আছে।


যারা এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের কথা আসলে ফেলে দেবার মত নয়।
সত্যিই আমার-আপনার জন্য এই ৪ লেনের সড়ক দরকার আছে।
কিন্তু কথা হচ্ছে- এই যে উন্নত সড়ক ব্যবস্থা হচ্ছে, এটা কি সত্যিই আমার-আপনার জন্য হচ্ছে ?
নাকি আমার-আপনার পকেটের টাকা দিয়ে অন্য কারো জন্য তৈরী হচ্ছে এই অত্যাধুনিক সড়ক ??

(১) ঢাকা - মাওয়া - ভাংগা এক্সপ্রেসওয়ে নামক যে অত্যাধুনিক ৪ লেন সড়ক হচ্ছে, যা পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক বলে ইতিমধ্যে পরিচিত পেয়েছে। এই সড়কের নির্মাণ ব্যয় ইতিমধ্যে ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানা গেছে। এই অত্যাধুনিক সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক “এশিয়ান হাইওয়ের করিডর-১” এর অংশ হিসেবে। (https://bit.ly/33rmaQz)

(২) ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৪ লেন করছে, তাতে প্রাথমিক ব্যয় ১৪ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। যদিও নির্মাণ শেষ হতে আরো অনেক বাড়বে। এই সড়কটি মূলত আন্তর্জাতিক এশিয়ান হাইওয়ে ১ ও ২-এর রুটভুক্ত। আবার বিমসটেক রোড করিডোর ৩ ও সাসেক হাইওয়ে করিডোর ৫-এর রুটভুক্তও এ মহাসড়ক। (https://bit.ly/2DUoRmy)

(৩) উত্তরাঞ্চলে যে ৪ লেন (অনেকে ৬ লেন বলে) সড়ক হচ্ছে তার প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা, যা প্রকল্প শেষ হতে আরো অনেক বাড়বে। এই প্রকল্পটি মূলত এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক করিডর ও সার্ক হাইওয়ে করিডর, সাসেক করিডর, এবং স্থল ও সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে উপ আঞ্চলিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে তৈরী হচ্ছে।
(https://bit.ly/37KLQuy)

(৪) কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল হচ্ছে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে। এই টানেল হচ্ছে মূলত সিবিআই ও বিসিআিইসি করিডর, সেভেন সিস্টারস করিডর এবং ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান করিডর’কে সাপোর্ট দিতেই। ((https://bit.ly/2Dl3dEi))


অর্থাৎ এই যে অত্যাধুনিক সড়কগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে, এগুলো কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের কথা মাথায় রেখে তৈরী করা হচ্ছে না, তৈরী হচ্ছে বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারত, চীন, ভুটান, মায়ানমার, নেপালের ব্যবসায়ীরা যে ব্যবসা করবে, তাদের গাড়িগুলো যেন দ্রুত গতিতে এবং নির্ভিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে সে সুবিধার্থে।

এখন কথা আসতে পারে,
যদি তাদের জন্য নির্মাণ হয়ও, তবে সমস্যা কি ?
আমরাও তো সেটা ব্যবহার করতে পারবো।

সমস্যা আছে।
সমস্যা হলো- এই যে অত্যাধুনিক সড়কগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে এগুলোর খরচ তো আকাশ থেকে নামবে না কিংবা সরকার তার বাপের বাড়ি থেকে নিয়েও আসবে না, জনগণের পকেট থেকেই আসবে। আবার কোন বিদেশী যদি ঋণও দেয়, তবুও সেটা জনগণের পকেট থেকেই সুদে আসলে ফেরত দিতে হবে।

এখন কথা হইলো- এই যে জনগণ তার তেল, নুন, চাল, ডাল, পেয়াজ, আটার মূল্য ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে ৫, ১০ বা ১৫ বছর যাবত এই অত্যাধুনিক রাস্তাগুলোর ব্যয় নির্বাহ করবে, এরপর কি তাদের আর সেই রাস্তায় দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ থাকবে ? নাকি ঐ অত্যাধুনিক রাস্তার ধারে দাড়িয়ে ভিক্ষা করার সামর্থ হবে, এটা বুঝতে হবে।

হ্যা আমরা আমাদের রাস্তাঘাট উন্নত করবো না কেন, অবশ্যই করবো।
কিন্তু কোনটার প্রয়োজন আগে সেটা আগে বুঝতে হবে।
এখন কোনটা বেশি প্রয়োজন,
জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দেশী উৎপাদন খাতকে গুরুত্ব দিয়ে স্ট্যাবলিশ করা?
নাকি বিদেশীরা আসবে বলে তাদের জন্য দেশ সাজাতে গিয়ে জনগণের খরচ বাড়িয়ে কৃত্তিম দুর্ভিক্ষ তৈরী করা ??

