Thursday, June 18, 2020

অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়ে প্রবীণদের মরে যাওয়া ভালো।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক বলেছে, “
অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়ে প্রবীণদের মরে যাওয়া ভালো।” সে আরো বলেছে, আমার বার্তা হলো: কাজে ফিরে চলুন, জীবনে ফিরে চলুন, এটা নিয়ে স্মার্ট হোন, আর আমরা যারা সত্তোরোর্ধ আছি, আমরা নিজেরাই নিজেদের খেয়াল রাখবো’।
প্যাট্রিক বলে, পুরো দেশ ত্যাগ স্বীকার করুক তা আমি চাই না। আমি শত শত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি… আর সবাই প্রায় একই কথা বলেছে: আমরা পুরো দেশ হারাতে পারি না। আমাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে’। প্যাট্রিক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে রকম বলেছে মৃত্যুর হার খুবই কম। এই কারণে আমাদের পুরো দেশ বন্ধ করে দিতে হবে? আমার মনে হয় আমরা কাজে ফিরে যেতে পারি’। (https://bit.ly/2y0G2jg)

লক্ষ্য করুণ-
১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫+ বৃদ্ধ সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১৩%। তারপরও তারা এমন কথা বলছে। অথচ বাংলাদেশে ৬৫+ বছরের বৃদ্ধ সংখ্যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬% তারপরও আমরা এমন কথা বলতে পারছি না।

২) যুক্তরাষ্ট্র লক ডাউনের কারণে তাদের অর্থনীতি নিয়ে শংকিত। অথচ তাদের অর্থনীতি একটি বহুমাত্রিক ভিত্তির উপর নির্ভরশীল। তাদের ডলার বিশ্বমুদ্রা হিসেবে প্রচলিত, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের রিজার্ভ ডলারে রাখা। আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ডলার প্রচলিত। তারপরও তারা বলছে, লকডাউনের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে উঠবে। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতির এমন কোন ভিত্তিই নেই। তারপরও কোন আশায় আমরা দেশ লক ডাউন করে মানুষকে পথের ফকির বানিয়ে দিচ্ছি?

৩) সাধারণত যারা ৭০ বছরের বৃদ্ধ, তারা প্রত্যেক পরিবারের সন্তানদের উপর নির্ভরশীল। তাদের ওষুধপত্র, থাকা-খাওয়ার খরচ সন্তান বা পরিবারকেই বহন করতে হয়। কথা হইলো, আপনারা বৃদ্ধদের বাচাতে সন্তানদের আর্থিক অবস্থা খারাপ করে দিলেন, এখন সেই সন্তানরা বৃদ্ধদের খাওয়াবে কি ? দেখা যাবে, বৃদ্ধদের ওষুধপাতি, চিকিৎসা ব্যবস্থা আর খাবার পর্যাপ্ত দিতে না পারায় এমনিতেই বৃদ্ধরা মারা যাবে।

৪) ধরে নিলাম, আপনারা ২ বা ৩ সপ্তাহ পর লক ডাউন খুলে দিলেন, তখন তো ভাইরাসটা ঠিকই সবাইকে ধরবে, সেটা তো আটকে রাখতে পারবেন না। যারা আক্রান্ত হওয়ার ২-৩ সপ্তাহ পর তো ঠিকই হবে। আর ওষুধ কবে বের হবে তার তো কোন হিসেব নাই। ৬ মাস পরও বের হতে পারে, ১ বছর পরও বের হতে পারে। তাহলে কি ১ বছর লক ডাউন করে রাখবেন ? কথা হচ্ছে কিসের আসায় আপনারা ২-৩ সপ্তাহ লক ডাউন করে রাখলেন সেটা আগে স্পষ্ট করুন। যদি ওষুধ বের হওয়া পর্যন্ত লক ডাউন করতে চান, তবে ঠিক আছে সেটা ১ বছর হইলেও। কিন্তু ২-৩ সপ্তাহ লক ডাউন করা আর না করার মধ্যে তো কোন তফাৎ নাই। মাঝখান দিয়ে দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার ১২টা বাজায় দিলেন।