আসলে কর্পোরেটোক্রেসি পলিসিটি হলো সম্রাজ্যবাদী কর্পোরেট বা ব্যবসায়ীদের কৈ এর তেলে কৈ ভাজা পলিসি।
অর্থাৎ জনগনের টাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ করে সেই জনগণের উপর ব্যবসা করা। আবার সেই রাস্তা নির্মাণ খরচ জোগাতে জনগণ দরিদ্র হয়ে গেলে তাদের সস্তায় শ্রমিক রূপে ব্যবহার করা, এটাই তাদের কূটচক্র। অথচ জনগণ সেটা বুঝবে না, একবার বুঝবে উন্নয়ন, আরেকবার বুঝবে বিদেশী ইনভেস্ট, আরেকবার বুঝবে বেকারদের চাকুরী, এর বাইরে বুঝার ক্ষমতা জনগণের নেই।

তবে এখানে একটা আশঙ্কাজনক বিষয় হচ্ছে-
এই যে জনগণের সাথে এত বড় একটা ধোকাবাজি হচ্ছে, এটা কেন কেউ ফাঁস করছে না ?
আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন- আমাদের দেশে সাধারণত যারা সরকারের বিরোধীতা করে, তারা কিন্তু এইসব প্রকল্প করতে সরকার যে দুর্নীতি করছে তার বিরোধীতা করে, কিন্তু মূল যে কর্পোরেটোক্রেসি পলিসি তার বিরোধীতা করে না, তারা ।
এর কারণ- এই পলিসির উপরে রয়েছে সম্রাজ্যবাদী কর্পোরেট বা আন্তর্জাতিক বড় বড় ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক। যারা দুর্নীতিবাজ সরকারের উপর ভর করে তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু আমাদের দেশে সাধারণত যারা সরকারের বিরোধীতা করে, তারা শুধু চায় সরকারের বিরোধীতা করে রাজনীতি করতে, বিপরীতপক্ষকে দলে ভিড়াতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্রাজ্যবাদী কর্পোরেটদের কার্যক্রমের বিরোধীতা করতে তারা মোটেও চায় না। হয়ত ভাবে সেটা করলে ভবিষ্যতে হয়ত তারা আর ক্ষমতায় যেতে পারবে না। যার কারণে কর্পোরেটোক্রেসি নামক মূল ঘটনাটা কিন্তু আড়ালেই থেকে যায়, জনগণ আর তা বুঝতে পারে না।

ছবি: ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ ঢাকা - মাওয়া - ভাংগা এক্সপ্রেসওয়ে।

Monday, June 22, 2020

লকডাউনের সুফলঃ প্রসব কমেছে হাসপাতালে, বেড়েছে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার


করোনা পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে প্রসবের হার নেমেছে অর্ধেকে। বাড়ছে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে বড় হাসপাতাল পর্যন্ত সবখানেই কমেছে প্রসব। অন্যদিকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে বাসায় প্রসবের সংখ্যা। কেবল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মাসে প্রসব হয়েছে ৮৭৫টি, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিমাসে যা গড়ে ছিল দেড় হাজার। বাসা বাড়িতে অদক্ষ ধাত্রীর হাতে প্রসব বাড়ায় প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণসহ নানা জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন মায়েরা। অধ্যাপক ডা. নিলুফা সুলতানা বলেন, প্রচণ্ড খিঁচুনি নিয়ে রোগী আসছেন। কোনো কোনো রোগীদের জরায়ু জড়িয়ে নিয়ে আসছে। অধ্যাপক ডা. সায়েদা আক্তার বলেন, হোম ডেলিভারি বেড়ে গেলে অবশ্যই মাতৃ মৃত্যু বাড়বে। শিশুমৃত্যুও বাড়বে। (https://bit.ly/2TSQiSI)

এটা হচ্ছে লকডাউনের সুফল। আপনি যাতায়াত বন্ধ করে রাখবেন, মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরী করে রাখবেন, ফলে স্বাভাবিকভাবে এর প্রভাব পড়বে স্বাস্থ্যসেবার উপর। মায়েরা হাসপাতালে যেতে পারবেন না। ফলে তৈরী হবে নানান সংকট।

খবরে লক্ষ্য করুণ- ঢাকা মেডিকেলে প্রসবের সংখ্যা কমেছে অর্ধেক বা ৫০% এর মত। এই হিসেব যদি সারা বাংলাদেশে করি তখন কি হবে ?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের হিসেব মতে বাংলাদেশে এখন প্রতি মিনিটে জন্ম নেয় ৯ জন শিশু। তাহলে প্রতি দিন জন্ম নেয়া শিশুর পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজারের মত। (https://bit.ly/3dnbF6o)
তাহলে ৬৫ দিনের লকডাউনের বাংলাদেশে জন্ম নেয়ার কথা প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ শিশু।
এর মধ্যে ৫০% লকডাউনে বাধাগ্রস্থ হয়ে বাসায় প্রসবের চেষ্টা করেন, তবে তার পরিমাণ দাড়ায় প্রায় ৪ লক্ষ ২৫ হাজার। এর মধ্যে যদি মাত্র ৫% মা বা শিশু মারা যায়, তবে এর পরিমাণ হবে প্রায় ২১ হাজার। আর যদি ১০% মা বা শিশু যদি জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হোন, তবে এর পরিমাণ ৪২ হাজারের মত। বাসায় চেষ্টা করলে ৫% মা-শিশুর মৃত্যু বা ১০% জটিল সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া খুব স্বাভাবিক, বরং হিসেব এর থেকেও বেশি হতে পারে।

শিশু জন্মদানের সময় মা যদি সঠিক ট্রিটমেন্ট না পায়, লকডাউন দিয়ে যদি তাকে নানান বাধাগ্রস্ত করা হয়, তবে মা ও শিশু মৃত্যুর মত চিরন্তন সত্যকে আমরা এড়িয়ে যেতে পারবো না। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয়, আমরা বাস্তবতা এড়িয়ে থেকে এখন মরিচিকার পেছনে ছুটছি। ৬৫ দিনে করোনায় কত লোকের মৃত্যু হয়েছে, সেটা নিয়ে অনেক মিডিয়া সরব হলেও লকডাউনের কারণে কত মা ও শিশুর কিংবা সাধারণ মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করলো তার কোন হিসেব বা পরিসংখ্যান নেই। ব্রিটেনের একটা হিসেব পেয়েছিলাম, তারা একটি পরিসংখ্যানে দেখিয়েছিলো, লকডাউন বা করোনাভীতির কারণে মানুষ হাসপাতালে যাচ্ছে না, এতে সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজারের মত। (https://archive.is/2eKCW)

আবার
আজকে মিডিয়ার খবরে দেখলাম, যার শিরোনাম -
অফিস খোলার প্রথম দিনে ৪০ জনের মৃত্যু।
(https://bit.ly/3cjrJEX)

লক্ষ্য করুণ- খবরে শিরোনাম দেখে মনে হচ্ছে, এই ৪০ জন মনে হয় অফিস করতে গিয়ে মারা গিয়েছিলো।
অথচ বাস্তবতার ভিত্তিতে শিরোনাম হওয়া উচিত ছিলো-
“৬৫ দিনের লকডাউনে ঘরে বসে থেকে ইমিউন সিস্টেম ড্রপ, মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০”
কিংবা
“আতঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় ইমিউন সিস্টেম ড্রপ, মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০”
(Stressful event অথবা Negative emotions মানবদেহের Immune System কে দুর্বল করে দেয়। ফলে সহজে শরীর ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে আক্রান্ত হয়)
কিংবা-
“বিভিন্ন ওষুধের ট্রায়ালে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা”।

এগুলো হলো বাস্তবতা ও বিজ্ঞান। কিন্তু কোনটির দিকে না যেয়ে, অফিস খোলাকে আজকের মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হলো। যদিও অফিস খোলার কারণে কিছু হয়েছে কি না, এটা বুঝতে বুঝতে আরো ১৫ থেকে ২১ দিন সময় দরকার। কিন্তু সেটা না করে, লকডাউনের দোষকে লকডাউন খোলার উপর চাপিয়ে দিয়ে চাইছে মিডিয়া।

আসলে আমরা সবাই নিজের স্বার্থের কথা ভেবে কথা বলি। কিন্তু নিজের স্বার্থে টান পড়লে ছাড় দিতে চাই না। গতমাসে দেখেছিলাম- কিছু প্রাইভেট কোম্পানির মানুষজনও লকডাউনের পক্ষে বলছে।
কিন্তু এ মাসে অনেকের বেতন-বোনাস বন্ধ হওয়াতে সবাই এখন লকডাউনের বিপক্ষে।
এখনও ফেসবুকে কেউ কেউ লকডাউনের পক্ষে বলছে।
এখন শুধু সরকারী চাকুরীজীবিদের বেতন অর্ধেক করে দেন, কিংবা ব্যাংকে যারা ডিপোজিট রেখে সুদ খায়, তাদের সুদের হার অর্ধেক করে দেন। অথবা মিডিয়া কর্মীদের বেতন অর্ধেক করে দেন। দেখবেন- লকডাউনের পক্ষের লোকগুলো নিমিষেই লকডাউনের বিপক্ষে বলা শুরু করবে।

তাই লকডাউনের পক্ষে যারা আছে, তারা অবাস্তবতাবাদী হোন কিংবা স্বার্থবাদী কিংবা দালালবাদী হোন, তারা সেগুলো ছেড়ে অবিলম্বে মূল ধারায় ফিরে আসবেন, এটাই কাম্য।

Thursday, June 18, 2020

করোনা নিয়ে অতি আতঙ্ক ও হাতুড়ে ডাক্তারি ছড়িয়ে লক্ষ লক্ষ রোগীকে বৈষম্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে

ফেনীর একটি খবর আজকে ভাইরাল হয়েছে। খবরটি হলো-
“ফেনীর সোনাগাজীতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের উপসর্গ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বদ্ধ ঘরে মৃত্যু হওয়া সাহাব উদ্দিনের (৫৫) মৃত্যুর পূর্বে বীভৎস চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। মৃত্যুর আগে পরিবারের লোকজন তাঁকে ঘরে একা রেখে বাইরে থেকে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে রাখে। দেওয়া হয়নি দুপুরে খাবার। মৃত্যুর সময় পানি চেয়েও পায়নি। মৃত্যুর পরও কাছে আসেননি স্ত্রী, ছেলে–মেয়ে ও জামাতাসহ কোন স্বজন। মৃত্যুর পর পায়নি স্থানীয় মসজিদের খাটিয়া, কেউ দেয়নি কবর খোঁড়ার কোদালও।”
(https://bit.ly/2XTiJBl)