লকডাউন ফ্যান্টাসি

এ অঞ্চল অনেক দিন ব্রিটিশ উপনিবেশে থাকায়, এর মানুষগুলোর মধ্যে ইংরেজী শব্দ বা বাক্যগুলোর মধ্যে একটা ফ্যান্টাসি আছে। এই
ফ্যান্টাসির সুযোগ নিয়ে বেশ ভালো একটা রাজনৈতিক ব্যবহার দেখিয়েছিলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে ব্যবহার করেছিলো ‘সার্জিকাল স্ট্র্যাইক’ শব্দদ্বয়ের। অধিকাংশ ভারতীয়ই জানে না, সার্জিকাল স্ট্র্যাইকটা কি ? অথবা বাস্তবে সার্জিকাল স্ট্রাইক হয়েছিলো কি না, তারও কোন প্রমাণ নেই। কিন্তু যখন মোদি সরকার প্রচার করলো, “ভারত পাকিস্তানকে সার্জিকাল স্ট্যাইক করেছে।” ব্যস এতটুকু শুনেই তারা খুশিতে দিশেহারা হয়ে গেলো। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ করে করে পুরো দেশ মেতে উঠলো। সিনেমা-নাটক-গান এমন কিছু নাই, যেখানে সার্জিকাল স্ট্রাইক নাই।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি উদ্ভব হওয়ার পর পাবলিক শুনেছে ‘লকডাউন’ শব্দের ব্যবহার। পাবলিক আদৌ জানে না, এই শব্দের মাজেজা কি। কিন্তু তারপরও ফেসবুক-স্ট্যাটাসে কমেন্টে দেখি সবাই লকডাউন চায়।

লক ডাউন’র অর্থ খুজতে গিয়ে একটা অর্থ পেলাম-
কারাগারে যখন বন্দিরা দাঙ্গা করে তখন সেই দাঙ্গা নিয়ন্ত্রনের জন্য কারাগারে বন্দিদের তাদের কক্ষে বন্দি করাকেই লক ডাউন বলে।

আর ভাইরাস নিয়ন্ত্রনের জন্য লক ডাউন শব্দের অর্থ হলো-
কোন একটি এলাকায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন পেলে ঐ এলাকাকে বদ্ধ করে দেয়া যেন বাইরে থেকেও কেউ ঢুকতে না পারে আবার ভেতরেও কেউ প্রবেশ করতে না পারে।
আর ফুল লক ডাউন মানে হইলো- কোন নির্দ্দিষ্ট এলাকার কেউ বাড়ি থেকেই বের হতে পারবে না। ঘরের মধ্যে থাকবে। অর্থাৎ ভাইরাস ট্রান্সমিশন সর্বোচ্চ কমিয়ে নিয়ে আসাই এর কাজ।

অর্থাৎ যদি ধারণা করা হয়- কোন এলাকার কেউ জীবাণু আক্রান্ত হয়েছে, তবে ঐ এলাকা লক ডাউন অর্থ হলো, সেই এলাকার ভেতরের মানুষ যেন বাইরে না যায় আর বাইরের মানুষ যেন ভেতরে না আসে। এটা অনেকটা শেষ পরিণতি, তুমি মরলে ভেতরে মরো, বাইরে যেন কেউ আক্রান্ত না হয়।