করোনা ভাইরাসের নামে আমাদের যে সব হাতুড়ে ডাক্তারি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে অণ্যতম যেটি বার বার প্রচার করা হয়েছে, “কারো লক্ষণ পাওয়ার সাথে সাথে তাকে পরিবার থেকে আলাদা করে দেন, কেউ যেন তার কাছে না আসে।” মনে হচ্ছে সে যে বিরাট অপরাধ করে ফেলেছে, তার বোধ হয় সেবা-সুশ্রুষার দরকার নেই।

অথচ মানুষ অসুস্থ হইলে- তার সেবা করা সব থেকে বেশি জরুরী। সেবা ও মানসিক প্রশান্তি দিয়ে একটা মানুষকে অনেকাংশে সুস্থ করে ফেলা সম্ভব। কিন্তু সেটা না করে, একটা মানুষ অসুস্থ হওয়া মাত্র যদি তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়, তাকে এক ঘরে বন্দি করে রাখা হয়, তার বাড়িতে পুলিশ এসে লকডাউন করে ফেলে, তাদের বাড়িশুদ্ধু মানুষকে খাদ্য-পানীয় ব্যতিত বন্দি করে রাখে, বাড়িওয়ালা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য হুমকি দেয়, গ্রামবাসী বাড়ির মধ্যে ইটপাটকেল ছুড়ে, তবে ঐ রোগীর মানসিক অবস্থা কি হবে একবার চিন্তা করেছেন ?
ফেনীর ঘটনা শুধু একটা নয়, আমার জানা মতে করোনা রোগী বা তার সাসপেক্টের সাথে এমন বহু নির্মম ঘটনা ঘটেছে, শুধু পরিবার থেকে নয়, হাসপাতাল থেকে, এলাকাবাসী থেকে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে, আত্মীয়-স্বজন-বন্ধুবান্ধব থেকে অহরহ ঘটেছে এমন ঘটনা। রাস্তা/বাসা/হাসপাতালে অনেক লোক অসুস্থ হয়ে ছটপট করতে করতে মারা গেছে, কিন্তু কেউ তার সাহায্যে বিন্দুমাত্র এগিয়ে আসেনি।

ছোটবেলায় প্রবাদ পড়েছিলাম- পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়।
তেমনি রোগের বিরুদ্ধচারণ আমাদের কাজ হবে, রোগীর বিরুদ্ধে অবশ্যই নয়।
কিন্তু আমরা তো রোগের নামে রোগীর বিরুদ্ধচারণ করে চরম অমানবিক কাজ করে ফেলেছি।

কিছুদিন আগে গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন লেগে ৫ জন করোনা রোগী মারা গিয়েছিলো। কথা হচ্ছে, আগুন লাগার পর সবাই বের হতে পারলেও করোনা রোগীদের কেন বের করা হলো না ? এরজন্য কি শুধু আগুন দায়ী? নাকি করোনা রোগী বলে ভয়ে কেউ তাদের সাহায্যে যায়নি, যদি তার করোনা হয়ে যায়, এই ভয়ে। আর তাতেই মৃত্যু হয়েছে রোগীদের ?

অনেক আগে এক পোস্টে-
ইউরোপ-আমেরিকায় করোনায় উচ্চমৃত্যুর পেছনে আমি একটি অন্যতম কারণ উল্লেখ করেছিলাম, সেটা হলো বৈষম্য-অবহেলা। ইউরোপে দেখা গিয়েছে- মৃত্যুর একটি বড় অংশ হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানরা বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসে, কিন্তু করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সেখান থেকে সেবকরা ভয়ে পালিয়ে যায়। এতে বিনা দেখাশোনায় মারা অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এর জন্য কিন্তু করোনা ভাইরাস দায়ী নয়, যদি ঐ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ঠিক মত আদরযত্ন করা হতো, তবে হয়ত অনেকেই বাচানো সম্ভব ছিলো। কিন্ত তাদের অযন্ত অবহেলায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আবার আমেরিকায় মৃতের একটা বড় অংশ হলো কৃষ্ণাঙ্গ। এক নার্সের দাবী হলো, হাসপাতালগুলোতে কালোদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছিলো, যার কারণে কালোদের মধ্যে মৃত্যুহার অনেক বেড়ে যায়।

এজন্য অনেক আগে এক পোস্টে আমি বলেছিলাম-
করোনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো করোনাকে পাত্তা দেয়। করোনাকে যদি পাত্তা না দেয়া হলো, এবং স্বাভাবিক সব রোগের মত সব হাসপাতালে এন্টিবডি টেস্ট করে স্বাভাবিক করোনার চিকিৎসা করা যেতো, চিকিৎসা সিস্টেম না ভাঙ্গা হতো, তবে মৃত্যু বা হয়রানির সংখ্যা অনেক হ্রাস পেতো। কারণ তখন করোনা রোগীরাও চিকিৎসা পেতো আবার অন্য রোগীরাও চিকিৎসাহীন থাকতো না। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে না, বাসায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে ক্রিটিকাল সিচুয়েশনে চলে যাচ্ছে, অনেকে মারা যাচ্ছে। লকডাউনকালে প্রসূতি নারীদের হাসপাতালে গমন অর্ধেক নেমে যাওয়া, এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। অনেক হাসপাতালে করোনা টেস্ট ছাড়া ভর্তি নিচ্ছে না, এতে শুধু টেস্ট করতে গিয়ে ২-৪ দিন ঘুরে অর্ধমৃত-মৃত হয়ে পড়ছে অনেকে।

অনেকে হয়ত বলবে, লকডাউন, সোশ্যাল ডিসটেন্সিং বা আইসোলেশন করা হয়েছিলো হাসপাতালে আগমনের কার্ভকে খাটো করা জন্য।
কিন্তু ভাই ! আপনার হাসপাতালেই তো চিকিৎসা নেই। করোনা রোগীদের বক্তব্য হাসপাতালে ঠিকমত ডাক্তাররা যায় না, দিনে এক বার যায়। গেলেও ভয়ে আড়াল থেকে কথা বলে। নার্সরাও ঠিক মত তদারকি করে না। আপনি কার্ভকে খাটো করলেন (যদিও এর কোন প্রুভ নেই), কিন্তু হাসপাতালে করোনার ট্রিটমেন্টই দিতে পারলেন না, তাহলে এই কার্ভ খাটো করার লাভ কি হলো ? আবার অন্য রোগীদের চিকিৎসা শিকেয় তুললেন, ভোগান্তি মৃত্যু বাড়িয়ে দিলেন, তবে এই কার্ভ খাটোর করার কি গুরুত্ব থাকতে পারে ? একবার বলুন।

কথা হচ্ছে-
স্বাভাবিক মানুষের প্রতি মানবিক ব্যবহার না করলে আমরা বলি অমানবিক। কিন্তু একজন রোগীর প্রতি যখন এমন জঘন্য আচরণ করা হয়, তখন তাকে কি বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তা আমার জানা নাই। আজকে আমেরিকায় একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে শেতাঙ্গরা বৈষম্য করে মেরে ফেলেছে বলে কত তোলপাড় হচ্ছে, তা নিয়ে কত মানবিকতার বুলি আওড়াচ্ছে মিডিয়া ও সুশীল সমাজ। কিন্তু সেই মিডিয়া ও সুশীল সমাজ যখন করোনা নিয়ে অতি আতঙ্ক ও হাতুড়ে ডাক্তারি ছড়িয়ে লক্ষ লক্ষ রোগীকে বৈষম্যের দিকে ঠেলে দেয়, মৃত্যুর মুখে পতিত করে, সেটা নিয়ে কেন কেউ কথা বলে না ? কেন সেটা নিয়ে কেউ আন্দোলন করে, কেন সেই জঘন্য অমানবিকতাকারীদের বিচার চায় না, সেটা আমি জানতে চাই।


লকডাউনের সুফলঃ প্রসব কমেছে হাসপাতালে, বেড়েছে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার

করোনা পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে প্রসবের হার নেমেছে অর্ধেকে। বাড়ছে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে বড় হাসপাতাল পর্যন্ত সবখানেই কমেছে প্রসব। অন্যদিকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে বাসায় প্রসবের সংখ্যা। কেবল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মাসে প্রসব হয়েছে ৮৭৫টি, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিমাসে যা গড়ে ছিল দেড় হাজার। বাসা বাড়িতে অদক্ষ ধাত্রীর হাতে প্রসব বাড়ায় প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণসহ নানা জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন মায়েরা। অধ্যাপক ডা. নিলুফা সুলতানা বলেন, প্রচণ্ড খিঁচুনি নিয়ে রোগী আসছেন। কোনো কোনো রোগীদের জরায়ু জড়িয়ে নিয়ে আসছে। অধ্যাপক ডা. সায়েদা আক্তার বলেন, হোম ডেলিভারি বেড়ে গেলে অবশ্যই মাতৃ মৃত্যু বাড়বে। শিশুমৃত্যুও বাড়বে। (https://bit.ly/2TSQiSI)

এটা হচ্ছে লকডাউনের সুফল। আপনি যাতায়াত বন্ধ করে রাখবেন, মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরী করে রাখবেন, ফলে স্বাভাবিকভাবে এর প্রভাব পড়বে স্বাস্থ্যসেবার উপর। মায়েরা হাসপাতালে যেতে চাইবেন, কিন্তু পারবেন না। ফলে তৈরী হবে নানান সংকট।

খবরে লক্ষ্য করুণ- ঢাকা মেডিকেলে প্রসবের সংখ্যা কমেছে অর্ধেকের মত। এই হিসেব যদি সারা বাংলাদেশে করি তখন কি হবে ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের হিসেব মতে বাংলাদেশে এখন প্রতি মিনিটে জন্ম নেয় ৯ জন শিশু। তাহলে প্রতি দিন জন্ম নেয়া শিশুর পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজারের মত। (https://bit.ly/3dnbF6o)
তাহলে ৬৫ দিনের লকডাউনের বাংলাদেশে জন্ম নেয়ার কথা প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ শিশু।
এর মধ্যে ৫০% যদি লকডাউনে বাধাগ্রস্থ হয়ে বাসায় প্রসবের চেষ্টা করেন, তবে তার পরিমাণ দাড়ায় প্রায় ৪ লক্ষ ২৫ হাজার। এর মধ্যে যদি মাত্র ৫% মা বা শিশু মারা যায়, তবে এর পরিমাণ হবে প্রায় ২১ হাজার। আর যদি ১০% মা বা শিশু যদি জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হোন, তবে এর পরিমাণ ৪২ হাজারের মত। বাসায় চেষ্টা করলে ৫% মা-শিশুর মৃত্যু বা ১০% জটিল সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া খুব স্বাভাবিক, বরং হিসেব এর থেকেও বেশি হতে পারে।