যাই হোক, গতকাল সরকার অফিস আদালত বন্ধ করার পর দেখি পাবলিকের লক ডাউন চাওয়া বন্ধ হইছে।
আসলে পাবলিক মুখে মুখে লক ডাউন চাইলেও আসলে চাইছিলো শ্যাটডাউন।
মানে সব কিছু বন্ধ হোক, তাহলে পাবলিক দেশের বাড়িতে যাইতে পাড়বে।
ব্যস বিকাল ৫টায় বন্ধের ঘোষণা আসলো, আর সাথে সাথে পাবলিক ট্রেন-বাস-লঞ্চে ভীড় করে করে দেশের বাড়ি চলে যাওয়া শুরু করলো। ঠিক যেভাবে ঈদের ছুটিতে যায়।
যারা ভাইরাসের ছোয়াচে তত্ত্বে বিশ্বাস করে, তাদের বিশ্বাস অনুসারে এখন কি হলো?
তাদের বিশ্বাস অনুসারে যেটা ঘটলো- যেহেতু তাদের ভাষায় ঢাকা ইনফেকটেড, তাই ভাইরাস পুরো দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো। (চীনের গোপন নথিতে দেখা গেছে, অনেকে লক্ষণ প্রকাশ না করেও নাকি এই ভাইরাসের বহনকারী হতে পারে : সূত্র দৈনিক প্রথম আলো, ২২ মার্চ ২০২০)
তাহলে ভাইরাস নিয়ে এত জনসচেতনা তৈরী করে আদৌ কি কোন লাভ হলো ??

আসলে ঢাকার মত জনবহুল শহর যার প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে প্রায় ১ লক্ষ জনগণ,
মাত্র ২৬০ বর্গ কিলোমিটারে বাস করে প্রায় ২ কোটি জনগণ
আসলে সেখানে কখনই লক ডাউন সম্ভব না।
কারণ বাংলাদেশের সবকিছু রাজধানী কেন্দ্রীক করে তৈরী করা হয়েছে,
বাংলাদেশে অন্য দেশের মত বিকেন্দ্রীকরণ বা প্রাদেশীক সরকার নাই।
যেমন- জার্মানি লক ডাউন করছে মাত্র ২টি প্রদেশ (Bavaria, Saarland), বাকি ১৪টা এখনও করে নাই।
যেহেতু প্রত্যেক প্রদেশের আলাদা সিস্টেম, তাই ২টা লক ডাউন করলে বাকিগুলো তাদের কাজ চালায় নিতে পারবে।
একই কাজ করছে পাকিস্তান, তারা সিন্ধকে লক ডাউন করছে, কিন্তু বাকি ৩টা প্রদেশ করে নাই।
একইভাবে সৌদি আরবও, সে তার কাতিফ অঞ্চল লক ডাউন করে দিছে।
মানে কয়েকটা অঞ্চল পৃথক করে দিলেও, বাকিগুলো কাজ চালিয়ে নিতে পারবে।
কিন্তু বাংলাদেশে তো সব ঢাকা কেন্দ্রীক, প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা নাই।
ফলে ঢাকাকে লক ডাউন করা মানে পুরো দেশের হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া।
তাহলে পুরো দেশ চালাবেই বা কে ?
যেহেতু লক ডাউন সম্ভব না, তাই সরকার শ্যাট ডাউন করে দিছে।
কিন্তু ঘটনা হইছে ঢাকাতে তো স্থায়ী বাসিন্দা খুব কম।
ইতালিতে সংকট হইছে, প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেমন বাংলাদেশে চলে আসছে,
ঠিক তেমনি ঢাকাকে যখন তারা সংকটপূর্ণ মনে করছে, তখন তারা একই সূত্রে গ্রামের বাড়ি চলে গেছে।
ফলে ভাইরাস ভীতির সূত্র অনুসারে ইতালি থেকে যেমন ভাইরাস বাংলাদেশে আসছে,
ঠিক একইভাবে শ্যাট ডাউন করার কারণে ঢাকা থেকে ভাইরাস ৬৪ জেলা কিংবা ৮৫ হাজার গ্রামে ছড়ায় গেলো। হয়ত গাড়িঘোড়া কিছু বন্ধ করার প্ল্যান থাকতে পারে, কিন্তু তাতেও লাভ হবে না, বাংলাদেশ এত ছোট, কেউ যদি ঢাকা থেকে অন্য জেলায় যেতে চায়, তবে অন্য এলাকায় যাবেই, আটকাতে পারবে না।

আর তাছাড়া ইউরোপ-আমেরিকার মানুষের স্থায়ী নিবাস আর বর্তমান নিবাস বলে দুটি ঠিকানা আছে কি না, তা আমার জানা নাই, কিন্তু বাংলাদেশে মানুষের কিনতু দুইটা ঠিকানা আছে। ফলে গোলযোগ দেখা দিলে মানুষ বর্তমান নিবাস থেকে স্থায়ী নিবাসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবেই, সেটা কেউ আটকাতে পারবে না। ইউরোপ-আমেরিকা অনেক বড়, ফলে ট্রেন-বাস, রাস্তা বন্ধ করতে কাজ হবে, কিন্তু বাংলাদেশে সেটা সম্ভব না, কারণ বাংলাদেশ অনেক ছোট। সমস্যা হইলো ইউরোপ-আমেরিকার সিস্টেম কপি করে বাংলাদেশে চালাইলেই কাজ হবে, এমনটা ভাবা বোকামি।

তারমানে দাড়াচ্ছে, এই যে সব কিছু বন্ধ হয়ে গেলো,
ভাইরাস ভীতিতে যারা বিশ্বাস করে, তাদের হিসেবে মতেই এতে আসলে কোন উপকারই হলো না, বরং ক্ষতি আরো বৃহৎ পরিসরে ছড়ায় পড়লো। তাদের দৃষ্টিতেই করোনা হয়ে গেলো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন।

ছবি : গতকাল ছুটির ঘোষনার পর কমলাপুর রেল স্টেশনে টিকিট কাটার লাইন।

বাংলাদেশে দৈনিক মানুষ মারা যায় ২৫৬০ জন

হিসেব বলছে, বাংলাদেশে দৈনিক মানুষ মারা যায় ২৫৬০ জন।
এবং ঘণ্টায় মারা যায় ১০৬ জন।
এতগুলো মানুষের মধ্যে কারো না কারো তো জ্বর ঠাণ্ডা, কাশী থাকা স্বাভাবিক।
তাহলে ঐ সব লোকগুলো কি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ??

আরেকটি কথা হলো- বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২.৭ বছর।
এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের গড় আয়ু ৭২.৭ এর থেকে বেশি।
কথা হচ্ছে- হিসেব মতই যদি মৃত্যু হয়, তবে সেই মৃত্যুর জন্য করোনাকে কতটুকু ভীত হওয়া যায় ??

মূল কথা হইলো-
বাংলাদেশে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশী, বৃদ্ধের মৃত্যু সব কিছু মতই চলতেছে।
সমস্যা হইছে বাংলাদেশের মিডিয়া হঠাৎ সক্রিয় হঠে উঠছে সেই খবরগুলো ধারণ করার জন্য,
আমরা অগে যে খবরগুলো জানতাম না, সেগুলো একসাথে দেখে প্যানিক হয়ে যাচ্ছি,
আর ভাবতেছি না জানি কি হয়, নাকি জানি কি হয়।
স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, দোকানপাট, রেস্তোরা, অফিস আদালত, মসজিদ বন্ধ করে দিতেছি।

আরে ভাই- করোনা আবির্ভাব শুরু হইছে ১২৭ দিন হইলো,
আর বাংলাদেশে মানুষ কিছুটা সক্রিয় হইছে মাত্র ১০ দিন যাবত।
এর আগেও আক্রান্ত বিদেশী দেশ থেকে বহু লোক আসছে।
তারা দেশের মানুষের মধ্যে ঘুরছে-ফিরছে।
অনেকে সংক্রমণের যে তত্ত্ব দেখায়, সেটা যদি বাস্তবেই ঘটতো
তবে বহু আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতালে থাকার কথা ছিলো।
লাশের সারির যায়গা দিতে পারতেন না।
কিন্তু সেটার কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