শিশু জন্মদানের সময় মা যদি সঠিক ট্রিটমেন্ট না পায়, লকডাউন দিয়ে যদি তাকে নানান বাধাগ্রস্ত করা হয়, তবে মা ও শিশুমৃত্যুর মত চিরন্তন সত্যকে আমরা এড়িয়ে যেতে পারবো না। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয়, আমরা বাস্তবতা এড়িয়ে থেকে এখন মরিচিকার পেছনে ছুটছি। ৬৫ দিনে করোনায় কত লোকের মৃত্যু হয়েছে, সেটা নিয়ে অনেক মিডিয়া সরব হলেও লকডাউনের কারণে কত মা ও শিশুর কিংবা সাধারণ মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করলো তার কোন হিসেব বা পরিসংখ্যা নেই। ব্রিটেনের একটা হিসেব পেয়েছিলাম, তারা একটি পরিসংখ্যানে দেখিয়েছিলো, লকডাউন বা করোনাভীতির কারণে মানুষ হাসপাতালে যাচ্ছে না, এতে সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজারের মত। (https://archive.is/2eKCW)

আবার
আজকে মিডিয়ার খবরে দেখলাম, যার শিরোনাম -
অফিস খোলার প্রথম দিনে ৪০ জনের মৃত্যু।
(https://bit.ly/3cjrJEX)

লক্ষ্য করুণ- খবরে শিরোনাম দেখে মনে হচ্ছে, এই ৪০ জন মনে হয় অফিস করতে গিয়ে মারা গিয়েছিলো।
অথচ বাস্তবতার ভিত্তিকে শিরোনাম হওয়া উচিত ছিলো-
“৬৫ দিনের লকডাউনে ঘরে বসে থেকে ইমিউন সিস্টেম ড্রপ, মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০”
কিংবা
“আতঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় ইমিউন সিস্টেম ড্রপ, মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০”
(Stressful event অথবা Negative emotions মানবদেহের Immune System কে দুর্বল করে দেয়। ফলে সহজে শরীর ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে আক্রান্ত হয়)
কিংবা-
“বিভিন্ন ওষুধের ট্রায়ালে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা”।

এগুলো হলো বাস্তবতা ও বিজ্ঞান। কিন্তু কোনটির দিকে না যেয়ে, অফিস খোলাকে আজকের মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হলো। যদিও অফিস খোলার কারণে কিছু হয়েছে কি না, এটা বুঝতে বুঝতে আরো ১৫ থেকে ২১ দিন সময় দরকার। কিন্তু সেটা না করে, লকডাউনের দোষকে লকডাউন খোলার উপর চাপিয়ে দিয়ে চাইছে মিডিয়া।

আসলে আমরা সবাই নিজের স্বার্থের কথা ভেবে কথা বলি। কিন্তু নিজের স্বার্থে টান পড়লে ছাড় দিতে চাই না। গতমাসে দেখেছিলাম- কিছু প্রাইভেট কোম্পানির মানুষজনও লকডাউনের পক্ষে বলছে।
কিন্তু এ মাসে অনেকের বেতন-বোনাস বন্ধ হওয়াতে সবাই এখন লকডাউনের বিপক্ষে।
এখনও ফেসবুকে কেউ কেউ লকডাউনের পক্ষে বলছে।
এখন শুধু সরকারী চাকুরীজীবিদের বেতন অর্ধেক করে দেন, কিংবা ব্যাংকে যারা ডিপোজিট রেখে সুদ খায়, তাদের সুদের হার অর্ধেক করে দেন। অথবা মিডিয়া কর্মীদের বেতন অর্ধেক করে দেন। দেখবেন- লকডাউনের পক্ষের লোকগুলো নিমিষেই লকডাউনের বিপক্ষে বলা শুরু করবে।

তাই লকডাউনের পক্ষে যারা আছে, তারা অবাস্তবতাবাদী হোন কিংবা স্বার্থবাদী কিংবা দালালবাদী হোন, তারা সেগুলো ছেড়ে অবিলম্বে মূল ধারায় ফিরে আসবেন, এটাই কাম্য।

চাদ পৃথিবীর কোন এলাকায় কবে যাবে (দৃশ্যমান হবে), এটা নিয়ে কিন্তু অনেক ওয়েবসাইট আছে

আজকাল অনেক ওয়েবসাইটেই ঘূর্ণিঝড় কোন কোন রাস্তায় যাবে, তার গতিপথ দেখা যায়। তেমনি চাদ পৃথিবীর কোন এলাকায় কবে যাবে (দৃশ্যমান হবে), এটা নিয়ে কিন্তু অনেক ওয়েবসাইট আছে।