কিন্তু
মিডিয়া যে কৃত্তিম প্যানিক তৈরী করতেছে,
এর খেসারত দিতে হবে বাংলাদেশের জনগণকে।
অনেক মানুষকে কৃত্তিম দুর্ভিক্ষ ও অর্থনৈতিক মন্দা শিকার হবে,
যা ভুগাবে বহুদিন পর্যন্ত।

স্ট্যাটাসটা ছোট, কিন্তু এই স্ট্যাটাসের একটা গভীর মর্মার্থ আছে।

স্ট্যাটাসটা ছোট, কিন্তু এই স্ট্যাটাসের একটা গভীর মর্মার্থ আছে।
বর্তমান সময়ে করোনা নিয়ে বাংলাদেশে যা হচ্ছে, তার সবটাই করা হচ্ছে- `মানুষকে স্ট্যাটাসের কথাগুলো বিশ্বাস করানোর জন্য।।'
মিডিয়াতে এমনভাবে তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে-
যেন এই কথাগুলো কেউ মুখে বলে, আর কেউ বা অন্তরে বিশ্বাস করে।

যারা লক ডাউন চায়……….

--দুর্নীতিবাজ চিন্তা করে না সৎ কর্মকর্তার কি হবে ?
--যার জমানো টাকা আছে, সে চিন্তা করে না যার জমানো নাই তার কি হবে ?
--সরকারী চাকুরে চিন্তা করে না, বেসরকারী চাকুরের কি হবে ?
--মাস শেষে বেতন যার নিশ্চিত, সে চিন্তা করে না দিন মজুরের কি হবে ?
--ঘরে ল্যাপটপে বসে যার কাজ, সে চিন্তা করে না, রাস্তায় ঘুরে যার কাজ, তার কি হবে ?
--যার ঘরে বান্দা বুয়া আছে, সে চিন্তা করে না ফ্ল্যাট-বাড়িতে ছুটা বুয়া আসতে না দিলে কি হবে ?
--বাপের হোটেলে যে খায়, সে চিন্তা করে না বাপের টাকাটা কিভাবে আসবে ?
--৫ স্টার হোটলে যার খাওয়ার অভ্যাস, সে চিন্তা করে না চালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়লে গরীবের কি হবে ?
--যে বাড়িতে ৩ মাসের খাবার মজুদ করেছে, সে চিন্তা করে না যার ঘরে ৩ দিনের খাবার নাই, তার কি হবে ?

সবাই শুধু নিজের জন্য চিন্তা করে, লক ডাউন চায়।
কিন্তু সবার জন্য চিন্তা করে না। চিন্তা করে না, এভাবে সব বন্ধ হতে থাকলে সবার কি হবে ??

এই জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান করোনার জন্য লক ডাউন প্রসঙ্গে বলেছে,
“আমি এক দিকে করোনা রুগি বাচাবো, অন্যদিকে আমার দেশের মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাবে।”

সত্যি বলতে, বাংলাদেশে দুই-চার জন অতি বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো দেশজুড়ে যেভাবে মিডিয়া করোনা ভীতি তৈরী করেছে, পুরো দেশকে অবরূদ্ধ করে দিয়েছে, তাকে ১ জন করোনার মৃত্যুর বিপরীতে ১০০০ জন সাধারণ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাবে নিশ্চিত।

করোনার অজুহাতে দেশের মানুষকে দুর্ভিক্ষে হত্যা করা কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তাই অবিলম্বে সব কিছু খুলে দেয়া হোক।

“ইতালির গির্জা থেকে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র সরাও, নয়ত ‘করোনা মহাপ্রলয়’ থামবে না”

ইতালির গির্জার ভেতর থেকে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র না সরালে করোনা মহাপ্রলয় থামবে না বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন অনেকে। এ সম্পর্কে আমার এক ফেসবুক পোস্টে অনেকেই তাদের মতামত জ্ঞাপন করেছেন। পাঠকদের মতামত হলো-
১. মহানবীর নিঃকৃষ্ট ব্যঙ্গচিত্র কারণেই আজকে ইতালির উপর এ ধরনের ভয়াবহ গজব নেমে এসেছে। উক্ত ব্যঙ্গচিত্রে দেখানো হয়েছে, একজন দাড়ি সম্বলিত নগ্ন ব্যক্তিকে নরকের ফেরেশতারা পেটাচ্ছে, ছবির নিচে মহানবীর নাম লিখিত।
২. বিশেষ করে ইতালির উত্তরাঞ্চলে যেখানে করোনায় মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সেখানের এক গির্জায় এই ছবিটি রাখা আছে।
৩. কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন- কোরআনে সূরা লাহাব ও সূরা কাউসারে মহানবীর প্রতি বিদ্বেষকারীকে সম্পদ ও পরিবার নিয়ে সমূলে ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে, ইতালিতে সেটাই ঘটছে।
৪. আবার অনেকে মন্তব্য করেছে, আমরা (মুসলমানরা) যদি এই ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদ না করি, তবে ইতালির গজব আমাদের উপরও পড়বে।

উল্লেখ্য ইতালির বোলগোনায় ‘San Petronio Basilica নামক গির্জায় Giovanni da Modena এর আঁকা ব্যঙ্গচিত্রটি ১৪১০ সাল থেকে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু মুসলমানরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলো না। ২০০১ সালে ইতালির স্থানীয় মুসলমানরা প্রথম এই ব্যঙ্গচিত্রটি সরাতে ইতালি সরকারের কাছে দাবী উত্থাপন করে, কিন্তু ইতালি সরকার তাদের উপেক্ষা করে মুসলমানদের গ্রেফতার করে প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করে।

সূত্র:
ক. https://bit.ly/395rxru
খ. https://bit.ly/39bLXPs
গ. https://bit.ly/2QxL9hx
ঘ. https://nyti.ms/2U8YsHp
ঙ. https://bit.ly/2xYTIvh

ইতালি কি তার গির্জা থেকে ৬১১ বছর পুরাতন মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র সরাবে ?

ইতালির বোলোগনায় একটি ক্যাথলিক গির্জার ভেতর মহানবীর ৬১১ বছর পুরাতন একটি ব্যঙ্গচিত্র সংরক্ষিত আছে। যে ব্যঙ্গচিত্রে দেখানো হয়েছে মহানবীকে নরকের রক্ষীরা নির্যাতন করছে। গির্জাটির নাম ‘San Petronio Basilica’ এবং ঐ ব্যঙ্গচিত্রটির নাম Giovanni da Modena।
(সূত্র: https://bit.ly/395rxru, https://bit.ly/39bLXPs)

৯/১১ এর পর পর ২০০২ সালে ইতালির ক্যাথলিক চার্চে রক্ষিত উক্ত ব্যঙ্গচিত্রটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কারণ ঐ সময় ইতালি সরকার দাবী করে ৫ জন মুসলমান নাকি ঐ ব্যঙ্গচিত্রটি নিয়ে কোন পরিকল্পনাবশত চার্চের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিলো। সেই সন্দেহ থেকে ইতালির প্রশাসন ঐ মুসলমানদের গ্রেফতার করে। (https://nyti.ms/2U8YsHp)