সেখানে ম্যাপে দেখা যায়, কোন এলাকায় কবে চাদ দৃশ্যমান হতে পারে, কিভাবে দৃশ্যমান হবে তার সম্ভাব্য বর্ণনা। সেটা দেখেও আপনি কিছু ধারণা করতে পারেন, আসলে চাদটা কোথায় আছে?
এ রকম একটি ওয়েবসাইট হলো- https://www.moonsighting.com/

এই ওয়েবসাইটে আগামীকাল শনিবার চাদ কোন কোন এলাকায় দৃশ্যমান হবে তার সম্ভাব্য একটা দিক নির্দেশনা দিয়েছে। যেমন-
১) হলুদ কালার দিয়ে যে অংশটায় নিউমুন থাকবে (যার বাংলা অর্থ আমাবস্যা)।
২) সবুজ কালার দিয়ে বুঝাইছে শনিবার সে অংশটায় খালি চোখে চাদ দেখা যাবে।
৩) আকাশী কালার দিয়ে বুঝাইছে, শনিবার অনেকগুলো শর্ত যদি মিলে যায়, তবে ম্যাপের সে অংশে দেখা যাইতেও পারে, আবার শর্তগুলো না মিললে দেখা নাও যাইতে পারে।
৪) ধূসর কালার দিয়ে বুঝাইছে, শনিবার ঐ অংশটায় চাদ খুজতে বিশেষ দূরবিক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য লাগবে। খালি চোখে দেখা যাবে না।
৫) লাল রং দিয়ে বুঝাইছে, শনিবার ঐ অংশটুকুতে চাদ বিশেষ দূরবিক্ষণ যন্ত্র দিয়েই দেখতে হবে।

আমার মনে হয়, এটুকু ধারণা রাখলে চাদের অবস্থান সম্পর্কে অনেক কিছুই আপনারা আগে থেকে সম্ভব্য ধারণা করতে পারেন।

“ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন”- শ্লোগানটির পেছনে ব্যবসায়ীক ধান্ধা

“ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন”- শ্লোগানটি সুন্দর।
কিন্তু এই সুন্দর শ্লোগানগুলোর পেছনে কারো ব্যবসায়ীক ধান্ধা নেই তো ?
করোনার সময় অনেক সাধারণ ব্যবসায়ীর পতন হলেও সর্বকালের রেকর্ড লাভ ছাড়িয়ে গেছে ডেমোক্র্যাটিক ব্লকের ব্যবসায়ীদের। এর মধ্যে অন্যতম হলো অনলাইন শপ অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজোস। করোনা আতঙ্ক যখন শুধু শুরু হয়, মানে জানুয়ারী থেকে মার্চ, তখনই অ্যামাজনের বিক্রি পূর্বের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ৩ মাসে বিক্রি হয় ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা পূর্বের তুলনায় ২৬% বেশি। কোম্পানিটি এই তিন মাসে প্রতি ঘণ্টায় ইনকাম ছিলো ৩৩ মিলিয়ন ডলার। তবে এপ্রিল ও মে মাসে তাদের বিক্রি কতটুকু বেড়েছে সেই হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি। একই সাথে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম সর্বকালের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এসময়। (https://bit.ly/2zQIiuD, https://cnb.cx/2zSleLR)
এ বিষয়টি নিয়ে দ্য গার্ডিয়ানে ইতিমধ্যে খবরও এসেছে,- করোনাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আড়াই কোটি লোক বেকার হলেও জেফ বেজোসের মত বিলিয়নিয়ারা হাতিয়ে নেবে ৩০৮ বিলিয়ন ডলার। (https://bit.ly/2LJJQJl)
কথা হচ্ছে, মানুষ যত ঘরে থাকবে, সে তত অনলাইন কেনাকাটায় ঝুকবে,
সেটাই স্বাভাবিক। তাহলে যারা বিশ্বব্যাপী অনলাইনে কেনাবেচায় করে, তারা তো চাইবেই যেন মানুষ ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকে, কারণ মানুষ যত বন্দি থাকবে, তাদের ব্যবসা তত বেশি হবে। এজন্য তারা যদি মিডিয়া, হু বা পরিবশবাদীদের কিছু উপরি দিয়ে বলে, তারা যেন মানুষকে ভয় দেখায় ঘরে বন্দি রাখে, “ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন” শ্লোগান শিখিয়ে দেয় তবে মন্দ কি ? ১০ টাকা ইনভেস্ট করলে ১০০ টাকা লাভ আসবে।
কথা হচ্ছে- করোনা দমনে এখন পর্যন্ত লকডাউন বা সোশ্যাল ডিসটেন্সিং এর কার্যকরীতা প্রমাণিত নয়। বরং তার সাইড ইফেক্ট নিশ্চিত। কোন ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়ার আগে তা ইফিকেসি ও সেফটি পরীক্ষা করে ছাড়া হয়। কিন্তু লকডাউন বা সোশ্যাল ডিসটেন্সিং এর ইফিকেসি ও সেফটি নিশ্চিত না করেই কেন তা জোর করে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হলো ? এটা কি এমনি এমনি হয়েছে ? নাকি জেফ বেজোসের দেয়া উপরি টাকার গুনে হয়েছে ???
উল্লেখ্য, করোনার দমনে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং বা লকডাউন জনগণের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়ার মূলে ছিলো ডেমোক্যাটিক ব্লকভূক্ত পরিবেশবাদীরা। আর এই পরিবেশবাদীদের গত ফেব্রুয়ারীতে ১০ বিলিয়ন ডলার দেয় জেফ বেজোস। (https://n.pr/2ZnwXwQ)
বিষয়টি তো খুব স্বাভাবিক। একটি দল অতি-জনদরদি হয়ে আপনাকে স্যোশাল ডিসটেন্সিং শিখাবে, আপনাকে জীবনের ভয় দেখিয়ে ঘরে বন্দি থাকতে বলবে । দোকানপাট ঠিকমত খুলতে দিবে না। প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে ৬ ফুট দূরে দাড়াতে বলবে। আপনি বলবেন, এত ঝামেলা করে লাভ কি বাপু? অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দেই। ব্যস তাহলেই তাদের লাভ।
২০২৬ সালের মধ্যে নাকি অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজোস প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হবে (৮০ লক্ষ কোটি টাকার মালিক)। এরজন্য যদি পৃথিবীর কয়েক কোটি লোককে দুর্ভিক্ষে মরতে হয় কিংবা ২০-৩০ কোটি স্বচ্ছল লোককে ভিক্ষুক হতে হয়, তবে এসব ধনীদের কিছুই আসে যায় না। কারণ সাধারণ মানুষকে এরা মানুষই মনে করে না, ছাগল-ভেড়া মনে করে। তাই কিছু ছাগল-ভেড়া মরলে ক্ষতি কি ??