এই ঘটনার পরই মুলতঃ ইউরোপে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র নির্মাণের একটি জোয়ার উঠে। যার ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে ৩০শে সেপ্টেম্বর ইউরোপীয়ান রাষ্ট্র ডেনমার্কের জিল্যান পোস্টেনে মহানবীর ১২টি ব্যঙ্গকার্টুন প্রকাশ করে(https://bit.ly/2J1rFxu)। এরপর ২০০৬ সালে নরওয়ে ঐ কার্টুনগুলো তাদের দেশে পুনঃপ্রচার করে। এরপর ১লা ফেব্রুয়ারী একযোগে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং স্পেন জিল্যান পোস্টেনের কাটুর্নগুলো রিপ্রিন্ট করা শুরু করে। ৮ই ফেব্রুয়ারী ফ্রান্সের পত্রিকা শার্লি হেবদো মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রথম পাতায় বড় করে প্রিন্ট করে। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি এসে ইতালি সরকারের এক মন্ত্রী ঘোষণা দেয়, মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র সম্বলিত টি-শ্যার্ট সে সবার মাঝে বিলি করবে (https://bbc.in/2whHYUl)। এপ্রিলে এসে ইতালির ক্যাথলিক সট্যাডি (Studi Cattolici) নামক একটি মাসিক খ্রিষ্টিয় পত্রিকা ‘San Petronio Basilica’ চার্চে সংরক্ষিত Giovanni da Modena ব্যঙ্গচিত্রকে অনুকরণ করে নতুন কার্টুন প্রকাশ করে (https://bit.ly/33xQCdq)। এরপর খুব দ্রুত এই ব্যঙ্গ কার্টুনের বিষয়টি সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৭ থেকে ইসলাম ও মহানবীর ব্যঙ্গ নিয়ে ব্যাপক কাজ শুরু করে নেদারল্যান্ডের এমপি গ্রিট উইল্ডার্স। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে এই ব্যঙ্গচিত্রে প্রদর্শনীসহ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয় এবং কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক মুভিও নির্মিত হয়, যা নিয়ে সারা বিশ্বেজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরী করেছিলো। পুরো বিষয়টি তখন ইউরোপীয়ান দেশগুলোতে রাজনীতিবিদ ও খ্রিষ্টীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা পায় এবং এ বিষয়টি কাজে লাগিয়ে এন্টি ইমিগ্র্যান্ট ইস্যু বড় হতে থাকে, যা পুরো ইউরোপের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। বাংলাদেশেও এক পর্যায়ে সেই ইউরোপী ইসলামবিদ্বেষী গ্রুপের কার্যক্রম চলে আসে। বাংলাদেশে নাস্তিক ব্লগার নামে আমরা যাদের চিনি, যারা বিভিন্ন সময় ইসলাম বা মহানবী নিয়ে কুৎসিত রচনা করে আলোচনায় আসে তাদেরকেও পেছন থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করে ইউরোপ ভিত্তিক সংস্থা ‘পেন ইন্টারন্যাশনাল’ ((হেডকোয়ার্টার ব্রিটেন)। এই ‘পেন ইন্টারন্যাশনাল’ বাংলাদেশের কিছু ছেলেকে ইউরোপে থাকা খাওয়ার লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশেও সেই ব্যঙ্গচিত্র ও ব্যঙ্গ রচনার প্রকাশ করা শুরু করে। এবং পর্যায়েক্রমে ঐ সব কথিত ব্লগারকে ভিসা দিয়ে ইউরোপে নিয়ে যায়।

অর্থাৎ গত দুই দশকে সারা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের শেষ নবী, কোরআন বা ইসলাম নিয়ে যে ব্যঙ্গচিত্রের কার্যক্রম তা কিন্তু শুরু হয়েছিলো ইতালির চার্চের ভেতর সংরক্ষিত ৬১১ বছর পুরাতন সেই বঙ্গচিত্রকে কেন্দ্র করেই। অতি সম্প্রতি সারা বিশ্বের মানুষ অবলোকন করছে ইতালি নামক রাষ্ট্রটি কি করে করোনা ভাইরাস দ্বারা পর্যুদস্ত অবস্থায় আছে। অতি উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বহুমুখী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েও তারা ব্যাপক মৃত্যুর হার ঠেকাতে পারছে না ইতালি, যা সত্যিই আশ্চর্যজনক। এ অবস্থায় দুর্যোগ থেকে বাচতে ইতালি তার গির্জার ভেতর সংরক্ষিত সেই ৬১১ বছরের পুরাতন মহানবীর বঙ্গচিত্রটি সরিয়ে ফেলে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।