করোনা কি আমাদের অমানুষ বানিয়ে দিলো ?


অনেককে দেখলাম, গতকালকে ফেরিপারাপারের ভীড়ের ছবিকে আপলোড করে এই মানুষগুলোকে গালাগালি করছে। কেউ শুওরের বাচ্চা, কুক্তার বাচ্চা বলতেও দ্বিধা করতেছে না।

যারা এই গালিগুলো দিচ্ছেন, তারা মানুষের ভীড়কে উপলক্ষ করেই দিচ্ছেন,
কিন্তু মানুষগুলো যে কি অবর্ণণীয় কষ্ট করছে, সেটা তারা দেখতে পারছেন না।

আমি দেখেছি, মিডিয়াতে প্রায় একটা কথা বলে, দেখুন মানুষ কিভাবে অপ্রয়োজনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আসলে মানুষ কিন্তু অপ্রয়োজনে ঘুড়ে বেড়ায় না, অবশ্যই তার কোন না কোন প্রয়োজন আছে,
কার দরকার এত কষ্ট করে প্রয়োজনে ভীড় ঠেলে যাওয়ার?
কিন্তু সে এমন কোন কঠিন সিচ্যুয়েশনে পড়েছে, যার কারণে সে যেতে বাধ্য হচ্ছে । আর বাংলাদেশে মানুষের ঘনবসতি বলে যদি অল্প সংখ্যক মানুষের জরুরী প্রয়োজন থাকে, তবে সেটাই দেখতে অনেক বেশি মনে হয়।

কথা হচ্ছে, ঈদে কিছু মানুষের জরুরী প্রয়োজন থাকতেই পারে,
সব প্রয়োজন লিখে শেষ করা যাবে না,
এজন্য উচিত ছিলো কিছুটা হলেও গণ পরিবহন চালু রাখা।
কিন্তু যাদের প্রাইভেট গাড়ি আছে, তারা গণ পরিবহনের গুরুত্ব বুঝতে পারে না।
ঢাকা শহরে দেখুন, প্রাইভেট গাড়িগুলো কিন্তু প্রতিদিনই এখন মোড়ে মোড়ে যানজট তৈরী করছে,
কিন্তু সমস্যা হইলো গরীবের গণ পরিবহণ নিয়ে। জোর করে তারা গরীবের উপর কষ্ট চাপিয়ে দিচ্ছে।

ছবিতে দেখুন, একজন পিতা কত কষ্ট করে একটা ৬ মাস বয়সী শিশুকে উপরে তুলে রেখেছেন।
এত গরমে, এত ভীড়ে কত মানুষ যে কত কষ্ট করছে, তার কোন শেষ নেই।
অথচ আমরা এসি প্রাইভেট গাড়িতে ঘুরে, এসি রুমে বাপ-মা’র সাথে বসে ফেসবুকে তাদের কুক্তার বাচ্চা-শুয়রের বাচ্চা বলে গালি দিতে ভুল করছি না।

আসলে, একটা কথা আমি আগেও বলেছিলাম এখনও বলছি-
ছোয়াছে বিশ্বাস মানুষকে স্বার্থপর ও অমানুষ বানিয়ে দেয়। এর বহু উদাহরণ গত ২ মাসে দেখা গেছে। আজকে যারা ফেসবুকে এসব ছবি দেখে গালাগালি করছে, তারা ঐ শ্রেনীর লোক। তাদের বিশ্বাস এই ভীড়ের মধ্যেই করোনা ছড়াচ্ছে, তাই লোকগুলোর কষ্ট বা প্রয়োজন তারা দেখতে পাচ্ছে না, তারা তাদের স্বার্থপরতা ও অমনুষ্যত্ব প্রকাশ করতেই তারা বেশি ব্যস্ত।